তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

সঙ্গীতশিল্পী তাহসান, নাকি অভিনেতা তাহসান কার কাছ থেকে কি শেখা যায়? যারা উদ্যোক্তা কিংবা কোন পণ্যের ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করছেন তারা তাহসানের কাছ থেকে দারুণ কিছু বিষয় সম্পর্কে শিখতে পারেন।


“কাস্টমার কে তা জানা!”

তাহসানের নাটক কিংবা গানের দর্শক “কে” সেটা তাহসান গান কিংবা নাটকে অভিনয়ের আগেই জেনে নেন। হবু উদ্যোক্তা যারা আমরা তারা কোন আইডিয়া কিংবা পণ্য নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ করি, তখন খুব কমক্ষেত্রেই আমাদের কাস্টমার কে তা আমরা জানতে চাই না। ভালোবাসা দিবসের নাটক কিংবা ঈদের বিশেষ নাটকে তাহসান অভিনয় করুক না কেন, তার নাটকের বেশির ভাগ দর্শকই কিন্তু ইউটিউব কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত। তাহসানের নাটক/গানের ব্র্যান্ডিং প্ল্যাটর্ফম হিসেবে ফেসবুক দিয়েই কিন্তু সেই দর্শকদের চিনে নেন। আমরা যখন কোন প্রোডাক্ট ডিজাইন করি, তখন আইডিয়া কত নিখুঁত কিংবা কতটা উদ্ভাবনী হবে তার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহক কে হবেন তা নিয়েও মাথা ঘামানো উচিত।

“সোশ্যাল মিডিয়ার হাইপ বোঝা”

দর্শক টিভিতে নাটক দেখুক না দেখুক তাহসানের ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রাম খেয়াল করলে দেখবেন সে কতটা নাটক/গানের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে। টেলিভিশন কিংবা পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের চেয়েও তাহসানের নাটক-গানকে সোশ্যাল মিডিয়াই তরুণ দর্শকদের কাছে পৌছে দেয়। আমরা যখন কোন স্টার্টআপের প্রাথমিক পর্যায়ে দৌড়াদুড়ি করি তখন সোশ্যাল মিডিয়াতে লাইক বাড়ানোর দিকেই ব্যস্ত থাকি। তাহসান কোন নাটক প্রচারের আগে সেই নাটকের প্রোমো-বিজ্ঞাপন দিয়ে কিন্তু দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ জাগায়। আমাদের কোন স্টার্টআপ তৈরির শুরুর দিকে লাইক না বাড়িয়ে “কনটেন্ট মার্কেটিং” সম্পর্কে জেনে মাঠে নামলে দ্রুত সামনে আগানো যায় কিন্তু।


নেটওয়ার্কিং পাওয়ার তৈরি করা

তাহসানের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে তাহসান যে সব সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত তার নিয়মিত ছবি আর নিউজ কিন্তু শেয়ার করা হয়। এতে তাহসানের হেটার্স থাকলেও কিন্তু ইতিবাচক একটা ভাবমূর্তি তৈরি হয়। আপনার স্টার্টআপ কিংবা আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য যত ধরণের সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত আপনি তা ইতিবাচক উপায়ে শেয়ার করুন। রেপুটেশন মার্কেটিং নামে কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা অনলাইন কোর্স করেছিলাম আমি, এখন হ্যাশট্যাগ দিয়ে কিন্তু পণ্যের লয়াল কাস্টমারের সংখ্যা গণনা করা যায়। সোশ্যাল মিডিয়াকে নেটওয়ার্কিং টুল হিসেবে ব্যবহার করুন।

“নেক্সট প্ল্যান কি হবে তা আগেই ঠিক করে রাখুন”

সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যানে আসছে মাসে কোন দিকে দর্শকরা যেতে পারে তা পূর্বানুমান করা যায়। তাহসান কিন্তু এই ফেব্রুয়ারিতে ভালোবাসার নাটকে ব্যস্ত থাকবেন সেটা গেল ঈদের পরেই বোঝা গেছে। ফেব্রুয়ারির পরে আগামী কয়েকমাসে তাহসানকে শুধু গানেই দেখবেন, আর এর পরে আগামী ঈদের নাটকে দেখবেন। স্টার্টআপের প্রথম ধাপ পার হওয়ার পরে আমরা টের পাই না পরের স্টেপ কি হবে, সোশ্যাল মিডিয়াতে কাস্টমারদের মতামত কিংবা ট্রেন্ড অ্যানালাইসিস করে নেক্সট প্ল্যান সেট করুন।

“ইনফ্লুয়েন্সার হউন”

তাহসান কোন পরিচালকের নাটকে অভিনয় করেন, কোন চ্যানেলে তার নাটক প্রচার হয়, সহ-অভিনেতারা কতটুকু জনপ্রিয় তা দিয়েও তাহসানের ইনফ্লুয়েনশিয়াল পাওয়ার সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। তাহসানের নাটক কি বিটিভিতে প্রচার হতে দেখেছেন? তিষা কিংবা বিদ্যা সিনহা মিম ছাড়া কিন্তু তেমন নাটকে অভিনয় করেন না। এছাড়াও মিথিলা কিংবা শার্লিন থাকেন কোন কোন নাটকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাহসান তেমন মিলিয়ন ফলোয়ারহীন অভিনেত্রী সামনে দাড়ান না। আমরা যখন স্টার্টআপ বা কোন নতুন প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ শুরু করি, সেক্ষেত্রে আমাদের প্রোডাক্টটা কতটুকু ইনফ্লুয়েনশিয়াল হবে তা ঠিক করে নিতে হবে আপনাকেই। বিষয়টা অনেকটা এমন যেন, বাজারে আইফোন আছে, আপনি যদি কোন পণ্য ডিজাইন করেন তা যেন উবার হয়। আইফোনের সঙ্গে নতুন আপনার আইফোন পাল্লা দিতে পারবে না, কিন্তু নতুন পন্য উবার আপনাকে ইনফ্লুয়েনশিয়াল করে তুলবে।

