অন্ধত্ব, গোঁড়ামি, অজ্ঞতার মাত্রা যে হারে বাড়ছে তাতে আগামীতে আপনার-আমার মাতৃভাষাকে কেউ সম্মানের চোখে দেখবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারেন। 🙂
১২৫ মিলিয়নের মত মানুষ জাপানিজে কথা বলেন, তারা জাতি হিসেবে যে সম্মান আদায় করে নেন; তা ৪২০ মিলিয়ন লোকের আরবী ভাষার দিকে তাকালেই বোঝা যায়। 🙂
একশ বছর আগেও বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে বাঙালিদের যে সম্মান ছিল, তা এখন কই?
আমেরিকার ওকলাহোমার টালসা শহরে আমি জীবনের দারুণ কিছু মুহুর্ত কাটানোর সময় পেয়েছিলাম। সেই শহরের নামী-দামী মানুষদের “বাংলাদেশ”-কে চেনানোর জন্য কতটা যে কষ্ট করতে হইছে তা বলে বোঝাতে পারবো না। মার্কিন মুল্লুকে বাংলা ভাষা-বাংলাদেশকে চেনানোর সেই কষ্ট, আর বিদেশে বাংলাদেশিদের নেতিবাচক পরিচয় নিজেকে ছোট করে।
ঢাকা কিন্তু ভাষা গবেষণার দুনিয়ার মধ্যমনি হতে পারতো ১৯৫২ সালের ইতিহাসের জন্যই। গুগল ক্যালেন্ডারের কারণে দুনিয়ার যত মানুষ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কথা জানতে পারে, আমাদের প্রশাসনিক কোন কাজ কি এক্ষেত্রে চোখে পড়ে?
 
ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনিস্টিটিউটে যতটা আন্তর্জাতিক রিসার্চ আছে, তারচেয়ে গুগলে দেখা যায় ফিলিপাইনে মাতৃভাষা নিয়ে অনেক বেশি রিসার্চ আছে।
 
বাংলা একাডেমি, ইভেন্ট আর প্রেস ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে আর কত দিন নামে টিকে থাকবে? ওপার বাংলায় আমার ৩/৪জন মোটামুটি বিশ্ববিদ্যালয় পাশ+উচ্চ বেতনের বন্ধু “একুশে বইমেলা” কি জানেন না, আমি জানিয়েছি তাদের-অন্যদের জানাবে কে?
 
ব্র্যাক-গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনে “সিয়েরালিওন” নামে একটি দেশের কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞাপনে লেখা “সিয়েরালিওন” শব্দটি ভুল, Sierra Leone কে বাংলায় সিয়েরা লিওন লেখা হয়। দুবছর হলেও বিজ্ঞাপনটিকে সংশোধন করা হয়নি।
 
আরটিভিতে আজকে হুইসপারের একটি বিজ্ঞাপন দেখলাম। অর্ধেক বাংলা, অর্ধেক হিন্দি। ভাষাপ্রেম দেখাচ্ছি না, অন্যভাষার বিজ্ঞাপন প্রচারে কি আমাদের গণমাধ্যমের সচেতনতা থাকবে না?
 
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” গানটিকে দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যের ভাষায় গাওয়ানোর যুক্তি কি আছে? “বাঙালি ভাইয়ের শহীদ”-ইতিহাস আমাদের বাঙালিদের, মারমা-চাকমাদের না। জোর করে তাদের “ভাই” বলার মানে কি? শিকাগোর হে মার্কেটের নিহত শ্রমিকদের কারণে মে দিবস পালন করা হয়, ঐ শ্রমিকরা বাঙালি না, কিন্তু সেই প্রেক্ষিত সার্বজনীন। নিজের ইতিহাসকে অন্যকে দিয়ে গাওয়ানোর কোন মানে নেই। ৫২, ইতিহাসটা বাঙালি, প্রেক্ষিতটা মাতৃভাষার-বৈশ্বিক।
 
গতকাল কালার্স এফএমে মনের বন্ধুর রেডিও শোতে কথা বলার সময় জানতে পেরেছি আমাদের দেশের যে সব সুবর্ণ নাগরিকরা কথা বলতে পারেন না, তারা আমেরিকান-ইংরেজি- সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ শেখেন, বাংলা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ নেই।
 
(আমার লেখায় ভুল থাকাটা স্বাভাবিক, আপনি কোন ভুল তথ্য দেখে থাকলে অনুগ্রহ করে আমাকে জানানোর অনুরোধ রাখছি আমি।)
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,484 views. Thank You for caring my happiness.

Comments

comments