এক কাপ বই: গ্রোথ হ্যাকার মার্কেটিং

(এক কাপ বই সিরিজটি অনেকদিন ধরেই লেখার চেষ্টা আমার। এক কাপ চা খেতে খেতে যদি দারুণ কিছু শেখা যায় তাহলে মন্দ কি? এখন তো বই পড়ায় আমাদের সময় নেই তেমন, সেই না পাওয়াকেই আরেকটু অন্যরকম করে তোলার জন্যই এই এক কাপ বই সিরিজ। আর এখন ট্রেন্ডিং যত বই আছে সবগুলোই আসলে ২০ পাতার বই, কেন যে লেখকরা কাটতি বাড়ানোর জন্য ৪০০ পৃষ্টা লেখেন!)
রায়ান হলিডের গ্রোথ হ্যাকার মার্কেটিং বই পড়ে যা জেনেছি,
ব্যবসা কিংবা স্টার্টআপ শুরুর আগে আমরা বিলিওন ডলার আর কোটি কোটি কাস্টমার বিবেচনায় একগাদা প্ল্যান করি। এখন কোন কিছু শুরু করাটাই বেশ দ্বিধার, সেই দ্বিধা কাটাতে ছোট্ট কাস্টমার গ্রুপ নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত।
দুই দশক আগেও ব্যবসার প্যাটার্ন ছিল, দারুণ কোন পণ্য বা সেবা তৈরি করে যত লোকের চোখের সামনে হাজির করুন। ইন্টারনেটের বিস্তৃতির কারণে সেই প্যাটার্নে ধাক্কা লেগেছে। এখন পন্য অনেক, সেবা অনেক-মোটামুটি মাছের বাজার সবখানে। এখানে কিভাবে আপনার পন্যকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করবেন তা ঠিক করতে হবে আপনাকে। আপনার প্রোডাক্টকে ক্যাটাগরিতে এক নম্বর আনতে টাকার চেয়ে বুদ্ধিই বেশি খাটাতে হবে এখন।
আগে একটা নিয়ম ছিল, বাজারে যা ছাড়বেন সেটাই সব। কিন্তু এখন ভার্সন ওয়ান পয়েন্ট ও, ভার্সন টু পয়েন্ট ও করে করে পন্য-সেবাকে বিকাশের দারুণ সুযোগ আছে। এখন আসলে প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট বিষয়টা নিত্যদিনকার।
স্বর্ণকার গহনা বানিয়ে দেয়ার পরে সেটা ক্রেতা কিনে ফেললেই কিন্তু সব শেষ, কিন্তু আপনার অ্যাপটির প্রথম ভার্সনে বাগ দ্বিতীয় ভার্সনে না সরালে বিপদ কিন্তু! ফেসবুক গেল তের বছরে অনেকবারই তো হোম পেইজ বদলেছে, সঙ্গে আরও কত কি!


যারা আর্লি অ্যাডাপটার তাদেরকে শুরুতেই টার্গেট করুন। আপনার প্রোডাক্টটি কারা প্রথমে ব্যবহার করতে পারে তাদের সাইকোলজি বোঝার চেষ্টা করুন। টার্গেট দ্য রাইট পিপল। সাধারণভাবে আমাদের টার্গেট থাকে সবাই যেন আমাদের পণ্য বা সেবা নেয়, শুরুটায় এমন টার্গেট উচ্চাভিলাসী।
আবার আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখা জরুরী, আপনার পণ্য বা সেবা তা ঠিক কাস্টমারই কিনছে কিনা সেটা আপনার ভাবতে হবে। ভুল কাস্টমার যদি ভুল করে প্রোডাক্ট কেনে আর আপনি তা খেয়াল না করেন তাহলে কিন্তু পণ্যের ভবিষ্যৎ খারাপ।
শহরের মানুষদের কাছে লন মোয়ার বিক্রি করার সঙ্গে বিষয়টা মেলাতে পারেন।
ড্রপবক্স রাইট কাস্টমার ধরার জন্য ডিগ নামের সোশ্যাল মিডিয়াকে টার্গেট করেছিল। ড্রিউ হিউস্টোন ড্রপবক্স ব্যবহার নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেছিলেন, যেখানে ডিগ কমিউনিটি ব্যবহার করে এমন সব ইস্টার এগ ব্যবহার করা হয়েছিল। ভিডিও আপলোডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ড্রপবক্সে কয়েক হাজার সাইনিং আপ হয়েছিল।
পণ্য বা সেবাকে এমনভাবে ডিজাইন করুন যেন কাস্টমারই আপনার বিপণনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন। পণ্যকে ভাইরাল করতে দুটো পথ আছে,
পণ্যটিকে যেন ভাগাভাগি করার সুযোগ থাকে, আর সবাইকে তা শেয়ার করতে বলুন!

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 197 views. Thank You for caring my happiness.

বাংলাদেশ আর্মি থেকে যেসব নেতৃত্বগুণ শিখতে পারেন

ইদানিং যুদ্ধ আর রণকৌশল নিয়ে দারুণ কিছু বই পড়ছি। ব্যবসার দুনিয়াতে কৌশল আর যুদ্ধের রণাঙ্গনের কৌশল তো একই, তাই না? লক্ষ্য একটাই বিজয়। এক্সট্রিম ওনারশিপ নামের একটা বই পড়ছি এখন, সেই বইকেই বেইজ ধরে বাংলাদেশ আর্মি থেকে নেতৃত্ব শেখার যে পয়েন্টসগুলো জানতে পারেন তা নিয়ে এই লেখাটি দাঁড় করাচ্ছি।


১. সব দায় লিডারের
যা হবে, যা হয়েছে-তার সব দায় আপনারই। আপনার টিমের কেউ যদি আপনার নির্দেশনা না বোঝে তাহলে টিম লিডার হিসেবে আপনি তাকে দোষারোপ করতে পারেন না। নেতা হিসেবে আপনার দায় হচ্ছে দলের সব সদস্যকে সব কিছু বুঝিয়ে দেয়া। যুদ্ধের সময়, আপনার দলের কোন সৈনিক আপনার কথা যদি না বুঝতে পারে তাহলে কত বড় বিপর্যয় হতে পারে তা কি ভেবেছেন? একই কথা আসে ব্যবসার দুনিয়াতে। আপনার কোন কর্মী যদি আপনার কথা না বুঝতে পারে তাহলে তার দায় আপনারই। আপনাকে শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে কিভাবে আপনার কথা আপনার দলের সদস্যরা বুঝবে। আপনার দলের সদস্য আপনার কাছে না এলেও আপনাকে তার কাছে যেতে হবে, তাকে বুঝাতে হবে। হলিউডের মুভিতে দেখেন না, সিনেমায় মিশনে যাওয়ার আগে মেজর কিংবা কমান্ডেন্ট বারবার একই কথা তার টিমের সদস্যদের কেন বলে? বলা কথার জোর অনেক বেশি কিন্তু!
আপনি হয়তো ভেবে আছেন, আপনার অফিসের কর্মী আপনার কথা সব বুঝে যায়। বাস্তবতা আসলে বেশ ভিন্ন। বারবার আপনার কাজের লক্ষ্য, সাফল্যের শীর্ষ কোথায় তা আপনার দলের সদস্যদের বুঝিয়ে বলুন। আপনি যদি আপনার কাজের সাফল্য আনতে চান, তাহলে পুরোপুরো দায় নিয়ে নিজের মধ্যে চুম্বকের মত ডায়নামিজম তৈরি করুন।
ভাবনার প্রশ্ন: আপনার কর্মীকে ব্যর্থতার জন্য দিনে দশবার কথা না শুনিয়ে তাকে কি কখনও একই বিষয় ৩ বার বুঝিয়ে বলেছেন? সমস্যা নিয়ে ভাবনার চেয়ে সমাধান নিয়ে তাকে ভাবতে উৎসাহ দিয়েছেন কি?


