রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনার মত হতে চাইলে যে বই পড়তে হবে

একটা সময় জাঁদরেল রাজনীতিবিদরা রাজবন্দী থাকতেন, তখন তারা বই পড়তেন কিংবা লিখতেন। এখন রাজবন্দী থাকার তেমন চল-ই নেই। নেলসন ম্যান্ডেলা কিংবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখালেখি কিন্তু রাজবন্দী থাকাকালীন সময়ে। রাজনীতিবিদরা নিজের চোখে যে দুনিয়া দেখেন তা বইপত্র থেকে খুঁজে নিতেন, বা নিজের আত্মজীবনীতে লিখতেন। এখন তো পড়ার চল-ই নাই, আর রাজনীতিবিদরা আসবেন কোথা থেকে? বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ বই পড়েন। হাসিনা: অ্যা ডটার’স টেল সিনেমার বিভিন্ন শুটিংয়ের ছবি যারা দেখেছেন তারা ব্যক্তি শেখ হাসিনার একটা বুকশেলফের ছবি দেখতে পাবেন, সেখান বই সম্পর্কে একটা সামান্য চিত্র দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বই পড়েন তার আরেকটা দিক হচ্ছে তার প্রায় ২৮টি বই আছে। কোন কোন বই সম্পাদিত, আবার কোন কোন বইয়ে নানা নিবন্ধ সংকলিত আছে। রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনার স্টাইল নিয়ে বাংলাতে তেমন বইপত্র নেই, বা খুঁজে পাওয়া যায় না। শেখ হাসিনার অনুকরণে যারা রাজনীতি করতে চান, বা আরও জানতে চান তারা নিচের বইগুলো পড়তে পারেন।

আরও পড়ুন:তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

গ্লিমসেস অব ওয়ার্ল্ড হিস্টোরি-পন্ডিত জহরাল নেহরু


“আমাদের এই যুগটাই ভিন্ন জাতের; এটা হচ্ছে মোহভঙ্গের যুগ, সন্দেহ সংশয় আর প্রশ্নজিজ্ঞাসার যুগ। প্রাচীন কালের যে-সব মতামত আর রীতিনীতি ছিল তার অনেকগুলোই এখন আর আমরা মেনে নিতে পারছিনা, তাদের উপরে আর আমাদের বিশ্বাস নেই- এশিয়াতে ইউরোপে আমেরিকাতে সর্বত্রই। অতএব এখন আমরা সন্ধানে ফিরছি নূতন পথের, সত্যের নূতনতর রূপের, আমাদের এই পরিবেশের সঙ্গে যে রূপটির সামঞ্জস্য অধিকতর স্পষ্ট হবে।”
১১৯৩ পৃষ্টার বইটিতে পন্ডিত নেহেরুর ২০০+ চিঠি সংকলিত আছে। কন্যা ইন্দিরা গান্ধীকে লেখা চিঠিগুলো পড়লেই বোঝা যায় ইন্দিরা গান্ধীর কৈশোরের সময়টায় বাবা কন্যার মনকে কতটা আলোকিত-আলোড়িত করেছিলেন। পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসের দারুণ সংকলন বলা যায় বইটিকে। শশী থারুরের মত বাগ্মী রাজনীতিবিদরা বইটি ভারতবর্ষের সকল মানুষের পড়া উচিত বলে মনে করে। কেউ কেউ বইটি পড়লে নাকি টাইম ট্র্যাভেল হয় বলে মনে করেন। ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে বইটি শেষ করেছিলাম। মুগ্ধতা নয়, চিঠি লেখা শিখেছি বইটি থেকে।

গানস, জার্মস, অ্যান্ড স্টিল: দ্য ফেটস অব হিউম্যান সোসাইটিজ


একটি বই ২ লাখের বেশি মানুষ শুধু অনলাইনে পড়েছে, তাই দেখে পড়া শুরু করি গানস, জার্মস, অ্যান্ড স্টিল বইটি। মানবসভ্যতার ১৩ হাজার বছরের ইতিহাস আছে বইটিতে। রাজনীতি বিষয়টা কি শুধুই রাজনীতি না সংস্কৃতি-বিজ্ঞান-আবেগের মিলমেশ? এসব প্রশ্নের তাত্বিক চিত্র আছে বইটিতে। ধৈর্য্য নিয়ে পড়তে হয়েছিল বইটিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যা পড়ানো হয়, তা অন্যভাবে বইটিতে পেয়েছি।
ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন: স্যামিউল পি হান্টিংটন
শুধু কি নিজের আদর্শের বই পড়তে হবে, অন্যরা কি ভাবছে তাও রাজনীতি করলে পড়তে হবে। পশ্চিমা সভ্যতা কেন দারুণ তা নিয়ে পশ্চিমারা কি ভাবছে তা জানতে ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন পড়তে হবে। বইটি প্রোপাগান্ডা আমলের বলে কিছু কিছু বিষয় অতিরঞ্জনই মনে হবে।

টিম অব রাইভালস


আব্রাহাম লিংকন লোকটা না থাকলে আমেরিকান ইতিহাস আলাদা হয়ে যেতো। কনফেডারেট আমেরিকা বলে একটা বিষয় আমরা বাস্তবে দেখতাম। সেই ১৮৬০ দশকে আব্রাহাম লিংকন আমেরিকাকে ভাঙন থেকে কিভাবে বাচিয়েছিলেন তা জানা যায় টিম অব রাইভালস বইতে। গেটিসবার্গের ভাষণটা কেন আলোচিত তা বইটা শেষ করে বুঝতে পারা যায়। লিংকন মুভিটা এই বইটা কেন্দ্র করে বানিয়েছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ।

