ওয়াল স্ট্রিটের লোকজন ২০১৭ সালে যে বই পড়েছে

ওয়াল স্ট্রিটের কোটটাই পরা ইনভেস্টমেন্ট এজেন্টদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস আছে। বিজনেজ ইনসাইডার এমনই ২৩টি খুঁজে বের করেছে যা কিনা ওয়াল স্ট্রিটের লোকজন ২০১৭ সালে পড়েছে। বাংলাদেশের ব্যবসা দুনিয়ার লোকজন কেমন বই পড়ে তা জানার চেষ্টা করবো সামনে। এখনকার তরুণ সিইওদের বই পড়ার আগ্রহ আছে বলে শুনেছি।

আমি ওয়াল স্ট্রিটের লোকজন যে ২৩টি বই পড়েছে তার ১৭টি ২০১৬-২০১৭ সালের মধ্যে পড়েছি। কিছু বই দুর্দান্ত, এবং সবই ননফিকশন। নন-ফিকশন বইয়ের যারা পাঠক তারা আগ্রহ নিয়ে বইগুলো পড়তে পারেন।

ওপেন-অ্যান্দ্রে অগাসি

রোজেনবার্গ ইকুইটিসের সিইও হেইডি রিডলে অ্যান্দ্রে অগাসির বায়োগ্রাফি পড়তে বলেছেন। খেলার মাঠ মানেই যেমন চ্যালেঞ্জ, বিজনেজ দুনিয়াও হচ্ছে চ্যালেঞ্জের।বইটা পড়ে আমার কাছে একটা লাইন সে রকম লেগেছে।

-পারফেকশন কখন আসে?

যখন আপনি অন্যদের সহযোগিতা করবেন!

“বড় স্বপ্ন, অনেক বেশি ক্লান্তিকর!”

“জেগে থেকে স্বপ্ন দেখা কত সুখকর তাই না?”

 

হোমো দিউস, ইয়ুভাল নোয়াহ

আমার কাছে বইটাকে ফিকশন আর ননফিকশনের মধ্যকার একটি ক্যাটাগরি মনে হয়েছে। অতীতের কথাগুলো ননফিকশন, কিন্তু ভবিষ্যৎ?-ফিকশন?

 

 

দ্যা অরিজিনালস-অ্যাডাম গ্র্যান্ট

তুখোড় মানুষ সিয়াম ভাই আমাকে এই বইটা পড়তে বলছিলেন। যদিও তার পরামর্শ দেয়ার আগেই বইটা পড়ে ফেলছি আমি। একটা ভবিষ্যতের কথা বলতে চাই, অ্যাডাম গ্র্যান্টকে আমাদের আগামী ৫০ বছর সহ্য করে যেতে হবে। হোয়ার্টনের এই তরুণ অধ্যাপক ৩০ বছর বয়সে মনস্তত্ব ও মনন নিয়ে যা লিখেছেন তা না পড়লে অনেক কিছু জানা যাবে না।

 

দ্য রোড টু উইগান পিয়ার, জর্জ ওরওয়েল

জর্জ ওরওয়েল তার সময়কার তুখোড় মানুষদের একজন ছিলেন বলে আমার বিশ্বাস। জেন অস্টিন আর জর্জ ওরওয়েল না পড়ে মরতে চাই না।

 

জেন্সভাইল: অ্যান আমেরিকান স্টোরি-এমি গোল্ডেস্টেইন

আমেরিকানদের সমস্যা হচ্ছে সব সমস্যাকেই ইনেসপিরেশন ধরে বসে থাকে। জেনারেল মটরস জেনসভাইলের কোম্পানি কেন বন্ধ করে দিয়েছিল তা নিয়ে এই বই। আমাদের আদমজী পাটকল নিয়ে এমন বই কেউ কি লিখবেন? ১৯৫০ দশকে এরচেয়ে বড় কারখানা ছিল কিনা না তা প্রশ্ন করতেই পারেন।

 

দ্য ক্যাপ্টেন ক্লাস-স্যাম ওয়াকার

বইটি ২০১৭ প্রকাশিত, আমি পড়িনি। তবে বইটি থেকে দারুণ একটি লাইন পেয়েছি,

গ্রেট লিডার হতে চাইলে মটিভেশনাল স্পিচ, সুদর্শন, ক্যারিশমা, সুনাম কিংবা এমন ঐশ্বরিক গুন থাকার দরকার নেই। দলের সাফল্যের জন্য সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে যাওয়াটাই সব। গ্রেট লিডার তারা যারা দলের জন্য “ক্যারি দ্য ওয়াটার”-পানির বোতল টানে!

এ ম্যান ফর অল মার্কেটস

এই বইটা কেন আমি খুঁজে পাইনি!বইটা লিখেছেন এডওয়ার্ড থর্প, ১৯৬০ সালের কাঁপানো লোক। তার ভাষ্যে,

জীবন হচ্ছে উপন্যাস পড়ে যাওয়া কিংবা ম্যারাথনে দৌড়ানো। লক্ষ্য জয় করাই শুধু জীবনের সব না, অভিজ্ঞতা অর্জন করে বেঁচে থাকা আনন্দের।

গণিতবিদ থর্প কিভাবে কি করলে তা পড়তেই হবে।

 

বর্ন টু রান-ক্রিষ্টোফার ম্যাকডগাল

২০০৯ সালের এই বই গুডরিডসে ৪.১ রেটিং পাওয়া! ১ লাখের ওপর রেটিং! পড়া দরকার।

 

ইউ সে মোর দ্যান ইউ থিংক

কমিউনিকেশনের ওপর দারুণ বই। ঘাড়ের উপর দাঁড়ানো শেখা যাবে বইটি পড়ে!

 

গ্রীট- অ্যাঞ্জেলা ডাকওর্থ

গ্রীট পড়ে লেখিকাকে মেইল করে আরও ৩টি বই রেকমেন্ডেশন নিয়েছিলাম!
 

উলেসিস গ্রান্ট-রন চের্নাও

লিংকনের সেনাপ্রধানের জীবনী নিয়ে বই।

 

লিওনার্দো দ্যভিঞ্চি-ওয়াল্টার আইজ্যাকসন

ননফিকশন নাকি ফিকশন-এখনো দ্বিধায় আছি।

 

আরও যা পড়েছে ওয়াল স্ট্রিট বাসিন্দারা:

দ্য ফামা পোর্টফলিও, শ্যাডো ড্রাইভার্স, দ্য ফিস দ্যাট অ্যাট দ্য হোয়েল, দ্য ব্যাটল ফর ব্রেটন উডস, ক্রিয়েটিভিটি, বাফেট, রেড নোটিশ, একপার্ট পলিটিক্যাল জাজমেন্ট।

 

 

বইময় দুনিয়া সুন্দর।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 66 views. Thank You for caring my happiness.

বেঁচে থাকার জন্য উইনস্টন চার্চিলের স্পেস মডেল জানেন কি?

