সোলায়মান সুখন থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে সোলায়মান সুখনকে এই সময়কার মানুষরা নামে চেনেন। পেশাজীবনে কর্পোরেট দুনিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও যারা সামনে নিজের কোন উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নামতে চান তারা সোলায়মান সুখনের কাছ থেকে দারুণ কিছু বিষয় ইতিবাচকভাবে শিখতে পারেন।


“আপনার পণ্য কে কিনবে তা কি জানেন?”
বিভিন্ন বিজনেজ কেস কম্পিটিশন কিংবা যে উদ্যোগের শুরুতে সব কিছুই রঙিন মনে হয়। দারুণ আইডিয়া দিয়ে দুনিয়া কাপানোর চেষ্টা থাকে সবারই। কিন্তু খুব কম সময়েই আমরা জানি না আমাদের পণ্য বা সেবা কে কিনবে? কিংবা কে আপনাকে সামনে নিয়ে যাবেন। সোলায়মান সুখন কিন্তু তার সোশ্যাল মিডিয়ার যত মেসেজ রাখেন সব কিন্তু ১৭ থেকে ২২ বা ২৫ বছরের তরুণদের উদ্দেশেই দেন। কারণ এই মানুষরা বয়সে তরুণ, তারা সোলায়মান সুখনের মত পারফেক্ট কেউ হতে চান বলেই সোলায়মান সুখনের ভিডিও কিংবা পোস্টে হামলে পড়েন। সোলায়মান সুখনও কিন্তু তার এই গ্রুপ সম্পর্কে জানেন, তিনি কিন্তু বিদেশপড়ুয়া কিংবা আইবিএ বা হাই-ক্যারিয়ার স্কোপ যাদের আছে তাদেরকে প্রাথমিক টার্গেট করে কনটেন্ট ডেভলপ করেন না। সোলায়মান সুখন ইচ্ছে করলেই কর্পোরেট দুনিয়ার তরুণ পেশাজীবিদের জন্য ভাইরাল কনটেন্ট বানাতে পারতেন, সেদিকে কিন্তু তিনি নেই। তার ফলোয়ার কারা এটা তিনি জানেন, সেভাবেই তিনি কনটেন্ট ডিজাইন করেন। আপনার পণ্যটি যাদের জন্য তাদের জানার চেষ্টা করুন। কাস্টমার ছাড়া আসলে যে কোন উদ্যোগই কাগজে কলমে হিট, বাস্তবে নাই।

মার্কেটিং শিখুন
কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মার্কেটিং আর ব্র্যান্ডিং করতে হয় তা সোলায়মান সুখনের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করা যায়। এক সময় এলিট মোবাইল কয়েক মাসের জন্য আলোচিত হয়েছিল, তার পেছনে ছিলেন সোলায়মান সুখন। এরপরে আমরা নেটওয়ার্কসের উই মোবাইল দিয়ে সাড়া ফেলেছেন। আমরা নেটওয়ার্কসকে এর আগে কর্পোরেট দুনিয়ার বাইরে কয়জনই চিনত? এখন জায়গায় জায়গায় ফ্রি ওয়াইফাই দিয়ে আমরার ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানোর আইডিয়া তার।

You বনাম My
আইপড স্টিভ জবস কিভাবে বিক্রি করতো তা খেয়াল করলে দেখা যায়, 1000 Songs in Your Pocket। আইপড বাজারে আনার সময় অ্যাপল কিংবা স্টিভ জবস কি নতুন এমপিথ্রি প্লেয়ার, নতুন পণ্য কিংবা হার্ডডিস্কে মেমরি দিয়ে বিজ্ঞাপন কিংবা হাইপ তোলার চেষ্টা করতে পারতো না? সাইমন সিনেকের স্টার্ট উইথ হোয়াই’তে আমি পড়েছি মানুষ আগে নিজের প্রয়োজনটাই সবার-সবার আগে বোঝার চেষ্টা করে। Your Pocket শব্দদুটো দিয়ে স্টিভ কিন্তু আপনাকে-কাস্টমারকে ফোকাস করেছে। সোলায়মান সুখনের বিভিন্ন ভিডিওতে এমনভাবে বাক্য ব্যবহার করেন যেন বিষয়টা You মানে আপনি কেন্দ্রিক থাকে। ফানেলের উপর থেকে কথা বলার স্টাইলে মানুষকে প্রভাবিত করা যায় না। হবু-উদ্যোক্তারা যখন পণ্য বা আইডিয়া নিয়ে কাজ করেন সেখানে কাস্টমাররা কি পাবেন-পাচ্ছেন সেটাই সবার আগে ফোকাস করা উচিত।
Quora তে একটা ডিবেইটে পড়েছিলাম Your Account শব্দটা My Account-এর চেয়ে বেশি শক্তিশালী! You-কে ফোকাস করুন।


নেটওয়ার্ক দিয়ে ডমিনো অ্যাপ্রোচ তৈরি করুন
সোলায়মান সুখন গত ৩/৪ বছর ধরে টেলিকমিউনিকেশন দুনিয়াতে যুক্ত। খেয়াল করলে দেখবেন তার নানান প্রচার প্রচারণায় তারই নেটওয়ার্কের লোকজনকে তিনি প্রভাবক হিসেবে কাজে লাগান। অন্যান্য ইউটিউবার কিংবা আলোচিত তরুণদের দিয়ে নানা ভাবে তার প্রতিষ্ঠানের পণ্যের ব্র্যান্ডিং করেন তিনি। আমরা যারা হবু-উদ্যোক্তা তারা সব সময় আইডিয়া অন্যদের কাছে লুকানোর চেষ্টা করি। চুরি হয়ে যাওয়ার ভয়ে চুপচাপ থাকি। বিষয়টা আসলে অন্যভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, আমরা যত বেশি একটা আইডিয়া নিয়ে যত বেশি যত মানুষের সঙ্গে কথা বলবো তত বেশি তথ্য আর উপাত্ত পাবো, বাজার সম্পর্কে ধারণা পাবো। মনে রাখা উচিত, একেক জন চুলে একেক স্টাইলের সিঁথি করে। সবার ভাবনার দুনিয়া আলাদা, কেন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না? যত ভাবনা তত কিন্তু পথ।

