ভালো বনাম দুর্দান্ত, কোনটি বেঠিক?

জেনারেল জর্জ প্যাটুন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার মিত্রপক্ষের প্রভাবশালী এক জেনারেল ছিলেন। যুদ্ধের কৌশল আর ইতিহাস নিয়ে যারা আগ্রহী তাদের কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এই জেনারেল বেশ পরিচিত। মিত্রপক্ষের সেভেন্থ আর্মির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্যাটুন। প্যাটুনের বায়োগ্রাফি দ্য ওয়ার আই নিউ ইট পড়ছি এখন, দুর্দান্ত বই। রণকৌশল কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে বেশ ভালো ভাবেই কাজে লাগানো যায়। সেই বইয়ের প্রথম ৪ চ্যাপ্টার পড়ে কিছু লাইন দাগিয়ে রেখেছি, দুর্দান্ত সব কথা!

এখনকার ভালো পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহের দুর্দান্ত পরিকল্পনার চেয়ে কার্যকর বেশি।

জেনারেল প্যাটুন ‘প্যারালাইসিস বাই অ্যানালাইসিস’ বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন। কোন বিষয় নিয়ে বেশি অ্যানালাইসিস কখনই কাজের না মনে করতেন তিনি। অনেক সময় নিয়ে দুর্দান্ত কোন যুদ্ধ পরিকল্পনার চেয়ে ভালো আর সাধারণ পরিকল্পনা যুদ্ধের ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যায়।

নেতৃত্ব দিন, নেত্বত্ব দিতে দিন কিংবা পথ থেকে সরে দাড়ান। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রণাঙ্গনে অনেক জেনারেল যুদ্ধ করেছিলেন। এক বনে হাজারখানেক বাঘ থাকলে যে ঝামেলা হয়, সেই ঝামেলা তখনও ছিল। জেনারেল প্যাটুন নিজের ইউনিট নিয়ে নেতৃত্ব দিয়ে যুদ্ধ করতে চাইতেন। সিনিয়ররা তার যুদ্ধের স্টাইলকে পছন্দ না করলে প্যাটুনের সরাসরি কথা ছিল “নেতৃত্ব দিন”। আমরা কাজের ক্ষেত্রে এটা অনেক দেখি। আপনি দলগতভাবে কোন কাজ করছেন। উর্ধ্বতন কর্তারা আপনাকে বেশিরভাগ সময় নেতৃত্ব দিতে দিবে না, আমার নিজেরাও নেতৃত্ব দিবে না।

যা আদেশ দিচ্ছেন তা নিজে করছেন কি?

জেনারেল প্যাটুন সেই ধরণের যোদ্ধা ছিলেন না যে তাঁর দলকে আদেশ দিয়ে নিজে তাবুতে সময় কাটাতেন।  নিজের ব্যাটেলিয়ানে তার বেশ জনপ্রিয়তা ছিল সৈনিকদের নিয়ে কাজ করার জন্য।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ আর্মি থেকে যেসব নেতৃত্বগুণ শিখতে পারেন

যা বলছেন তা কি বুঝে বলছেন? যা বুঝছেন তা কি বলছেন?

আমি এই লাইনটাকে দারুণ বলবই। আমি দলগতভাবে অনেক কাজ করি। প্রায়শই যা বলি তা বুঝে বলি না, যে কারণে দলের সদস্যরা আমার কথা বোঝে না। আবার যা বুঝি তা পরিষ্কারভাবে বলতে দ্বিধায় থাকি, যার কারণে কমিউনিকেশনে ধোঁয়াশা তৈরি করি নিজেই।

“Never tell people how to do things. Tell them what to do and they will surprise you with their ingenuity.”

বলতে গেলে সাত সমুদ্র এক মিনিটেই পাড়ি দেয়া যায়। মুখের কথায় চিড়ে ভিজে না, বাস্তবে? দলগতভাবে কাজের ক্ষেত্রে, যা দলের সদস্যদের করতে হবে তা করতে বলুন। কিভাবে করতে হবে, সেটা বলতে গেলেই মাইক্রোম্যানেজমেন্ট জটিলতায় আটকে যাবেন কিন্তু।

“Better to fight for something than live for nothing.” 

কোন কিছু না করার থেকে কিছু করে বেঁচে থাকা আনন্দের।

 

শেষ যে লাইনটি জেনারেল প্যাটুনের কাছ থেকে জেনেছি, “When in doubt, ATTACK!” 

 

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 416 views. Thank You for caring my happiness.