১৯৩১ সালের কথা। উইনস্টন চার্চিল ব্রিটিশ রাজনীতিতে পুরো কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। বিরোধীপক্ষ ছাড়াও নিজের দলের থেকৈ ভীষণ চাপে পড়েছিলেন চার্চিল। এমন কি তুখোড় রাজনীতিবিদ হওয়ার পরেও চার্চিলকে মন্ত্রীসভায় আমন্ত্রণ জানানো হয় নি। চার্চিল বাতিল আর সেকেলে বলে নিগ্রহের শিকার হন। সবাই দেখছিল কিভাবে সব হারিয়ে প্রায় শূণ্য হয়ে যান চার্চিল।
বাতিল হয়ে যাওয়া চার্চিলের রাজনীতির শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকেই। সেই সময়টা চার্চিলের জায়গায় আমরা থাকলে হারিয়ে যেতাম হতাশায়। চার্চিলের ওপর কি হতাশা ভর করেছিল?
এখন আমরা চার্চিল ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ পরিচয়ের বাইরে লেখক হিসেবে পরিচয় দেখি। সারা জীবনে চার্চিল ১০ লাখ শব্দ লিখেছিলেন! সেই চার্চিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ সময়টায় ১৯৩১ সালের পরের হতাশা কাটিয়েছেন স্পেস মডেল দিয়ে!

স্পেস মডেল কি?

রাজনীতি পরিমন্ডল থেকে চার্চিল ১৯৩১ সালের পরে নিজেকে সরিয়ে নেন। আসলে সরিয়ে নেয়া ছাড়া কি-ই-বা করার ছিল? এ সময় রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে অন্য দুনিয়া গোছানোর জন্য মনোযোগ দেন চার্চিল। ১৯৩৯ সালের আগে তিনি ১১ খন্ড বই প্রকাশ করেন, ৪০০+ আর্টিকেল প্রকাশ করেন। আর নানান সুধী সমাবেশে ৩৫০+ বক্তব্য রাখেন। নিজেকে অন্য দিকে ব্যস্ত রেখে হতাশা কাটানোর দুর্দান্ত উপায় বের করেন চার্চিল। সেই স্পেস মডেলের জোরেই কিন্তু চার্চিল আবারও রাজনীতিতে মনোযোগ আনতে পারেন। সাময়িক বিরতি, দুশ্চিন্তা কিংবা হতাশা কাটানোর বেশ বড় একটি উপায় হতে পারে। যেটা আমরা কর্মজীবনে কিংবা যে কোন ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হলে মডেল হিসেবে কাজে লাগাতে পারি।
(এখন চার্চিলয়ের বায়োগ্রাফি পড়ছি। তাই সেখান থেকে নিজের মতো করে নিজের জন্য লেখা থেকে এই পোস্ট।)

মুদ্রার উল্টো পিঠের যে গল্প

লেখালেখির মাধ্যমে চার্চিল আসলে নিজের অন্য একটি সুপারপাওয়ার তৈরি করেছিলেন। সবাই তো রাজনীতিবিদ হয়, কিন্তু লেখক+রাজনীতিবিদ কতজন হয়? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লেখনিওয়ালা চার্চিল বেশি শক্তি নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। শব্দ আর বাক্যকে নিজের সুপারপাওয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন চার্চিল। এই আচরণকে রাজনীতিবিদদের মনস্তাত্বিক ইনস্যুরেন্স পলিসি বলা যায়, যা কিনা ইনফ্লুয়েন্স বাড়ানোর অস্ত্র। আপনার অস্ত্র কি?

জ্যাকারবার্গের শুরুতে ছিল হার্ভার্ড ডর্মের বন্ধুরা, স্টিভ জবস-ওজনিয়াকের ছিল কম্পিউটার ক্লাবের বন্ধুরা, নাইকির ফিল নাইটের ছিল ৩/৪জন পাগলাটে বন্ধু! আপনার?

১০০০ লোক যখন শক্তি!

চার্চিলের এগিয়ে যাওয়ার প্ল্যাটফর্ম ছিল তার লেখালেখি। লেখালেখির মাধ্যমে নিজের ভক্ত কিংবা ভোটার ধরে রাখার কৌশল বলা যায় না একে? আপনি যদি উদ্যোক্তা হতে চান, তাহলে ১০০০ মানুষকে নিজের পণ্য বা সেবা কেনাতে পারবেন? আমাদের মাথায় বিলিয়ন ডলার আইডিয়া থাকে, কিন্তু সেই আইডিয়ার উপর নির্ভর করে তৈরি পন্য বা সেবা ১০০০ হাজার লোক গ্রহণ করবে কিনা তা আমরা জানি না।

Read More: বাংলাদেশ আর্মি থেকে যেসব নেতৃত্বগুণ শিখতে পারেন
প্রথম ১০০০ ভক্ত বা গ্রাহক কিংবা ভোটার তৈরি করাই কিন্তু আসল পরিশ্রম!
আশির দশকের ব্যান্ড আয়রন মেইডেনের রেডিওতে গান বাজানো হতো না। এমনকি এমটিভিও নাকি তাদের গান বাজাতো না তখন। সেই আয়রন মেইডেন নব্বই দশকে গানের অ্যালবাম মিলিয়ন কপি বিক্রি করেছে কোন মাধ্যম ছড়াই! আয়রন মেইডেনের ভক্তদের নাকি বিশাল এক ইমেইল লিস্টি তাদের সংগ্রহে ছিল, সেই মেইল লিস্টি দিয়েই আয়রন মেইডেন মিলিয়ন ডলারের অ্যালবামে সাফল্য পায়।

Read More: সাইফ নোমান খানের রেকমেন্ডেড যত বই

শোবিজ দুনিয়ায় যে থিওরী চলে

উইয়ার্ড ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা কেভিন কেলির একটা এন্টারটেইনমেন্ট থিওরী ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা কিংবা লেখক বা যে কেউই অনুসরণ করতে পারেন। কেলির ভাষ্যে, “আপনার যদি ১০০০ সত্যিকারের ভক্ত থাকে আপনি সুপার ম্যান। আপনি যাই সৃষ্টি করুন না কেন, তা দর্শন, চিত্রশিল্পী কিংবা রাজনৈতিক আদর্শ-এক হাজার লোক আপনার ট্রু ফ্যান হলেই আপনি সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন।”
জ্যাকারবার্গের শুরুতে ছিল হার্ভার্ড ডর্মের বন্ধুরা, স্টিভ জবস-ওজনিয়াকের ছিল কম্পিউটার ক্লাবের বন্ধুরা, নাইকির ফিল নাইটের ছিল ৩/৪জন পাগলাটে বন্ধু! আপনার?
এই এক হাজার মানুষই আসলে আপনার বিলিয়ন ডলার আইডিয়া কিংবা লাখো পাঠক তৈরি করবে। এটা ডমিনো থিওরী না?
আপনার পণ্য কিংবা সেবা নির্ভর উদ্যোগের সাফল্য আসলে নির্ভর করে আপনি কতটুকু আপনার ভক্তদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারেন!

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 199 views. Thank You for caring my happiness.

