কোন এক বিখ্যাত মনীষীর ভাষ্যে, তাকে কোন কাজ দেয়া হলে ৫ ঘণ্টা তিনি পরিকল্পনা করেন, আর এক ঘণ্টা কাজ করেন। আমরা মনীষীর কথা একটু উল্টোভাবে আমাদের জীবনে আনি। আমরা কেন জানি খুব বেশি মাথায় চিন্তা করি। অ্যা লট অব টাইম!
চিন্তা, দুশ্চিন্তা, চাপ, হতাশা-সবই চলে আমাদের মাথার মধ্যে। এটাকে টেকনিক্যালি preoccupied mind বলে। এবং অদ্ভুতভাবে বলা যায়, আমাদের ৯৯ ভাগ চিন্তাই কোন কাজের না। উইলিয়াম জেমসের ভাষায় বলা যায়, আমরা আসলে যা চিন্তা করি, তা কি আসলেই চিন্তা?
ইদানীং আমি খুব বেশি মাত্রায় প্র্যাকটিক্যাল ফিলসফি নিয়ে জানার চেষ্টা করার চেষ্টা করছি। বিষয়টা Practical philosophy, practical knowledge, practical books, practical work, আর practical advice-এর মত বিষয়ে যুক্ত।
প্র্যাকটিক্যাল বিষয়টি প্র্যাগম্যাটিজম ফিলোসফিক্যাল ধারণার সাথে যুক্ত। ১৯শতকে আমেরিকায় প্র্যাগম্যাটিজম ফিলসফি নিয়ে চর্চা শুরু হয়। চার্লস স্যান্ডার্স পিয়ার্স প্র্যাগম্যাটিজম ফিলোসফিক্যালের জনক। পরবর্তীতে উইলিয়াম জেমস প্র্যাগম্যাটিজম ফিলসফিকে জনপ্রিয় করেন।
উইলিয়ামের বিখ্যাত একটি কথা আছে। কথাটি হচ্ছে, যে কোনও দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে একটির চেয়ে অন্যটি বাছাই করা। বিষয়টি এমন, একটি কারণের বদলে অন্য কারণে মাথা খাটানো।
প্র্যাগম্যাটিজম ফিলোসফিক্যাল ধারণায় মন হচ্ছে একটি টুল। আমাদের মনকে আমাদের পক্ষে কাজ করানো উচিত, বিপক্ষে নয়। আপনার সাইকেল যদি আপনার হয়ে কাজ না করে, আপনি যেখানে যেতে চান সেখানে না নিয়ে গেলে কি করা উচিত? যারা মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ তৈরি করতে পারেন তারা বিশ্বাস করেন না এটা সম্ভব কিছু। তাদের দাবি, আমি এসব ছাড়া চিন্তা করতে পারছি না।
প্র্যাগম্যাটিজম ফিলোসফিক্যাল ধারণায় মন নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে সাইকেল চালানোর মত একটা স্কিল। আয়ত্ত করতে হয়। শেখার চেষ্টা না করে কে কবে সাইকেল চালানো শিখেছে বলুন? মন নিয়ন্ত্রণ করার শিখতে হবে, চর্চা করতে হবে। অন্য কথায়, আপনি কি চিন্তা করবেন তা নির্ধারণ করার জন্য আপনার মনকে সেই মাপের শক্তিশালী হতে হবে।কি চিন্তা করবেন না-তা প্রশ্ন নয়, কি চিন্তা করবেন-তা মনকে নির্ধারণ করতে হবে।
মাথার মধ্যে কি ভাবছেন, তা নিজে ভাবছেন না আপনাকে ভাবছে-সেটা খেয়াল রাখতে হবে। এভাবে নিশ্চয় ভাবেন:
• “আমার বস কি ভাবছে?”
• “আমি যদি ভুল করি তাহলে কি চাকরি চলে যাবে?”
• “সে কি আমাকে ভালোবাসে?”
• “আমার মনে হয় সে আমাকে ভালোবাসে না।”
• “আমি ব্যর্থ হবই।”
• “আমার জীবন এমন কেন?”
• “আমার জীবন কেন এমন অসাধারণ, যেখানে অন্যরা খারাপ আছে?”
• “আমার যদি ক্যান্সার হয়?”
• “মাশরাফি কেন বিশ্বকাপ খেলছে?”
• “আমি তো কোন কিছুই শেষ করতে পারছি না। আমার অপরাধ কি?”
এই লিস্ট লেখা শুরু করলে শেষ করা যাবে না। এসব সব রিয়েল শিট। এসব চিন্তায় আমরা ‘লো ফিল’ করি। লো ফিল করলে আমাদের মন ভালো থাকে না।
আমার একটা প্রশ্ন আছে, এসব চিন্তার কোন প্র্যাক্টিক্যাল প্রয়োগ আছে? হ্যাঁ?
অদ্ভুতভাবে ৯৯ শতাংশ এমন প্রশ্নের কোন বাস্তবতা নেই। এসব চিন্তার কোন ব্যবহারিক দিক নেই। যে সব চিন্তায় ইতিবাচক ভাবনা তৈরি হয়:
  1. যেভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়। দুনিয়ার সব সমস্যাই আসলে উত্তর না পাওয়া প্রশ্ন। নিজের মস্তিষ্ককে আমাদের বেশি মাত্রায় সমাধানে যুক্ত করতে হবে। পৃথিবীর অনেক সমস্যায় এখনও আমাদের নাক গলানোর সুযোগ আছে কিন্তু!
  2. কোন কিছু বোঝা। বিগ ব্যাং কিংবা স্ট্রিং অপারেশন কি তা বোঝার চেষ্টা করেছেন কি?
    কিভাবে ইউজলেস থটস চিন্তা করা বন্ধ করবেন?
    অ্যাওয়ারনেস, এর বাইরে আর কোন কৌশল কি আছে?
    যখনই সাইকেল রাস্তা থেকে খাদের দিকে চলে যায় তখন আপনি কি করেন? সচেতন ভাবে সাইকেলের ঘাড় ধরে তাকে রাস্তায় নিয়ে আসেন না? এটাই করতে হবে।
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 460 views. Thank You for caring my happiness.

Comments

comments