২. খারাপ টিম বলে কোন কথা নেই, সব খারাপ আসলে লিডারই
সেনাবাহিনীর সব সদস্যই শুরু থেকে দল হিসেবে কাজের শিক্ষা পায়। আমাদের অফিসগুলোতে যে যার মত আলাদা আলাদা কাজ করে দুনিয়া উদ্ধার করে। সেনাবাহিনীতে কখনই কখনই একক কোন কাজের দৃষ্টান্ত আনতে পারবেন না, সবাই টিম। ভাবুন তো, আপনি আর্মির কোন একটি টিমের লিডার, আপনার দলের সবাই আলাদা আলাদা কাজে ওস্তাদ। সবাই র‍্যাম্বো, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ মাঠে কি হবে? মনে রাখা উচিত, যারা বীর হিসেবে স্বীকৃত তারা সবাই দারুণ কোন একটি দলের সদস্য ছিলেন। আমাদের বীরশ্রেষ্টদের যুদ্ধের ঘটনাগুলো পড়তে পারেন। বীরশ্রেষ্ট মতিউর রহমান ছাড়া বাকি সবাই কোন না কোন টিমের সদস্য ছিলেন। সিপাহী নূর মোহাম্মদ বীরশ্রেষ্ট মানে কিন্তু তার সেই টিমের সবাই এক!
আপনার টিমের সাফল্য নির্ভর করছে আপনার উপর। টিম খারাপ ছিল, এটা মূর্খদের এক্সকিউজ। মরিস ওদুম্বে নামে কেনিয়ার একজন ক্রিকেটার ছিলেন, তার সময়ের সেরা ক্রিকেটার। কেনিয়া দল খারাপ ছিল, কিন্তু সে ভালো ছিল। সে ভালো থাকলে কি হবে? কেনিয়া কি ভালো করেছে কিনা তাই ভাবার বিষয়!

১৯৯৪ সালে বসনিয়াতে বাংলাদেশ আর্মির কমান্ডার ন্যাটোর সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়েছিল। সেবার একজন সৈনিক হারিয়েছিল বাংলাদেশ আর্মি। লিডারের ভূমিকাই সব।

(ফেসবুকে আমি ভুলে একশ জন সৈনিক হারানোর কথা লিখেছিলাম, উইকিপিডিয়া থেকে পড়ার সময় ভুল বুঝেছিলাম আমি। দুঃখিত।)
হয় নেতৃত্ব দিতে শিখুন, কিংবা শেখার জন্য বই পড়ুন। শেখ মুজিবুর রহমান এক দিনে নেতা হয়েছেন?
যে কোন যুদ্ধে পরাজিত হলে কার দোষ হয় বলুন তো? ইয়াহিয়া খানের, সেনাপ্রধানের। তাহলে ব্যবসার ক্ষেত্রে দায় কেন টিমের সদস্যদের উপর দিচ্ছেন?
৩. শুরুটা আপনারই করতে হবে
টিমে কাজ করার সময় নেতা হিসেবে আমাদের কথা কেউ না শুনলে আমরা “বসের অর্ডার” কিংবা উপরের অর্ডার বলে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেই কথা বার্তা। আপনার উপরে টিমের বিশ্বাস থাকে না বলেই কিন্তু আপনাকে হাইকোর্ট দেখাতে হচ্ছে!
সেনাবাহিনীতে কি এমনটা হতে শুনেছেন? ট্রেনিংয়ের প্রথম দিন থেকেই নেতার কথা শুনতে হবে এমনটাই মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়। নেতার মনস্তত্বের উপরে ভরসার কথা বলা হয়। আবার যিনি নেতা হবেন তাকেও এমনভাবে ট্রেনিং দেয়া হয় যেন তার উপরে সবার শ্রদ্ধা আর ভরসা তৈরি হয়। অনাস্থা কিন্তু সেনাবাহিনীতে ভয়ানক একটি রোগ। আপনার উপর একবার অনাস্থা তৈরি হলে আপনি সম্ভবত সেনাবাহিনীতে আর টিকবেন না!
অফিসগুলোতে কি দেখি আমরা? যে টিমলিডার থাকে তার উপরই যত অনাস্থা! টিমের কর্মীদের মধ্যে কেন টিমলিডার কিছুই পারে না বলে ধারণা তৈরি হয়?
আপনি যদি নিজের টিমের মধ্যে লিডারশিপের জায়গা তৈরি করতে চান, তাহলে আপনি উপরের সিদ্ধান্তে কাজ করছেন এমন কোন কারণ তৈরি করবেন না।

৪. নিজের ইগো সম্পর্কে সতর্ক থাকুন
সিয়েরা লিওনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরাসরি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। ভাবুন তো সেখানে আপনি মেজর পদমর্যাদার কোন অফিসার। আপনার কোন কলিগের সঙ্গে আপনার “শো অফ” ক্রাইসিস আছে। সেই কলিগ কারও কথা শুনেন না, তার সঙ্গে কোন সৈনিক কেউ যুদ্ধমাঠে যেতে চান না। তাহলে পরিস্থিতি কি হবে ভাবুন তো?
আমাদের অফিসগুলোতে কিন্তু এমন অনেক কর্মী আছেন, কিংবা আপনিই সেই টিমলিডার যার সঙ্গে কেউ কাজ করতে চান না। আপনি ম্যানেজার পদের মানুষ বলে সবার সঙ্গে খারাপ বিহেইভ করেন, ইগোর কারণে মাটিতে পা পড়ে না। সেনাবাহিনীতে এমন হলে পরিস্থিতি কি হবে ভাবুন তো?
সেনা অফিসাররা অনেকেই অনেক সৈনিকের চেয়ে বয়সে কম। তার নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার অধীনস্ত টিম কি সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারবে?
“আমি সব জানি”, এমন বস বা টিম লিডার অফিসে থাকবেই। সেনাবাহিনীতে এমন অফিসার থাকলে কি বিপত্তি হবে তা ভাবুন একবার!

৫. কভার অ্যান্ড মুভ
সেনাবাহিনীতে কভার অ্যান্ড মুভ নামের একটা যুদ্ধ স্ট্র্যাটেজি আছে। গোলাগুলি চলুক না চলুক আপনি যখন সামনে এগোবেন তখন সব সময় আপনার যে সদস্যরা সামনে এগোচ্ছে তাদের কেউ না কেউ কভার করছে।
এ সময় আরেকটা স্ট্র্যাটেজি কাজে লাগানো হয়, সাধারণভাবে আমরা হেটে চলার সময় এক পা সামনের মাটিয়ে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরের পা তুলে হেটে যাই এমনটার উল্টো! আপনি প্রথমে প্রথম পা ফেলবেন, তা পুরোপুরি মাটিতে রেখে তারপরে দ্বিতীয় পা সামনে বাড়াবেন!
আমরা অফিসে টিমলিডাররা কি করি? নিজের কাজ করে সামনে এগিয়ে যাই। যুদ্ধের মাঠে এমনটা করলে কি হবে বলুন তো! যুদ্ধের মাঠে প্রত্যেক সেনাসদস্য যেমন নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তেমনি নিজের সহযোদ্ধারও। অফিসে এমনটা করার চর্চা প্রয়োজন আমাদের। এতে নেতার প্রতি সবার বিশ্বাস তৈরি হয়।


৬. সব কিছু সরল রাখুন
বলা হয়, রণকৌশল যত কঠিন যুদ্ধে জেতা তত কঠিন। সব সোজা আর সরল রাখা হয় যুদ্ধ কৌশলে, যেন সৈনিকরা সবাই সব কিছু বুঝতে পারে।
অফিসে কি হয়? একটা পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে চার্ট আর চার্ট দিয়ে ভরে ফেলি আমরা। তারপরে তার সাতসমুদ্রের যতজ্ঞান আছে তা নিয়ে ভয়ানক একটা স্ট্র্যাটেজি তৈরি করি! এতে ভরকে যায় আপনার টিমমেইটরা!
অ্যাপল কিন্তু দুনিয়া সেরা সাফল্য পেয়েছে তার সরল ডিজাইনের জন্য!