মনোযোগি ফলোয়ার হউন
আমরা হুট করেই কিছু না ভেবেই মাঠে নেমে যাই। মাঠে নেমে যাওয়ার পরে হুতাশ শুরু হয়। এটা থেকে মুক্তির একটা উপায় হচ্ছে মাঠে নামার আগে মাঠে যারা নেমেছিলেন তাদের পরামর্শ নেয়া। জিই’র সিইও জ্যাকের বায়োগ্রাফিতে পড়েছি, ভালো ফলোয়াররাই নাকি দারুণ নেতা হয়। অন্যকে অনুসরণ করে নিজেকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যান। অন্যকে অনুসরণ করে তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যান। সোলায়মান সুখন কিন্তু মাঝেমধ্যে তার ব্যবসা দুনিয়াতে যাদের ফলো করেন তাদের নিয়ে কথা বলেন। অন্যকে অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে যান, অনুকরণ নয়।

“পরিবারকে সময় দিন!”
স্টার্টআপ করার সময় নাকি অনেকেই প্রেমিকাকে ছেড়ে দেন!-এমনটা পড়তে ভালো লাগে, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা শকিং কিন্তু! সোলায়মান সুখনের শত ব্যস্ততায় কিন্তু তার পরিবারের পেছনে সময় দেয়ার চেষ্টার ছবি তার ফেসবুকেই দেখা যায়। সব কিছুই ব্যালেন্স করে সামনে এগিয়ে যান।

আরও পড়ুন: তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

যা পারেন না তা করবেন না
সোলায়মান সুখন কিন্তু ভিডিও কনটেন্টে দারুণ হলেও লেখালেখিতে সম্ভবত তেমন শক্ত নন। সে কারণেই কিন্তু তিনি ভিডিও দিয়েই তার ফলোয়ারদের সঙ্গে কানেক্টেড হন। আমাদের মধ্যে জ্যাক অব অল ট্রেডস হওয়ার প্রবণতা আছে। যা পারি না, তাই বলার চেষ্টা করি, শো-অফটাই বেশি। হবু-উদ্যোক্তাদের জন্য এ বিষয়টা গুরুত্ব দেয়া উচিত। যা পারেন না, তা না শিখে কিছু না করাই ভালো! এক্ষেত্রে উপায় হচ্ছে, কোফাউন্ডার খুঁজে মাঠে নেমে পড়া। একা তেমন কিছু করা যায় না, কিন্তু ২-৩জনের গ্রুপেই মোটামুটি দারুণ অনেক কিছু করা যায়।


সব ধরার চেষ্টা করলে ধরা খাবেন!
চীনে একশ কোটির বেশি লোক। কেউ যদি চিন্তা করেন একশ কোটি লোকের জন্য দুশ কোটি জুতো দরকার, আর কালকেই জুতা বানানো শুরু করেন তাহলে কি হবে! নাইকির প্রতিষ্ঠাতা ফিল নাইটের বইয়ে এই লাইনটাই পড়েছিলাম! ১শ কোটি লোক, ২শ কোটি পা! ২শ কোটি পায়ের জুতো তৈরি কত বড় হাঙামা তা কি জানেন! সোলায়মান সুখনসহ আমরা যাদের অনলাইনে ইনফ্লুয়েনশিয়াল হিসেবে দেখি তারা কিন্তু দুনিয়ার সব কিছুতেই মতামত দেয়ার চেষ্টা করেন। সব কিছু নিয়ে কথা বলার কারণেও কিন্তু মাঝেমধ্যে গণরোষে পড়েন তারা। সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি হচ্ছে, টুকরো টুকরো মার্কেট সেগমেন্ট ধরে প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট, তারপরে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

সামাজিক কাজে যুক্ত থাকুন
শুধু নিজেকে নিয়ে কিংবা নিজের ছোট দুনিয়া নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি। এটা ঠিক না, অসুস্থতা। ফরিদপুর থেকে হেলিকাপ্টারে করে ঢাকায় একটা বাচ্চাকে আনার দারুণ একটা কাজ করেছিলেন সোলায়মান সুখন গত বছর। শুধু নিজেকে নিয়ে পড়ে থাকলে এসব করা যায় না, নেটওয়ার্ক বড় হয় না।

শিখুন।
সোলায়মান সুখনের সঙ্গে একবার কথা বলার সময় তার নতুন অফিসের টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে একটি অভিজ্ঞতা শুনেছিলাম। টেকনিক্যাল বিষয় না বোঝার কারণে বেশ বিপদে পড়ার সম্ভবনা ছিল তার, পরে ইউটিউব আর অনলাইন থেকে তা শিখে বিপদ পাড় করেন। হবু-উদ্যোক্তারা অনেক কিছুতে আটকে থেমে যায়। অনলাইনে কোর্সেরা-এডএক্স থেকে অনেক কোর্সের শুধু ভিডিও দেখেই অনেক ধারণা পাওয়া যায়। শিখলে লস নাই আসলে!

 

(এই পোস্টের সব ছবি সোলায়মান সুখনের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেয়া। সোলায়মান সুখন ভাইকে আমি অন্যদের মতই ফলো করি, এছাড়া উনার সঙ্গে আমার আর কোন সম্পর্ক নেই। আরেকটা সম্পর্ক আছে, ২৯ জুলাই আমার জন্মদিন, উনার মেয়েরও মেবি একই দিনে জন্মদিন!)

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 7,227 views. Thank You for caring my happiness.

দারুণ একটা ক্রোম এক্সটেনশন

প্রতিদিন সকালে অফিস কিংবা বাসায় যেখানেই কম্পিউটারে বসি প্রথমেই মজিলা/ক্রোমের অ্যাডড্রেস বারে www এর পরে ডট তারপরে facebook ডট com লিখার অভ্যাসটা ছাড়াই দায়। ফেসবুকের নীল দুনিয়াতে মাথা একবার গুজলে কোথা থেকে কয়েকঘণ্টা হাওয়া হয়ে যায় তা টের পাওয়া বা হিসেব রাখাই মুশকিল।

আমি মোবাইল থেকে ফেসবুক অ্যাপ আর মেসেঞ্জারখানা সরানোর পরেও ফেসবুকাসক্তি কমাতে পারি নাই।

ফেসবুক আসক্তি যখন চরমে তখন গত মাসে দ্য ভার্জে Todobook নামে একটা ক্রোম এক্সিনশনের খোঁজ পাই, প্রোডাক্টিভিটি এক্সটেনশন। সঙ্গে সঙ্গেই ক্রোমে যোগ করে ফেলি, আর এরপরে ফেসবুকেই থাকি-কিন্তু আগে কাজ তারপরে নীল দুনিয়াতে পা রাখার সুযোগ পাই।

টুডুবুক আসলে ফেসবুকের হোমে এসে বসে থাকে, যেখানে ৪/৫টা টু ডু লিস্টের কাজ শেষ না করে টিক না দিলে ফেসবুকে ঢোকা যায় না। নিজের সঙ্গে একটু সততা বজায় রেখে কাজ শেষ করেই ফেসবুকে আসা যায়।

দারুণ একটা ক্রোম এক্সটিনশন।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,016 views. Thank You for caring my happiness.