“নতুন ক্যাটাগরি তৈরি করুন”

তাহসানের নামে কিন্তু একটা অভিযোগ আছে। সারা বছর নাটকে নাই, বিশেষ দিনগুলোতে ছক্কা মেরে দেন। এটাও কিন্তু একটা নতুন স্টাইলের অভিনয় বলা যায়। (বিষয়টা যদিও নিয়মিত অভিনয়শিল্পীদের জন্য একটু বেদনামধুর!) নতুন স্টার্টআপে আপনার পন্য যদি আগে থেকেই বাজারে থাকে তাহলে ধরা আপনি। নতুন আইফোন কেউ কিনবে না, নতুন ফেসবুক কি কেউ পছন্দ করবে? যারা নতুন ব্র্যান্ড কিভাবে দাঁড়ানো নিয়ে কাজ করেন তারা জানেন নতুন ক্যাটাগরি কত তাড়াতাড়ি মার্কেটে সারা ফেলে।


“পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং শিখুন”

প্রায় সব নাটকেই তাহসানের লুক প্রায় একই থাকে বলে অভিযোগ আছে। একই স্টাইলে কথা বলা, একই এক্সপ্রেশন-হেটার্সদের অভিযোগ। একটু অন্যভাবে দেখলে বুঝবেন এটাই কিন্তু তাহসানের পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং। হবু উদ্যোক্তারা ড্রেসআপ নিয়ে তেমন মাথা ঘামান না। আপনি হয় তো বলবেন, “আমি তো এমনই”, কিংবা “এটাই আমার স্টাইল”। সবার স্টাইল আলাদা এটা ঠিক আছে, কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে স্টাইলের চেয়ে স্মার্টনেসটাই নিজেকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। মার্ক জ্যাকারবার্গ শুরুর দিকে কিন্তু বারাক ওবামার সঙ্গে দেখা করার সময় কালো স্যুট আর সাদা শার্ট পড়ে গিয়েছিলেন। সেই আশির দশকে স্টিভ জবস কোট-টাই পড়ে ব্যাংকে প্রেজেন্টেশন দিতে যেতেন। ওয়ারেন বাফেট, বিল গেটস কিংবা নব্বইয়ের পোস্টার বয় ইয়াহুর কিমরা জায়গা মতো ঠিকই ফরম্যাল থাকতেন। তরুণদের টানতেই জায়গা মতো তারা ইনফরমাল লুক নেন।
তাহসানের অনলাইনে যে সিভি পাবেন সেখানে তার ২০০৮ সালের মার্কেটিং নিয়ে রিসার্চ পেপারও পাবেন, পোর্টফলিও যথেস্ট স্ট্রং পাবেন কিন্তু। তাহসান খান লিখে ফেসবুক সার্চ করুন, ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা ট্যাগ দিয়ে তার নাম পাবেন। এটাও কিন্তু পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং!
(আইবিএ বিবিএ সেভেন্থ ব্যাচ, এমবিএ থার্টি নাইন তাহসান পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং সেলেব্রেটিজমে এনগেজ করবেন না তা কি করে হয়?)


“ট্রাইব তৈরি করুন”

সেথ গডিনের ট্রাইব নামের একটা বই আছে। আপনি একটা বিশেষ গোষ্ঠীর সদস্য হবেন, কিংবা সেই দলকে নেতৃত্ব দেবেন-আপনার পণ্য দেদারসে বেচা-কেনা চলবে। তাহসান কিন্তু নানান সময়ে বিভিন্ন পাবলিক স্পিকিং/মটিভেশন সেশনে অংশ নেন, ত্রিশের নিচের ইউটিউবারদের সঙ্গে দারুণ সখ্যতা তার; এছাড়াও সোলায়মান সুখন, আরিফ আর হোসাইন, এলিটা করিম কিংবা সাকিব আল হাসান-মোস্তাফিজদের সঙ্গে একই প্ল্যাটফর্ম শেয়ার করেন। এসব কাজে কিন্তু কিন্তু তার একটা ফলোয়ার গ্রুপ তৈরি হয়, যারা তাকে অনুসরণ করবেই। তাহসান কিছু দিন আগে গ্রামীন-ইউনিক্লো’র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েছিলেন, গ্রামীন-ইউনিক্লোর পোষাক মান তেমন ভালো না হলেও তাহসানের কল্যানেই কিন্তু কিছুটা পরিচিতি পেয়েছিল গ্রামীন-ইউনিক্লো।
কিছু করতে চাইলে কোন একটা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হউন শুরু থেকে। বিপদে আপদে সেই নেটওয়ার্ক-ট্রাইবকে সামনে পাবেনই।

“হোয়াই”

সাইমন সিনেকের স্টার্ট উইথ হোয়াই বই থেকে জেনেছি, “পিপল ডোন্ট বাই হোয়াট ইউ সেল, পিপল বাই হোয়াই ইউ সেল”। দারুণ টেকনোলজির জন্য কাস্টমাররা আইফোন কেনে না। অ্যাপল কখনও বলে না তারা সেরা। চেঞ্জিং স্ট্যাটাস কো, থিমই অ্যাপলের, স্ট্যাটাস-কো ভাঙার জন্য আইফোন-আইপ্যাড-আইটিউন্স। সেই কাস্টমার যারা স্ট্যাটাস কো বদলাতে চান তারাই আইফোন কেনেন। আইফোনের হোয়াই কানেকটিং দ্য ডটস, এই হোয়াই’টাই কেনেন কাস্টমাররা। তাহসানের কর্পোরেট লুক, মাপা লাইফ-স্টাইল, স্মার্ট ফ্যামিল অ্যাপিয়ারেন্স, স্যোশাল লাইফ-তার দর্শকরা পছন্দ করে, অনুসরণ করে। যে কারণে অ্যাপল যা দেয় কাস্টমাররা তাই লুফে নেয়, তাহসানও তার দর্শক-শ্রোতার কাছে সেই ভ্যালু টাই দিচ্ছেন, তাই বিভিন্ন দিবসেই বেশি ডাক পরে তার।

“বই পড়ুন!”