এক কাপ বই: গ্রোথ হ্যাকার মার্কেটিং

(এক কাপ বই সিরিজটি অনেকদিন ধরেই লেখার চেষ্টা আমার। এক কাপ চা খেতে খেতে যদি দারুণ কিছু শেখা যায় তাহলে মন্দ কি? এখন তো বই পড়ায় আমাদের সময় নেই তেমন, সেই না পাওয়াকেই আরেকটু অন্যরকম করে তোলার জন্যই এই এক কাপ বই সিরিজ। আর এখন ট্রেন্ডিং যত বই আছে সবগুলোই আসলে ২০ পাতার বই, কেন যে লেখকরা কাটতি বাড়ানোর জন্য ৪০০ পৃষ্টা লেখেন!)
রায়ান হলিডের গ্রোথ হ্যাকার মার্কেটিং বই পড়ে যা জেনেছি,
ব্যবসা কিংবা স্টার্টআপ শুরুর আগে আমরা বিলিওন ডলার আর কোটি কোটি কাস্টমার বিবেচনায় একগাদা প্ল্যান করি। এখন কোন কিছু শুরু করাটাই বেশ দ্বিধার, সেই দ্বিধা কাটাতে ছোট্ট কাস্টমার গ্রুপ নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত।
দুই দশক আগেও ব্যবসার প্যাটার্ন ছিল, দারুণ কোন পণ্য বা সেবা তৈরি করে যত লোকের চোখের সামনে হাজির করুন। ইন্টারনেটের বিস্তৃতির কারণে সেই প্যাটার্নে ধাক্কা লেগেছে। এখন পন্য অনেক, সেবা অনেক-মোটামুটি মাছের বাজার সবখানে। এখানে কিভাবে আপনার পন্যকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করবেন তা ঠিক করতে হবে আপনাকে। আপনার প্রোডাক্টকে ক্যাটাগরিতে এক নম্বর আনতে টাকার চেয়ে বুদ্ধিই বেশি খাটাতে হবে এখন।
আগে একটা নিয়ম ছিল, বাজারে যা ছাড়বেন সেটাই সব। কিন্তু এখন ভার্সন ওয়ান পয়েন্ট ও, ভার্সন টু পয়েন্ট ও করে করে পন্য-সেবাকে বিকাশের দারুণ সুযোগ আছে। এখন আসলে প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট বিষয়টা নিত্যদিনকার।
স্বর্ণকার গহনা বানিয়ে দেয়ার পরে সেটা ক্রেতা কিনে ফেললেই কিন্তু সব শেষ, কিন্তু আপনার অ্যাপটির প্রথম ভার্সনে বাগ দ্বিতীয় ভার্সনে না সরালে বিপদ কিন্তু! ফেসবুক গেল তের বছরে অনেকবারই তো হোম পেইজ বদলেছে, সঙ্গে আরও কত কি!


যারা আর্লি অ্যাডাপটার তাদেরকে শুরুতেই টার্গেট করুন। আপনার প্রোডাক্টটি কারা প্রথমে ব্যবহার করতে পারে তাদের সাইকোলজি বোঝার চেষ্টা করুন। টার্গেট দ্য রাইট পিপল। সাধারণভাবে আমাদের টার্গেট থাকে সবাই যেন আমাদের পণ্য বা সেবা নেয়, শুরুটায় এমন টার্গেট উচ্চাভিলাসী।
আবার আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখা জরুরী, আপনার পণ্য বা সেবা তা ঠিক কাস্টমারই কিনছে কিনা সেটা আপনার ভাবতে হবে। ভুল কাস্টমার যদি ভুল করে প্রোডাক্ট কেনে আর আপনি তা খেয়াল না করেন তাহলে কিন্তু পণ্যের ভবিষ্যৎ খারাপ।
শহরের মানুষদের কাছে লন মোয়ার বিক্রি করার সঙ্গে বিষয়টা মেলাতে পারেন।
ড্রপবক্স রাইট কাস্টমার ধরার জন্য ডিগ নামের সোশ্যাল মিডিয়াকে টার্গেট করেছিল। ড্রিউ হিউস্টোন ড্রপবক্স ব্যবহার নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেছিলেন, যেখানে ডিগ কমিউনিটি ব্যবহার করে এমন সব ইস্টার এগ ব্যবহার করা হয়েছিল। ভিডিও আপলোডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ড্রপবক্সে কয়েক হাজার সাইনিং আপ হয়েছিল।
পণ্য বা সেবাকে এমনভাবে ডিজাইন করুন যেন কাস্টমারই আপনার বিপণনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন। পণ্যকে ভাইরাল করতে দুটো পথ আছে,
পণ্যটিকে যেন ভাগাভাগি করার সুযোগ থাকে, আর সবাইকে তা শেয়ার করতে বলুন!

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 436 views. Thank You for caring my happiness.