৫২টা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ শব্দ শিখুন, ভড়কে দিন অন্যকে

বডি ল্যাঙ্গুয়েজের উপরে দারুণ একটা বই পড়ছি। সেই বইটায় ৯২টা সারকাস্টিক বডি ল্যাঙ্গুয়েজের কথা বলা আছে। তার মধ্য থেকে ৫২টা তো ফাটাফাটি, প্র্যাকটিস করা শুরু করে দিচ্ছি আজকেই। সেই ৫২টা বডি ল্যাঙ্গুয়েজের শব্দ নিয়েই এই পোস্ট।
১. দ্য ফ্ল্যাডিং স্মাইল: গ্রুপ মিটিংয়ে কখনই প্রথমে নিজে হাসবেন না। একটু তাকিয়ে স্থির হয়ে তাকাবেন, তারপরে হাসবেন।
২. স্টিকি আইস: আপনার সামনে যে কথা বলবে তার চোখে আঠার মত তাকিয়ে থাকুন। সে সময়ে দুনিয়া উল্টো গেলেও তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকুন। কথা শেষ হলেও তাকিয়ে থাকুন।
৩. ইপক্সি আইস- গ্রুপ মিটিংয়ে কারও বিপক্ষে অবস্থান করার সময় অন্য কেউ কথা বললেও আপনার প্রতিপক্ষের দিকে তাকিয়ে থাকুন। কে কথা বলছে সেটা ব্যাপার না, ওই লোকের দিকে তাকিয়ে থাকুন।
৪. দড়ি কামড়ের পজিশনে দাঁতের অবস্থান: মনে করুন, আপনি কোন দড়ি কামড়ে ঝুলে আছেন। শুধু দাঁত দিয়ে দড়ি কামড়ে আছেন। মুখের পেশি তখন খুবই আঁটোসাঁটো হয়ে যাবে, এমন অবস্থায় থাকুন। কেউ মেজাজ দেখাতেই আসবে না!
৫. বিগ-বেবি পিভট: কোন মিটিংয়ে যে বস তাকে ছাড়া অন্যদের দেখে হাসুন। এক হাসিতেই “I think you are very, very special.” ফিলিং দিয়ে দিন।
৬. “আরেহ, বন্ধু”: পরিচিত, অপরিচিত যার সঙ্গেই দেখা করুন না কেন এমন ভাবে কথা বলুন যেন সে আপনার পুরাতন কোন বন্ধু।
(বাকি ৪৫টা কবে লিখব জানি না।)

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,336 views. Thank You for caring my happiness.

অনার্সের তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় যা করা উচিত!

