একটা সময় জাঁদরেল রাজনীতিবিদরা রাজবন্দী থাকতেন, তখন তারা বই পড়তেন কিংবা লিখতেন। এখন রাজবন্দী থাকার তেমন চল-ই নেই। নেলসন ম্যান্ডেলা কিংবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখালেখি কিন্তু রাজবন্দী থাকাকালীন সময়ে। রাজনীতিবিদরা নিজের চোখে যে দুনিয়া দেখেন তা বইপত্র থেকে খুঁজে নিতেন, বা নিজের আত্মজীবনীতে লিখতেন। এখন তো পড়ার চল-ই নাই, আর রাজনীতিবিদরা আসবেন কোথা থেকে? বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ বই পড়েন। হাসিনা: অ্যা ডটার’স টেল সিনেমার বিভিন্ন শুটিংয়ের ছবি যারা দেখেছেন তারা ব্যক্তি শেখ হাসিনার একটা বুকশেলফের ছবি দেখতে পাবেন, সেখান বই সম্পর্কে একটা সামান্য চিত্র দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বই পড়েন তার আরেকটা দিক হচ্ছে তার প্রায় ২৮টি বই আছে। কোন কোন বই সম্পাদিত, আবার কোন কোন বইয়ে নানা নিবন্ধ সংকলিত আছে। রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনার স্টাইল নিয়ে বাংলাতে তেমন বইপত্র নেই, বা খুঁজে পাওয়া যায় না। শেখ হাসিনার অনুকরণে যারা রাজনীতি করতে চান, বা আরও জানতে চান তারা নিচের বইগুলো পড়তে পারেন।

আরও পড়ুন:তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

গ্লিমসেস অব ওয়ার্ল্ড হিস্টোরি-পন্ডিত জহরাল নেহরু


“আমাদের এই যুগটাই ভিন্ন জাতের; এটা হচ্ছে মোহভঙ্গের যুগ, সন্দেহ সংশয় আর প্রশ্নজিজ্ঞাসার যুগ। প্রাচীন কালের যে-সব মতামত আর রীতিনীতি ছিল তার অনেকগুলোই এখন আর আমরা মেনে নিতে পারছিনা, তাদের উপরে আর আমাদের বিশ্বাস নেই- এশিয়াতে ইউরোপে আমেরিকাতে সর্বত্রই। অতএব এখন আমরা সন্ধানে ফিরছি নূতন পথের, সত্যের নূতনতর রূপের, আমাদের এই পরিবেশের সঙ্গে যে রূপটির সামঞ্জস্য অধিকতর স্পষ্ট হবে।”
১১৯৩ পৃষ্টার বইটিতে পন্ডিত নেহেরুর ২০০+ চিঠি সংকলিত আছে। কন্যা ইন্দিরা গান্ধীকে লেখা চিঠিগুলো পড়লেই বোঝা যায় ইন্দিরা গান্ধীর কৈশোরের সময়টায় বাবা কন্যার মনকে কতটা আলোকিত-আলোড়িত করেছিলেন। পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসের দারুণ সংকলন বলা যায় বইটিকে। শশী থারুরের মত বাগ্মী রাজনীতিবিদরা বইটি ভারতবর্ষের সকল মানুষের পড়া উচিত বলে মনে করে। কেউ কেউ বইটি পড়লে নাকি টাইম ট্র্যাভেল হয় বলে মনে করেন। ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে বইটি শেষ করেছিলাম। মুগ্ধতা নয়, চিঠি লেখা শিখেছি বইটি থেকে।