 

 

 


আরও পড়ুন:

তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 4,302 views. Thank You for caring my happiness.

চেয়ার তত্ত্ব

আলিয়া ভাট আর শাহরুখ খানের সিনেমা ডিয়ার জিন্দেগী। ভারতের গোয়াতে শুটিং লোকেশন ছিল মুভিটা তাই দেখার লিস্টে ছিল অনেকদিন। সেই মুভিটায় শাহরুখ খান ওরফে ড. জাহাঙ্গীরের ভূমিকা ছিল একজন থেরাপিস্ট হিসেবে, আর আলিয়া ওরফে কাইরা ছিল মারদাঙা উড়াধুরা সেই লেভেলের একটা মানুষ-যার জীবনে আমাদের মতই আবেগ -অনুভূতি আর হতাশা ভর করে। এই মুভিতে কাইরার প্রেম করার মানুষ খোঁজা নিয়ে হতাশা ছিল। সেই হতাশায় দ্বিধায় ছিল কাইরা, সেখানেই থেরাপিস্ট ড. জাগ তাকে চেয়ার থিওরী বলে জীবনের দারুণ একটা কথা বুঝিয়ে দেয়।

চেয়ার তত্ত্বের প্রেক্ষিত: কায়রার প্রথম প্রেম ছিল একজন সিনেমা পরিচালকের সঙ্গে, এরপরে হয় একজন গায়কের সঙ্গে। দুজনেই সুর্দশন, কিন্তু কায়রার সঙ্গে তাদের জোড় আর গড়ে ওঠেনি।

চেয়ার থিওরী: আমরা দোকানে চেয়ার কিনতে যাই। গিয়েই কি হুট করে প্রথম যে চেয়ার পছন্দ করি, তাই কিনে বাড়িতে নিয়ে আসি? উত্তরটা নিশ্চয়ই, না! তো আমরা কি করি? অনেক দোকানে ঘুরি? অনেক চেয়ার দেখি। কোনটার রঙ পছন্দ হয়, কোনটার স্টাইল, আবার কোনটায় বসে মজা নেই, কোনটা বসলে আরাম পাওয়া যায় না। অনেক ঘোরাঘুরি করেই আমরা পছন্দের চেয়ার কিনি।

সিনেমার চেয়ার থিওরী: ডিয়ার জিন্দেগীতে ড. জাহাঙ্গীর কায়রাকে এভাবে জীবনসঙ্গী বেছে নেয়ার একটা কল্পনা ধরিয়ে দেন। জীবনসঙ্গী বিষয়টাও খোঁজার বিষয়- খুঁজতে হয়, বেছে নিতে হয়; তারপর তাকে জয় করতে হয়।

সিনেমার মত কি আর জীবন চলে? চেয়ার থিওরীটিকে বাস্তবে আনার চেষ্টার জন্যই এই পোস্টটা লিখছি।

চশমা তত্ত্ব: ডিয়ার জিন্দেগীর কথাটা ছিল, জীবনসঙ্গী খুঁজতে হয়। সেই খোঁজাকেই বাস্তবে খোঁজার চেষ্টা করেছি আমি। আমরা যখন চশমা কিনতে যাই, তখন যে চশমা পছন্দ হয় তাই কি কিনে নিয়ে আসি? মনে হয় না! একটু পরে দেখি, আয়নায় দেখি কেমন লাগে আমাদের। অন্যরা ভালো বললেও নিজের কাছে ভালো না লাগলে সেই চশমা আমরা কিনি না।

আমাদের জীবনটাও বেশ বড় অর্থেই এমনটা কিন্তু!

আমরা যখন প্রথম চাকরি পাই, ধরেই নিই সেই চাকরি আমাদের জীবনের সেরা চাকরি। অনেকটা সময় কাটানোর পরে অনেকক্ষেত্রেই মনে হয় “আমি এ কি করছি?”

“আমি এ কি করছি?”, অনেকটা জীবন কাটিয়ে দেয়া অনেক মানুষের কাছ থেকে এ প্রশ্ন জেনেছি। নিজেকেই তারা প্রশ্ন করেন, তারপরে কেউ কেউ উত্তরের জন্য উত্তর-দক্ষিণ মেরু পাড়ি দেন। আবার কেউ হতাশার চাপে একঘেঁয়ে জীবনের ঘানি টেনে কালো সব চুল সাদা করে ফেলেন।

চেয়ার থিওরীকে বাস্তবে এনে দেখা যেতে পারে। কোন সিদ্ধান্তই শেষ কিংবা চরম ধরে বসে নেয়া ঠিক না। একটার পর একটা অপশন তৈরি করে সামনে এগিয়ে নিতে যাওয়াটাই বোধহয় জীবন।

 

—–

ডিয়ার জিন্দেগীতে দারুণ একটি লাইন খুঁজে পেয়েছি, অনেক সময় সরল সমাধানই খুঁজে বের করা সরল কাজ। যে সরল কাজে আমাদের জীবনটা সরল হওয়ার সম্ভবনাই থাকে। আমরা কি করি? সব সময় কঠিন সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত থাকি, কঠিনকে খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে ফেলি জীবনের সহজ সঙ্গাকেই।

তখন শূণ্যতা ভর করে শুধু।

 

আমার সব লেখা মিডিয়ামে পড়ুন। কিংবা, নিউজলেটার অপশনে ইমেইল ঠিকানা লিখলে প্রতি সোমবার আমি নিশ্চিত অন্যরকম কিছু লেখা আপনার সঙ্গে শেয়ার করবো!

 

 

 

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 346 views. Thank You for caring my happiness.

একটু বেশিই যেভাবে বেশি বই পড়বেন

কয়েক মাস আগেও বই পড়ার তেমন অভ্যাসই ছিল না আমার। গেল বছরের ডিসেম্বরে হুট করে কি না বই পড়ার অভ্যাস করে ফেলি আমি। নন-ফিকশন কয়েকটি বই কয়েক সপ্তাহে শেষ করে ফেলি। দ্রুত বই পড়া, কিংবা সারাক্ষণ বই নিয়ে পড়ে থাকাই কিন্তু বই পড়ার অভ্যাসকে প্রভাবিত করে না। প্রথম দিকে আমি যখন বই পড়তাম, তখন কয়েক পাতা পড়ার পরেই ফেসবুক ডাকতো আমাকে! এরপরে হুট করেই দেখলাম আমি একটানে ২০ পাতা পড়ে ফেলছি! কোন লাইন কিংবা অধ্যায় বাদ না দিয়েই এক বসাতেই বিশ পাতা শেষ করা কিন্তু একটু কঠিনই। সেক্ষেত্রে আমি যে বুদ্ধিতে পড়ি, প্রতিদিন যতবার ট্রাফিক জ্যামে পড়ি ততবারই ব্যাগ থেকে বই টান দেই। ৩০ মিনিটে ২০ পাতা পড়া কিন্তু জ্যামে বসে কোন ব্যাপারই না। ট্রাফিক জ্যামকে এখন তো আমার আশীর্বাদই মনে হয়!


