আমি ২০০৮ সালে ফ্রেঞ্চ ভাষা শেখার চেষ্টা করেছিলাম। এক বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএমএলে গিয়ে ক্লাস করেছিলাম। বছর শেষে আসলে ‘জো সুই এতুদ্যিউ’ পর্যন্তই দৌড় হয়ে আমার। উল্টো ইংরেজির ১২টা বেজে গিয়েছিল। ইউরোপীয় ভাষামন্ডলে ফরাসী বেশ কঠিন একটি ভাষা, তাই আয়ত্বে আনা বেশ কঠিন। কঠিন বলেই টাটা বলে দেই!

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে কোর্সের বাধ্যতামূলক জাপানিজ শিখতে হয়। ৬ মাস জাপানিজ শিখেছিলাম বেশ ভালোই, এরপরে আইএমএলে সিনিয়র লেভেলে ভর্তি হওয়ার পরে আর কন্টিনিউ করা হয় নি। জাপানিজ দৌড়টা আমার সুবিধার না, আমি যে জাপানিজ বলি তা এখন পর্যন্ত কোন জাপানিজকে বুঝতে দেখলাম না!

ইংরেজি আমার দ্বিতীয় ভাষা, তার অবস্থাও ভালো না! কথা বলার সময় গ্রামার একদিকে যায়, আর আমার বাক্য আরেক দিকে। ভয়ানক অবস্থা।

এই যখন অবস্থা তখন ডেভিড বেইলির ফরাসী ভাষা শেখার গল্পটা পড়ি, বেশ কার্যকরই মনে হয়েছে আমার। 

 

২০০৫ সালে বেইলি ফরাসী ভাষার শেখার চেষ্টা করেন। সে সময়টায় তিনি ফ্রান্সের একটি গ্রামে অবস্থান করেছিলেন।
ডেভিড ১৭ দিনে যেভাবে ফরাসী শিখেছিলেন,
১. প্রতিদিন একই কাজ করার জন্য একটি রুটিন ঠিক করে নিয়েছিলেন বেইলি। বেইলি প্রতিদিন সকালে ২ ঘন্টা খালি ফরাসী বাক্য আর শব্দ হাতে লিখতেন কাগজে।
২. প্রতিদিন ৩০ মিনিট অডিও শুনতেন বেইলি। আমরা ভাষা শেখার সময় নতুন ভাষার শব্দ বা বাক্য শুনি কম, তাই বেশ বোরিং মনে হয় প্রথম দিকে। 
৩. প্রতিদিন বিকালে বেইলি ফরাসী গান শুনতে ঘুরে বেড়াতেন। গানের উপস্থিতি আমাদের মস্তিষ্কে অবচেতনভাবে থাকে, অনেকদিন থাকে।
৪. প্রতিদিন একজন ফরাসী বন্ধুর সঙ্গে লাঞ্চ করতেন বেইলি। এতে নাকি ফরাসী অনেকটুকু আয়ত্বে নেন বেইলি।
৫. প্রতিদিন বিকালে ছোটদের লেখা বই ফরাসীতে পড়তেন বেইলি। ছোটদের গল্প রুপকথার মতো আমাদের মগজে গেঁথে যায়, সেই কারণে রুপকথা পড়ে ভাষা শেখার আইডিয়া দারুণ।
৬. প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেড়ঘণ্টার মত ফরাসী লিখতেন বেইলি। সহজ সরল প্রশ্ন যেমন ‘আপনি কোথা থেকে এসেছেন?’, ‘আপনি ফ্রান্স কতটা ভালোবাসেন?’-এমন প্রশ্নের উত্তর বারবার লিখতেন বেইলি।
৭. ফিলার ওয়ার্ড শিখতেন বেইলি। যেমন বাংলাতে ‘আ’, ‘হুম’ শব্দগুলো বলি আমরা এমন।
আমি এখন চাইনিজ শেখার চেষ্টা করছি। ১ বছর সময় দেয়ার পরে দেখব কি হবে!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,425 views. Thank You for caring my happiness.

Comments

comments