যে কারণে হবু-উদ্যোক্তা আর হবু-লিডারদের বই পড়া উচিতই না

আপনি হয়তো উদ্যোক্তা, কিংবা সামনে নিজের কিছু একটা করবেন। অনলাইনে কিংবা বিভিন্ন নেটওয়ার্ক সেশনে ভালো উদ্যোক্তা হতে চাইলে কি করতে হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে সব সময়ই কমন একটা উত্তর পাবেন, বই পড়তেই হবে নাকি আপনার। আসলেই কি তাই?
স্কুল-কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে অপছন্দের কাজ হচ্ছে বই পড়া। কি প্রকৌশল, কি ভাষাবিজ্ঞান-বই পড়াই সবচেয়ে বিতৃষ্ণার কাজ অধিকাংশই শিক্ষার্থীর। এখানে সেই সব শিক্ষার্থীর কথা বলছি, যারা কোন মতে আমার মত দিন পার করে দিতে পারলেই খুশি হন।

বাস্তবতা যেখানে এমন সেখানে ই-বুক, কি-বুক-সব বই পড়তে হবে এমন একটা ধারণা পান উদ্যোক্তা হতে চান যারা। বিশাল বিশাল লিস্ট পাওয়া যায় অনলাইনে লিডার কিংবা উদ্যোক্তা হতে চাওয়ার উপরে। খুবই সরল একটা সারকাস্টিক কথা হচ্ছে, যারা দারুণ উদ্যোক্তা কিংবা সেই লেভেলের লিডার তারাই বই লেখেন কম! সেখানে তাদের বই পড়ে কিই বা শেখার আশা করা যায়? আর বেশির ভাগ বই-ই তো ইংরেজি ভাষায় লেখা, বই বোঝার আগে ইংরেজি আতঙ্কও ভর করার সম্ভবনাও আছে কিন্তু।

আমি খুবই সরলভাবে সবাইকে একটাই পরামর্শ দেই, প্রথমেই জোর করে বই পড়ার দরকার নাই। যা শুরু করতে চান, তাই শুরু করে দিন। পরে সফল হলে অবসর সময়ে বই পড়বেন, বই লিখবেন, লাইব্রেরি বানাবেন-কিংবা রিডিং ক্লাব করবেন।

যারা হবু-উদ্যোক্তা কিংবা লিডার তারা গ্ল্যাডওয়েল আর গডিন হুজুগের পেছনে ছোটেন। এসব বই পড়া বেশ সহজ, আর আনন্দেরও বটে। মোটামুটি সব হবু-উদ্যোক্তাই গ্ল্যাডওয়েল বা গডিনের কোন না কোন বই পড়েন। এসব বইয়ে সেই মাত্রার কোন প্রত্যাশা অর্জনের জন্য নানান কৌশল নানান ভাবে ইতিবাচকভাবে লেখার চেষ্টা করা হয়।

এসব বইয়ের কোন সমস্যা নেই, সমস্যা হচ্ছে এসব বই পড়ে আপনার আসলেই কোন কাজে আসবে না। কাজে লাগার কোন বিজ্ঞানও নেই! উদ্যোগ শুরু করার পেছনে এসব বইয়ের নূন্যতম ভূমিকাও খুঁজে পাবেন না।
কোন বিষয় নিয়ে ১০ হাজার ঘণ্টা চর্চা করুন, এতে সাফল্য পাবেন। কিংবা আপনার পণ্য ৪১২তম কাস্টমার কিনলেই আপনি একটু সাফল্যের হাসি হাসতে পারেন। নিজের প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্টে সময় দেয়াই বুদ্ধিমানের। এসব ইতিবাচক স্টাইলে লেখা বই কিন্তু আসলেই তেমন কাজে আসবে না আপনার।

আরও পড়ুন: তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, “কিন্তু টিপিং পয়েন্টস বা পার্পল কাউ বই পড়ে আমার তো ব্যবসায় কাজে লেগেছে।” একটু অন্যভাবে দেখুন, ব্যবসা করতে হলে আপনার মার্কেটিং আর ট্রেন্ড কি সেটা জানতে হবে। সেথ গডিন কিংবা এসব বইয়ে কিন্তু আপনার-আমার আশেপাশের ঘটনাকেই ব্যাখা করা হয়। একটু সরল ভাবে বললে, এসব বইয়ে যে ধরণের তথ্য দেয়া হয় তা এক কিংবা দুই পৃষ্ঠায় সার-সংক্ষেপ হিসেবে লেখা যায়। আরও বড় করে বললে, এসব বইয়ে যেসব তথ্য থাকে তা হুট করে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। আপনার পণ্যকে কিভাবে রিমার্ককেবল করা যায় তা জানা এক বিষয়। আবার আপনার পণ্যকে কিভাবে রিমার্ককেবল করা যায় তা হাতে কলমে করা আরেক বিষয়। জানাই সব না, হাত লাগানোই সব!
আর এসব বই পড়া শেষ হলে কি করা উচিত, তাই খুঁজে বের করা কঠিন!