সাইফ নোমান খানের রেকমেন্ডেড যত বই

 

ঢাবি-আইবিএর বিজনেজ কমিউনিকেশন ও ডিজাইন থিংকিং শিক্ষক সাইফ নোমান খান, এসএনকে শর্ট নেইম। সমসাময়িক বিজনেজ এক্সিকিউটিভদের মধ্যে বেশ পরিচিত এই শিক্ষক।

কমিউনিকেশন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান, আর নিজের স্টার্টআপ রিসার্চ সেন্টার দিয়ে ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিংয়ের কাজ করছেন। সাইফ নোমান খান বিজনেজ কমিউনিকেশন আর ডিজাইন থিংকিং নিয়ে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের ক্লাস নিয়ে থাকেন। সাইফ নোমান খান স্যারের সঙ্গে কথা বলে একটি বইয়ের তালিকা বের করার চেষ্টা করেছি, তিনি এই বইগুলোকে যারা ম্যানেজার কিংবা পেশাজীবনে সিইও হতে চান সামনে তাদের অন্তত একবার হলেও পড়ে দেখার পরামর্শ দেন। এই লেখার বিশেষত্ব হচ্ছে, এসএনকে কোন দিন ক্লাসে তেমন করে এসব বইয়ের নাম কখনই বলেন নাই। সে হিসেবে এই তালিকা আলাদা কিন্তু!

উইনিং, জ্যাক ওয়েলশ

জেনারেল ইলেকট্রিকের সিইও জ্যাক ওয়েলশের বই উইনিং। জ্যাক জেনারেল ইলেকট্রিকে ৪০ বছর কাজ করেছেন। ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে উইনিং বইটি লেখেন জ্যাক। ২০১৬ সালের অক্টোবরে আমি বইটি পড়া শেষ করি, যে পড়বে তার সময় নষ্ট হবে না নিশ্চিত।

প্লেয়িং টু উইন: হাউ স্ট্র্যাটেজি রিয়েলি ওয়ার্কস

এ জে ল্যাফলে ও রজার মার্টিনের লেখা বই। স্ট্র্যাটেজির উপর দারুণ এক বই বলা যায়। এই বই থেকে স্ট্র্যাটেজির ৬টি ট্র্যাপ সম্পর্কে জানতে পারি আমি।

* ডু-ইট-অল স্ট্র্যাটেজি: এই স্ট্র্যাটেজিতে সবকিছুকেই গুরুত্বপূর্ণ ভাবার ফাঁদে পা রাখি আমরা

* ড কুইজিকোট স্ট্র্যাটেজি: এমন স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করা যা দেখে শক্তিশালী কেউ আপনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে!

* ওয়াটার লু স্ট্র্যাটেজি: একই সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ ঘোষণা করা।

* সামথিং-ফর-এভরিওয়ান স্ট্র্যাটেজি: চীনের একশ কোটি মানুষকে কাস্টমার বানানোর চেষ্টা করা!

* ড্রিমস-দ্যাট-নেভার-কাম-ট্রু স্ট্র্যাটেজি: মেঘের ওপর ঘুড়ি ওড়ানোর চেষ্টা করা।

* প্রোগ্রাম-অব-দ্য-মান্থ স্ট্র্যাটেজি: কাস্টমারদের জন্য এমন প্ল্যান করা যাদের পেছনে সব কোম্পানি একই সময় দৌড়ানো শুরু করে!

এই বইয়ের বিখ্যাত একটি লাইন মনে আছে,

স্ট্র্যাটেজির সার্থকতা নির্ভর করে দুটি প্রশ্নের ওপর। এক, আপনি কোন মাঠে খেলবেন?; দুই, আপনি সেখানে কিভাবে জিততে চান?

 

ডিজাইন থিংকিংয়ের উপর বই

ডিজাইন থিংকিং নিয়ে সাইফ নোমান খান কাজ করেন বলে এই বিষয় আইডিয়োর বইপত্র যা আছে তা ঘেঁটে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।

ওয়ান মিনিট ম্যানেজার

কথায় বলে এক মিনিটে যে সিদ্ধান্ত নেয়ার কৌশল জানে না, সে এক জীবনে অনেক কৌশল নিতে পারে না। ওয়ান মিনিট ম্যানেজার বইটি ২০১৫ সালের শেষ দিকে পড়েছিলাম। আপনি যদি ম্যানেজার হতে চান, বইটি থেকে যা শিখবেন, “আপনার দলের কর্মীদের মানুষ ভাবুন, কর্মী মৌমাছি নয়!”

এক মিনিটের অনেক অভ্যাস আপনাকে বদলে দিতে পারে। বইটিতে কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের এক মিনিটের কিছু অভ্যাসের কথা বলা আছে,

* সুন্দর করে হ্যান্ডশেক করা শিখুন।

* যার প্রশংসা করতে চান, তাকে সবার সামনেই প্রশংসার কথা জানান।

* যখনকার প্রশংসা তখনই করুন! যখনকার সমালোচনা তখনই করুন।

দ্য নিউ ওয়ান মিনিট ম্যানেজার

এই বইটি ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়। গুডরিডসে বইটির দুই হাজারের বেশি রেটিং জমা পড়েছে, ৩.৯ হলেও বোঝা যায় বইটি কত মানুষ পড়েছে!

“এভরিওয়ান ইজ অ্যা পটেনশিয়াল উইনার। সাম পিপল আর ডিজগাইজড অ্যাজ লুজারস”, বইটির আলোচিত একটি লাইন।

হার্ভার্ড বিজনেজ রিভিউয়ের মাস্ট রিডস সিরিজ

হার্ভার্ড বিজনেজ রিভিউয়ের মিনি বুক সিরিজগুলো বেশ কার্যকর। সাইফ নোমান স্যার সময়কে গুরুত্ব দিয়ে এসব বই অনেক পড়েন বলে জানান।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,125 views. Thank You for caring my happiness.

বই-টই: দ্য লিন স্টার্টআপ

আপনি যদি ব্যর্থ না হন, তাহলে শিখতে পারবেন না-এরিখ রেইসের লিন স্টার্টআপ বইয়ের একটি কথা। এসময়কার উদ্যোক্তাদের কাছে বেশ পরিচিত বই-দ্য লিন স্টার্টআপ। এই বইয়ের মূল কথা হচ্ছে, “তৈরি করুন-পর্যবেক্ষণ করুন-শিখুন”-যে কোন স্টার্টআপকে বড় করে তুলতে এই মডেল দারুণ কার্যকর।

(বইটা দারুণ হলেও আমার কাছে বেশ বোরিং মনে হয়েছে। সম্ভবত, একই ধরণের অনেক বই পড়ার কারণে বইটি একটু নিরস মনে হয়েছে।)

লিন স্টার্টআপের মূলধারণা
সবখানেই কিন্তু উদ্যোক্তা আছেন, যে প্রতিষ্ঠান কিংবা যে ক্ষেত্রেই কাজ করুন না কেন-উদ্যোক্তারা সবখানেই ছড়িয়ে আছে।

the-lean-startup

  • এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ হলো ম্যানেজমেন্ট, আর স্টার্টআপ হলো একটি প্রতিষ্ঠান যা আপনাকে ম্যানেজ করতে হবে।
  • স্টার্টআপগুলো টিকে যায়, শুধু ব্যবসা কিংবা পণ্যের সাফল্যের জন্য না, সাসটেইনেবল ব্যবসা তৈরি করার জন্য।
  • Build-measuer-learn: যে স্টার্টআপই দিন না কেন, আপনার আইডিয়াকে পণ্যে কনভার্ট করতে হবে। তারপরে কাস্টমার তা নিয়ে কেমন আগ্রহ প্রকাশ করে তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে, সব শেষে শিখতে হবে কিভাবে আগ্রহকে ধরে রাখতে হবে।

ls2

লিন স্টার্টআপ থেকে…
* স্টার্টআপের ক্ষেত্রে সাফল্য আসলে “পন্য বা সেবা ডেলিভারি করা নয়, সাফল্য আসলে কাস্টমারের কোন সমস্যা সমাধান” হিসেবে চিন্তা করতে হবে।
* বেশির ভাগক্ষেত্রেই কাস্টমার জানে না তারা আসলে আগে কি চায়।
* আপনি যদি আপনার কাস্টমার কে তা না জানেন তাহলে আপনি কোয়ালিটি কি তা জানেন না।
* প্রতিটি বাঁধাই কিছু না কিছু শেখার সুযোগ কিন্তু।

LS1

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 132 views. Thank You for caring my happiness.