প্রথমেই শিরোনামে “উচিত” শব্দটি কেন লিখেছি তা বলে নেয়া ভালো। এই উচিতটা আসলে সেই সব খুবই সাধারণ মানের শিক্ষার্থীদের যাদের সিজিপিএ নিয়ে তেমন ভাবনাই নেই। পাশ, আর সেমিস্টার বদলই যাদের জীবনের ধ্যান তারাই মোটামুটি সাধারণ মানের শিক্ষার্থীদের বলা যায়। এই শিক্ষার্থীদের অনেকের অনেক বড় বড় স্বপ্ন থাকে-বিসিএস ক্যাডার, প্রাইভেট ব্যাংকের এমটিও, কিংবা ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোবাকোর টেরিটোরি ম্যানেজার পোস্টসহ আরও অনেক আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন। স্বপ্ন বড় হলেও অভিকর্ষের টানে এই শিক্ষার্থীরা গড়পড়তা একটা জীবন কাটিয়ে দেয়। ভালো চাকরি হবে এই প্রত্যাশায় অনার্স জীবন শেষ হলেও ভালো চাকরি তেমন ধরাই দেয় না তাদের হাতে। আক্ষেপের একটা জীবন কাটিয়ে যায় সবাই। সেই সব শিক্ষার্থীর জন্য এই পোস্ট। আমি নিজে খুবই সাধারণ শিক্ষার্থী ছিলাম দেখে সেই সব সাধারণ শিক্ষার্থীর হতাশার মাত্রাটা বুঝি, নিজের অভিজ্ঞতা আছে অনেক!
অনার্সের তৃতীয় বর্ষে তেমন কিছু কাজ করলে পরের সময়টায় দারুণ কিছু করার সুযোগ তৈরি করা যায়। মনে রাখা ভালো, জীবনে নিজের সুযোগ নিজেরই তৈরি করতে হয়; অন্যের করুণার সুযোগের প্রতীক্ষায় কেন বসে থাকবেন। অনেকেই এই কথার বিরোধিতা করবেন, তাদের বলি-শচীন টেন্ডুলকার অনেক ম্যাচে খারাপ করলেও পরের ম্যাচগুলো খেলতেন সৌভাগ্য কিংবা পরিশ্রমের জোরেই। আপনি আমি শচীন না, আমাদের পরিশ্রম আছে, কিন্তু সৌভাগ্য সব সময় ধরা দেবে না। আর ধরা কেনই বা দেবে? সব মিলিয়ে দেশে প্রতিবছর ২ হাজারের বেশি ভালো চাকরির সুযোগ আসে (বিসিএস+ব্যাংক নিয়ে দু হাজার ভালো সুযোগ আসলেই কম)! সবার যদি সমান সৌভাগ্য আসতো, তাহলে চাকরি আর কারো করা লাগতো না।
তো তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় কি করতে পারেন? আমি কিছু বুলেট পয়েন্ট লিখতে চাই, এগুলোকে পরামর্শ না ধরাই ভালো। নিজের চারপাশের মানুষদের কাছ থেকে এসব শিখে দেখে লিখছি।
* নিয়মিত পত্রিকার অভ্যাস করুন। অনার্স শেষে বিসিএস পরীক্ষার জন্য হুট করেই পত্রিকা পড়ার অভ্যাস আমাদের অনেকের। ওই সময়ের জন্য পত্রিকা পড়ার অভ্যাস না রেখে এখনই শুরু করুন। সাকসেস আসলে লাইফস্টাইল, পত্রিকা পড়ার অভ্যাস আপনার প্রতিদিনকার অভ্যাস হিসেবে গড়ে তুলুন। দেখবেন কয়েকমাস পরে আপনার মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয় একটা স্পঞ্জের মত হয়ে যাবে, সহজেই যে কোন ইনফরমেশন মনে রাখতে পারবেন। আমাদের ব্রেইনও কিন্তু আমাদের মত, কথা শুনতে চায় না। বাড়ির পাশে রাতে জোরে গান বাজালে যেমন শুনুন না শুনুন কানে আসবেই, তেমনি নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করুন। ব্রেইন স্বয়ংক্রিয় নিজেই ইনফরমেশন নেয়া শুরু করবে।
* সপ্তাহের ২ দিন অন্তত নিজের মত সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। আমাদের বর্তমান যে রুটিন, ক্লাস+বাসা+ঘুম+ফেসবুক=জীবন! এটা অন্তত দুদিনের জন্য বাদ দিন। চেষ্টা করুন প্রতি সপ্তাহে দুদিন বই পড়া, সিনেমা দেখা, ঘুরতে যাওয়ার মত অভ্যাস চালু করুন। ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে একা একা হেটে হেটে ফার্মগেট চলে যান, খামারবাড়ী হয়ে সংসদ ভবন একা ঘুরে আসুন। একঘেয়ে জীবন ব্রেইন+শরীর অটোমেটেড মুডে চলে যায়, শরীরকে দৌড়ের উপর রাখুন।
* নেটওয়ার্ক পাওয়ার তৈরি শুরু করুন। আপনি যে বিষয়ে পড়ছেন কিংবা যে দিকে চাকরি করতে চান সেই দিকে নেটওয়ার্ক শুরু করুন। সিনিয়র ২/৩ ব্যাচের চেয়ে আরও সিনিয়র যারা চাকরি করছেন তাদের ফেসবুক বা লিংকডইনে খুঁজে রাখুন। জুনিয়রদের ফেসবুক কিংবা বাস্তব দুনিয়াতে চিনে রাখুন, নেটওয়ার্ক পাওয়ার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। শখের কোন বিষয় থাকলে সেদিকেও নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন।
* সিভি তৈরি শুরু করুন। তৃতীয় বর্ষ থেকেই নিজের ইউনিক সিভি তৈরির চেষ্টা শুরু করুন। অন্যের সিভি দেখে শিখুন, কপি করবেন না। করলে আমার মত ধরা খাবেন। একবার এক সিভির টেমপ্লেট দিয়ে আমরা ৪ বন্ধু গ্রামীণফোনে ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করে ছিলাম, চারজনই ভাইবাতে বাদ পড়েছিলাম।
* যোগাযোগের জাহাজ হউন। তৃতীয় বর্ষ থেকে নিজেকে ক্যারিয়ারের জন্য রেডি করুন। বিবিএ পড়ছেন না তো কি হয়েছে, ইউটিউব থেকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা আনুন। ইংরেজি জানা আর বলা এখন ফুটানি না কিন্তু। আপনাকে নিজেকেই নিজে তৈরি করতে হবে, কেউ শিখিয়ে দেবে এটা ভাববেন না। ভাবলে বিপদে পড়বেন।
* মোটিভেশন থেকে দূরে থাকুন। নিজেকে নিজেই মোটিভেশন দিন কিংবা সর্বোচ্চ টেডেক্সের ভিডিওগুলো দেখুন। মোটিভেইট+লিসেনিং পাওয়ার বাড়বে।
* ফেসবুকে আসক্তি কমানো ভালো কিন্তু। কোরা কিংবা লিংকডইনে সময় দিতে পারেন। লাইফ হ্যাকিং রিলেটেড বিষয়গুলো শেখা শুরু করুন।
* নিজে যে বিষয়ে পড়ছেন সেই দুনিয়াতে ক্যারিয়ার করা অনেক প্রেশার, চেষ্টা করুন অন্য দুনিয়াতে কাজ করতে। হোটেলেও কিন্তু মেডিকেল পাশ ডাক্তাররা চাকরি করে, পত্রিকায় প্রকৌশলীদেরও চাকরি করতে দেখবেন।
* সবশেষে জ্ঞান দেয়া-উচিত টাইপের লেখা-টেখা পড়া বাদ দিন।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,314 views. Thank You for caring my happiness.

যে কারণে হবু-উদ্যোক্তা আর হবু-লিডারদের বই পড়া উচিতই না

আপনি হয়তো উদ্যোক্তা, কিংবা সামনে নিজের কিছু একটা করবেন। অনলাইনে কিংবা বিভিন্ন নেটওয়ার্ক সেশনে ভালো উদ্যোক্তা হতে চাইলে কি করতে হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে সব সময়ই কমন একটা উত্তর পাবেন, বই পড়তেই হবে নাকি আপনার। আসলেই কি তাই?
স্কুল-কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে অপছন্দের কাজ হচ্ছে বই পড়া। কি প্রকৌশল, কি ভাষাবিজ্ঞান-বই পড়াই সবচেয়ে বিতৃষ্ণার কাজ অধিকাংশই শিক্ষার্থীর। এখানে সেই সব শিক্ষার্থীর কথা বলছি, যারা কোন মতে আমার মত দিন পার করে দিতে পারলেই খুশি হন।

বাস্তবতা যেখানে এমন সেখানে ই-বুক, কি-বুক-সব বই পড়তে হবে এমন একটা ধারণা পান উদ্যোক্তা হতে চান যারা। বিশাল বিশাল লিস্ট পাওয়া যায় অনলাইনে লিডার কিংবা উদ্যোক্তা হতে চাওয়ার উপরে। খুবই সরল একটা সারকাস্টিক কথা হচ্ছে, যারা দারুণ উদ্যোক্তা কিংবা সেই লেভেলের লিডার তারাই বই লেখেন কম! সেখানে তাদের বই পড়ে কিই বা শেখার আশা করা যায়? আর বেশির ভাগ বই-ই তো ইংরেজি ভাষায় লেখা, বই বোঝার আগে ইংরেজি আতঙ্কও ভর করার সম্ভবনাও আছে কিন্তু।