দ্য সিংগাপুর স্টোরি

আমরা ৮ হাজার মাইল দূরের আমেরিকা নিয়ে রেফারেন্স টানি, কিন্তু ইউরোপের কথা আনি বিভিন্ন উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনায়। একটা ইউরোপীয় পরিত্যাক্ত কলোনি থেকে সিংগাপুর কিভাবে সিংগাপুর হলেন তার ত্রিমাত্রিক চিত্র আছে বইটিতে। রাজনীতি মানে যে আবেগের চেয়েও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা প্রয়োজন তা লিকুয়ানের লেখা থেকে জানা যায়। লি ছিলেন ছোট সিংগাপুরের জাতির জনক।

রিপাবলিক-দা আর্ট অব ওয়ার-দ্য প্রিন্স

“আই হেট রাজনীতি” প্রজন্ম এই তিনটে বইয়ের অডিও বই শুনতে পারেন। রাজনীতি যারা করেন তারা কি ভাবেন, কিভাবে ভাবেন তা বোঝার দারুণ তিনটে বই।

অর্থশাস্ত্র-ক্যাপিটাল-চাণক্য

সামান্য কয়েকটা বই, কোনটার বয়স হাজার বছর-এখনও কিভাবে দুনিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে তা ভাবা যায়? পৃথিবীর রাজনৈতিক স্বত্তা নিয়ে যারা ভাবেন তাদের জন্য পাঠ্যবই এগুলো।

১৯৮৪-এনিমেল ফার্ম

শুধুই কি নন-ফিকশন পড়তে হবে, কিছু ফিকশনে তো মানুষের রাজনীতি চেনা যায়, জানা যায়।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী-লং ওয়াক টু ফ্রিডম


রাজনীতিবিদরা দু রকমের হন। জন এফ কেনেডির মত ক্ষণজন্মা তারকা রাজনীতিবিদ আবার বটবৃক্ষের মতো বঙ্গবন্ধু বা মাদিবার মত বটবৃক্ষ-যেখানে সময়-সমাজ সভ্যতা সব একাকার হয়ে একবিন্দুতে এসে জমাট বাঁধে। সেই বিন্দুকে কিভাবে অনেক বিন্দুতে পরিণত করতে হয় তা শেখাটা আর্টই বটে!

 

অনলাইন ঘেঁটে দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহাশ্বেতা দেবী, সৈয়দ মুজতবা আলীর বই বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়েন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 304 views. Thank You for caring my happiness.

যা আইবিএ-ঢাবি, এনএসইউ বা হার্ভার্ড বিজনেজ স্কুল শেখায় না

মাঝেমধ্যে কিছু পপ বই পড়া দরকার, নইলে সিরিয়াস বইপত্রে মাথা গরম হয়ে যায়। গেল দুসপ্তাহের ব্যস্ততায় আমার শেষ হয়েছে Mark H. McCormack-এর What They Don’t Teach You at Harvard Business School: Notes from a Street-Smart Executive। হার্ভার্ড বিজনেজ স্কুলে কি কি শেখায় না তা নিয়ে লিখেছেন Mark H. McCormack, যাকে আবার স্পোর্টস মার্কেটিংয়ের গুরুদের একজন ধরা হয়। Mark H. McCormack নিজে হার্ভার্ডে পড়েন নি, What They Don’t Teach You at Harvard Business School বইটার শিরোনাম দেখে তাকে হার্ভার্ড বিরোধী মনে হতেই পারে। দারুণ বিষয় হচ্ছে, What They Don’t Teach You at Harvard Business School বিষয়টি আসলে বিজনেজ স্কুলগুলোতে আরও কি কি নতুন বিষয় পড়ানো যেতে পারে তার একটা মনোলগ বলা যেতে পারে। বইটি পড়াশেষে আমার মনে হয়েছে বইটার কিছু পয়েন্ট নিয়ে একটা নোট দেয়া যায়। স্বভাবতই বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আইবিএ-ঢাবি, এনএসইউ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় বা এআইইউবির বিজনেজ স্কুলে আরও কি শেখানো যায় তা বলা যায় বইটি পড়ে।

আমেরিকায় বইয়ের কাটতে বাড়ানোর জন্য বইপত্রে কিছু পপশব্দ ব্যবহার করে, সেই হিসেবে What They Don’t Teach You at Harvard Business School বইটার পপ শব্দ হচ্ছে Harvard Business School, যেমনটা আমার পোস্টে আইবিএ-ঢাবি, এনএসইউ!

