গিয়েছিলাম ড্রিম ডিভাইজরদের সঙ্গে আড্ডা দিতে। ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী ভাইয়ের জোরাজুরিতে পাবলিক আড্ডায় যেতে বাধ্য ছিলাম। আমার অবশ্য উছিলা ছিল নতুন কি কি শেখা যায় সেই ধান্দায়। ২০২০ দশকে যারা কর্মবাজারে প্রবেশ করবেন, এমন ২০জনের মত তরুণ ছিলেন ড্রিম ডিভাইজরের কল্যানপুর অফিসে। আমার সঙ্গে ছিলেন জয়দিপ সুমন।

আমাদের আড্ডার মুল বিষয় ছিল, কিভাবে শেখা যায়। বই পড়ে এক দশক আগেও শিখতাম আমরা। বই থেকে এখন মুঠোফোনে চলে এসেছি আমরা, সামনে কি আসবে সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে। আড্ডা দিতে দিতে একটা ভাবনা মাথায় উঁকি দেয়। কিভাবে চিন্তা শুরু করবো আমরা। অনেক তথ্য আর ডেটা এক করে দেন ভাববো, নাকি ভেবে ভেবে ডেটা আর তথ্য যোগাড় করবো। ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে, নাজ থিওরী (গেলবার অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছিল এ থিওরীর স্রষ্টা) নিয়ে আগে চিন্তা করবো, নাকি সাধারণ মানুষের বাজারের কেনা কাটার কারণ অনুসন্ধান করতে করতে থিওরী দাঁড় করাবো? প্রশ্নের ভাঁজে ভাঁজে একটা প্রোপোজিশনে থেমে গেছি-যা চিন্তা করবো, তা নিয়ে সবার আগে গোটা ৫-৬ বেসিক বই পড়তে হবে। পড়ার পরে জানা যাবে চিন্তা কোন দিকে যাবে।


আড্ডা দিতে দিতে আরেকটা প্রশ্ন মনে উঁকি দেয়, আমরা কোন একটা ধাঁধার দিকে ছুটছি কি? ব্যাপারটা এমন, সামনে ভালো সময় আসবে-আর সে হিসেবে আমরা নিজেকে তৈরি করে যাচ্ছি? প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ বা ধর্ম প্রবর্তকের এ ধাঁধায় আমাদের তাদের অনুসারী করার ছক আটতেন। বা হোমারের প্রাচীন গ্রিসে গ্রীক বীররা শত শত যোদ্ধাদের সামনে ভালো কিছু আসবে, এমন ধাঁধায় যুদ্ধে আগ্রহী করে তুলতেন। সামনের অপেক্ষায় আমরা যে বর্তমানকে নষ্ট করে অতীতকে দুঃসহ করে তুলছি তা কি খেয়াল করেছি? এই যে আমি আমরা আমাদের বাবা-মাকে সময় দেই না। আমরা নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছি, আর মনে মনে ভাবছি-সামনে অনেক টাকা হলে আমি বাবা-মাকে অনেক সময় দিবো, সুখ কিনে দিবো। ঘড়ির অংকে আমরা হয়তো এক সময় সেই সময়ে পা রাখবো, কিন্তু বাবা-মার সঙ্গে কাটানো সময় তো আর বাড়বে না। বিষয়টা নিয়ে ভেবে কোন উপসংহারে আসার আগেই আড্ডা শেষ করতে হয়।

ড্রিম ডিভাইজর, একদল তরুণের স্বপ্ন ছোঁয়ার জায়গা। নিজেদের দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছেন চারপাশ বদলাতে। অনেক উদ্যম, কিন্তু সামগ্রিক একটা ভিশনের জন্য কতটা সামনে এগোবে তা নিয়ে আমরা প্রশ্ন আছে। আমাদের আমেরিকান ড্রিমের মত টুমোরো ড্রিভেন কোন ভিশন নাই, যে কারণে সামনে এগোনো বেশ কঠিন। ১৯৫০ পরবর্তী সময়ে এ দেশে স্বাধিকার আন্দোলন, নিজের দেশ দরকার বলে একটা ভিশন ছিল, যে কারণে ১৯৭১ সালে নতুন দেশ এসেছে। এরপরের সময়টায় কি কোন ভীষণ আসলেই দেখা গেছে?

ড্রিম ডিভাইজরের জন্য পরামর্শ:
১. টেকনিক্যাল স্কিলে সময় দিতে হবে।
২. ইংরেজি-ইংরেজি স্পিকার হতে হবে। ইংলিশ লার্নার হওয়ার দিন শেষ।
৩. সফল স্কিলে আরও মনোযোগ দিতে হবে।
৪. সোশাল টুলস ব্যবহার করা শিখতে হবে।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,416 views. Thank You for caring my happiness.

Comments

comments