এসব বইয়ের বাইরে আরেক ঘরণার বই আছে, যাকে এভরিওয়ান ইজ ইন ফরচুন ৫০০ ইফেক্ট বলা হয়।
এসব বই লেখা হয় কিভাবে আপনি ব্যবসা করার জন্য ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে কাজ করবেন, কিভাবে রেভিনিউ মডেলেকে মার্কেটে নিয়ে আসবেন, কিভাবে বিজনেজ মডেল ঠিক করবেন, কিভাবে শেষ পর্যন্ত গ্রেট একটা কোম্পানি তৈরি করবেন তাই লেখা হয়। এক কথায় বললে, এসব বইয়ে কিভাবে সনি, কিংবা ফেসবুক-গুগলের মত কোম্পানি বানাবেন তাই লেখা হয়। আমার কাছে এসব বইকে আসলে আপনি এমবিএ ক্লাসে শিক্ষককে মুগ্ধ করে দেয়া রেফারেন্স ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। এসব বই পড়লে দিনে সিক্স ডিজিট কামানো ব্যবসা বা সেবা তৈরি করা খুবই সহজ মনে হবে আপনাকে।

সারা দিনে আমরা যত তথ্য পাই নানা ভাবে তার খুব কম অংশই আমরা কাজে লাগাই। এসব বই পড়া শেষে রিভিউ লেখা, কিংবা গুড রিডসে শেয়ার দিয়ে লাইক কামানোই একটা ট্রেন্ড এখন। এসবে আসলে দিন শেষে হবু-উদ্যোক্তা হিসেবে সময়ই নষ্ট হয়।

হবু-উদ্যোক্তা, কিংবা আসল উদ্যোক্তাদের ব্যবসা কিংবা এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ সংক্রান্ত বই পড়া আসলে ইংরেজি সিরিজ দেখার মত নেশাই বলা যায়। মাঝেমধ্যে শার্লক, গেম অব থ্রন্স বা নারকোসের হুজুগ ওঠে, তেমনি বই পড়াও হুজুগ।

 

 

(রব ওয়ালিংয়ের দারুণ একটা লেখা আছে কেন উদ্যোক্তাদের বই পড়া উচিত না, সেখান থেকেই এই লেখা।)

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,370 views. Thank You for caring my happiness.

Comments

comments

Aashaa Zahid

Hi! Myself Aashaa Zahid. Basically, I'm a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man. You could knock me, text me, ping me for nothing!

2 thoughts on “যে কারণে হবু-উদ্যোক্তা আর হবু-লিডারদের বই পড়া উচিতই না

  1. ভাই কি সব ভুলভাল লিখছেন? আপনার হেডিংটাতেইতো ভুল হলো।
    নতুন উদ্যোক্তাদের বই পড়াই উচিত না নাকি নতুন উদ্যোক্তাদের লিখা বই পড়াই উচিত না যাই হোক বিষয়টা ক্লিয়ার না তবে লিখা পড়ে যা বুঝলাম তা হলো যারা নতুন উদ্যোক্তা হতে যাচ্ছে তাদের মটিভেশনাল বই পড়া উচিত না হয়ত এই টাইপের কিছু একটা বলার বা বুঝাবার চেষ্টা করছেন এতটুকু বুচ্ছি।
    মানুষকে উদ্ভুদ্ধ হতে গেলে প্রিভিয়াস অথবা আপকামিং বিষয় না জানলে সে কখনোই ধারনা পাবেনা পাবলিক রিলেশনশিপ কিংবা পাবলিক ডিমান্ড সম্পর্কে। আর তাছাড়া সফলদের সফলতা না হোক অন্তর ব্যার্থতা অথবা ঠিক কোন জায়গাগুলোতে সমস্যা হতে পারে তার মানষিক প্রস্তুতি কি তা আসলে বই পড়া অথবা সাকসেস স্টোরি কিংবা তার লক্ষ্যে পৌছতে এসব বই বা লিখা ব্লগে হোক আর কোন জার্নালে হোক অনেক হেল্প করে। মানুষকে ডিমোরালাইজড না করে বরং ইন্সপায়ার করুন জানার নিজেকে কিভাবে কেউ আবিস্কার করতে পারে।
    ধন্যবাদ

    1. একটু সারকাস্টিক হেডিং করেছি। বাংলাতে “ই” কার প্রত্যয়টা কেন জানি সারকাস্টিক বর্ণের আচরণ করে।

Leave a Reply