1) Reading other people, their body language, their preferences
যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান কিংবা দীর্ঘদিন ব্যবসা করছেন তারা অন্যদের খেয়াল রাখতে পারেন। MBA বা ব্যবসাসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খুব বড় আকারে ব্যবসা কৌশল, বিপণন বা ব্যবসা বাড়ানোর সাধারণ হিসেব আলোচনা করা হয়। খুব কমক্ষেত্রেই কাস্টমার বা ইউজারদের বিষয়টা তেমন নজর দেয়া হয় না। দুনিয়ার অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী কাস্টমারসেন্ট্রিক হওয়ার কারণে টিকে যাচ্ছেন দিব্যি। নাইকি কিংবা স্টারবাক্সের কথা আনা যায়। আমরা কোন কাজে গ্রাহকদের কথা তেমন গুরুত্ব দেই না। কাস্টমার সার্ভিস বিষয়টা আমাদের দেশে যেন পাত্তাই পায় না।

2) অন্যের জুতা পরে দুনিয়া দেখুন
বিজনেজ স্কুলে অন্যেরা কি ভাবে ভাবে, কেন ভাবে তা নিয়ে কৌশল জানার বুদ্ধি শেখানো উচিত। অন্যরা কিভাবে চিন্তা করে তা নিয়ে আমরা তেমন সায়েন্টিফিক ওয়েতে চিন্তা করি না। নিজেকে অন্যের জুতায় দাড়িয়ে ভাবনা সবারই শেখা উচিত। এতে নেগোশিয়েশনে দারুণ কাজে দেয়। বিষয়টা এখন এম্প্যাথেটিক বিষয়টার সংগে সম্পৃক্ত করা যায়।
((একশ বছর আগে আমেরিকায় সেলসের বিষয়ে অনেক ট্রেনিং শুরু হয়। দিন শেষে কোম্পানির সেলসের লোকেরাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মার্কেটিং কিংবা ম্যানেজমেন্টে যতটা স্মার্টলোক দরকার তার চেয়ে কৌশলী লোক দরকার সেলস বিভাগে। সেলসের লোকেরা অন্যরা কি চায় তা নিয়ে দারুণ মাথা খাটায়।))

৩) টাইম ম্যানেজমেন্ট
বিজনেজ স্কুলে স্ট্র্যাটেজি শেখায় কিন্তু টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কোন ধারণাই দেয় না। আমাদের স্কুলগুলো ধরেই নেয় যে, ম্যানেজার যে হতে চায় তার টাইম সেন্স থাকবে। টাইম সেন্স আর টাইম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে। তা শেখানো উচিত।
৪) সব কিছু নোট রাখতে হবে
প্রযুক্তির কল্যানে সব অটোমেটেড হয়ে গেলেও বিজনেজ স্কুলে যারা যান তাদের নোট টেকিং স্কিলে জোর দেয়া উচিত। যতই প্রযুক্তি থাকুক না কেন নোট টেকিং বা ভিজুয়াল নোট টেকিং এখনকার সিইও বা সিএক্সওদের বেসিক যোগ্যতার একটি।
৫) Dangers of short term thinking
লাইনে বোঝা যাচ্ছে কি বলা হচ্ছে। শর্টটার্মের প্রফিট লং টাইমে লস হতেও পারে।
৬)The importance of training – more than hiring
আমরা নিয়োগে যতটা মনোযোগ দেই ট্রেনিংয়ে ততটা মনোযোগ মনে হয় তেমন দেই না। বিষয়টা এমন, আইপিএলের দলে ক্রিকেটার কিনেই আমরা খুশি। তার জন্য ট্রেনিং কি আর লাগে?
৭) Ask questions – listen AGGRESSTIVELY, observe AGGRESSIVELY, talk less
বস ইজ রাইট বলে একটা বিষয় নির্বাহীদের কান দিয়ে মাথায় চলে যায়। বিষয়টা ভুল, প্রশ্ন করা শিখতে হবে।
৮) ২৫০০ লোক আপনার কোম্পানিতে কাজ করলে ২৫০০ ইগো কাজ করবে। ইগো ম্যানেজমেন্ট আর্ট।

Mark McCormak সেই ১৯৮৬ সালে বইটি লিখেছেন।এখনও বেশ কাজের মনে হলো। যারা বিজনেজ স্কুলে আসলে পড়ছেন তারা বইটা থেকে কিছু পয়েন্টস ব্যক্তিজীবনে কাজে লাগাতে পারেন।

ব্যবসা দুনিয়াতে চ্যাম্পিয়ন হতে চাইলে কি করতে হবে?
যারা চ্যাম্পিয়ান,
-তারা নিজেদের পারফরমেন্সে সব সময় অখুশি থাকে। যে কোনো সাফল্যকে তারা বড় কোন সাফল্যের একটা স্টেপ হিসেবে ব্যবহার করে। অতীতের সাফল্যে কেউ বসে থাকে না। সামনে কি আছে তা নিয়ে যত মামলা।
-সঠিক সময় সঠিক জায়গায় জ্বলে ওঠে তারা। সব সময় একই মাত্রার পারফরমেন্স লেভেল রাখলেও যে দিন তার খেলার দিন সেই দিন তারা আকাশ স্পর্শ করবেনই।
-তারা কখনই প্রতিযোগিতায় আগে কিংবা কোন সুবিধা পাচ্ছেন এটা ধরে কৌশল আঁকেন না। স্কোরবোর্ডে যতই রান বা গোল থাকুক না কেন তারা সর্বোচ্চ বেগেই ছোটেন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 227 views. Thank You for caring my happiness.