ভালো বনাম দুর্দান্ত, কোনটি বেঠিক?

জেনারেল জর্জ প্যাটুন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার মিত্রপক্ষের প্রভাবশালী এক জেনারেল ছিলেন। যুদ্ধের কৌশল আর ইতিহাস নিয়ে যারা আগ্রহী তাদের কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এই জেনারেল বেশ পরিচিত। মিত্রপক্ষের সেভেন্থ আর্মির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্যাটুন। প্যাটুনের বায়োগ্রাফি দ্য ওয়ার আই নিউ ইট পড়ছি এখন, দুর্দান্ত বই। রণকৌশল কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে বেশ ভালো ভাবেই কাজে লাগানো যায়। সেই বইয়ের প্রথম ৪ চ্যাপ্টার পড়ে কিছু লাইন দাগিয়ে রেখেছি, দুর্দান্ত সব কথা!

এখনকার ভালো পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহের দুর্দান্ত পরিকল্পনার চেয়ে কার্যকর বেশি।

জেনারেল প্যাটুন ‘প্যারালাইসিস বাই অ্যানালাইসিস’ বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন। কোন বিষয় নিয়ে বেশি অ্যানালাইসিস কখনই কাজের না মনে করতেন তিনি। অনেক সময় নিয়ে দুর্দান্ত কোন যুদ্ধ পরিকল্পনার চেয়ে ভালো আর সাধারণ পরিকল্পনা যুদ্ধের ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যায়।

নেতৃত্ব দিন, নেত্বত্ব দিতে দিন কিংবা পথ থেকে সরে দাড়ান। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রণাঙ্গনে অনেক জেনারেল যুদ্ধ করেছিলেন। এক বনে হাজারখানেক বাঘ থাকলে যে ঝামেলা হয়, সেই ঝামেলা তখনও ছিল। জেনারেল প্যাটুন নিজের ইউনিট নিয়ে নেতৃত্ব দিয়ে যুদ্ধ করতে চাইতেন। সিনিয়ররা তার যুদ্ধের স্টাইলকে পছন্দ না করলে প্যাটুনের সরাসরি কথা ছিল “নেতৃত্ব দিন”। আমরা কাজের ক্ষেত্রে এটা অনেক দেখি। আপনি দলগতভাবে কোন কাজ করছেন। উর্ধ্বতন কর্তারা আপনাকে বেশিরভাগ সময় নেতৃত্ব দিতে দিবে না, আমার নিজেরাও নেতৃত্ব দিবে না।

যা আদেশ দিচ্ছেন তা নিজে করছেন কি?

জেনারেল প্যাটুন সেই ধরণের যোদ্ধা ছিলেন না যে তাঁর দলকে আদেশ দিয়ে নিজে তাবুতে সময় কাটাতেন।  নিজের ব্যাটেলিয়ানে তার বেশ জনপ্রিয়তা ছিল সৈনিকদের নিয়ে কাজ করার জন্য।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ আর্মি থেকে যেসব নেতৃত্বগুণ শিখতে পারেন

যা বলছেন তা কি বুঝে বলছেন? যা বুঝছেন তা কি বলছেন?

আমি এই লাইনটাকে দারুণ বলবই। আমি দলগতভাবে অনেক কাজ করি। প্রায়শই যা বলি তা বুঝে বলি না, যে কারণে দলের সদস্যরা আমার কথা বোঝে না। আবার যা বুঝি তা পরিষ্কারভাবে বলতে দ্বিধায় থাকি, যার কারণে কমিউনিকেশনে ধোঁয়াশা তৈরি করি নিজেই।

“Never tell people how to do things. Tell them what to do and they will surprise you with their ingenuity.”

বলতে গেলে সাত সমুদ্র এক মিনিটেই পাড়ি দেয়া যায়। মুখের কথায় চিড়ে ভিজে না, বাস্তবে? দলগতভাবে কাজের ক্ষেত্রে, যা দলের সদস্যদের করতে হবে তা করতে বলুন। কিভাবে করতে হবে, সেটা বলতে গেলেই মাইক্রোম্যানেজমেন্ট জটিলতায় আটকে যাবেন কিন্তু।

“Better to fight for something than live for nothing.” 

কোন কিছু না করার থেকে কিছু করে বেঁচে থাকা আনন্দের।

 

শেষ যে লাইনটি জেনারেল প্যাটুনের কাছ থেকে জেনেছি, “When in doubt, ATTACK!” 

 

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 424 views. Thank You for caring my happiness.

এক কাপ বই: গ্রোথ হ্যাকার মার্কেটিং

(এক কাপ বই সিরিজটি অনেকদিন ধরেই লেখার চেষ্টা আমার। এক কাপ চা খেতে খেতে যদি দারুণ কিছু শেখা যায় তাহলে মন্দ কি? এখন তো বই পড়ায় আমাদের সময় নেই তেমন, সেই না পাওয়াকেই আরেকটু অন্যরকম করে তোলার জন্যই এই এক কাপ বই সিরিজ। আর এখন ট্রেন্ডিং যত বই আছে সবগুলোই আসলে ২০ পাতার বই, কেন যে লেখকরা কাটতি বাড়ানোর জন্য ৪০০ পৃষ্টা লেখেন!)
রায়ান হলিডের গ্রোথ হ্যাকার মার্কেটিং বই পড়ে যা জেনেছি,
ব্যবসা কিংবা স্টার্টআপ শুরুর আগে আমরা বিলিওন ডলার আর কোটি কোটি কাস্টমার বিবেচনায় একগাদা প্ল্যান করি। এখন কোন কিছু শুরু করাটাই বেশ দ্বিধার, সেই দ্বিধা কাটাতে ছোট্ট কাস্টমার গ্রুপ নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত।
দুই দশক আগেও ব্যবসার প্যাটার্ন ছিল, দারুণ কোন পণ্য বা সেবা তৈরি করে যত লোকের চোখের সামনে হাজির করুন। ইন্টারনেটের বিস্তৃতির কারণে সেই প্যাটার্নে ধাক্কা লেগেছে। এখন পন্য অনেক, সেবা অনেক-মোটামুটি মাছের বাজার সবখানে। এখানে কিভাবে আপনার পন্যকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করবেন তা ঠিক করতে হবে আপনাকে। আপনার প্রোডাক্টকে ক্যাটাগরিতে এক নম্বর আনতে টাকার চেয়ে বুদ্ধিই বেশি খাটাতে হবে এখন।
আগে একটা নিয়ম ছিল, বাজারে যা ছাড়বেন সেটাই সব। কিন্তু এখন ভার্সন ওয়ান পয়েন্ট ও, ভার্সন টু পয়েন্ট ও করে করে পন্য-সেবাকে বিকাশের দারুণ সুযোগ আছে। এখন আসলে প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট বিষয়টা নিত্যদিনকার।
স্বর্ণকার গহনা বানিয়ে দেয়ার পরে সেটা ক্রেতা কিনে ফেললেই কিন্তু সব শেষ, কিন্তু আপনার অ্যাপটির প্রথম ভার্সনে বাগ দ্বিতীয় ভার্সনে না সরালে বিপদ কিন্তু! ফেসবুক গেল তের বছরে অনেকবারই তো হোম পেইজ বদলেছে, সঙ্গে আরও কত কি!