আমি খুবই সরলভাবে সবাইকে একটাই পরামর্শ দেই, প্রথমেই জোর করে বই পড়ার দরকার নাই। যা শুরু করতে চান, তাই শুরু করে দিন। পরে সফল হলে অবসর সময়ে বই পড়বেন, বই লিখবেন, লাইব্রেরি বানাবেন-কিংবা রিডিং ক্লাব করবেন।

যারা হবু-উদ্যোক্তা কিংবা লিডার তারা গ্ল্যাডওয়েল আর গডিন হুজুগের পেছনে ছোটেন। এসব বই পড়া বেশ সহজ, আর আনন্দেরও বটে। মোটামুটি সব হবু-উদ্যোক্তাই গ্ল্যাডওয়েল বা গডিনের কোন না কোন বই পড়েন। এসব বইয়ে সেই মাত্রার কোন প্রত্যাশা অর্জনের জন্য নানান কৌশল নানান ভাবে ইতিবাচকভাবে লেখার চেষ্টা করা হয়।

এসব বইয়ের কোন সমস্যা নেই, সমস্যা হচ্ছে এসব বই পড়ে আপনার আসলেই কোন কাজে আসবে না। কাজে লাগার কোন বিজ্ঞানও নেই! উদ্যোগ শুরু করার পেছনে এসব বইয়ের নূন্যতম ভূমিকাও খুঁজে পাবেন না।
কোন বিষয় নিয়ে ১০ হাজার ঘণ্টা চর্চা করুন, এতে সাফল্য পাবেন। কিংবা আপনার পণ্য ৪১২তম কাস্টমার কিনলেই আপনি একটু সাফল্যের হাসি হাসতে পারেন। নিজের প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্টে সময় দেয়াই বুদ্ধিমানের। এসব ইতিবাচক স্টাইলে লেখা বই কিন্তু আসলেই তেমন কাজে আসবে না আপনার।

আরও পড়ুন: তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, “কিন্তু টিপিং পয়েন্টস বা পার্পল কাউ বই পড়ে আমার তো ব্যবসায় কাজে লেগেছে।” একটু অন্যভাবে দেখুন, ব্যবসা করতে হলে আপনার মার্কেটিং আর ট্রেন্ড কি সেটা জানতে হবে। সেথ গডিন কিংবা এসব বইয়ে কিন্তু আপনার-আমার আশেপাশের ঘটনাকেই ব্যাখা করা হয়। একটু সরল ভাবে বললে, এসব বইয়ে যে ধরণের তথ্য দেয়া হয় তা এক কিংবা দুই পৃষ্ঠায় সার-সংক্ষেপ হিসেবে লেখা যায়। আরও বড় করে বললে, এসব বইয়ে যেসব তথ্য থাকে তা হুট করে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। আপনার পণ্যকে কিভাবে রিমার্ককেবল করা যায় তা জানা এক বিষয়। আবার আপনার পণ্যকে কিভাবে রিমার্ককেবল করা যায় তা হাতে কলমে করা আরেক বিষয়। জানাই সব না, হাত লাগানোই সব!
আর এসব বই পড়া শেষ হলে কি করা উচিত, তাই খুঁজে বের করা কঠিন!

এসব বইয়ের বাইরে আরেক ঘরণার বই আছে, যাকে এভরিওয়ান ইজ ইন ফরচুন ৫০০ ইফেক্ট বলা হয়।
এসব বই লেখা হয় কিভাবে আপনি ব্যবসা করার জন্য ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে কাজ করবেন, কিভাবে রেভিনিউ মডেলেকে মার্কেটে নিয়ে আসবেন, কিভাবে বিজনেজ মডেল ঠিক করবেন, কিভাবে শেষ পর্যন্ত গ্রেট একটা কোম্পানি তৈরি করবেন তাই লেখা হয়। এক কথায় বললে, এসব বইয়ে কিভাবে সনি, কিংবা ফেসবুক-গুগলের মত কোম্পানি বানাবেন তাই লেখা হয়। আমার কাছে এসব বইকে আসলে আপনি এমবিএ ক্লাসে শিক্ষককে মুগ্ধ করে দেয়া রেফারেন্স ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। এসব বই পড়লে দিনে সিক্স ডিজিট কামানো ব্যবসা বা সেবা তৈরি করা খুবই সহজ মনে হবে আপনাকে।

সারা দিনে আমরা যত তথ্য পাই নানা ভাবে তার খুব কম অংশই আমরা কাজে লাগাই। এসব বই পড়া শেষে রিভিউ লেখা, কিংবা গুড রিডসে শেয়ার দিয়ে লাইক কামানোই একটা ট্রেন্ড এখন। এসবে আসলে দিন শেষে হবু-উদ্যোক্তা হিসেবে সময়ই নষ্ট হয়।

হবু-উদ্যোক্তা, কিংবা আসল উদ্যোক্তাদের ব্যবসা কিংবা এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ সংক্রান্ত বই পড়া আসলে ইংরেজি সিরিজ দেখার মত নেশাই বলা যায়। মাঝেমধ্যে শার্লক, গেম অব থ্রন্স বা নারকোসের হুজুগ ওঠে, তেমনি বই পড়াও হুজুগ।

 

 

(রব ওয়ালিংয়ের দারুণ একটা লেখা আছে কেন উদ্যোক্তাদের বই পড়া উচিত না, সেখান থেকেই এই লেখা।)

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,854 views. Thank You for caring my happiness.