আমি বই পড়া শেষে, সেই বইয়ের মূল থিম সব সময় মাথায় রাখার চেষ্টা করি। বই দাগিয়ে পড়ার অভ্যাস না থাকলেও মাথায় নোট নেয়ার অভ্যাসটা তৈরি করে ফেলেছি এখন। আর যে কোন বই শেষ করে তার সামারি পয়েন্টস, অন্যদের রিভিউ পড়ে বইটার একে বারে টেনে মাথায় নিয়ে ফেলি।

যে বইয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন তা জোর করে পড়ার অর্থই

বই রিভিউ দেখে বই পড়ার জন্য নির্বাচন করি আমি কিন্তু যে বইয়ের প্রথম ২০ পেইজ পড়ার পরে আমার ভালো লাগে না তা আমি আর শেষ করি না। যেমন এরিক রিসের অনেক জনপ্রিয় একটা বই লিন স্টার্টআপ আমি ধরেও শেষ করতে পারি নাই। অথচ এই বইটা স্টার্টআপ হিট লিস্টে প্রথম ১০টি বইয়ের একটি। যে বইয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন তা জোর করে পড়ার অর্থই নেই কিন্তু।
বই পড়ার সময় কোথায়?
এপ্রশ্নের উত্তরের চেয়ে ভাবুন তো দিনে তিন বেলা খাওয়ার সময় কি পাই আমরা? যদি আপনি তিনবেলা খাবার সময় পান, তাহলে অবশ্যই বই পড়ার সময় পাবেনই। বই পড়ার জন্য সময় বের করে পড়তে চাইলে কোনও দিনই আসলে বই পড়া হবে না আপনার। ধরুন প্রতিদিন সকালে দাঁতব্রাশ করি আমরা নিয়মিত। এটা অভ্যাস, কিংবা রিচুয়াল করে ফেলেছি আমরা। আমার মতে, বই পড়াটা আসলেই তাই-অভ্যাস।
যেভাবে শ্বাস নেই, সেইভাবে বইপড়াকে আয়ত্বে আনা জরুরী। বই পড়েই যে পান্ডিত্য অর্জন হবে তা নয়, কিন্তু দারুণ একটা স্মার্ট লাইফ স্টাইল কে না চায়? সেক্ষেত্রে স্মার্টফোনে মাথা গুঁজে রাখার চেয়ে সত্তর-আশির দশকের স্টাইলে বই পড়া বিষয়টা কিন্তু দারুণ।
বিনে পয়সায় বই পড়বেন না!
বই কিনে পড়ার অভ্যাসটা একটু বেশিই দারুণ। আমি ফ্রি কিংবা পাইরেটেড বই কমই পড়ি, সত্যি! ১ কিংবা ২ ডলার রেঞ্জে কিন্ডলে বই কিনে পড়ি-দাম দিয়ে কিনলে তার জন্য কিন্তু মায়া টানে! বই কেনা বিলাসিতা হতে পারে, কিন্তু বই পড়া না।

“যখন আমি কিছু টাকা পাই তখনই বই কিনি, আর যখন সেখান থেকে কিছু টাকা বেঁচে যায় তখন আমি খাদ্য ও পোষাক কিনি।”
-ইরাসমাস, ষোড়শ শতকের দার্শনিক

বই পড়া, কিন্তু ঘোরাঘুরি করা।
ধরুন, টাকা থাকলে আমরা ঘুরতে যাই। বই পড়াও কিন্তু ঘোরাঘুরি করাই!
যারা ঘোরাঘুরি বেশি করে তারা কিন্তু চুপচাপ থাকে, মাথা ব্যস্ত রাখে সারাক্ষণ। আমি যদিও বেশিই কথা বলি, কিন্তু চেষ্টা করি দিনে ৫০ পৃষ্টা শেষ করতে। ওয়ারেন বাফেট নাকি দিনে ৫ ঘণ্টাই বই পড়ে, আমি তো ওয়ারেন হতে পারব না, কিন্তু সে যে বই পড়ে তা কিন্তু পড়তে পারবো।

আপনি যদি জীবনকে একটি খেলা ভাবেন, সেই খেলার একেকটি লেভেল অতিক্রম করার জন্য একেকটি বই পড়ুন। যে যত বই পড়বেন সে তত লেভেল উপরে চলে যাবেন।

আপনি যদি জীবনকে একটি খেলা ভাবেন, সেই খেলার একেকটি লেভেল অতিক্রম করার জন্য একেকটি বই পড়ুন। যে যত বই পড়বেন সে তত লেভেল উপরে চলে যাবেন। জ্ঞানী হওয়াই বই পড়ার কিন্তু লক্ষ্য না, বই পড়ে তা ভেবে কাজ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ!

 

আরও পড়ুন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২০১৭ সালে যা পড়তে পারেন।

ফিল নাইটের সেই সাত।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 879 views. Thank You for caring my happiness.

যেভাবে দারুণ কনটেন্ট আইডিয়া তৈরি হয়

মেড টু স্টিক নামে দারুণ একটা বই পড়া শেষ করেছি এমাসেই। গ্রোথ হ্যাকিং, ডিজাইন থিংকিং নিয়ে যারা আগ্রহী তাদের পছন্দের প্রিয় দশ বইয়ের একটা এই বই। কিভাবে আইডিয়া যুগের পরে যুগ টিকে থাকে তা নিয়ে মনোবিশ্লেষণধর্মী মেড টু স্টিক বইটি। বইটা পড়েই জেনেছি কেন “আঙ্গুর ফল টক” গল্পের শেয়াল আর আঙ্গুরের কথা প্রাচীন গ্রীস থেকে শুরু করে সব ভাষার গল্পে খুঁজে পাওয়া যায় কেন!

বইটি পড়া শেষে গুগল করে How to Produce Better Content Ideas নামে একটা স্লাইড শোর খোঁজ পাই। ইদানিং ফেসবুকের চেয়ে বেশি সময় দিচ্ছি স্লাইডশেয়ারে, দিনে ২টা ভালো স্লাইডশো যদি একবার পাই, সেই দিন সেই রঙে কেটে যায়।

আজকে Mark Johnstone এর স্লাইডশোটা পুরোটা দেখেছি, সেই রকমের মুগ্ধতা দেখা যায়।

একমাস জিমে যাওয়ার পরে যদি সিক্স তৈরি না হয়, তাহলে দোষ কার? আপনার-আমার অমনোযোগিতাই কিন্তু! সেইভাবে কোন কিছু নিয়ে ৭ দিন কিংবা ৩০ দিন নতুন করে না ভাবলে নতুন আইডিয়া তৈরি হওয়ার কথা না কিন্তু!

স্লাইডশোর শেষ দিকে রেড বুলের একটা উদাহরণের কথা বলা আছে। রেড বুল তার বিজ্ঞাপন কিংবা কোন কিছুতেই কিন্তু ক্যাফিনেটেড পানি খেলে কি হবে, কিংবা রেড বুলের উপকারিতা কি তা নিয়ে ঘ্যানর-ঘ্যানর করে না। রেড বুল জীবনশক্তি, অ্যাড্রেনালিন রাশ আর সীমানার বাইরে জীবন নিয়ে যাওয়ার দর্শনকেই ভিত্তি করে ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি তৈরি করেছে।

আপনার পণ্য বা সেবা যাই থাকুক না কেন, তা নিয়ে কখনই কথা বলা যাবে না। আপনার আদর্শকেই মানুষ গ্রহণ করবে।

কয়েকদিন আগে কোথায় জানি পড়েছিলাম, আপনি গরু ব্যবসায়ী হলে কিভাবে ব্যবসা করবেন? গরুর বিজ্ঞাপন দেবেন? কখনওই না, গরুর মাংসের কালোভুনা বিষয়টা কি তা আপনার ক্রেতাদের বোঝান। এরপরে গরু তারা এমনিই কিনবে।

 

এমন আরও ২৪টা স্লাইডশো বুকমার্ক করে রেখেছি। “শেখা” বিষয়টা তেমন খারাপ না।

 

এখন বেশির ভাগ সময় মিডিয়ামেই চোখ থাকে। আর লিংকডইনের স্টুডেন্ট ভয়েসও টুকটাক পোস্ট দেয়াই এখন আসক্তি আমার।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 572 views. Thank You for caring my happiness.