যারা আর্লি অ্যাডাপটার তাদেরকে শুরুতেই টার্গেট করুন। আপনার প্রোডাক্টটি কারা প্রথমে ব্যবহার করতে পারে তাদের সাইকোলজি বোঝার চেষ্টা করুন। টার্গেট দ্য রাইট পিপল। সাধারণভাবে আমাদের টার্গেট থাকে সবাই যেন আমাদের পণ্য বা সেবা নেয়, শুরুটায় এমন টার্গেট উচ্চাভিলাসী।
আবার আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখা জরুরী, আপনার পণ্য বা সেবা তা ঠিক কাস্টমারই কিনছে কিনা সেটা আপনার ভাবতে হবে। ভুল কাস্টমার যদি ভুল করে প্রোডাক্ট কেনে আর আপনি তা খেয়াল না করেন তাহলে কিন্তু পণ্যের ভবিষ্যৎ খারাপ।
শহরের মানুষদের কাছে লন মোয়ার বিক্রি করার সঙ্গে বিষয়টা মেলাতে পারেন।
ড্রপবক্স রাইট কাস্টমার ধরার জন্য ডিগ নামের সোশ্যাল মিডিয়াকে টার্গেট করেছিল। ড্রিউ হিউস্টোন ড্রপবক্স ব্যবহার নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেছিলেন, যেখানে ডিগ কমিউনিটি ব্যবহার করে এমন সব ইস্টার এগ ব্যবহার করা হয়েছিল। ভিডিও আপলোডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ড্রপবক্সে কয়েক হাজার সাইনিং আপ হয়েছিল।
পণ্য বা সেবাকে এমনভাবে ডিজাইন করুন যেন কাস্টমারই আপনার বিপণনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন। পণ্যকে ভাইরাল করতে দুটো পথ আছে,
পণ্যটিকে যেন ভাগাভাগি করার সুযোগ থাকে, আর সবাইকে তা শেয়ার করতে বলুন!

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 439 views. Thank You for caring my happiness.

বাংলাদেশ আর্মি থেকে যেসব নেতৃত্বগুণ শিখতে পারেন

ইদানিং যুদ্ধ আর রণকৌশল নিয়ে দারুণ কিছু বই পড়ছি। ব্যবসার দুনিয়াতে কৌশল আর যুদ্ধের রণাঙ্গনের কৌশল তো একই, তাই না? লক্ষ্য একটাই বিজয়। এক্সট্রিম ওনারশিপ নামের একটা বই পড়ছি এখন, সেই বইকেই বেইজ ধরে বাংলাদেশ আর্মি থেকে নেতৃত্ব শেখার যে পয়েন্টসগুলো জানতে পারেন তা নিয়ে এই লেখাটি দাঁড় করাচ্ছি।


১. সব দায় লিডারের
যা হবে, যা হয়েছে-তার সব দায় আপনারই। আপনার টিমের কেউ যদি আপনার নির্দেশনা না বোঝে তাহলে টিম লিডার হিসেবে আপনি তাকে দোষারোপ করতে পারেন না। নেতা হিসেবে আপনার দায় হচ্ছে দলের সব সদস্যকে সব কিছু বুঝিয়ে দেয়া। যুদ্ধের সময়, আপনার দলের কোন সৈনিক আপনার কথা যদি না বুঝতে পারে তাহলে কত বড় বিপর্যয় হতে পারে তা কি ভেবেছেন? একই কথা আসে ব্যবসার দুনিয়াতে। আপনার কোন কর্মী যদি আপনার কথা না বুঝতে পারে তাহলে তার দায় আপনারই। আপনাকে শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে কিভাবে আপনার কথা আপনার দলের সদস্যরা বুঝবে। আপনার দলের সদস্য আপনার কাছে না এলেও আপনাকে তার কাছে যেতে হবে, তাকে বুঝাতে হবে। হলিউডের মুভিতে দেখেন না, সিনেমায় মিশনে যাওয়ার আগে মেজর কিংবা কমান্ডেন্ট বারবার একই কথা তার টিমের সদস্যদের কেন বলে? বলা কথার জোর অনেক বেশি কিন্তু!
আপনি হয়তো ভেবে আছেন, আপনার অফিসের কর্মী আপনার কথা সব বুঝে যায়। বাস্তবতা আসলে বেশ ভিন্ন। বারবার আপনার কাজের লক্ষ্য, সাফল্যের শীর্ষ কোথায় তা আপনার দলের সদস্যদের বুঝিয়ে বলুন। আপনি যদি আপনার কাজের সাফল্য আনতে চান, তাহলে পুরোপুরো দায় নিয়ে নিজের মধ্যে চুম্বকের মত ডায়নামিজম তৈরি করুন।
ভাবনার প্রশ্ন: আপনার কর্মীকে ব্যর্থতার জন্য দিনে দশবার কথা না শুনিয়ে তাকে কি কখনও একই বিষয় ৩ বার বুঝিয়ে বলেছেন? সমস্যা নিয়ে ভাবনার চেয়ে সমাধান নিয়ে তাকে ভাবতে উৎসাহ দিয়েছেন কি?


২. খারাপ টিম বলে কোন কথা নেই, সব খারাপ আসলে লিডারই
সেনাবাহিনীর সব সদস্যই শুরু থেকে দল হিসেবে কাজের শিক্ষা পায়। আমাদের অফিসগুলোতে যে যার মত আলাদা আলাদা কাজ করে দুনিয়া উদ্ধার করে। সেনাবাহিনীতে কখনই কখনই একক কোন কাজের দৃষ্টান্ত আনতে পারবেন না, সবাই টিম। ভাবুন তো, আপনি আর্মির কোন একটি টিমের লিডার, আপনার দলের সবাই আলাদা আলাদা কাজে ওস্তাদ। সবাই র‍্যাম্বো, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ মাঠে কি হবে? মনে রাখা উচিত, যারা বীর হিসেবে স্বীকৃত তারা সবাই দারুণ কোন একটি দলের সদস্য ছিলেন। আমাদের বীরশ্রেষ্টদের যুদ্ধের ঘটনাগুলো পড়তে পারেন। বীরশ্রেষ্ট মতিউর রহমান ছাড়া বাকি সবাই কোন না কোন টিমের সদস্য ছিলেন। সিপাহী নূর মোহাম্মদ বীরশ্রেষ্ট মানে কিন্তু তার সেই টিমের সবাই এক!
আপনার টিমের সাফল্য নির্ভর করছে আপনার উপর। টিম খারাপ ছিল, এটা মূর্খদের এক্সকিউজ। মরিস ওদুম্বে নামে কেনিয়ার একজন ক্রিকেটার ছিলেন, তার সময়ের সেরা ক্রিকেটার। কেনিয়া দল খারাপ ছিল, কিন্তু সে ভালো ছিল। সে ভালো থাকলে কি হবে? কেনিয়া কি ভালো করেছে কিনা তাই ভাবার বিষয়!