তাহসান কিন্তু বর্তমানে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষক, আগে ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে। বলা যায় মোটামুটি পড়াশোনার মধ্যেই থাকেন তাহসান। হবু-উদ্যোক্তারা মোটামুটি ফেসবুকে পোস্ট-টোস্ট পড়া ছাড়া কিছুই করেন না, এতে নিজের ডেভলপমেন্ট তেমন হয় না। টপ টেন বুকস ফর অন্ট্রাপ্রেনিয়রস টাইপের যত লিস্টি আছে তার একটা-দুইটা বই পড়ে নিজে এগিয়ে নিতে পারেন সামনে। না পড়লে বেশি দূর আগানো কঠিন কিন্তু।

(এই পোস্টের সব ছবি তাহসান রহমান খানের প্রোফাইল থেকে সংগ্রহ করা)

 

 

 

Email me at unzahid@gmail.com

আরও পড়ুন:

ক্যারিয়ারে অন্য ট্র্যাকে যাবেন না কেন?

এক বছরেই ২০০ বই পড়বেন যেভাবে!

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 7,015 views. Thank You for caring my happiness.

ক্যারিয়ারে অন্য ট্র্যাকে যাবেন না কেন?

পড়াশোনা শেষে যখন আমরা চাকরির বাজারে সিভি জমা দেয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ি তখন সবারই প্রায় একই স্কিল থাকে সিভিতে। পড়াশোনা+এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিসসহ প্রায় সবই একই থাকে। হাজারো সিভির মধ্যে নিজেকে আলাদা করা সত্যিই কঠিন একটা কাজ। আমি ৩/৪দিন আগে ফিল নাইটের শু ডগ বায়োগ্রাফি পড়া শেষ করে। সেই বইয়ের শেষ দিকে স্কিল নিয়ে দারুণ একটা ঘটনা পড়েছি।

ফিল নাইট নাইকির প্রতিষ্ঠাতা। নিজের কোচ বাওয়ারম্যানকে নিয়ে তিনি নাইকি প্রতিষ্ঠা করেন। ফিল নিজে ছিলেন অ্যাকাউন্টিংয়ে গ্র্যাজুয়েট, সঙ্গে ছিল স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ। ফিল নাইকির আগে ব্লু রিবন নামে যে জুতার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেখানে ফিলের বন্ধু-বান্ধব ঘরণার লোকজনই কাজ করতো। ফিল যখন নাইকি শুরু করেন তখন তিনি নানান দুনিয়ার লোক নেয়া শুরু করেন। ফিল আইন পড়া কিংবা অ্যাকাউন্টিং পাশ করা লোকজনকেই বেশি চাকরিতে নিতেন। ফিল তার বইয়ে এর পেছনের কারণটি এভাবে লিখেছেন, ‘যে অ্যাকাউন্টিং বা আইন পাশ করে সে জীবনের অনেকটা সময় পরিশ্রম করে তা আয়ত্ব করে। আর যে শুধু মার্কেটিং কিংবা সাধারণ বিষয়ে পড়াশোনা করে তার আয়ত্বের বিষয়ের গভীরতা অন্যদের চেয়ে কম। অ্যাকাউন্টিং বা আইন পাশ করা কেউ যদি মার্কেটিং কিংবা কমিউনিকেশনে কাজ করে তাহলে তার কিন্তু বেসিক স্কিল তাকে ভালো পেশাজীবি হতে সহায়তা করে।’

নাইকি কিংবা ওয়ালমার্টের বড় বড় ডিপার্টমেন্টে কিন্তু এই বেসিক স্কিলওয়ালা লোকগুলোই বেশি কাজের সুযোগ পান। নাইকির মার্কেটিংয়ে অ্যাকাউন্টিং পড়ুয়ারা বেশি গুরুত্ব পায় যতটা না পায় শুধু মার্কেটিং পড়ুয়ারা।
আমাদের দেশেও কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায়। বিভিন্ন টেলিভিশনে অনেক সাংবাদিকদের চিনি যারা আসলে পড়েছেন অন্য বিষয়ে, অ্যাকাউন্টিং কিংবা বিবিএয়ের অন্য কোন বিষয়ে; তারা কিন্তু সাংবাদিকতাকে তার অন্য বিষয়ে পড়ার কারণে আরও বেশি স্কিলড উপায়ে ক্যারিয়ার হিসেবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক আরজে আছেন যারা ডাক্তার। বুয়েট পাশ অনেক প্রকৌশলী কিন্তু সাংবাদিক লেখক! (যেমন আনিসুল হক, মুনির হাসান!)

ফিল নাইটের বই পড়ে যা বুঝলাম, যে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ হয়, সেই বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি অন্য কোন ট্র্যাকে কিছু করার সুযোগ আছে কিনা তা খুঁজে বের করা যেতে পারে। বিষয়টা অনেকটা এমন, আপনি চিকিৎসক, জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে কিনা তা খুঁজে বের করা। কিংবা আপনি পড়ছেন ফিন্যান্সে, অ্যাপোলো হাসপাতালের সিইও কিংবা অ্যাডমিনে যোগ দেবেন কিনা তার বুদ্ধি বের করা। বর্তমানে চাকরির দুনিয়ার যে অবস্থা, যে বিষয়ে ডিগ্রি পাবেন তা দিয়েই ক্যারিয়ার গড়া কিন্তু একটু বেশিই কঠিন। অন্য রঙে নিজেকে রাঙাতে একটু ট্রিক্স খাটতে এক সার্টিফিকেটে অন্য দুনিয়াতে আবেদন করার উপায় বের করতে পারেন কিন্তু।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,252 views. Thank You for caring my happiness.