চিন্তা শুরুর আগে পড়া-টরা বেশ জরুরী

গিয়েছিলাম ড্রিম ডিভাইজরদের সঙ্গে আড্ডা দিতে। ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী ভাইয়ের জোরাজুরিতে পাবলিক আড্ডায় যেতে বাধ্য ছিলাম। আমার অবশ্য উছিলা ছিল নতুন কি কি শেখা যায় সেই ধান্দায়। ২০২০ দশকে যারা কর্মবাজারে প্রবেশ করবেন, এমন ২০জনের মত তরুণ ছিলেন ড্রিম ডিভাইজরের কল্যানপুর অফিসে। আমার সঙ্গে ছিলেন জয়দিপ সুমন।

আমাদের আড্ডার মুল বিষয় ছিল, কিভাবে শেখা যায়। বই পড়ে এক দশক আগেও শিখতাম আমরা। বই থেকে এখন মুঠোফোনে চলে এসেছি আমরা, সামনে কি আসবে সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে। আড্ডা দিতে দিতে একটা ভাবনা মাথায় উঁকি দেয়। কিভাবে চিন্তা শুরু করবো আমরা। অনেক তথ্য আর ডেটা এক করে দেন ভাববো, নাকি ভেবে ভেবে ডেটা আর তথ্য যোগাড় করবো। ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে, নাজ থিওরী (গেলবার অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছিল এ থিওরীর স্রষ্টা) নিয়ে আগে চিন্তা করবো, নাকি সাধারণ মানুষের বাজারের কেনা কাটার কারণ অনুসন্ধান করতে করতে থিওরী দাঁড় করাবো? প্রশ্নের ভাঁজে ভাঁজে একটা প্রোপোজিশনে থেমে গেছি-যা চিন্তা করবো, তা নিয়ে সবার আগে গোটা ৫-৬ বেসিক বই পড়তে হবে। পড়ার পরে জানা যাবে চিন্তা কোন দিকে যাবে।


আড্ডা দিতে দিতে আরেকটা প্রশ্ন মনে উঁকি দেয়, আমরা কোন একটা ধাঁধার দিকে ছুটছি কি? ব্যাপারটা এমন, সামনে ভালো সময় আসবে-আর সে হিসেবে আমরা নিজেকে তৈরি করে যাচ্ছি? প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ বা ধর্ম প্রবর্তকের এ ধাঁধায় আমাদের তাদের অনুসারী করার ছক আটতেন। বা হোমারের প্রাচীন গ্রিসে গ্রীক বীররা শত শত যোদ্ধাদের সামনে ভালো কিছু আসবে, এমন ধাঁধায় যুদ্ধে আগ্রহী করে তুলতেন। সামনের অপেক্ষায় আমরা যে বর্তমানকে নষ্ট করে অতীতকে দুঃসহ করে তুলছি তা কি খেয়াল করেছি? এই যে আমি আমরা আমাদের বাবা-মাকে সময় দেই না। আমরা নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছি, আর মনে মনে ভাবছি-সামনে অনেক টাকা হলে আমি বাবা-মাকে অনেক সময় দিবো, সুখ কিনে দিবো। ঘড়ির অংকে আমরা হয়তো এক সময় সেই সময়ে পা রাখবো, কিন্তু বাবা-মার সঙ্গে কাটানো সময় তো আর বাড়বে না। বিষয়টা নিয়ে ভেবে কোন উপসংহারে আসার আগেই আড্ডা শেষ করতে হয়।

ড্রিম ডিভাইজর, একদল তরুণের স্বপ্ন ছোঁয়ার জায়গা। নিজেদের দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছেন চারপাশ বদলাতে। অনেক উদ্যম, কিন্তু সামগ্রিক একটা ভিশনের জন্য কতটা সামনে এগোবে তা নিয়ে আমরা প্রশ্ন আছে। আমাদের আমেরিকান ড্রিমের মত টুমোরো ড্রিভেন কোন ভিশন নাই, যে কারণে সামনে এগোনো বেশ কঠিন। ১৯৫০ পরবর্তী সময়ে এ দেশে স্বাধিকার আন্দোলন, নিজের দেশ দরকার বলে একটা ভিশন ছিল, যে কারণে ১৯৭১ সালে নতুন দেশ এসেছে। এরপরের সময়টায় কি কোন ভীষণ আসলেই দেখা গেছে?

ড্রিম ডিভাইজরের জন্য পরামর্শ:
১. টেকনিক্যাল স্কিলে সময় দিতে হবে।
২. ইংরেজি-ইংরেজি স্পিকার হতে হবে। ইংলিশ লার্নার হওয়ার দিন শেষ।
৩. সফল স্কিলে আরও মনোযোগ দিতে হবে।
৪. সোশাল টুলস ব্যবহার করা শিখতে হবে।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 594 views. Thank You for caring my happiness.

ম্যাকেঞ্জি ট্যুর থেকে যা শিখলাম

ঈদের ছুটিতে সবাই যায় কক্সবাজার কিংবা ব্যাংকক, বা ভারতে। আমি গিয়েছিলাম ভারতে, তবে আগ্রা বা কাশ্মীরে না-নয়াদিল্লীতে। কনসালটিং ফার্ম ম্যাকেঞ্জির ইন্ডিয়া অফিসে ট্যুর+ট্রেনিং+ওয়ার্কশপ=মাইন্ডক্র্যাপিং এক্সপেরিয়েন্স। এবছরের (২০১৮) জুলাই মাস থেকে আমি রিটারমেন্টে চলে আসছি বলে এখন সব এক্সপেরিয়েন্স ভাবি। সেই পাল্লাকে আরও ভারী করেছে এবারের ট্যুর।

আমাদের ট্রেনিং ছিল ৬ ঘণ্টার, ২ দিন ধরে। মোট ১৬জন ছিল, যার মধ্যে একমাত্র বিদেশের লোক হচ্ছি আমি। যেহেতু ইনহাউজ ট্রেনিং তাই তেমন কঠিন কিছু ছিল না। প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আর প্রবলেম সলভিং নিয়ে কাজ ছিল বেশি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই পোস্ট।

১. চাকা আবার আবিষ্কার করবো?