১৯৯৪ সালে বসনিয়াতে বাংলাদেশ আর্মির কমান্ডার ন্যাটোর সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়েছিল। সেবার একজন সৈনিক হারিয়েছিল বাংলাদেশ আর্মি। লিডারের ভূমিকাই সব।

(ফেসবুকে আমি ভুলে একশ জন সৈনিক হারানোর কথা লিখেছিলাম, উইকিপিডিয়া থেকে পড়ার সময় ভুল বুঝেছিলাম আমি। দুঃখিত।)
হয় নেতৃত্ব দিতে শিখুন, কিংবা শেখার জন্য বই পড়ুন। শেখ মুজিবুর রহমান এক দিনে নেতা হয়েছেন?
যে কোন যুদ্ধে পরাজিত হলে কার দোষ হয় বলুন তো? ইয়াহিয়া খানের, সেনাপ্রধানের। তাহলে ব্যবসার ক্ষেত্রে দায় কেন টিমের সদস্যদের উপর দিচ্ছেন?
৩. শুরুটা আপনারই করতে হবে
টিমে কাজ করার সময় নেতা হিসেবে আমাদের কথা কেউ না শুনলে আমরা “বসের অর্ডার” কিংবা উপরের অর্ডার বলে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেই কথা বার্তা। আপনার উপরে টিমের বিশ্বাস থাকে না বলেই কিন্তু আপনাকে হাইকোর্ট দেখাতে হচ্ছে!
সেনাবাহিনীতে কি এমনটা হতে শুনেছেন? ট্রেনিংয়ের প্রথম দিন থেকেই নেতার কথা শুনতে হবে এমনটাই মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়। নেতার মনস্তত্বের উপরে ভরসার কথা বলা হয়। আবার যিনি নেতা হবেন তাকেও এমনভাবে ট্রেনিং দেয়া হয় যেন তার উপরে সবার শ্রদ্ধা আর ভরসা তৈরি হয়। অনাস্থা কিন্তু সেনাবাহিনীতে ভয়ানক একটি রোগ। আপনার উপর একবার অনাস্থা তৈরি হলে আপনি সম্ভবত সেনাবাহিনীতে আর টিকবেন না!
অফিসগুলোতে কি দেখি আমরা? যে টিমলিডার থাকে তার উপরই যত অনাস্থা! টিমের কর্মীদের মধ্যে কেন টিমলিডার কিছুই পারে না বলে ধারণা তৈরি হয়?
আপনি যদি নিজের টিমের মধ্যে লিডারশিপের জায়গা তৈরি করতে চান, তাহলে আপনি উপরের সিদ্ধান্তে কাজ করছেন এমন কোন কারণ তৈরি করবেন না।

৪. নিজের ইগো সম্পর্কে সতর্ক থাকুন
সিয়েরা লিওনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরাসরি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। ভাবুন তো সেখানে আপনি মেজর পদমর্যাদার কোন অফিসার। আপনার কোন কলিগের সঙ্গে আপনার “শো অফ” ক্রাইসিস আছে। সেই কলিগ কারও কথা শুনেন না, তার সঙ্গে কোন সৈনিক কেউ যুদ্ধমাঠে যেতে চান না। তাহলে পরিস্থিতি কি হবে ভাবুন তো?
আমাদের অফিসগুলোতে কিন্তু এমন অনেক কর্মী আছেন, কিংবা আপনিই সেই টিমলিডার যার সঙ্গে কেউ কাজ করতে চান না। আপনি ম্যানেজার পদের মানুষ বলে সবার সঙ্গে খারাপ বিহেইভ করেন, ইগোর কারণে মাটিতে পা পড়ে না। সেনাবাহিনীতে এমন হলে পরিস্থিতি কি হবে ভাবুন তো?
সেনা অফিসাররা অনেকেই অনেক সৈনিকের চেয়ে বয়সে কম। তার নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার অধীনস্ত টিম কি সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারবে?
“আমি সব জানি”, এমন বস বা টিম লিডার অফিসে থাকবেই। সেনাবাহিনীতে এমন অফিসার থাকলে কি বিপত্তি হবে তা ভাবুন একবার!

৫. কভার অ্যান্ড মুভ
সেনাবাহিনীতে কভার অ্যান্ড মুভ নামের একটা যুদ্ধ স্ট্র্যাটেজি আছে। গোলাগুলি চলুক না চলুক আপনি যখন সামনে এগোবেন তখন সব সময় আপনার যে সদস্যরা সামনে এগোচ্ছে তাদের কেউ না কেউ কভার করছে।
এ সময় আরেকটা স্ট্র্যাটেজি কাজে লাগানো হয়, সাধারণভাবে আমরা হেটে চলার সময় এক পা সামনের মাটিয়ে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরের পা তুলে হেটে যাই এমনটার উল্টো! আপনি প্রথমে প্রথম পা ফেলবেন, তা পুরোপুরি মাটিতে রেখে তারপরে দ্বিতীয় পা সামনে বাড়াবেন!
আমরা অফিসে টিমলিডাররা কি করি? নিজের কাজ করে সামনে এগিয়ে যাই। যুদ্ধের মাঠে এমনটা করলে কি হবে বলুন তো! যুদ্ধের মাঠে প্রত্যেক সেনাসদস্য যেমন নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তেমনি নিজের সহযোদ্ধারও। অফিসে এমনটা করার চর্চা প্রয়োজন আমাদের। এতে নেতার প্রতি সবার বিশ্বাস তৈরি হয়।


৬. সব কিছু সরল রাখুন
বলা হয়, রণকৌশল যত কঠিন যুদ্ধে জেতা তত কঠিন। সব সোজা আর সরল রাখা হয় যুদ্ধ কৌশলে, যেন সৈনিকরা সবাই সব কিছু বুঝতে পারে।
অফিসে কি হয়? একটা পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে চার্ট আর চার্ট দিয়ে ভরে ফেলি আমরা। তারপরে তার সাতসমুদ্রের যতজ্ঞান আছে তা নিয়ে ভয়ানক একটা স্ট্র্যাটেজি তৈরি করি! এতে ভরকে যায় আপনার টিমমেইটরা!
অ্যাপল কিন্তু দুনিয়া সেরা সাফল্য পেয়েছে তার সরল ডিজাইনের জন্য!

 

 

 


আরও পড়ুন:

তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 4,792 views. Thank You for caring my happiness.