ভাষা যেন ভ্রকুটি

অন্ধত্ব, গোঁড়ামি, অজ্ঞতার মাত্রা যে হারে বাড়ছে তাতে আগামীতে আপনার-আমার মাতৃভাষাকে কেউ সম্মানের চোখে দেখবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারেন। 🙂
১২৫ মিলিয়নের মত মানুষ জাপানিজে কথা বলেন, তারা জাতি হিসেবে যে সম্মান আদায় করে নেন; তা ৪২০ মিলিয়ন লোকের আরবী ভাষার দিকে তাকালেই বোঝা যায়। 🙂
একশ বছর আগেও বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে বাঙালিদের যে সম্মান ছিল, তা এখন কই?
আমেরিকার ওকলাহোমার টালসা শহরে আমি জীবনের দারুণ কিছু মুহুর্ত কাটানোর সময় পেয়েছিলাম। সেই শহরের নামী-দামী মানুষদের “বাংলাদেশ”-কে চেনানোর জন্য কতটা যে কষ্ট করতে হইছে তা বলে বোঝাতে পারবো না। মার্কিন মুল্লুকে বাংলা ভাষা-বাংলাদেশকে চেনানোর সেই কষ্ট, আর বিদেশে বাংলাদেশিদের নেতিবাচক পরিচয় নিজেকে ছোট করে।
ঢাকা কিন্তু ভাষা গবেষণার দুনিয়ার মধ্যমনি হতে পারতো ১৯৫২ সালের ইতিহাসের জন্যই। গুগল ক্যালেন্ডারের কারণে দুনিয়ার যত মানুষ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কথা জানতে পারে, আমাদের প্রশাসনিক কোন কাজ কি এক্ষেত্রে চোখে পড়ে?
 
ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনিস্টিটিউটে যতটা আন্তর্জাতিক রিসার্চ আছে, তারচেয়ে গুগলে দেখা যায় ফিলিপাইনে মাতৃভাষা নিয়ে অনেক বেশি রিসার্চ আছে।
 
বাংলা একাডেমি, ইভেন্ট আর প্রেস ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে আর কত দিন নামে টিকে থাকবে? ওপার বাংলায় আমার ৩/৪জন মোটামুটি বিশ্ববিদ্যালয় পাশ+উচ্চ বেতনের বন্ধু “একুশে বইমেলা” কি জানেন না, আমি জানিয়েছি তাদের-অন্যদের জানাবে কে?
 
ব্র্যাক-গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনে “সিয়েরালিওন” নামে একটি দেশের কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞাপনে লেখা “সিয়েরালিওন” শব্দটি ভুল, Sierra Leone কে বাংলায় সিয়েরা লিওন লেখা হয়। দুবছর হলেও বিজ্ঞাপনটিকে সংশোধন করা হয়নি।
 
আরটিভিতে আজকে হুইসপারের একটি বিজ্ঞাপন দেখলাম। অর্ধেক বাংলা, অর্ধেক হিন্দি। ভাষাপ্রেম দেখাচ্ছি না, অন্যভাষার বিজ্ঞাপন প্রচারে কি আমাদের গণমাধ্যমের সচেতনতা থাকবে না?
 
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” গানটিকে দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যের ভাষায় গাওয়ানোর যুক্তি কি আছে? “বাঙালি ভাইয়ের শহীদ”-ইতিহাস আমাদের বাঙালিদের, মারমা-চাকমাদের না। জোর করে তাদের “ভাই” বলার মানে কি? শিকাগোর হে মার্কেটের নিহত শ্রমিকদের কারণে মে দিবস পালন করা হয়, ঐ শ্রমিকরা বাঙালি না, কিন্তু সেই প্রেক্ষিত সার্বজনীন। নিজের ইতিহাসকে অন্যকে দিয়ে গাওয়ানোর কোন মানে নেই। ৫২, ইতিহাসটা বাঙালি, প্রেক্ষিতটা মাতৃভাষার-বৈশ্বিক।
 
গতকাল কালার্স এফএমে মনের বন্ধুর রেডিও শোতে কথা বলার সময় জানতে পেরেছি আমাদের দেশের যে সব সুবর্ণ নাগরিকরা কথা বলতে পারেন না, তারা আমেরিকান-ইংরেজি- সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ শেখেন, বাংলা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ নেই।
 
(আমার লেখায় ভুল থাকাটা স্বাভাবিক, আপনি কোন ভুল তথ্য দেখে থাকলে অনুগ্রহ করে আমাকে জানানোর অনুরোধ রাখছি আমি।)
Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,108 views. Thank You for caring my happiness.

ব্যবসা কি তা জানতে যে বইটা পড়া জরুরী

ইনোভেটিভ বিজনেজ মডেলের উপর Alexander Osterwalder আর Yves Pigneur-এর বই Business Model Generation। বিজনেজ কিংবা স্টার্টআপ-অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ নিয়ে যারা আগ্রহী তাদের জন্য দারুণ একটা বই। গুডরিডস রেটিং ৪.১৬, ৪+ বলেই বোঝা যায় ২৭০ পৃষ্ঠার বইটা বেশ কাজের।  
বইটা পড়ার পরে ডিজাইন থিংকিং বিষয়টা সম্পর্ক ধারনা বেড়েছে আমার। আর বইটা নাইন বিল্ডিং ব্লকসের বিজনেজ মডেল ক্যানভাস তৈরির জন্য আলোচিত। আপনি যদি কোন কিছু শুরু করতে চান, তাহলে এই ক্যানভাসে পুরো ব্যবসাকে বসিয়ে নিন। যদি বসানোর পরে দেখেন কোন একটা ঘর খালি, তাহলে আবার নতুন করে ভাবতে হবে।
৪-৫টা ব্যবসা মডেলের কথা এই বইয়ে লেখা হয়েছে। আনবিল্ডিং মডেল, দ্য লং টেইল মডেলগুলো সম্পর্কে প্রথম জানতে পারি আমি।
ডিজাইন থিংকিং, ভিজ্যুয়াল স্টোরি টেলিং যে কতটা আনন্দের আর মজার তা নতুন করে শিখেছি।