আমরা কোন সমস্যা সমাধান করতে গেলে নিজের থেকে সমাধানের চেষ্টা করে অনেক সময় নষ্ট করি প্রায়ই। ম্যাকেঞ্জি মাইন্ড নামের একটি বই আছে। সেখানে বলা আছে, সারা দুনিয়ার ম্যাকেঞ্জির যত কনসালটেন্ট আছে সবাই ইনহাউজ কিছু মডেল ব্যবহার করে। (যেমন বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের অনেক মডেল জনপ্রিয়) সমস্যা সমাধানের জন্য প্রথমেই সমাধান না খুঁজে সমস্যাকে বিশ্লেষণ করতে হবে, বিশ্লেষণ করলেই ডটগুলোর কোথায় সমস্যা তা জানা যাবে। যত তথ্য তত সমস্যাকে ঘায়েল করা সম্ভব। অ্যাপোলো ১৩ সিনেমা যারা দেখেছেন তারা জানেন কেন অ্যাপোলো ১৩ চাঁদে পা রাখে নাই। অ্যাপোলো ১১ চাঁদে নামার আগে ১০বার চেষ্টা করা হয়, ১০ বারে ১০ রকম এরর ছিল, সেই এররগুলো থেকে মিস্টেক কমাতেন প্রোগ্রামাররা, যত কম এরর তত সমস্যা সমাধানে সাফল্য।

২. মেন্টাল মডেলিং

দুনিয়ার যে কোনো কর্পোরেট সমস্যা সমাধানে কার্যকর ২০টার মতো মডেল আছে। এটা অনেকটা ক্রিকেট খেলার আউটের মত-১৩ উপায়ে আউট করা সম্ভব। আমরা যখন জানবো যে কোন সমস্যা সমাধানে ২০টা মডেল আছে তখন সমাধান বেশ কার্যকর মনে হবে।

৩. পড়তে হবে

আইআইটি কিংবা আইআইএম গ্র্যাজুয়েট হলেও ভারতের টেকনিক্যাল লোকজন অনেক পড়ে। সিরিজ বই বলে একটা বিষয় শিখলাম। এটা অনেকটা ১০১, ১০২, ১০৩…. টাইপের বই। আমরা হুজুগে প্রথমে যদি ১০৫ লেভেলের বই পড়ি তাহলে বেসিকে সমস্যা থাকবে।

৪. টুলস নির্ভর হওয়া যাবে না

প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টে আমরা বেশি টুলস নির্ভর হই, কিন্তু টুলসের লজিকগুলো শিখি না-যা আমাদের ক্যারিয়ারে ভবিষ্যতে বিপদ তৈরি করে। আমেরিকায় ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টরা ৪০ বছর হলেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক কিংবা কোম্পানিগুলোর বোর্ডে বসে যায়, কারণ কি? কারণ হচ্ছে তারা টুলসের প্রয়োগ যেমন জানে তেমন লজিকও জানে। খুব সহজে বলা যায়, আমরা বয়স চিনি ২০ কিংবা ৪০ হিসেবে, এটাকে সংখ্যা হিসেবে প্রথমেই শিখি না আমরা।

৫. টিম ডেভলপমেন্ট

পৃথিবীর বড় বড় কনসালটিং ফার্মগুলো একটা ডেস্কে কাজ করে না। কেউ ইজরায়েলে বসে ডেটা সংগ্রহ করে ভারতের অফিস থেকে ডেটা নিয়ে মডেল তৈরি করে। ভার্চুয়াল টিম তৈরি করে নিজেকে ঠান্ডা রাখতে হবে।

 

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 325 views. Thank You for caring my happiness.

নেতৃত্ব বিকাশে যে TED Talk-গুলো আপনার কাজে লাগবে

কোরাতে ভালো অভ্যাসগুলোর একটি হিসেবে পেয়েছিলাম, প্রতিদিন কোন না কোন বিষয়ে টেড টক শোনা। আমি ইংরেজিতে বেশ ভজগৌড় বলে প্রতিদিন টেডে কান পাতি। সেই হিসেবে গেল ১ বছরে বেশ বড় সংখ্যার টেড টক শুনেছি। সেখান থেকে ৭টি সেরা টেড টকের তালিকার করলাম যা নেতৃত্ব বিকাশে কাজে দেবে মনে হয়। যদিও আমি লিডার না, তারপরেও জানতে পড়তে দোষ কোথায়!

১. ড্রিউ ড্যুডলে: এভরিডে লিডারশীপ
এই TED Talk-টি দেখলে আপনি ললিপপ মোমেন্ট নামের শব্দদ্বয়ের সঙ্গে পরিচতি হবে। ললিপপ মোমেন্ট এভরিডে লিডারশীপের একটি আলোচিত দিক। এর অর্থ হচ্ছে, আমরা যখন কাউকে ললিপপ বা চকলেট দেই তখন তার উপর কতটা প্রভাব ফেলে তা আমরা জানি না। আবার যিনি ললিপপ দেন তাকেও আমরা বলি না আমরা ললিপপ পেয়ে কতটা খুশি হই। এভরিডে লিডারশীপ হচ্ছে এমন একটি স্টাইল যেখানে বলা হয় আমাদের খুব ছোট দৃষ্টিভঙ্গি বা আচরণ অন্যকে বদলে ফেলতে উৎসাহ দেয়। লিডার যে কেউ হতে পারেন, তাকে যে ফেমাস হতে হবে এমন কোন কথা নেই।