চেয়ার তত্ত্ব

আলিয়া ভাট আর শাহরুখ খানের সিনেমা ডিয়ার জিন্দেগী। ভারতের গোয়াতে শুটিং লোকেশন ছিল মুভিটা তাই দেখার লিস্টে ছিল অনেকদিন। সেই মুভিটায় শাহরুখ খান ওরফে ড. জাহাঙ্গীরের ভূমিকা ছিল একজন থেরাপিস্ট হিসেবে, আর আলিয়া ওরফে কাইরা ছিল মারদাঙা উড়াধুরা সেই লেভেলের একটা মানুষ-যার জীবনে আমাদের মতই আবেগ -অনুভূতি আর হতাশা ভর করে। এই মুভিতে কাইরার প্রেম করার মানুষ খোঁজা নিয়ে হতাশা ছিল। সেই হতাশায় দ্বিধায় ছিল কাইরা, সেখানেই থেরাপিস্ট ড. জাগ তাকে চেয়ার থিওরী বলে জীবনের দারুণ একটা কথা বুঝিয়ে দেয়।

চেয়ার তত্ত্বের প্রেক্ষিত: কায়রার প্রথম প্রেম ছিল একজন সিনেমা পরিচালকের সঙ্গে, এরপরে হয় একজন গায়কের সঙ্গে। দুজনেই সুর্দশন, কিন্তু কায়রার সঙ্গে তাদের জোড় আর গড়ে ওঠেনি।

চেয়ার থিওরী: আমরা দোকানে চেয়ার কিনতে যাই। গিয়েই কি হুট করে প্রথম যে চেয়ার পছন্দ করি, তাই কিনে বাড়িতে নিয়ে আসি? উত্তরটা নিশ্চয়ই, না! তো আমরা কি করি? অনেক দোকানে ঘুরি? অনেক চেয়ার দেখি। কোনটার রঙ পছন্দ হয়, কোনটার স্টাইল, আবার কোনটায় বসে মজা নেই, কোনটা বসলে আরাম পাওয়া যায় না। অনেক ঘোরাঘুরি করেই আমরা পছন্দের চেয়ার কিনি।

সিনেমার চেয়ার থিওরী: ডিয়ার জিন্দেগীতে ড. জাহাঙ্গীর কায়রাকে এভাবে জীবনসঙ্গী বেছে নেয়ার একটা কল্পনা ধরিয়ে দেন। জীবনসঙ্গী বিষয়টাও খোঁজার বিষয়- খুঁজতে হয়, বেছে নিতে হয়; তারপর তাকে জয় করতে হয়।

সিনেমার মত কি আর জীবন চলে? চেয়ার থিওরীটিকে বাস্তবে আনার চেষ্টার জন্যই এই পোস্টটা লিখছি।

চশমা তত্ত্ব: ডিয়ার জিন্দেগীর কথাটা ছিল, জীবনসঙ্গী খুঁজতে হয়। সেই খোঁজাকেই বাস্তবে খোঁজার চেষ্টা করেছি আমি। আমরা যখন চশমা কিনতে যাই, তখন যে চশমা পছন্দ হয় তাই কি কিনে নিয়ে আসি? মনে হয় না! একটু পরে দেখি, আয়নায় দেখি কেমন লাগে আমাদের। অন্যরা ভালো বললেও নিজের কাছে ভালো না লাগলে সেই চশমা আমরা কিনি না।

আমাদের জীবনটাও বেশ বড় অর্থেই এমনটা কিন্তু!

আমরা যখন প্রথম চাকরি পাই, ধরেই নিই সেই চাকরি আমাদের জীবনের সেরা চাকরি। অনেকটা সময় কাটানোর পরে অনেকক্ষেত্রেই মনে হয় “আমি এ কি করছি?”

“আমি এ কি করছি?”, অনেকটা জীবন কাটিয়ে দেয়া অনেক মানুষের কাছ থেকে এ প্রশ্ন জেনেছি। নিজেকেই তারা প্রশ্ন করেন, তারপরে কেউ কেউ উত্তরের জন্য উত্তর-দক্ষিণ মেরু পাড়ি দেন। আবার কেউ হতাশার চাপে একঘেঁয়ে জীবনের ঘানি টেনে কালো সব চুল সাদা করে ফেলেন।

চেয়ার থিওরীকে বাস্তবে এনে দেখা যেতে পারে। কোন সিদ্ধান্তই শেষ কিংবা চরম ধরে বসে নেয়া ঠিক না। একটার পর একটা অপশন তৈরি করে সামনে এগিয়ে নিতে যাওয়াটাই বোধহয় জীবন।

 

—–

ডিয়ার জিন্দেগীতে দারুণ একটি লাইন খুঁজে পেয়েছি, অনেক সময় সরল সমাধানই খুঁজে বের করা সরল কাজ। যে সরল কাজে আমাদের জীবনটা সরল হওয়ার সম্ভবনাই থাকে। আমরা কি করি? সব সময় কঠিন সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত থাকি, কঠিনকে খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে ফেলি জীবনের সহজ সঙ্গাকেই।

তখন শূণ্যতা ভর করে শুধু।

 

আমার সব লেখা মিডিয়ামে পড়ুন। কিংবা, নিউজলেটার অপশনে ইমেইল ঠিকানা লিখলে প্রতি সোমবার আমি নিশ্চিত অন্যরকম কিছু লেখা আপনার সঙ্গে শেয়ার করবো!

 

 

 

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 565 views. Thank You for caring my happiness.

একটু বেশিই যেভাবে বেশি বই পড়বেন

কয়েক মাস আগেও বই পড়ার তেমন অভ্যাসই ছিল না আমার। গেল বছরের ডিসেম্বরে হুট করে কি না বই পড়ার অভ্যাস করে ফেলি আমি। নন-ফিকশন কয়েকটি বই কয়েক সপ্তাহে শেষ করে ফেলি। দ্রুত বই পড়া, কিংবা সারাক্ষণ বই নিয়ে পড়ে থাকাই কিন্তু বই পড়ার অভ্যাসকে প্রভাবিত করে না। প্রথম দিকে আমি যখন বই পড়তাম, তখন কয়েক পাতা পড়ার পরেই ফেসবুক ডাকতো আমাকে! এরপরে হুট করেই দেখলাম আমি একটানে ২০ পাতা পড়ে ফেলছি! কোন লাইন কিংবা অধ্যায় বাদ না দিয়েই এক বসাতেই বিশ পাতা শেষ করা কিন্তু একটু কঠিনই। সেক্ষেত্রে আমি যে বুদ্ধিতে পড়ি, প্রতিদিন যতবার ট্রাফিক জ্যামে পড়ি ততবারই ব্যাগ থেকে বই টান দেই। ৩০ মিনিটে ২০ পাতা পড়া কিন্তু জ্যামে বসে কোন ব্যাপারই না। ট্রাফিক জ্যামকে এখন তো আমার আশীর্বাদই মনে হয়!