কোন ব্যবসা শুরুর আগে, কিংবা প্রচলিত ব্যবসাকে এই মডেলে ফেলে পুরো ব্যবসাকে একটা পেইজে আনা যায়। ডানে কাস্টমার, আর বামপাশে আপনি-আপনার প্রোডাক্টস; নিচে রেভিনিউ আর খরচ।

        

 

যে কোন স্টার্টআপের শুরুতে এই বিজনেজ মডেলের উপর বইটা পড়া বেশ কাজ দিবে বলে মনে হয় আমার। আইটি কিংবা নন-আইটি যে কোন ব্যবসাকে কাস্টমারের কাছে নেয়ার মডেল ব্যাখ্যা, ভ্যালু তৈরি করে তা কিভাবে কাস্টমারের কাছে পৌছাবেন তাই জানতে পারবেন এই বইটা থেকে।

 

আরও পড়ুন:

এক বছরেই ২০০ বই পড়বেন যেভাবে!

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,232 views. Thank You for caring my happiness.

প্রেম করার বিশটি কৌশল

আমিও প্রোগ্রামিংয়ের উপর বই লিখতে পারবো। আর্দশ প্রকাশনীর বই গল্পে স্বল্পে প্রোগ্রামিং পড়ার পরে এমন ভাবনা আসবে মনে! বইটা সরাসরি প্রোগ্রামিংয়ের উপর, আবার প্রোগ্রামিংর উপর না। আমার মত যারা বহুমুখি প্রতিভার অধিকারী তারা বইটার ৬৭ পৃষ্ঠা থেকে ১০০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত স্কিপ করে যেতে পারেন। স্কিপ করার বুদ্ধি দিলেও বইটার আসল টার্গেট গ্রুপ যারা তাদের জন্য ৬৭-১০০ পৃষ্ঠা প্রোগ্রামিং শেখার জন্য। সুবিন ভাই, ঝংকার মাহবুব ভাইয়ের পরে প্রোগ্রামিং নিয়ে কারও বই পড়লাম, মোটামুটি ২ দিনে শেষ করার মতই বই।

বইটায় যা নাই!

নামে কিই আসে যায়? বইটার নামে গল্প শব্দটাও থাকলেও পুরো বইয়ে ৩টার বেশি গল্পই নাই! লেখক প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন এখানে নিশ্চিত বলা যায়।
আবার নামে স্বল্প শব্দটা আছে দেখেও বিষম খেতে হবে। পুরো বইটা হঠাৎ করে এক জায়গায় শেষ করে দেয়া হয়েছে, তখন মনে হবে বইটা স্বল্প কেন?
বইটি আদর্শের স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। লেখককেও সেখানে পাবেন। প্রথম বই দেখে আগের দুই বাচ্চাকে বাসায় রেখে সারাদিনই বইমেলাতে তৃতীয় বাচ্চাটার জন্য প্রতীক্ষা তার।
ইদানিং সেই লেখকদের বই পড়ি যাদের কেন জানি চিনি। মুনির ভাই, রাগীব ভাই, চমক ভাই-সবার বই পড়ার সময় একটা সমস্যা অনুভব করি। উনাদের যেহেতু সামনে থেকে কথা বলতে দেখি, তাই বই পড়ার সময়ও মনে হয় কানের পাশেই কথা বলছেন। মইনুল রাজু ভাই, বইয়ের ভেতরে দেখলাম যার নামে একটা “ডক্টর” প্রিফিক্সও আছে! সেই রাজু ভাই এমনিতে লেখক না, প্রথম বই হিসেবে আমার সঙ্গে কথা বলছেন এমন একটা টোন পেয়েছি আমি। আমার সমান বয়সী পাঠকরা উনাকে তেমন চিনবেন না বলেই বেশি ঝামেলায় পড়ে যাবেন। তবে বইটি যেহেতু ১২ থেকে ১৮ বছরের কিশোরদের জন্য তাদের জন্য এবারের বইমেলার সেরা ৪০০ বইয়ের তালিকার একটা হতে পারে গল্পে স্বল্পে প্রোগ্রামিং বইটি।
লেখক হিসেবে আরও কষ্ট করতে হবে মইনুল রাজুকে।
বইটা আসলে যিনি লিখেছেন, তিনিই আবার ভূমিকা লিখেছেন কিনা আমি নিশ্চিত নয়, নামের আংশিক মিল আছে দুজনেরই।
যারা ডগলাস অ্যাডামসের হিচহাইকার্স গাইড টু গ্যালাক্সি সায়েন্স ফিকশন সিরিজ বইয়ে পড়েছেন তারা টের পান সিরিজটি বিবিসি রেডিওতে কেন জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। গল্পটা লেখার মত করে বলা আর সেই গল্প লেখাকে কথার মত করে বলা বেশ কঠিন কাজ। লেখক মইনুল রাজু সেই চেষ্টাকে উৎরাতে পেরেছেন বলে আমার বিশ্বাস।

একটা আপত্তি।
বইটির শুরুতে স্টিভ জবসকে প্রোগ্রামিং ও তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট একটা তালিকায় রাখা হয়েছে। আমি একটু দ্বিধান্বিত। স্টিভ জবস কে তা জানতে হলে আমার আগের লেখাগুলো পড়তে হবে।


গুগলে কেউ গল্পে স্বল্পে প্রোগ্রামিং লিখে সার্চ করে বিপদে পড়তে পারেন। প্রথমেই আসবে “মেয়েদের সাথে প্রেম করার ২০ টি কৌশল!”

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,524 views. Thank You for caring my happiness.