সোলায়মান সুখন থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে সোলায়মান সুখনকে এই সময়কার মানুষরা নামে চেনেন। পেশাজীবনে কর্পোরেট দুনিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও যারা সামনে নিজের কোন উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নামতে চান তারা সোলায়মান সুখনের কাছ থেকে দারুণ কিছু বিষয় ইতিবাচকভাবে শিখতে পারেন।


“আপনার পণ্য কে কিনবে তা কি জানেন?”
বিভিন্ন বিজনেজ কেস কম্পিটিশন কিংবা যে উদ্যোগের শুরুতে সব কিছুই রঙিন মনে হয়। দারুণ আইডিয়া দিয়ে দুনিয়া কাপানোর চেষ্টা থাকে সবারই। কিন্তু খুব কম সময়েই আমরা জানি না আমাদের পণ্য বা সেবা কে কিনবে? কিংবা কে আপনাকে সামনে নিয়ে যাবেন। সোলায়মান সুখন কিন্তু তার সোশ্যাল মিডিয়ার যত মেসেজ রাখেন সব কিন্তু ১৭ থেকে ২২ বা ২৫ বছরের তরুণদের উদ্দেশেই দেন। কারণ এই মানুষরা বয়সে তরুণ, তারা সোলায়মান সুখনের মত পারফেক্ট কেউ হতে চান বলেই সোলায়মান সুখনের ভিডিও কিংবা পোস্টে হামলে পড়েন। সোলায়মান সুখনও কিন্তু তার এই গ্রুপ সম্পর্কে জানেন, তিনি কিন্তু বিদেশপড়ুয়া কিংবা আইবিএ বা হাই-ক্যারিয়ার স্কোপ যাদের আছে তাদেরকে প্রাথমিক টার্গেট করে কনটেন্ট ডেভলপ করেন না। সোলায়মান সুখন ইচ্ছে করলেই কর্পোরেট দুনিয়ার তরুণ পেশাজীবিদের জন্য ভাইরাল কনটেন্ট বানাতে পারতেন, সেদিকে কিন্তু তিনি নেই। তার ফলোয়ার কারা এটা তিনি জানেন, সেভাবেই তিনি কনটেন্ট ডিজাইন করেন। আপনার পণ্যটি যাদের জন্য তাদের জানার চেষ্টা করুন। কাস্টমার ছাড়া আসলে যে কোন উদ্যোগই কাগজে কলমে হিট, বাস্তবে নাই।

মার্কেটিং শিখুন
কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মার্কেটিং আর ব্র্যান্ডিং করতে হয় তা সোলায়মান সুখনের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করা যায়। এক সময় এলিট মোবাইল কয়েক মাসের জন্য আলোচিত হয়েছিল, তার পেছনে ছিলেন সোলায়মান সুখন। এরপরে আমরা নেটওয়ার্কসের উই মোবাইল দিয়ে সাড়া ফেলেছেন। আমরা নেটওয়ার্কসকে এর আগে কর্পোরেট দুনিয়ার বাইরে কয়জনই চিনত? এখন জায়গায় জায়গায় ফ্রি ওয়াইফাই দিয়ে আমরার ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানোর আইডিয়া তার।

You বনাম My
আইপড স্টিভ জবস কিভাবে বিক্রি করতো তা খেয়াল করলে দেখা যায়, 1000 Songs in Your Pocket। আইপড বাজারে আনার সময় অ্যাপল কিংবা স্টিভ জবস কি নতুন এমপিথ্রি প্লেয়ার, নতুন পণ্য কিংবা হার্ডডিস্কে মেমরি দিয়ে বিজ্ঞাপন কিংবা হাইপ তোলার চেষ্টা করতে পারতো না? সাইমন সিনেকের স্টার্ট উইথ হোয়াই’তে আমি পড়েছি মানুষ আগে নিজের প্রয়োজনটাই সবার-সবার আগে বোঝার চেষ্টা করে। Your Pocket শব্দদুটো দিয়ে স্টিভ কিন্তু আপনাকে-কাস্টমারকে ফোকাস করেছে। সোলায়মান সুখনের বিভিন্ন ভিডিওতে এমনভাবে বাক্য ব্যবহার করেন যেন বিষয়টা You মানে আপনি কেন্দ্রিক থাকে। ফানেলের উপর থেকে কথা বলার স্টাইলে মানুষকে প্রভাবিত করা যায় না। হবু-উদ্যোক্তারা যখন পণ্য বা আইডিয়া নিয়ে কাজ করেন সেখানে কাস্টমাররা কি পাবেন-পাচ্ছেন সেটাই সবার আগে ফোকাস করা উচিত।
Quora তে একটা ডিবেইটে পড়েছিলাম Your Account শব্দটা My Account-এর চেয়ে বেশি শক্তিশালী! You-কে ফোকাস করুন।


নেটওয়ার্ক দিয়ে ডমিনো অ্যাপ্রোচ তৈরি করুন
সোলায়মান সুখন গত ৩/৪ বছর ধরে টেলিকমিউনিকেশন দুনিয়াতে যুক্ত। খেয়াল করলে দেখবেন তার নানান প্রচার প্রচারণায় তারই নেটওয়ার্কের লোকজনকে তিনি প্রভাবক হিসেবে কাজে লাগান। অন্যান্য ইউটিউবার কিংবা আলোচিত তরুণদের দিয়ে নানা ভাবে তার প্রতিষ্ঠানের পণ্যের ব্র্যান্ডিং করেন তিনি। আমরা যারা হবু-উদ্যোক্তা তারা সব সময় আইডিয়া অন্যদের কাছে লুকানোর চেষ্টা করি। চুরি হয়ে যাওয়ার ভয়ে চুপচাপ থাকি। বিষয়টা আসলে অন্যভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, আমরা যত বেশি একটা আইডিয়া নিয়ে যত বেশি যত মানুষের সঙ্গে কথা বলবো তত বেশি তথ্য আর উপাত্ত পাবো, বাজার সম্পর্কে ধারণা পাবো। মনে রাখা উচিত, একেক জন চুলে একেক স্টাইলের সিঁথি করে। সবার ভাবনার দুনিয়া আলাদা, কেন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না? যত ভাবনা তত কিন্তু পথ।

মনোযোগি ফলোয়ার হউন
আমরা হুট করেই কিছু না ভেবেই মাঠে নেমে যাই। মাঠে নেমে যাওয়ার পরে হুতাশ শুরু হয়। এটা থেকে মুক্তির একটা উপায় হচ্ছে মাঠে নামার আগে মাঠে যারা নেমেছিলেন তাদের পরামর্শ নেয়া। জিই’র সিইও জ্যাকের বায়োগ্রাফিতে পড়েছি, ভালো ফলোয়াররাই নাকি দারুণ নেতা হয়। অন্যকে অনুসরণ করে নিজেকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যান। অন্যকে অনুসরণ করে তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যান। সোলায়মান সুখন কিন্তু মাঝেমধ্যে তার ব্যবসা দুনিয়াতে যাদের ফলো করেন তাদের নিয়ে কথা বলেন। অন্যকে অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে যান, অনুকরণ নয়।

“পরিবারকে সময় দিন!”
স্টার্টআপ করার সময় নাকি অনেকেই প্রেমিকাকে ছেড়ে দেন!-এমনটা পড়তে ভালো লাগে, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা শকিং কিন্তু! সোলায়মান সুখনের শত ব্যস্ততায় কিন্তু তার পরিবারের পেছনে সময় দেয়ার চেষ্টার ছবি তার ফেসবুকেই দেখা যায়। সব কিছুই ব্যালেন্স করে সামনে এগিয়ে যান।