২. ফিল্ডস উইকার-মিউরিন: লার্নিং ফ্রম লিডারশীপ’স মিসিং ম্যানুয়াল
সব কিছুই আমরা বই কিংবা ম্যানুয়াল পড়ে জানার চেষ্টা করি। সাইকেল কি ম্যানুয়াল দেখে পড়ে শেখা যায়? যতক্ষণ না আপনি সাইকেল নিয়ে মাঠে নামবেন ততক্ষণ সাইকেল চালানো শিখবেন না। লিডারশীপ বিষয়ে তেমন কোন ম্যানুয়াল বুক নেই। ম্যানুয়ালের বদলে আপনার চারপাশের মানুষের সমস্যা সমাধানের উপায়কে অনুপ্রেরণা হিসেবে ধরতে পারেন।

৩. সাইমন সাইনেক: হাউ গ্রেট লিডার্স ইন্সপায়ার অ্যাকশন
স্টিভ জবস নিজে প্রযুক্তিবিদ ছিলেন না, সরাসরি অর্থে কোডিং জানতে না আবার ডিজাইনিংয়ের ওপর ভালো পড়াশোনাও ছিল না তাঁর। স্টিভ জবস অ্যাপল কম্পিউটার্সে নিজের একটা আইডিওলজি ছড়িয়ে ছিলেন। তার কর্মীদের ওপর তার ছিলেন অগাধ নিয়ন্ত্রণ। বিজনেজ লিডার হিসেবে স্টিভ জবস ছিলেন দারুণ ম্যানেজার।

৪. ড্রেক সিভার্স: হাউ টু স্টার্ট অ্যা মুভমেন্ট
যারা স্টার্টআপ রিলেটেড বই পড়েন তারা সিডি বেবির কেইসের সঙ্গে পরিচিত। সেই সিভি বেবির প্রতিষ্ঠাতা ড্রেক সিভার্স। একটি ৩ মিনিটে নাচের ভিডিও দেখানো হয় এই টেড টকে। একজন সাধারণ মানুষ নাচতে নাচতে কিভাবে বিশাল মুভমেন্ট তৈরি করেন সেটাই ছিল এই টেড টকে।

৫. এমি কাডি: হাউ বডি ল্যাঙ্গুয়েজ শেপস হু ইউ আর
লিডারশীপ আর পাওয়ার পজিং নিয়ে বিভিন্ন বিষয় এই টেড টকে তুলে ধরা হয়েছে।

৬. টনি রবিন্স: হোয়াই উই ডু হোয়াট উই ডু

৭. স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টাল: লিসেন, লার্ন, দেন লিড
ফোর স্টার জেনারেল স্ট্যানলি সেনাবাহিনী জীবনের বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে লিডারশীপের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 765 views. Thank You for caring my happiness.

[unpost] আইপিডিসি ফিন্যান্সের সঙ্গে শেরিল স্যান্ডবার্গের ননপ্রফিট

শেরিল স্যান্ডবার্গের নাম সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচিত। ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা, সিওও তিনি। কয়েক বছর আগে তিনি নারীদের এগিয়ে যাওয়ার জোর বাড়াতে তৈরি করেন লিন ইন। বাংলাদেশে ২০১৫ সালে আমরা লিন ইন বাংলাদেশ চ্যাপ্টার চালু করি। টুকটাক সেমিনার, ওয়ার্কশপের মাধ্যমে লিন ইন বাংলাদেশ কর্পোরেট দুনিয়ার নারীদের তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
আইপিডিসি ফিন্যান্স গেল বছর ধরে জাগো উচ্ছ্বাসে স্লোগানে নারীদের জন্য নানান সিএসআর ঘরণার কাজ করছে। সেই কাজের অংশ হিসেবে তারা মনের বন্ধুর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে বিভিন্ন ওয়ার্কশপ আয়োজন করছে। লিন ইন বাংলাদেশ সেই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত মাস থেকে।


আইপিডিসি ফিন্যান্সের সিইও মোমিনুল ইসলামের সঙ্গে আমার তেমন ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। আইবিএর অ্যালামনাই হিসেবে নামডাক আছে তাঁর। আইপিডিসি ফিন্যান্সের উইকিপিডিয়া নিয়ে টুকটাক সংশোধনের পরে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল। লিন ইনের বাংলাদেশে কাজ নিয়ে তাঁর ও তার কমিউনিকেশন টিমের বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। প্রায় ১২ মাসের একটা বিশাল প্ল্যান নিয়ে মাঠে নেমেছেন তাঁরা। দেখা যাক, কতদূর পৌছায় লিন ইন ননপ্রফিটের কাজ।


এর বাইরে লিন ইন বাংলাদেশের আর প্ল্যান আছে:
আগামী মে মাসে নারী সচিব বা সেই পদমর্যাদার ব্যক্তিদের নিয়ে একটা বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরির প্ল্যান আছে লিন ইন বাংলাদেশের।
দেশের নারী পাইলটদের এক করা যায় কিনা সে বিষয়ে ভাবনা চলছে।
সিংগেল মাদার্সদের নিয়ে নেটওয়ার্কের কাজ বড় করতে হবে।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 525 views. Thank You for caring my happiness.

গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং-যে বই কিনলে ঠকবেন!