পড়ো পড়ো পড়ো’র সেরা ৪ লাইন

মুনির হাসানের পড়ো পড়ো পড়ো পড়ার সময়ই কোন কোন লাইন ফেসবুকে উদ্ধৃতি দিয়ে শেয়ার দিব তা পেন্সিল দিয়ে মার্ক করে রেখেছিলাম। সেই লাইনগুলো নিয়েই এই পোস্ট। যেহেতু বইটি আত্মানুসন্ধান ঘরণার আত্মজীবনী তাই জ্ঞানী-জ্ঞানী লাইন খুঁজে বের করা একটা কঠিন কাজ ছিল আমার জন্য। এটা সত্য যে, বইটি যে আত্মজীবনীর প্রথম পর্ব তার শেষটুকু নিশ্চিত দারুণ হবে।

(ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে)….লড়তে হলে স্বাস্থ্য ভালো হতে হবে, নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে। এবং আত্মসংযমী হতে হবে।

পৃ ১২৪

কোয়ান্টাম বাস্তবতা আর শ্রোয়েডিঞ্জারের বিড়ালের আবির্ভাব আমাদের মাথার পোকাটা নাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সত্যানুসন্ধান বন্ধ হয় না।

পৃ ১০৭

আরও পড়ুন: বেশি বই বেশি পড়ার উপায়

গ্রামের গল্প শহরে করে কোন লাভ নাই!

পৃ ৬১

টাকা ছাড়া জীবনে কিছুই করা যায়,…..

পৃ ৩১

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,800 views. Thank You for caring my happiness.

পড়ো পড়ো পড়ো পড়া

জানুয়ারি মাসেই মুনির হাসানের নতুন বই পড়ো পড়ো পড়ো ফেসবুক ফিডে চলে আসে। পড়ার আগ্রহ তো এমনিই থাকে, মুনির হাসান স্যারের বই বা লেখা হলে তো কথাই নেই।

মুনির হাসানকে আমরা অনেকেই প্রকাশ্যে স্যার বলি, কিন্তু সামনে কথা বলার সময় “ভাই”, “বস”-ই ভরসা। স্যারের বই না পড়াটা অন্যায়, আর না কেনা তো মহাপাপ। কিন্তু আমি তো বই কেনার লোক না! শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের সাজ্জাদ ভাই আমাকে পড়ো পড়ো পড়ো কিনে দেন।

আমি মনে হয় সেই টাইপের পাঠক যাকে যে বই কিনে দেন তার অটোগ্রাফ নেই। আমার পড়ো পড়ো পড়ো বইয়ে লেখকের অটোগ্রাফ নেই, যিনি উপহার দিয়েছেন সেই সাজ্জাদ ভাইয়ের আছে।
গণিত অলিম্পিয়াডের বায়েজিদ ভূঁইয়া জুয়েল ভাইকে বলে রেখেছি, আমি কোন দিন “পড়ো পড়ো পড়ো” নিয়ে রিভিউ লিখতে তা ২৮০ পৃষ্ঠা লিখবো। মূল বই ২২০ পৃষ্ঠা, আর তার রিভিউ ২৮০ পৃষ্ঠা-দারুণ মার্কেটিং হাইপ হবে!

(আরও পড়ুন: এক বছরেই ২০০ বই পড়বেন যেভাবে!)

লর্ড অব দ্য রিংসের স্রষ্টা জে আর আর টোলকিয়েন ক্রিটিক সম্পর্ক বলেছেন, “কেউ বই পড়ে তারপরে বইটাকে কোন মতে একটা রিভিউ লিখে দেয়। বইটা পড়ে বিরক্তিকর, হাস্যকর কিংবা আবোলতাবোল মনে করে। আমিও তাদের লিখা নিয়ে একই ধারণা পোষণ করি।” কোন বই পড়ে কমেন্টস করা একটা আর্ট, ক্রিটিসিজম ইট সেল্ফ অ্যা আর্ট। আমি কে কোন বই পড়ে তা নিয়ে লেখার। পারমিনিট ২৫০+ শব্দ পড়ুয়া একজন ফাঁকিবাজ পাঠক হিসেবে দাবি করে কিছু বই যে পড়ি না তা অস্বীকার করবো না।