আমি বই পড়া শেষে, সেই বইয়ের মূল থিম সব সময় মাথায় রাখার চেষ্টা করি। বই দাগিয়ে পড়ার অভ্যাস না থাকলেও মাথায় নোট নেয়ার অভ্যাসটা তৈরি করে ফেলেছি এখন। আর যে কোন বই শেষ করে তার সামারি পয়েন্টস, অন্যদের রিভিউ পড়ে বইটার একে বারে টেনে মাথায় নিয়ে ফেলি।

যে বইয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন তা জোর করে পড়ার অর্থই

বই রিভিউ দেখে বই পড়ার জন্য নির্বাচন করি আমি কিন্তু যে বইয়ের প্রথম ২০ পেইজ পড়ার পরে আমার ভালো লাগে না তা আমি আর শেষ করি না। যেমন এরিক রিসের অনেক জনপ্রিয় একটা বই লিন স্টার্টআপ আমি ধরেও শেষ করতে পারি নাই। অথচ এই বইটা স্টার্টআপ হিট লিস্টে প্রথম ১০টি বইয়ের একটি। যে বইয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন তা জোর করে পড়ার অর্থই নেই কিন্তু।
বই পড়ার সময় কোথায়?
এপ্রশ্নের উত্তরের চেয়ে ভাবুন তো দিনে তিন বেলা খাওয়ার সময় কি পাই আমরা? যদি আপনি তিনবেলা খাবার সময় পান, তাহলে অবশ্যই বই পড়ার সময় পাবেনই। বই পড়ার জন্য সময় বের করে পড়তে চাইলে কোনও দিনই আসলে বই পড়া হবে না আপনার। ধরুন প্রতিদিন সকালে দাঁতব্রাশ করি আমরা নিয়মিত। এটা অভ্যাস, কিংবা রিচুয়াল করে ফেলেছি আমরা। আমার মতে, বই পড়াটা আসলেই তাই-অভ্যাস।
যেভাবে শ্বাস নেই, সেইভাবে বইপড়াকে আয়ত্বে আনা জরুরী। বই পড়েই যে পান্ডিত্য অর্জন হবে তা নয়, কিন্তু দারুণ একটা স্মার্ট লাইফ স্টাইল কে না চায়? সেক্ষেত্রে স্মার্টফোনে মাথা গুঁজে রাখার চেয়ে সত্তর-আশির দশকের স্টাইলে বই পড়া বিষয়টা কিন্তু দারুণ।
বিনে পয়সায় বই পড়বেন না!
বই কিনে পড়ার অভ্যাসটা একটু বেশিই দারুণ। আমি ফ্রি কিংবা পাইরেটেড বই কমই পড়ি, সত্যি! ১ কিংবা ২ ডলার রেঞ্জে কিন্ডলে বই কিনে পড়ি-দাম দিয়ে কিনলে তার জন্য কিন্তু মায়া টানে! বই কেনা বিলাসিতা হতে পারে, কিন্তু বই পড়া না।

“যখন আমি কিছু টাকা পাই তখনই বই কিনি, আর যখন সেখান থেকে কিছু টাকা বেঁচে যায় তখন আমি খাদ্য ও পোষাক কিনি।”
-ইরাসমাস, ষোড়শ শতকের দার্শনিক

বই পড়া, কিন্তু ঘোরাঘুরি করা।
ধরুন, টাকা থাকলে আমরা ঘুরতে যাই। বই পড়াও কিন্তু ঘোরাঘুরি করাই!
যারা ঘোরাঘুরি বেশি করে তারা কিন্তু চুপচাপ থাকে, মাথা ব্যস্ত রাখে সারাক্ষণ। আমি যদিও বেশিই কথা বলি, কিন্তু চেষ্টা করি দিনে ৫০ পৃষ্টা শেষ করতে। ওয়ারেন বাফেট নাকি দিনে ৫ ঘণ্টাই বই পড়ে, আমি তো ওয়ারেন হতে পারব না, কিন্তু সে যে বই পড়ে তা কিন্তু পড়তে পারবো।

আপনি যদি জীবনকে একটি খেলা ভাবেন, সেই খেলার একেকটি লেভেল অতিক্রম করার জন্য একেকটি বই পড়ুন। যে যত বই পড়বেন সে তত লেভেল উপরে চলে যাবেন।

আপনি যদি জীবনকে একটি খেলা ভাবেন, সেই খেলার একেকটি লেভেল অতিক্রম করার জন্য একেকটি বই পড়ুন। যে যত বই পড়বেন সে তত লেভেল উপরে চলে যাবেন। জ্ঞানী হওয়াই বই পড়ার কিন্তু লক্ষ্য না, বই পড়ে তা ভেবে কাজ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ!

 

আরও পড়ুন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২০১৭ সালে যা পড়তে পারেন।

ফিল নাইটের সেই সাত।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,108 views. Thank You for caring my happiness.

যেভাবে দারুণ কনটেন্ট আইডিয়া তৈরি হয়

মেড টু স্টিক নামে দারুণ একটা বই পড়া শেষ করেছি এমাসেই। গ্রোথ হ্যাকিং, ডিজাইন থিংকিং নিয়ে যারা আগ্রহী তাদের পছন্দের প্রিয় দশ বইয়ের একটা এই বই। কিভাবে আইডিয়া যুগের পরে যুগ টিকে থাকে তা নিয়ে মনোবিশ্লেষণধর্মী মেড টু স্টিক বইটি। বইটা পড়েই জেনেছি কেন “আঙ্গুর ফল টক” গল্পের শেয়াল আর আঙ্গুরের কথা প্রাচীন গ্রীস থেকে শুরু করে সব ভাষার গল্পে খুঁজে পাওয়া যায় কেন!

বইটি পড়া শেষে গুগল করে How to Produce Better Content Ideas নামে একটা স্লাইড শোর খোঁজ পাই। ইদানিং ফেসবুকের চেয়ে বেশি সময় দিচ্ছি স্লাইডশেয়ারে, দিনে ২টা ভালো স্লাইডশো যদি একবার পাই, সেই দিন সেই রঙে কেটে যায়।

আজকে Mark Johnstone এর স্লাইডশোটা পুরোটা দেখেছি, সেই রকমের মুগ্ধতা দেখা যায়।

একমাস জিমে যাওয়ার পরে যদি সিক্স তৈরি না হয়, তাহলে দোষ কার? আপনার-আমার অমনোযোগিতাই কিন্তু! সেইভাবে কোন কিছু নিয়ে ৭ দিন কিংবা ৩০ দিন নতুন করে না ভাবলে নতুন আইডিয়া তৈরি হওয়ার কথা না কিন্তু!

স্লাইডশোর শেষ দিকে রেড বুলের একটা উদাহরণের কথা বলা আছে। রেড বুল তার বিজ্ঞাপন কিংবা কোন কিছুতেই কিন্তু ক্যাফিনেটেড পানি খেলে কি হবে, কিংবা রেড বুলের উপকারিতা কি তা নিয়ে ঘ্যানর-ঘ্যানর করে না। রেড বুল জীবনশক্তি, অ্যাড্রেনালিন রাশ আর সীমানার বাইরে জীবন নিয়ে যাওয়ার দর্শনকেই ভিত্তি করে ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি তৈরি করেছে।

আপনার পণ্য বা সেবা যাই থাকুক না কেন, তা নিয়ে কখনই কথা বলা যাবে না। আপনার আদর্শকেই মানুষ গ্রহণ করবে।

কয়েকদিন আগে কোথায় জানি পড়েছিলাম, আপনি গরু ব্যবসায়ী হলে কিভাবে ব্যবসা করবেন? গরুর বিজ্ঞাপন দেবেন? কখনওই না, গরুর মাংসের কালোভুনা বিষয়টা কি তা আপনার ক্রেতাদের বোঝান। এরপরে গরু তারা এমনিই কিনবে।

 

এমন আরও ২৪টা স্লাইডশো বুকমার্ক করে রেখেছি। “শেখা” বিষয়টা তেমন খারাপ না।

 

এখন বেশির ভাগ সময় মিডিয়ামেই চোখ থাকে। আর লিংকডইনের স্টুডেন্ট ভয়েসও টুকটাক পোস্ট দেয়াই এখন আসক্তি আমার।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,037 views. Thank You for caring my happiness.