প্রশ্ন: মানুষ কেন বই পড়ে?
স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উত্তর দেবেন, পরীক্ষায় পাশের জন্য। মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার উত্তর দেবেন, মেধাবিকাশের জন্য। হুমায়ুন আহমেদ বেঁচে থাকলে উত্তর দিতেন, লেখকরা কি ছাতা লেখেন তা জানার জন্য।
বই আসলে দুই কারণে পড়া হয়, কোরাতে এক উত্তর থেকে যা জেনেছি। প্রথম কারণটি হচ্ছে সাহিত্যিক মূল্যবোধ কিংবা আগ্রহ নিবারণের জন্য। আর দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে স্কিল ডেভলপমেন্টের জন্য। যেমন হ্যারিপটারের একটি বই যখন আমেরিকান কিংবা ব্রিটিশ কেউ পড়ে সে হচ্ছে বইটির সাহিত্যিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে। এই মূল্যবোধের সঙ্গে গল্প, কাহিনী আর সৃজনশীলতার সম্পর্ক আছে। আর অন্য দিকে সেই হ্যারিপটারের বই যখন বাংলাদেশি কোন কিশোর পড়ে সে সাহিত্য+স্কিল দুটো কারণেই পড়ে। ইংরেজি বইটি পড়লে নিজের ইংরেজি দক্ষতা বিকাশের দারুণ সুযোগ তৈরি হবে অবচেতন মনেই। একারণে ইংরেজি বই কিংবা ভিন্নভাষার বই পড়াকে স্কিল বিকাশের একটা ধাপ হিসেবে অনেক স্মার্ট লোকেরা মনে করেন। আমিও ইদানিং লোকজনকে ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদের বই সরাসরি পড়তে নিরুৎসাহিত করি। একই সঙ্গে যদি সাহিত্যের মজা+স্কিল বিকাশের সুযোগ থাকে তাহলে সরাসরি ইংরেজি বই পড়তেই হবে। দ্য অ্যালকেমিস্টের বাংলা বই আর ইংরেজি বই দুটো দুই দুনিয়ার স্টাইলে ছাপা হয়েছে এটা বলার অবকাশ রাখে না।

ছবিসূত্র: রংপাতা


গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং বইটির সত্যিকার অর্থে কোন সাহিত্যিক ভ্যালু নেই, শুধু মুনির হাসানের কথা বলার স্টাইলের লেখনি পাওয়া যাবে। কিন্তু বইটি স্কিল ডেভলপমেন্টের সোর্স হিসেবে বেশ কার্যকর একটি বই বলা যায়। মার্কেটিং বিষয়ে দুনিয়ার অনেক রেফারেন্স আছে বইটিতে। গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং নিয়ে গেল ২/৩ বছর বেশ মাতামাতি আছে প্রযুক্তির দুনিয়াতে। বাংলাদেশি হিসেবে আমরা সে সবের খোঁজ রাখিই না বলা যায়, বইটি সে সব অনেকগুলো গল্পের এক সংকলন।

আরও পড়ুন: মুনির হাসান ২০১৮ সালে যে বই পড়তে বলেন

বইটির সাফল্য:
১. এখন তো আমরা ১০ সেকেন্ডের মধ্যে অনেক তথ্যই ভুলে যাই। বইটি পড়লে অনেক কেইস বেশ কিছুদিন মনে থাকবে।
২. বাংলাদেশে অনেক স্টার্টআপ নিজেদের মার্কেটিংয়ের জন্য বইটি পড়লে মুনির হাসানকে পরামর্শক বা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিলে যা উপকার পাবেন তা জানতে পারবেন।


বইটির দুর্বলতা:
১. অনেকগুলো কেইস স্টাডি পাওয়া যাবে, যা আসলে সেকেন্ড টাইম অনুসরণ করলে কি হবে তা বলা মুশকিল।
২. বইটি শেষ করলে কি কি জানি বাদ পড়লো বলে পাঠকের মনে অনেক প্রশ্ন আসবে।
৩. মুনির হাসানের পোস্ট যারা ফেসবুকে অনুসরণ করেন তাদের জন্য বইটি রিভিশন হবে!
অতএব, বই কিনলে ঠকবেন!

(এই পোস্টটি লেখার একটাই কারণ! মুনির হাসান তার বইয়ের রিভিউ দিয়ে কিছু লিখলেই শেয়ার দেন! সেই শেয়ারে তার লাখখানেক ফলোয়ার ওয়েবসাইটে আসে। আমার সাইটে গেল কয়েকদিন লোকজন নাই বললেই যে চলে, আকাল। আকাল কাটানোর জন্য পোস্টটা লেখা। আমি শুধু শিরোনামে গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং লিখলেই মুনির হাসান পোস্টটি শেয়ার করবেন, তারপরেও যারা কষ্ট করে আসবেন তাদের জন্য বইটি সম্পর্কে ২/৩ লাইন লিখলাম!)

আরও পড়ুন: ইংরেজি থেকে অনুবাদ বই পড়া বোকামি, সময় নষ্ট

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,542 views. Thank You for caring my happiness.