পড়ো পড়ো পড়ো শুরুর আগে আমি ফিল নাইটের শু ডগ বই পড়া শুরু করি। ফিল নাইট নাইকির প্রতিষ্ঠাতা। তার অটোবায়োগ্রাফি শু ডগ, আবার মুনির হাসানের বায়োগ্রাফির প্রথম অংশই পড়ো পড়ো পড়ো। যে কোন বায়োগ্রাফিরই প্রথমদিকটা আমার কাছে খুবই ঝাপসা মনে হয়। ফিল নাইট তার বইতে তার ঘর-বাড়ি-বারান্দার দারুণ এক চিত্র তুলে ধরেছেন, দূরের পাঠক হিসেবে সেইসব জায়গা কল্পনা করাটা খুব কঠিন। আমি যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে কোন দিন যাই নাই, সেহেতু আমাকে ওরেগনের পরিবেশ সম্পর্কে যতটাই লিখে বলা হউক না কেন, আমি বুঝে উঠতে পারবো না।
মুনির হাসান যখন ১৯৮৮ সালে বুয়েটে পড়ছেন, রাজনীতির আশেপাশে ঘুরছেন-সেই সময়টাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ছিল উত্তাল। যারা পড়ো পড়ো পড়ো পড়বেন তারা জেনারেল এরশাদের কারণেই ক্যান্টনমেন্ট+দেশ উত্তাল দেখতে পারবেন। সে সময়টায় আরেকটা কারণে ক্যান্টনমেন্ট গরম ছিল, সেটা ছিল আমার জন্ম। আমি সিএমএইচে জন্মেছিলাম তখন! কাকতালীয়ই বটে, স্যারের জন্মদিন আর আমার জন্মদিনই একই তারিখ, ২৯ জুলাই। পরে জেনেছি ২৯ জুলাই উদ্যোক্তা তানিয়া ওয়াহাব ও সোলায়মান সুখনের মেয়েরও জন্মদিন! সব লিও!
পড়ো পড়ো পড়োর শুরুর দিকেও অনেকগুলো চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হতে হয়ে পাঠকদের। বুয়েট আর চট্টগ্রামের নানান মানুষ আর চরিত্রের নানান ঘটনা, কিছুটা আড্ডার স্টাইলে লেখা। যারা মুনির হাসানের কথা শুনেছেন তারা বইটা পড়ার সময় মুনির হাসানই কথা বলছেন এমনটা ভাবতে পারেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফিল নাইটের শু ডগ পড়ে যেখানে কুয়াশা দেখেছি সেই অবস্থা ছিল বুয়েটের হল আর ক্লাসরুমের নানান চিত্র পড়ার সময়। তবে এটা ঠিক যারা বুয়েটে পড়েছেন তারা নিজেকে মুনির হাসানের জায়গায় কল্পনাতে নিয়ে যেতে পারবেন। দূরের পাঠক হিসেবে মূল ঘটনার ক্রিমটাই পড়ে মুখে হাসি আসবে আপনার।
যেহেতু বইটি কোন এক বড় আত্মজীবনীর অংশ সেহেতু প্রথমটুকুই পড়ে কোন ধরণের ক্রিটিক টাইপের মন্তব্য করতে আমি রাজি না। ৪০ বছর পরের কেউ যদি টাইম মেশিনে এখন চলে আসলে সে বইটা সম্পর্কে দারুণ কোন রিভিউ করতে পারবেন, আমি না।
যারা মুনির হাসানের বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা নিয়মিত পড়েন তারা নিশ্চিত বইটির শেষের অংশ পড়ে এখনকার মুনির হাসানকে মেলাতে পারবেন। আমি মুনির হাসানকে ২০০৭ থেকে চিনি, এরপরের অংশটুকুর জন্য বইটির দ্বিতীয় পর্ব টুকু পড়তেই হবে।

(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ২০১৭ সালে যে বইগুলো পড়া উচিত!)

যে সব কারণে পড়ো পড়ো পড়ো পড়া ঠিক হবে না

  1. আপনি যদি বিসিএস পরীক্ষাই ধ্যানজ্ঞান মনে করেন তাহলে বইটা ধরাই ঠিক হবে না।
  2. বইটির শেষ দিকে আরও কিছু বইয়ের নাম দেয়া আছে। এটা আসলে ওই বইগুলো বেঁচার ধান্দা! অ্যাফিলিয়েটিং মার্কেটিং, একটা কিনলে আরেকটায় যাওয়ার ব্যবসা!
  3. বইটার শেষ দিকে কিছু মুভি দেখার তালিকা আছে, তাহসানম্যানিয়াক হলে বইটা না ধরাই উত্তম।

আমরা যারা মুনির হাসান হতে চাই, তাদের জন্য বইটা থেকে দুষ্টামি শেখার সুযোগ যেমন আছে। তেমনি বইটি পড়ে “অ্যাট দ্য এন্ড অব দ্য ডে হোয়াট ইউ রিড ইজ ইউ” বলে মনে হবে আপনার।
হ্যাপি রিডিং!

 

 

আরও পড়তে পারেন:

নবী মোহাম্মদ কি জুতো পরতেন

ফোর্বস ম্যাগ যে বই উদ্যোক্তাদের Must পড়তে বলে

এক বছরেই ২০০ বই পড়বেন যেভাবে!

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,942 views. Thank You for caring my happiness.

ফিলের কথা

শু ডগ নামে একটি বই পড়ছি বর্তমানে। নাইকির প্রতিষ্ঠাতা ফিল নাইটের বায়োগ্রাফি। দারুণ একটা বই। সেই বই থেকে কয়েকটা লাইনের ইমেজপোস্টই এই পোস্ট।

This slideshow requires JavaScript.

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,170 views. Thank You for caring my happiness.

শিক্ষক-ছাত্রের সেই যে পাগলামিই নাইকি!

আমাদের দেশে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক যেন কেমন জানি ভয় আর দূরত্বের বেশ বড় একটা সম্পর্ক। আমাদের দেশে তেমন দেখা না গেলেও পশ্চিমের দুনিয়াতে ছাত্র-শিক্ষকরা অনেক বড় প্রতিষ্ঠানই গড়ে তুলেছেন এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায়।

অরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ে উইলিয়াম বাওয়ারম্যান নামের একজন ফিল্ড কোচ ছিলেন। পদে কোচ হলেও নিজেকে প্রফেসর হিসেবেই দাবি ছিল তার। তার বিশ্ববিদ্যালয় টিমের এক শিক্ষার্থী ছিল ফিল নাইট।

অরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪ বছর কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাওয়ারম্যান। ১৯৬৪ সালের অলিম্পিকে মার্কিন অ্যাথলেটদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল বেশ। জগিংয়ের উপরেও বেশ ভালো বই লিখে ষাটের দশকে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। এই বাওয়ারম্যানই তার টিমের ব্যাকআপ প্লেয়ার ফিল নাইটকে নিয়েই দারুণ এক কোম্পানি গড়ে তুলেছিলেন, নাইকি।
কে এই ফিল?
অন্য আট-দশটা মার্কিনের মতই সাদা চামড়ার মানুষ ফিল নাইট। প্রথমে অরেগন বিশ্ববিদ্যালয় তারপরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়েন ফিল। এরপরে সেনাবাহিনীতেও কিছুকাল রিজার্ভ হিসেবে কাজ করেন। মা-বাবার দারিদ্র্যতাকে কাটানোর জন্য কি করা যায় তা নিয়ে প্রায়শই ভাবতো ফিল।

