আমাদের দেশে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক যেন কেমন জানি ভয় আর দূরত্বের বেশ বড় একটা সম্পর্ক। আমাদের দেশে তেমন দেখা না গেলেও পশ্চিমের দুনিয়াতে ছাত্র-শিক্ষকরা অনেক বড় প্রতিষ্ঠানই গড়ে তুলেছেন এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায়।

অরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ে উইলিয়াম বাওয়ারম্যান নামের একজন ফিল্ড কোচ ছিলেন। পদে কোচ হলেও নিজেকে প্রফেসর হিসেবেই দাবি ছিল তার। তার বিশ্ববিদ্যালয় টিমের এক শিক্ষার্থী ছিল ফিল নাইট।

অরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪ বছর কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাওয়ারম্যান। ১৯৬৪ সালের অলিম্পিকে মার্কিন অ্যাথলেটদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল বেশ। জগিংয়ের উপরেও বেশ ভালো বই লিখে ষাটের দশকে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। এই বাওয়ারম্যানই তার টিমের ব্যাকআপ প্লেয়ার ফিল নাইটকে নিয়েই দারুণ এক কোম্পানি গড়ে তুলেছিলেন, নাইকি।
কে এই ফিল?
অন্য আট-দশটা মার্কিনের মতই সাদা চামড়ার মানুষ ফিল নাইট। প্রথমে অরেগন বিশ্ববিদ্যালয় তারপরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়েন ফিল। এরপরে সেনাবাহিনীতেও কিছুকাল রিজার্ভ হিসেবে কাজ করেন। মা-বাবার দারিদ্র্যতাকে কাটানোর জন্য কি করা যায় তা নিয়ে প্রায়শই ভাবতো ফিল।

স্ট্যানফোর্ড পড়ার সময় “Can Japanese Sports Shoes Do to German Sports Shoes What Japanese Cameras Did to German Cameras?” নামের একটা পেপার প্রকাশ করেন ফিল। নিজের কাছে সেই রকম মনে হলেও তার এই পেপার প্রেজেন্টেশনের সময় নাকি ক্লাসের বাকি সবাই ঘুমাচ্ছিল বলে নিজের বায়োগ্রাফিতে লিখেছিলেন ফিল। ১৯৬২ সালে স্ট্যানফোর্ডের পড়াশোনা শেষ করে সারা পৃথিবী ঘোরার আগ্রহ দেখা যায় তার। জমানো টাকা নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন, প্রথমে হাওয়াই।
একবন্ধুর সঙ্গে হাওয়াইর বিমান উঠে পড়েন ফিল। সেখানে কিছুদিন এনসাইক্লোপিডিয়া বিক্রি করার চেষ্টা করে ফিল, কয়েক সপ্তাহ পরে হিসেব করে দেখেন কোন কিছুই বিক্রি পারেন না ফিল। এরপরে ছুট দেন জাপান। টাইগার নামের এক জুতো জাপান থেকে আমেরিকায় এনে বিক্রির প্ল্যান করে ফিল। নিজের ঘরে অনেক পুরষ্কার নীল ফিতা দিয়ে জড়ানো ছিল, প্রতিদিন সন্ধ্যায় সেখানে ফিলের নজর পড়ত, তাই জাপানিজদের নিজের কোম্পানির নাম হিসেবে বলেন ‘ব্লু রিবন’।

এই সেই ফিল!

জুতো জাপান থেকে দেশে ফিরতে ফিরতে ফিল চীন, ভারত, ফিলিপাইন, নেপাল, গ্রীস, মিশর, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স হয়ে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে অ্যাকাউনটেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরই মধ্যে জুতো জাপান থেকে বাড়িতে আসলে চমকে যান ফিল। নিজের শিক্ষক+কোচ বাওয়ারম্যানকে জুতো কেনার অনুরোধ করে। বাওয়ারম্যান শুধু জুতোই নয় ব্লু রিবন কোম্পানির শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেন।
বাওয়ারম্যানের এক উকিল বন্ধুর বাড়িতে হ্যান্ডশেইক চুক্তির মাধ্যমে ব্লু রিবন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন ছাত্র-শিক্ষক নাইট ও বাওয়ারম্যান।
——-

এখন পড়ছি শু ডগ নামের একটি বই। #21daysofReading চ্যালেঞ্জের অংশ হিসেবে প্রতিদিন ২০ পৃষ্ঠা করে বইটা পড়ছি। সাড়ে তিনশ পৃষ্ঠা শেষ হবে কবে?

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,502 views. Thank You for caring my happiness.

Comments

comments