আরও পড়ুন: তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

যা পারেন না তা করবেন না
সোলায়মান সুখন কিন্তু ভিডিও কনটেন্টে দারুণ হলেও লেখালেখিতে সম্ভবত তেমন শক্ত নন। সে কারণেই কিন্তু তিনি ভিডিও দিয়েই তার ফলোয়ারদের সঙ্গে কানেক্টেড হন। আমাদের মধ্যে জ্যাক অব অল ট্রেডস হওয়ার প্রবণতা আছে। যা পারি না, তাই বলার চেষ্টা করি, শো-অফটাই বেশি। হবু-উদ্যোক্তাদের জন্য এ বিষয়টা গুরুত্ব দেয়া উচিত। যা পারেন না, তা না শিখে কিছু না করাই ভালো! এক্ষেত্রে উপায় হচ্ছে, কোফাউন্ডার খুঁজে মাঠে নেমে পড়া। একা তেমন কিছু করা যায় না, কিন্তু ২-৩জনের গ্রুপেই মোটামুটি দারুণ অনেক কিছু করা যায়।


সব ধরার চেষ্টা করলে ধরা খাবেন!
চীনে একশ কোটির বেশি লোক। কেউ যদি চিন্তা করেন একশ কোটি লোকের জন্য দুশ কোটি জুতো দরকার, আর কালকেই জুতা বানানো শুরু করেন তাহলে কি হবে! নাইকির প্রতিষ্ঠাতা ফিল নাইটের বইয়ে এই লাইনটাই পড়েছিলাম! ১শ কোটি লোক, ২শ কোটি পা! ২শ কোটি পায়ের জুতো তৈরি কত বড় হাঙামা তা কি জানেন! সোলায়মান সুখনসহ আমরা যাদের অনলাইনে ইনফ্লুয়েনশিয়াল হিসেবে দেখি তারা কিন্তু দুনিয়ার সব কিছুতেই মতামত দেয়ার চেষ্টা করেন। সব কিছু নিয়ে কথা বলার কারণেও কিন্তু মাঝেমধ্যে গণরোষে পড়েন তারা। সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি হচ্ছে, টুকরো টুকরো মার্কেট সেগমেন্ট ধরে প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট, তারপরে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

সামাজিক কাজে যুক্ত থাকুন
শুধু নিজেকে নিয়ে কিংবা নিজের ছোট দুনিয়া নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি। এটা ঠিক না, অসুস্থতা। ফরিদপুর থেকে হেলিকাপ্টারে করে ঢাকায় একটা বাচ্চাকে আনার দারুণ একটা কাজ করেছিলেন সোলায়মান সুখন গত বছর। শুধু নিজেকে নিয়ে পড়ে থাকলে এসব করা যায় না, নেটওয়ার্ক বড় হয় না।

শিখুন।
সোলায়মান সুখনের সঙ্গে একবার কথা বলার সময় তার নতুন অফিসের টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে একটি অভিজ্ঞতা শুনেছিলাম। টেকনিক্যাল বিষয় না বোঝার কারণে বেশ বিপদে পড়ার সম্ভবনা ছিল তার, পরে ইউটিউব আর অনলাইন থেকে তা শিখে বিপদ পাড় করেন। হবু-উদ্যোক্তারা অনেক কিছুতে আটকে থেমে যায়। অনলাইনে কোর্সেরা-এডএক্স থেকে অনেক কোর্সের শুধু ভিডিও দেখেই অনেক ধারণা পাওয়া যায়। শিখলে লস নাই আসলে!

 

(এই পোস্টের সব ছবি সোলায়মান সুখনের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেয়া। সোলায়মান সুখন ভাইকে আমি অন্যদের মতই ফলো করি, এছাড়া উনার সঙ্গে আমার আর কোন সম্পর্ক নেই। আরেকটা সম্পর্ক আছে, ২৯ জুলাই আমার জন্মদিন, উনার মেয়েরও মেবি একই দিনে জন্মদিন!)

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 6,806 views. Thank You for caring my happiness.

দারুণ একটা ক্রোম এক্সটেনশন

প্রতিদিন সকালে অফিস কিংবা বাসায় যেখানেই কম্পিউটারে বসি প্রথমেই মজিলা/ক্রোমের অ্যাডড্রেস বারে www এর পরে ডট তারপরে facebook ডট com লিখার অভ্যাসটা ছাড়াই দায়। ফেসবুকের নীল দুনিয়াতে মাথা একবার গুজলে কোথা থেকে কয়েকঘণ্টা হাওয়া হয়ে যায় তা টের পাওয়া বা হিসেব রাখাই মুশকিল।

আমি মোবাইল থেকে ফেসবুক অ্যাপ আর মেসেঞ্জারখানা সরানোর পরেও ফেসবুকাসক্তি কমাতে পারি নাই।

ফেসবুক আসক্তি যখন চরমে তখন গত মাসে দ্য ভার্জে Todobook নামে একটা ক্রোম এক্সিনশনের খোঁজ পাই, প্রোডাক্টিভিটি এক্সটেনশন। সঙ্গে সঙ্গেই ক্রোমে যোগ করে ফেলি, আর এরপরে ফেসবুকেই থাকি-কিন্তু আগে কাজ তারপরে নীল দুনিয়াতে পা রাখার সুযোগ পাই।

টুডুবুক আসলে ফেসবুকের হোমে এসে বসে থাকে, যেখানে ৪/৫টা টু ডু লিস্টের কাজ শেষ না করে টিক না দিলে ফেসবুকে ঢোকা যায় না। নিজের সঙ্গে একটু সততা বজায় রেখে কাজ শেষ করেই ফেসবুকে আসা যায়।

দারুণ একটা ক্রোম এক্সটিনশন।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 783 views. Thank You for caring my happiness.

৫২টা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ শব্দ শিখুন, ভড়কে দিন অন্যকে

বডি ল্যাঙ্গুয়েজের উপরে দারুণ একটা বই পড়ছি। সেই বইটায় ৯২টা সারকাস্টিক বডি ল্যাঙ্গুয়েজের কথা বলা আছে। তার মধ্য থেকে ৫২টা তো ফাটাফাটি, প্র্যাকটিস করা শুরু করে দিচ্ছি আজকেই। সেই ৫২টা বডি ল্যাঙ্গুয়েজের শব্দ নিয়েই এই পোস্ট।
১. দ্য ফ্ল্যাডিং স্মাইল: গ্রুপ মিটিংয়ে কখনই প্রথমে নিজে হাসবেন না। একটু তাকিয়ে স্থির হয়ে তাকাবেন, তারপরে হাসবেন।
২. স্টিকি আইস: আপনার সামনে যে কথা বলবে তার চোখে আঠার মত তাকিয়ে থাকুন। সে সময়ে দুনিয়া উল্টো গেলেও তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকুন। কথা শেষ হলেও তাকিয়ে থাকুন।
৩. ইপক্সি আইস- গ্রুপ মিটিংয়ে কারও বিপক্ষে অবস্থান করার সময় অন্য কেউ কথা বললেও আপনার প্রতিপক্ষের দিকে তাকিয়ে থাকুন। কে কথা বলছে সেটা ব্যাপার না, ওই লোকের দিকে তাকিয়ে থাকুন।
৪. দড়ি কামড়ের পজিশনে দাঁতের অবস্থান: মনে করুন, আপনি কোন দড়ি কামড়ে ঝুলে আছেন। শুধু দাঁত দিয়ে দড়ি কামড়ে আছেন। মুখের পেশি তখন খুবই আঁটোসাঁটো হয়ে যাবে, এমন অবস্থায় থাকুন। কেউ মেজাজ দেখাতেই আসবে না!
৫. বিগ-বেবি পিভট: কোন মিটিংয়ে যে বস তাকে ছাড়া অন্যদের দেখে হাসুন। এক হাসিতেই “I think you are very, very special.” ফিলিং দিয়ে দিন।
৬. “আরেহ, বন্ধু”: পরিচিত, অপরিচিত যার সঙ্গেই দেখা করুন না কেন এমন ভাবে কথা বলুন যেন সে আপনার পুরাতন কোন বন্ধু।
(বাকি ৪৫টা কবে লিখব জানি না।)

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 991 views. Thank You for caring my happiness.