স্ট্যানফোর্ড পড়ার সময় “Can Japanese Sports Shoes Do to German Sports Shoes What Japanese Cameras Did to German Cameras?” নামের একটা পেপার প্রকাশ করেন ফিল। নিজের কাছে সেই রকম মনে হলেও তার এই পেপার প্রেজেন্টেশনের সময় নাকি ক্লাসের বাকি সবাই ঘুমাচ্ছিল বলে নিজের বায়োগ্রাফিতে লিখেছিলেন ফিল। ১৯৬২ সালে স্ট্যানফোর্ডের পড়াশোনা শেষ করে সারা পৃথিবী ঘোরার আগ্রহ দেখা যায় তার। জমানো টাকা নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন, প্রথমে হাওয়াই।
একবন্ধুর সঙ্গে হাওয়াইর বিমান উঠে পড়েন ফিল। সেখানে কিছুদিন এনসাইক্লোপিডিয়া বিক্রি করার চেষ্টা করে ফিল, কয়েক সপ্তাহ পরে হিসেব করে দেখেন কোন কিছুই বিক্রি পারেন না ফিল। এরপরে ছুট দেন জাপান। টাইগার নামের এক জুতো জাপান থেকে আমেরিকায় এনে বিক্রির প্ল্যান করে ফিল। নিজের ঘরে অনেক পুরষ্কার নীল ফিতা দিয়ে জড়ানো ছিল, প্রতিদিন সন্ধ্যায় সেখানে ফিলের নজর পড়ত, তাই জাপানিজদের নিজের কোম্পানির নাম হিসেবে বলেন ‘ব্লু রিবন’।

এই সেই ফিল!

জুতো জাপান থেকে দেশে ফিরতে ফিরতে ফিল চীন, ভারত, ফিলিপাইন, নেপাল, গ্রীস, মিশর, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স হয়ে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে অ্যাকাউনটেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরই মধ্যে জুতো জাপান থেকে বাড়িতে আসলে চমকে যান ফিল। নিজের শিক্ষক+কোচ বাওয়ারম্যানকে জুতো কেনার অনুরোধ করে। বাওয়ারম্যান শুধু জুতোই নয় ব্লু রিবন কোম্পানির শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেন।
বাওয়ারম্যানের এক উকিল বন্ধুর বাড়িতে হ্যান্ডশেইক চুক্তির মাধ্যমে ব্লু রিবন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন ছাত্র-শিক্ষক নাইট ও বাওয়ারম্যান।
——-

এখন পড়ছি শু ডগ নামের একটি বই। #21daysofReading চ্যালেঞ্জের অংশ হিসেবে প্রতিদিন ২০ পৃষ্ঠা করে বইটা পড়ছি। সাড়ে তিনশ পৃষ্ঠা শেষ হবে কবে?

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,223 views. Thank You for caring my happiness.

নবী মোহাম্মদ কি জুতো পরতেন

শিরোনাম দেখে ধর্মবিদ্বেষ ভাবনা আসতে পারে অনেকের মধ্যে। এই জিজ্ঞাসা আমার না, ফিল নাইট নামের এক ভদ্রলোকের। ১৯৬০ দশকে পৃথিবী ঘুরতে বেরিয়ে ছিল ফিল নাইট। জেরুজালেমের একটি পাথরের গায়ে নবী মোহাম্মদের পদচিহ্নের কথা জেনে ফিলের মনে প্রথম এই প্রশ্নই এসেছিল, ‘নবী মোহাম্মদ কি খালি পায়ে চলতেন, না জুতো পরতেন?’

কেন এই প্রশ্ন আসলো তার মনে? প্রশ্নের শুরুটা আসলে ১৯৬২ সালের শুরুর দিকেই। ফিল নিজের জন্য কিছু করবে দেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন থেকে হাওয়াই হয়ে জাপান চলে যায়। জাপানে সেই রকম কিছু কাজ করে বিশ্ব দেখতে বের হয় ফিল, আর তখনই এমন একটা প্রশ্ন আসে তার মনে। লিওনার্দো ভিঞ্চির শহরে ঘুরতে যেয়ে ফিলের লিও’র ‘মানুষের পা নাকি সবচেয়ে সুন্দর’ এমন ভাবনায় আলোড়িত হয় ফিল। শেক্সপিয়ারের এলাকা দেখার সময় এলিজাবেথিয়ান সময়কার নারীরা জুতোর উপরে লাল কাপড় পড়তেন। দুনিয়ার যাই দেখতেন ফিল সবখানেই জুতো দেখতেন! নেপাল ঘোরার সময় তিব্বতীয় মংকদের জুতোই দেখতেন ফিল।
যুদ্ধের জেনারেল যে বুট-জুতা পছন্দ করতেন তাকেই সেই মাত্রায় পছন্দ করতেন ফিল। পাগলামি!
অবরুদ্ধ বার্লিনে একদিকে মার্ক্স-এঙ্গেলস-প্ল্যাৎজকে খুঁজে বেরিয়েছেন ফিল, আর অন্য দিকে দুটো ছেলে একটা মেয়ের ছবি তোলার সময় নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। “Will I ever forget her? Or her shoes?”, এখানেও জুতো তার।
সব দিকে জুতো-জুতো দেখা এই মানুষটা ফিল নাইট, নাইকির প্রতিষ্ঠাতা।

মন্ত্রমুগ্ধে মত ফিল নাইটের লেখা শ্যু ডগ পড়ছি। স্টিভ জবস, রিচার্ড ফাইনম্যানের বায়োগ্রাফি পড়ার পরে এই বই হাতে আসছে। প্রতিদিন ২০ পেইজ, এমাসের শেষে এই বই শেষ হবেই। ফিল নাইটের কথা প্রথম জানি আমার যমুনা টিভির সহকর্মী-বড় ভাই এইচ এম সুজা ভাইয়ের কাছে। সুজা ভাইও ফিলের মত মাল, চালু।

 

 

সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ক্লাসরুমে বসে ৯ ফেব্রুয়ারি এই পোস্টটা লিখেছি।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,552 views. Thank You for caring my happiness.