সমাবর্তন শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যা করতে পারেন

(এই পোস্টটা সেই সব সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য যারা কোন মতে একটা সিজিপিএ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেছেন। যাদের পড়াশোনা শেষে চাকরিতে ঢুকে যাওয়াটাই একমাত্র লক্ষ্য। বিসিএস হলে হবে-না হলে নাই তাদের জন্য এই পোস্ট!)
সিজিপিএ ২.৫০ থেকে শুরু করে ৪, সবাই সমাবর্তন নেয়। সমাবর্তনের পরের চ্যাপ্টার সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরির বাজারে প্রবেশই বলা যায়। সমাবর্তন শেষে কেউ উচ্চ সিজিপিএ নিয়ে শিক্ষকতায় যোগ দিবেন, যাদের ধ্যান-জ্ঞান বিসিএস তারা সেদিকে যাবেন-কিন্তু যারা খুব সাধারণ তারা কি করবেন! আপনার জন্য চাকরি বসে নেই, আপনি কিংব আমি এমন কেউ না যে কোথাও সিভি জমা দিলেই চাকরির ডাক পড়বে। সবার আসলে এই সময়টায় একটা স্ট্রাগল টাইম চলে। হতাশা না কাটাতে চাইলেও আশপাশে এসে আপনাকে বিরক্ত করবেই।

ওমুকের ভালো চাকরি, মা-বাবার কাছ থেকে ভালো চাকরির প্রত্যাশা, দিনের পর দিন ইন্টারভিউয়ের জন্য অপেক্ষা করা-পুরো সময়টাই অনেক ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়ে বিরক্ত থাকি আমরা। পারি না কষ্টের কথা কাউকে বলতে, কাউকে শেয়ার করতে-দ্বিধার মধ্যেই হতাশার মাত্রা বেড়ে যায় আমাদের। যারা এমন সংকটে ভুগছেন তাদের এই পোস্টটা কাজে দিতে পারে।

আরও পড়ুন: তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

যে বিষয়ে পড়ছেন তার বাইরে চাকরির খোঁজ করুন

ধরুন, আপনি পড়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে। সমাবর্তন শেষে কিংবা গ্র্যাজুয়েশনের পরে এনজিওগুলোতে প্রথমে আবেদন করবেন, এরসঙ্গে ব্যাংক আর বিসিএস। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কিংবা ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ বা জেন্ডার স্টাডিজ পড়া শেষে এনজিওগুলোতেই চাকরির আবেদন করি আমরা। নিজের ক্ষেত্র বাড়াতে অন্য দুনিয়ার চাকরির খোঁজ করুন। বিক্যাশ বলেন কিংবা অ্যাপোলো হাসপাতাল বলেন, নানান জায়গায় কমিউনিকেশন কিংবা কমিউনিটি সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্টে নতুনদের নিয়োগ করা হয়। সেসব ক্ষেত্রে আবেদন করুন। যে বিষয়ে পড়ছেন সেই ট্র্যাকেই যে চাকরি করবেন সেটা ফিক্সড ভাবা ঠিক না।

বিডিজবসের বাইরেও চোখ দিন

বিডিজবস কিংবা অন্যান্য বড় চাকরির পোর্টালগুলোতে আমরা চোখ রাখি। এর বাইরে বড় বড় প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি, ব্র্যাক, গ্রামীণছাড়াও আপনি যে ট্র্যাকের লোক তার ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন। অনেক চাকরির বিজ্ঞাপন হয়তো যে যার ওয়েবে প্রকাশ করে, কিন্তু বিডিজবসে বা চাকরি ডট কমে হয়তো প্রকাশিত হয় না।

সিভি তৈরি করুন

ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড সিভি তৈরি করুন। অন্যের সিভি কপি করার চেয়ে, সিনোনিম মেরে হলেও নিজের সিভি তৈরি করুন। আরেকটা বিষয়, কভার লেটার বিষয়টা এখন অনেকেই সিরিয়াসলি নেন না। একই কভার লেটার কপি-পেস্টে মেরে দেন। এটা করা ঠিক না।

নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করুন

মনে রাখা উচিত, কেউ কখনও চাকরি নিয়ে বসে থাকে না। আমরা খুব নিয়মিত, নেটওয়ার্কের লোকজনকে ভাই একটা চাকরি দিয়েন বলে রিকোয়েস্ট করি। এটা পেশাগত ভাষা না। আপনি আপনার নেটওয়ার্কে যারা প্রভাবশালী তারা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তার ফেসবুক কিংবা ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন নিয়মিত। সেখান থেকে চাকরির সন্ধান পাবেন অনেক।

লিংকডইন ব্যবহার করুন

বাংলাদেশে লিংকডইনকে তেমন সবার সামনে দেখা যায় না। কিন্তু গ্রামীণফোন, রবি কিংবা ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোবাকোর রিক্রুটমেন্টের বড় একটা টুলস এখন লিংকড ইন। একটা স্ট্যান্ডার্ড লিংকডইন প্রোফাইল তৈরি করুন।

লিংকডইনে আমি যা লিখি তা পড়তে পারেন!

“উদ্যোক্তা হবেন যারা, তারাও চাকরি করুন”

যারা উদ্যোক্তা কিংবা নিজের কিছু করতে চান তারাও কিছু দিন চাকরি করে নিজের স্কিল ভারী করার চেষ্টা করুন। স্যার ফজলে হাসান আবেদের নানান লেখায়, শিক্ষার্থীদের প্রথমে চাকরি তারপরে নিজের কিছু করার গুরুত্বের প্রমান পাওয়া যায়।

স্কিল শক্ত করুন

ইংরেজি-বাংলায় কথা বলা, মানে কমিউনিকেশনের যদি জড়তা থাকে তা দূর করার চেষ্টা করুন। ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও থেকে শেখার চেষ্টা করুন। যে লাইনে চাকরি করতে চান তার বর্তমানে কি কি স্কিল লাগে তা সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা রাখুন। মাইক্রোসফট এক্সেল, এসপিএসএস, ফটোশপ কিংবা ওয়ার্ডপ্রেসে কনটেন্ট আপলোড বিষয়গুলো এখন খুবই কমন স্কিল।

হতাশা কাটানোর চেয়ে এড়ানো ভালো

গ্র্যাজুয়েশনের পরের সময়টা খুবই হতাশার মধ্যে যায় অনেকের। বন্ধুদের ভালো চাকরির খবরে মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। চেষ্টা করুন এসময়টায় নিজেকে গোছানোর জন্য কি কি করা যেতে পারে তার পেছনে। কিছু ক্যারিয়ার সংক্রান্ত বই পড়তে পারেন।
আর কি করতে পারেন? কমেন্টসে জানান না?

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 5,863 views. Thank You for caring my happiness.