গানস, জার্মস, অ্যান্ড স্টিল: দ্য ফেটস অব হিউম্যান সোসাইটিজ


একটি বই ২ লাখের বেশি মানুষ শুধু অনলাইনে পড়েছে, তাই দেখে পড়া শুরু করি গানস, জার্মস, অ্যান্ড স্টিল বইটি। মানবসভ্যতার ১৩ হাজার বছরের ইতিহাস আছে বইটিতে। রাজনীতি বিষয়টা কি শুধুই রাজনীতি না সংস্কৃতি-বিজ্ঞান-আবেগের মিলমেশ? এসব প্রশ্নের তাত্বিক চিত্র আছে বইটিতে। ধৈর্য্য নিয়ে পড়তে হয়েছিল বইটিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যা পড়ানো হয়, তা অন্যভাবে বইটিতে পেয়েছি।
ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন: স্যামিউল পি হান্টিংটন
শুধু কি নিজের আদর্শের বই পড়তে হবে, অন্যরা কি ভাবছে তাও রাজনীতি করলে পড়তে হবে। পশ্চিমা সভ্যতা কেন দারুণ তা নিয়ে পশ্চিমারা কি ভাবছে তা জানতে ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন পড়তে হবে। বইটি প্রোপাগান্ডা আমলের বলে কিছু কিছু বিষয় অতিরঞ্জনই মনে হবে।

টিম অব রাইভালস


আব্রাহাম লিংকন লোকটা না থাকলে আমেরিকান ইতিহাস আলাদা হয়ে যেতো। কনফেডারেট আমেরিকা বলে একটা বিষয় আমরা বাস্তবে দেখতাম। সেই ১৮৬০ দশকে আব্রাহাম লিংকন আমেরিকাকে ভাঙন থেকে কিভাবে বাচিয়েছিলেন তা জানা যায় টিম অব রাইভালস বইতে। গেটিসবার্গের ভাষণটা কেন আলোচিত তা বইটা শেষ করে বুঝতে পারা যায়। লিংকন মুভিটা এই বইটা কেন্দ্র করে বানিয়েছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ।

দ্য সিংগাপুর স্টোরি

আমরা ৮ হাজার মাইল দূরের আমেরিকা নিয়ে রেফারেন্স টানি, কিন্তু ইউরোপের কথা আনি বিভিন্ন উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনায়। একটা ইউরোপীয় পরিত্যাক্ত কলোনি থেকে সিংগাপুর কিভাবে সিংগাপুর হলেন তার ত্রিমাত্রিক চিত্র আছে বইটিতে। রাজনীতি মানে যে আবেগের চেয়েও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা প্রয়োজন তা লিকুয়ানের লেখা থেকে জানা যায়। লি ছিলেন ছোট সিংগাপুরের জাতির জনক।

রিপাবলিক-দা আর্ট অব ওয়ার-দ্য প্রিন্স

“আই হেট রাজনীতি” প্রজন্ম এই তিনটে বইয়ের অডিও বই শুনতে পারেন। রাজনীতি যারা করেন তারা কি ভাবেন, কিভাবে ভাবেন তা বোঝার দারুণ তিনটে বই।

অর্থশাস্ত্র-ক্যাপিটাল-চাণক্য

সামান্য কয়েকটা বই, কোনটার বয়স হাজার বছর-এখনও কিভাবে দুনিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে তা ভাবা যায়? পৃথিবীর রাজনৈতিক স্বত্তা নিয়ে যারা ভাবেন তাদের জন্য পাঠ্যবই এগুলো।

১৯৮৪-এনিমেল ফার্ম

শুধুই কি নন-ফিকশন পড়তে হবে, কিছু ফিকশনে তো মানুষের রাজনীতি চেনা যায়, জানা যায়।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী-লং ওয়াক টু ফ্রিডম


রাজনীতিবিদরা দু রকমের হন। জন এফ কেনেডির মত ক্ষণজন্মা তারকা রাজনীতিবিদ আবার বটবৃক্ষের মতো বঙ্গবন্ধু বা মাদিবার মত বটবৃক্ষ-যেখানে সময়-সমাজ সভ্যতা সব একাকার হয়ে একবিন্দুতে এসে জমাট বাঁধে। সেই বিন্দুকে কিভাবে অনেক বিন্দুতে পরিণত করতে হয় তা শেখাটা আর্টই বটে!

 

অনলাইন ঘেঁটে দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহাশ্বেতা দেবী, সৈয়দ মুজতবা আলীর বই বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়েন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,335 views. Thank You for caring my happiness.

Comments

comments