অনার্সের তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় যা করা উচিত!

প্রথমেই শিরোনামে “উচিত” শব্দটি কেন লিখেছি তা বলে নেয়া ভালো। এই উচিতটা আসলে সেই সব খুবই সাধারণ মানের শিক্ষার্থীদের যাদের সিজিপিএ নিয়ে তেমন ভাবনাই নেই। পাশ, আর সেমিস্টার বদলই যাদের জীবনের ধ্যান তারাই মোটামুটি সাধারণ মানের শিক্ষার্থীদের বলা যায়। এই শিক্ষার্থীদের অনেকের অনেক বড় বড় স্বপ্ন থাকে-বিসিএস ক্যাডার, প্রাইভেট ব্যাংকের এমটিও, কিংবা ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোবাকোর টেরিটোরি ম্যানেজার পোস্টসহ আরও অনেক আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন। স্বপ্ন বড় হলেও অভিকর্ষের টানে এই শিক্ষার্থীরা গড়পড়তা একটা জীবন কাটিয়ে দেয়। ভালো চাকরি হবে এই প্রত্যাশায় অনার্স জীবন শেষ হলেও ভালো চাকরি তেমন ধরাই দেয় না তাদের হাতে। আক্ষেপের একটা জীবন কাটিয়ে যায় সবাই। সেই সব শিক্ষার্থীর জন্য এই পোস্ট। আমি নিজে খুবই সাধারণ শিক্ষার্থী ছিলাম দেখে সেই সব সাধারণ শিক্ষার্থীর হতাশার মাত্রাটা বুঝি, নিজের অভিজ্ঞতা আছে অনেক!
অনার্সের তৃতীয় বর্ষে তেমন কিছু কাজ করলে পরের সময়টায় দারুণ কিছু করার সুযোগ তৈরি করা যায়। মনে রাখা ভালো, জীবনে নিজের সুযোগ নিজেরই তৈরি করতে হয়; অন্যের করুণার সুযোগের প্রতীক্ষায় কেন বসে থাকবেন। অনেকেই এই কথার বিরোধিতা করবেন, তাদের বলি-শচীন টেন্ডুলকার অনেক ম্যাচে খারাপ করলেও পরের ম্যাচগুলো খেলতেন সৌভাগ্য কিংবা পরিশ্রমের জোরেই। আপনি আমি শচীন না, আমাদের পরিশ্রম আছে, কিন্তু সৌভাগ্য সব সময় ধরা দেবে না। আর ধরা কেনই বা দেবে? সব মিলিয়ে দেশে প্রতিবছর ২ হাজারের বেশি ভালো চাকরির সুযোগ আসে (বিসিএস+ব্যাংক নিয়ে দু হাজার ভালো সুযোগ আসলেই কম)! সবার যদি সমান সৌভাগ্য আসতো, তাহলে চাকরি আর কারো করা লাগতো না।
তো তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় কি করতে পারেন? আমি কিছু বুলেট পয়েন্ট লিখতে চাই, এগুলোকে পরামর্শ না ধরাই ভালো। নিজের চারপাশের মানুষদের কাছ থেকে এসব শিখে দেখে লিখছি।
* নিয়মিত পত্রিকার অভ্যাস করুন। অনার্স শেষে বিসিএস পরীক্ষার জন্য হুট করেই পত্রিকা পড়ার অভ্যাস আমাদের অনেকের। ওই সময়ের জন্য পত্রিকা পড়ার অভ্যাস না রেখে এখনই শুরু করুন। সাকসেস আসলে লাইফস্টাইল, পত্রিকা পড়ার অভ্যাস আপনার প্রতিদিনকার অভ্যাস হিসেবে গড়ে তুলুন। দেখবেন কয়েকমাস পরে আপনার মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয় একটা স্পঞ্জের মত হয়ে যাবে, সহজেই যে কোন ইনফরমেশন মনে রাখতে পারবেন। আমাদের ব্রেইনও কিন্তু আমাদের মত, কথা শুনতে চায় না। বাড়ির পাশে রাতে জোরে গান বাজালে যেমন শুনুন না শুনুন কানে আসবেই, তেমনি নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করুন। ব্রেইন স্বয়ংক্রিয় নিজেই ইনফরমেশন নেয়া শুরু করবে।
* সপ্তাহের ২ দিন অন্তত নিজের মত সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। আমাদের বর্তমান যে রুটিন, ক্লাস+বাসা+ঘুম+ফেসবুক=জীবন! এটা অন্তত দুদিনের জন্য বাদ দিন। চেষ্টা করুন প্রতি সপ্তাহে দুদিন বই পড়া, সিনেমা দেখা, ঘুরতে যাওয়ার মত অভ্যাস চালু করুন। ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে একা একা হেটে হেটে ফার্মগেট চলে যান, খামারবাড়ী হয়ে সংসদ ভবন একা ঘুরে আসুন। একঘেয়ে জীবন ব্রেইন+শরীর অটোমেটেড মুডে চলে যায়, শরীরকে দৌড়ের উপর রাখুন।
* নেটওয়ার্ক পাওয়ার তৈরি শুরু করুন। আপনি যে বিষয়ে পড়ছেন কিংবা যে দিকে চাকরি করতে চান সেই দিকে নেটওয়ার্ক শুরু করুন। সিনিয়র ২/৩ ব্যাচের চেয়ে আরও সিনিয়র যারা চাকরি করছেন তাদের ফেসবুক বা লিংকডইনে খুঁজে রাখুন। জুনিয়রদের ফেসবুক কিংবা বাস্তব দুনিয়াতে চিনে রাখুন, নেটওয়ার্ক পাওয়ার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। শখের কোন বিষয় থাকলে সেদিকেও নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন।
* সিভি তৈরি শুরু করুন। তৃতীয় বর্ষ থেকেই নিজের ইউনিক সিভি তৈরির চেষ্টা শুরু করুন। অন্যের সিভি দেখে শিখুন, কপি করবেন না। করলে আমার মত ধরা খাবেন। একবার এক সিভির টেমপ্লেট দিয়ে আমরা ৪ বন্ধু গ্রামীণফোনে ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করে ছিলাম, চারজনই ভাইবাতে বাদ পড়েছিলাম।
* যোগাযোগের জাহাজ হউন। তৃতীয় বর্ষ থেকে নিজেকে ক্যারিয়ারের জন্য রেডি করুন। বিবিএ পড়ছেন না তো কি হয়েছে, ইউটিউব থেকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা আনুন। ইংরেজি জানা আর বলা এখন ফুটানি না কিন্তু। আপনাকে নিজেকেই নিজে তৈরি করতে হবে, কেউ শিখিয়ে দেবে এটা ভাববেন না। ভাবলে বিপদে পড়বেন।
* মোটিভেশন থেকে দূরে থাকুন। নিজেকে নিজেই মোটিভেশন দিন কিংবা সর্বোচ্চ টেডেক্সের ভিডিওগুলো দেখুন। মোটিভেইট+লিসেনিং পাওয়ার বাড়বে।
* ফেসবুকে আসক্তি কমানো ভালো কিন্তু। কোরা কিংবা লিংকডইনে সময় দিতে পারেন। লাইফ হ্যাকিং রিলেটেড বিষয়গুলো শেখা শুরু করুন।
* নিজে যে বিষয়ে পড়ছেন সেই দুনিয়াতে ক্যারিয়ার করা অনেক প্রেশার, চেষ্টা করুন অন্য দুনিয়াতে কাজ করতে। হোটেলেও কিন্তু মেডিকেল পাশ ডাক্তাররা চাকরি করে, পত্রিকায় প্রকৌশলীদেরও চাকরি করতে দেখবেন।
* সবশেষে জ্ঞান দেয়া-উচিত টাইপের লেখা-টেখা পড়া বাদ দিন।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,017 views. Thank You for caring my happiness.