তো WHY-ই সব

রিসেন্টলি যারা টেডের বিভিন্ন ভিডিও দেখেছেন তারা সেরা বিশটির একটি ভিডিও বলতে সাইমন সিনেকের একটা ভিডিওকে রেফার করে থাকেন। আমি Rachel Smith-এর টেডের ভিডিও দেখে তাকে কয়েকটা ভিডিও রেফার করার অনুরোধ করেছিলাম। র‍্যাচেল আমাকে তিনটে ভিডিও পাঠায়, যার একটা সাইমনের। সাইমন তার বিখ্যাত এক লাইন “People don’t buy WHAT you do, they buy WHY you do it.”-এর জন্য দারুণ আলোচিত। এটার ব্যাখার সবচেয়ে সহজ উদাহরণ অ্যাপল, মানুষ আইফোন বা আইপ্যাড কেনে না, কেনে অ্যাপলের ইনোভেশনের যুক্তিকে। সাইমনের বিখ্যাত বই Start With Why


WHY আসলে আমাদের বিশ্বাসটা। আমরা অফিসে যাই কাজ করতে, যা কিনা What। কিন্তু কেন যাই সেটা অনেকেই জানি না, Why যেহেতু নাই সেহেতু সেখানে শুধু কাজই করে যাই আমরা। প্রথমে WHY, তারপরে HOW এবং সবশেষে WHAT-ই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সূত্র হওয়া উচিত বলে মনে করে সাইমন।

যে কারণে মানুষ জিনিষপত্র কেনে

আপনি বিজ্ঞাপন দিয়ে পণ্য কেনাতে পারেন মানুষকে। কিন্তু সেটা কত দিন? লয়াল কাস্টমার তৈরিই কিন্তু পণ্য কেনানোর সবচেয়ে সহজ কিন্তু কঠিন উপায়। উইন্ডোজ অপারেটিং মানুষ কেন ব্যবহার করে তারা তা জানে না, কিন্তু যারা ম্যাক বা উবুন্টু-লিনাক্স ব্যবহার করে তারা নিজেদের লয়াল ভাবে। যারা টরেন্ট সাইটগুলো ব্যবহার করে তারা যেমন নিজেদের একটা বিশেষ দল ভাবে, তেমনি আইফোন যারা কেনে তারাও নিজেদের একটু আলাদাই ভাবে। কিন্তু স্যামসাং বা অন্য কোন ফোনের লয়াল কাস্টমার নেই। নোকিয়ার ছিল একটা সময়, এখন নেই কিন্তু।
সাউথওয়েস্ট এয়ারওয়েজের অনেকগুলো রেফারেন্স বইটায় আছে। নাইন এলিভেনের ঘটনার পরে মানুষ সাউথওয়েস্টকে চেক পাঠিয়েছিল লস যেন কম হয় তার জন্য, লয়াল কাস্টমাররাই সাউথওয়েস্টকে সেই ১৯৭০ সাল থেকে লাভের মুখ দেখাচ্ছে।

কর্মীরা আগে

সাউথওয়েস্ট এয়ারওয়েজ তার কর্মীদেরকেই সর্বপ্রথম প্রায়োরিটি দেয়। কর্মীরা আপনার উপর খুশি থাকলেই ভালো কাস্টমার সেবা দেবে, কোম্পানির সুনাম বাড়বে। ওয়ালমার্ট স্যাম ওয়ালটন যত দিন বেঁচে ছিলেন ততদিন দারুণ ছিল, স্যাম তার কর্মীদের প্রায়োরিটি দিতেন। স্যাম চলে যাবার পরে ওয়ালমার্ট কিন্তু অনেক কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হয়েছে।
বেশ দারুণ একটা বই। পড়ে উপযোগিতা খুঁজে বের করেছি।

 

আরও পড়ুন:

এক বছরেই ২০০ বই পড়বেন যেভাবে!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ২০১৭ সালে যে বইগুলো পড়া উচিত

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,039 views. Thank You for caring my happiness.

লেখক আনিসুল হক থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

লেখক আনিসুল হক, উপন্যাস লেখার জন্য আলোচিত হলেও টেলিভিশনের জন্য নাটক আর রম্য লেখার জন্য বেশ পাঠক প্রিয়। অনলাইন-অফলাইন সবক্ষেত্রেই তার লেখার পাশাপাশি দারুণ সব কাজের কথা ফেসবুক আর পত্রিকা থেকে জানা যায়। যে তরুণরা কোন উদ্যোগ নিয়ে দৌড়াদুড়ি করছেন, কিংবা কোন পণ্য-সেবা নিয়ে সামনে কিছু করার চেষ্টা করছেন-করবেন তারা আনিসুল হকের কাছ থেকে দারুণ কিছু বিষয় শিখতে পারেন। লেখক আনিসুল হক থেকে তরুন উদ্যোক্তারা দারুণ সব বিষয় জানতে পারেন। তা নিয়েই এই পোস্ট।

কি-এর বদলে কেন বোঝার চেষ্টা করুন।

আনিসুল হকের উপন্যাস বা লেখার ধরন প্রচলিত প্রেম কিংবা রোমান্টিক সাহিত্যের সঙ্গে মেলানো ঠিক হবে না। কোন কোন বই পাঠকের দায়ে প্রেম-ভালোবাসা কেন্দ্রিক হলেও আনিসুল হকের মা উপন্যাসের কারণে লেখার একটা ভিন্ন স্টাইল লক্ষ্য করা যায়। কোন বাস্তব ঘটনার মধ্যে আপনাকে উপন্যাসের আঙ্গিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আনিসুল হকের আছে। কি লিখছেন, তার চেয়ে কেন লিখছেন সেটাই কিন্তু একটু গভীরে বোঝা যায়। তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে কেউ যখন কোন কিছু নিয়ে কাজ করেন, তিনি আসলে খুব কম ক্ষেত্রেই কেন কাজ করছেন তা ভাবেন না, কি নিয়েই থাকেন। বিষয়টা আরও স্পষ্ট করে বলা যায়, স্টিভ জবসের বিখ্যাত একটা লাইন ছিল, ‘মেক অ্যা ডেন্ট ইন দ্য ইউনিভার্স’, মানে মহাবিশ্বে রঙ চড়াও, আসলেই কি তাই? স্টিভ জবস কি নিয়ে কাজ করেছেন, কম্পিউটার ও প্রযুক্তির জিনিষপত্র নিয়ে। স্টিভের বায়োগ্রাফি পড়ে যা জানবেন তা হলো, কোন একটা সুপ্রিম লক্ষ্য নিয়ে জীবনদর্শন তৈরি করে জীবনে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। এই সুপ্রিম লক্ষ্যই হচ্ছে “কেন”। আপনি কেন নতুন কোন কাজ করবেন, কিংবা আপনার পন্য বা সেবা মানুষ কেন কিনবে তা আগে বুঝুন। স্টারবাকস কিন্তু কফি বেচে না, এক্সপেরিয়েন্স।

আমি সাইমন সিনেকের একটি বই পড়ছি এখন স্টার্ট উইথ হোয়াই। আমরা যাই করি না কেন তার মধ্যে হোয়াই না থাকলে তা বেশি দিন চালানো কঠিন কিন্তু। স্টিভ জবস, বিল গেটস-সবার জীবনে একটা হোয়াই ছিল, সেই হোয়াই দিয়েই তারা অ্যাপল-মাইক্রোসফট তৈরি করেছেন। তারা সরে যাওয়ার পরে সেই হোয়াই কিন্তু কোম্পানি থেকে সরে যায়, এতেই কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যাপল-মাইক্রোসফটের মানবীয় দিকটা দুর্বল হয়ে যায়। হোয়াই দিয়েই মানুষ সামনে এগিয়ে যায়, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানও। এই হোয়াই আপনার সাফল্যের পথ ঠিক করে দেয়, আর টাকা কিংবা গাড়ি হচ্ছে সেই সাফল্যের ইয়ার্ডস্টিক।

সামাজিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করুন।

স্যোশাল মিডিয়াতে তরুণ উদ্যোক্তাদের শুরুর দিকে বেশ ফ্যান তৈরির প্রবনতা থাকে। লেখক আনিসুল হক ফেসবুকে যে কম জনপ্রিয় নন তা তার ফেসবুক পেইজ অনুসরণ করলেই টের পাবেন। আনিসুল হক কিন্তু যেমন ফেসবুকে সামাজিকতা ধরে রেখেছেন, তেমনি কিন্তু প্রথম আলোতে রম্য লেখা কিংবা বই মেলার জন্য বই লিখে যাচ্ছেন। নিজেকে ফেসবুকের প্রবল জনপ্রিয়তায় অনেক উদ্যোগ হারিয়ে যাওয়ার নমুনা আপনার আশপাশেই পাবেন। নিজের সামাজিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখুন।

আরও পড়ুন: তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

ভবিষ্যৎ কাস্টমার কারা তাদের কথা ভাবুন।

ব্যবসা শুরুর পরে অদৃষ্টের দিকে যারা তাকিয়ে থাকেন তারা কপি-মি টাইপের ব্যবসাই করে যান। প্রজন্মের পরে প্রজন্মে সেই ব্যবসার আদর্শকে ছড়াতে পারেন না। আপনি যদি শুধু বর্তমানের কাস্টমার নিয়ে ভাবেন, তাহলে অনেকক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতায় টিকবেন না। আনিসুল হক লেখক, উনি বই লিখেন মোটামুটি বিশ বছরের বেশি তরুণ-তরুণীদের জন্য। গেল কয়েক বছর ধরে আনিসুল হক কিন্তু কিশোর ম্যাগজিন কিশোর আলোর সম্পাদক। আজকে যে কিশোরের বয়স ১৩ কিংবা ১৬, সে কিন্তু আগামী কয়েক বছর পরেই কিশোর আলোর রেফারেন্সে আনিসুল হকের বই পড়বেন।

রিয়েল নেটওয়ার্কিং শিখুন

উদ্যোক্তা হতে চাই যারা আমরা তারা নানান সময় নানান ইভেন্টে অংশ নিতে ছুটে যাই। ইভেন্ট কি উচ্চশিক্ষা, কি বিগ ডাটা-সবক্ষেত্রেই ছুটে যাই আমরা। এটা কিন্তু সত্যিকারের নেটওয়ার্ক পাওয়ারে সহযোগিতা করে না। লেখক আনিসুল হক কিন্তু গণিত অলিম্পিয়াড বা ভাষা প্রতিযোগ ঘরণার নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানগুলোকে নিজের নেটওয়ার্কিং টুলস হিসেবে ব্যবহার করেন। একটা অনুষ্ঠানে ১০০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে কিছু বলে বোঝানোর চেয়ে ১০০ কিশোর-কিশোরীর সামনে মিনিট দুয়েক কিছু বলে আসার প্রভাব থাকে অনেক দিনের।

জনপ্রিয়তা নিয়ন্ত্রণ করা শিখুন।

সাংবাদিকতা কিংবা লেখালেখির জন্য জনপ্রিয়তার ইতিবাচক-নেতিবাচক মাপকাঠিতে আনিসুল হক অনেক সামনে। ফেসবুকে নানান ট্রল কিংবা লেখা নিয়ে সমালোচনা তো আছেই তার নামে। কোন কিছুতেই কিন্তু থেমে নেই আনিসুল হক। যখন আমরা কোন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করি, টেলিভিশন-পত্র-পত্রিকায় নানান ফিচার প্রকাশিত হয়। সেই ফিচারের শেয়ারের বন্যায় বেশির ভাগ উদ্ভাবনী উদ্যোগই হারিয়ে যায়। জনপ্রিয়তার টুলসগুলোকে যারা সঠিকভাবে ব্যবহার করেন তারাই টেকেন কিন্তু।

নিজেকে একটু একটু করে সামনে নিতে হয়।

দারুণ কিছু একটা করেই বেশির ভাগ “ভাড়” উদ্যোক্তারা সেই মাপের মিডিয়া কাভারেজ খোঁজা শুরু করেন আমাদের দেশে। আমাদের যারা কিছু করার চেষ্টা করেন তারা ব্র্যান্ড স্টোরি ডেভলপ না করে সামনে এগিয়ে যেতে চান। আনিসুল হক বুয়েটে আশির দশকে পড়াশোনা করেন, এরপরে সাংবাদিকতায় আসেন। এরই মধ্যে লেখালেখি চলছে তার। এক দিনেই আজকের আনিসুল হক হতে পারেন নি তিনি। একটু একটু করে সামনে এগোতে হয়।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,402 views. Thank You for caring my happiness.