যে কারণে হবু-উদ্যোক্তা আর হবু-লিডারদের বই পড়া উচিতই না

আপনি হয়তো উদ্যোক্তা, কিংবা সামনে নিজের কিছু একটা করবেন। অনলাইনে কিংবা বিভিন্ন নেটওয়ার্ক সেশনে ভালো উদ্যোক্তা হতে চাইলে কি করতে হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে সব সময়ই কমন একটা উত্তর পাবেন, বই পড়তেই হবে নাকি আপনার। আসলেই কি তাই?
স্কুল-কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে অপছন্দের কাজ হচ্ছে বই পড়া। কি প্রকৌশল, কি ভাষাবিজ্ঞান-বই পড়াই সবচেয়ে বিতৃষ্ণার কাজ অধিকাংশই শিক্ষার্থীর। এখানে সেই সব শিক্ষার্থীর কথা বলছি, যারা কোন মতে আমার মত দিন পার করে দিতে পারলেই খুশি হন।

বাস্তবতা যেখানে এমন সেখানে ই-বুক, কি-বুক-সব বই পড়তে হবে এমন একটা ধারণা পান উদ্যোক্তা হতে চান যারা। বিশাল বিশাল লিস্ট পাওয়া যায় অনলাইনে লিডার কিংবা উদ্যোক্তা হতে চাওয়ার উপরে। খুবই সরল একটা সারকাস্টিক কথা হচ্ছে, যারা দারুণ উদ্যোক্তা কিংবা সেই লেভেলের লিডার তারাই বই লেখেন কম! সেখানে তাদের বই পড়ে কিই বা শেখার আশা করা যায়? আর বেশির ভাগ বই-ই তো ইংরেজি ভাষায় লেখা, বই বোঝার আগে ইংরেজি আতঙ্কও ভর করার সম্ভবনাও আছে কিন্তু।

আমি খুবই সরলভাবে সবাইকে একটাই পরামর্শ দেই, প্রথমেই জোর করে বই পড়ার দরকার নাই। যা শুরু করতে চান, তাই শুরু করে দিন। পরে সফল হলে অবসর সময়ে বই পড়বেন, বই লিখবেন, লাইব্রেরি বানাবেন-কিংবা রিডিং ক্লাব করবেন।

যারা হবু-উদ্যোক্তা কিংবা লিডার তারা গ্ল্যাডওয়েল আর গডিন হুজুগের পেছনে ছোটেন। এসব বই পড়া বেশ সহজ, আর আনন্দেরও বটে। মোটামুটি সব হবু-উদ্যোক্তাই গ্ল্যাডওয়েল বা গডিনের কোন না কোন বই পড়েন। এসব বইয়ে সেই মাত্রার কোন প্রত্যাশা অর্জনের জন্য নানান কৌশল নানান ভাবে ইতিবাচকভাবে লেখার চেষ্টা করা হয়।

এসব বইয়ের কোন সমস্যা নেই, সমস্যা হচ্ছে এসব বই পড়ে আপনার আসলেই কোন কাজে আসবে না। কাজে লাগার কোন বিজ্ঞানও নেই! উদ্যোগ শুরু করার পেছনে এসব বইয়ের নূন্যতম ভূমিকাও খুঁজে পাবেন না।
কোন বিষয় নিয়ে ১০ হাজার ঘণ্টা চর্চা করুন, এতে সাফল্য পাবেন। কিংবা আপনার পণ্য ৪১২তম কাস্টমার কিনলেই আপনি একটু সাফল্যের হাসি হাসতে পারেন। নিজের প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্টে সময় দেয়াই বুদ্ধিমানের। এসব ইতিবাচক স্টাইলে লেখা বই কিন্তু আসলেই তেমন কাজে আসবে না আপনার।

আরও পড়ুন: তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, “কিন্তু টিপিং পয়েন্টস বা পার্পল কাউ বই পড়ে আমার তো ব্যবসায় কাজে লেগেছে।” একটু অন্যভাবে দেখুন, ব্যবসা করতে হলে আপনার মার্কেটিং আর ট্রেন্ড কি সেটা জানতে হবে। সেথ গডিন কিংবা এসব বইয়ে কিন্তু আপনার-আমার আশেপাশের ঘটনাকেই ব্যাখা করা হয়। একটু সরল ভাবে বললে, এসব বইয়ে যে ধরণের তথ্য দেয়া হয় তা এক কিংবা দুই পৃষ্ঠায় সার-সংক্ষেপ হিসেবে লেখা যায়। আরও বড় করে বললে, এসব বইয়ে যেসব তথ্য থাকে তা হুট করে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। আপনার পণ্যকে কিভাবে রিমার্ককেবল করা যায় তা জানা এক বিষয়। আবার আপনার পণ্যকে কিভাবে রিমার্ককেবল করা যায় তা হাতে কলমে করা আরেক বিষয়। জানাই সব না, হাত লাগানোই সব!
আর এসব বই পড়া শেষ হলে কি করা উচিত, তাই খুঁজে বের করা কঠিন!

এসব বইয়ের বাইরে আরেক ঘরণার বই আছে, যাকে এভরিওয়ান ইজ ইন ফরচুন ৫০০ ইফেক্ট বলা হয়।
এসব বই লেখা হয় কিভাবে আপনি ব্যবসা করার জন্য ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে কাজ করবেন, কিভাবে রেভিনিউ মডেলেকে মার্কেটে নিয়ে আসবেন, কিভাবে বিজনেজ মডেল ঠিক করবেন, কিভাবে শেষ পর্যন্ত গ্রেট একটা কোম্পানি তৈরি করবেন তাই লেখা হয়। এক কথায় বললে, এসব বইয়ে কিভাবে সনি, কিংবা ফেসবুক-গুগলের মত কোম্পানি বানাবেন তাই লেখা হয়। আমার কাছে এসব বইকে আসলে আপনি এমবিএ ক্লাসে শিক্ষককে মুগ্ধ করে দেয়া রেফারেন্স ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। এসব বই পড়লে দিনে সিক্স ডিজিট কামানো ব্যবসা বা সেবা তৈরি করা খুবই সহজ মনে হবে আপনাকে।

সারা দিনে আমরা যত তথ্য পাই নানা ভাবে তার খুব কম অংশই আমরা কাজে লাগাই। এসব বই পড়া শেষে রিভিউ লেখা, কিংবা গুড রিডসে শেয়ার দিয়ে লাইক কামানোই একটা ট্রেন্ড এখন। এসবে আসলে দিন শেষে হবু-উদ্যোক্তা হিসেবে সময়ই নষ্ট হয়।

হবু-উদ্যোক্তা, কিংবা আসল উদ্যোক্তাদের ব্যবসা কিংবা এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ সংক্রান্ত বই পড়া আসলে ইংরেজি সিরিজ দেখার মত নেশাই বলা যায়। মাঝেমধ্যে শার্লক, গেম অব থ্রন্স বা নারকোসের হুজুগ ওঠে, তেমনি বই পড়াও হুজুগ।

 

 

(রব ওয়ালিংয়ের দারুণ একটা লেখা আছে কেন উদ্যোক্তাদের বই পড়া উচিত না, সেখান থেকেই এই লেখা।)

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,512 views. Thank You for caring my happiness.