LPG গ্যাস সিলিন্ডারের ব্র্যান্ডিং নিয়ে আমি যা করতাম

আমাদের দেশের খুব স্বাভাবিক একটা ট্রেন্ড হচ্ছে কোন একটি পণ্য বাজারে আসলেই সেটার কপিক্যাট পণ্যে বাজার ছয়লাব হয়ে যায়। সেটা জিরা পানি থেকে শুরু করে রাইড শেয়ারিং অ্যাপসগুলোর দিকে তাকালে সহজেই বোঝা যায়। এই পোস্টের মাধ্যমে আমাদের দেশের LPG গ্যাস সিলিন্ডারের ব্র্যান্ডিং কমিউনিকেশন নিয়ে কিছু শব্দ প্রকাশ করতে চাই।
(যেহেতু বিজ্ঞাপন, ডকুমেন্টারি আর আইএমসি নিয়ে ঘাটাঘাটির আগ্রহ আছে আমার সেই প্রেক্ষিতেই নানান সময়ে নানান বিষয়ে কাল্পনিক ব্র্যান্ডিং নিয়েই লেখালেখি আমার। বিষয়টা সিরিয়াস না, আবার অনেকক্ষেত্রেই হাস্যকর মনে হয়-কিন্তু দুনিয়ার সব বড় বড় ব্র্যান্ডিং সাফল্যের শুরু নাকি ছোট কিন্তু সাধারণ আইডিয়া থেকে বলে এসব লেখালেখি আমার।)

আরও পড়ুন: বেলিসিমোর ব্র্যান্ডিং নিয়ে আমি যা করতাম

কেন এই পোস্ট?
টেলিভিশনের একটি অ্যাড দিয়ে এই পোস্টের কেন লিখছি তা প্রকাশ করতে চাই। একটি গ্যাস সিলিন্ডার কোম্পানির টিভি অ্যাডের মডেল ২০ বছর বয়সী বধু মেহজাবিন। মেহজাবিন অবশ্যই মডেল হিসেবে জনপ্রিয় কিংবা আলোচিত, তাকে সেই অ্যাডে গৃহিনী হিসেবে প্রকাশের কোন গাণিতিক যুক্তি কেউ বোঝাতে পারবে না। বিষয়টা এমন যে, তৌকির আহমেদ সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্টিলমিল আর রড নির্মাণ সামগ্রীর মডেল হয়েছেন। টাইগার উডসের কেলেঙ্কারির পরে নাইকি সরে এসেছিল নিজের ব্র্যান্ড ইমেজ হারানোর ভয়ে। সেই প্রেক্ষিতে বিষয়টি ভাবা যায় না?
ব্র্যান্ডিং নিয়ে আমি যা করতাম
আমি যেহেতু ফ্রিল্যান্সার লেখক সেহেতু আমি লিখতে বসলে কিংবা পরিকল্পনা দিলে আমার গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে নাসা কিংবা স্পেস এক্সের রকেট চালানোর বুদ্ধি দিতেই পারি। তারপরেও ঢাবি আইবিএর আইএমসি/ব্র্যান্ডের স্যার মুশতাক স্যারের সঙ্গে গল্প করতে করতে কিছু বাস্তব প্ল্যান বের করেছিলাম।
হেলথ ক্লাব: শহরের মধ্যবিত্ত সমাজে ধীরে ধীরে গ্যাস সিলিন্ডার প্রবেশ করছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলো স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার চেষ্টা করে। এলাকা এলাকায় পার্ক ধরে গ্যাস সিলিন্ডারকে সুস্বাস্থ্যরে সহযোগি ইমেইজে ফেলে হেলথ ক্লাব পরিচালনা করতাম। কমিউনিটি পাওয়ার বিষয়টা বাংলাদেশে তেমন প্র্যাকটিস হয় না, কিন্তু একটা কমিউনিটি প্রতিষ্ঠা করতে পারলে গ্যাস সিলিন্ডার ব্র্যান্ডের ইতিবাচক অবস্থান তৈরি হবে।
বাগান: গ্যাস সিলিন্ডারগুলোর দেখতে ড্রাম সাইজের বলে ঢাকাশহরের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাসমান বাগান করা যায়। যেখানে সিলিন্ডারেই থাকবে গাস। ব্যবহৃত পুরোনো সিলিন্ডারের সবুজ ব্যবহার নিশ্চিত অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
রোড ডিভাইডার: ঢাকার রোড ডিভাইডার হিসেবে বিএসআরএম সিমেন্টের ছোট ছোট বার ব্যবহার করে। গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার বিকল্প ভাবনা হতে পারে।
ভ্রাম্যমান ফিলার: এরই মধ্যে আমেরিকায় গাড়িতে গ্যাস দেয়ার জন্য বড় বড় ট্যাংক অনেক শহরে ভ্রাম্যমান হয়ে ঘুরছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ফিলারের জন্য ভ্রাম্যমান ছোট ছোট ট্রাক পরিবহন সেবা চালু করা যেতে পারে।
এলিট ক্লাব: ঢাকা শহরের বাড়িওয়ালারা যারা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে তাদের নিয়ে এলিট ক্লাব একটি বিকল্প ভাবনা হতে পারে। ঢাকা শহরে বসবাস করা ৬৮ শতাংশ মানুষ ভাড়া বাসায় থাকে। এই শতাংশ হিসেবে বাজারটা অনেক বড় না?
কনটেন্ট মার্কেটিং: রুপচাঁদা রান্নার অনুষ্ঠানের জন্য রিয়েলিটি শো করে একটা জায়গায় আসতে দারুণ সাফল্য পেয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার তো রান্নাঘরেরই বিষয়। সেই হিসেবে গ্যাস সিলিন্ডার ব্র্যান্ড যে কোন রান্নার শোতে যেতেই পারে।
পানি মার্কেটিং:অন্য ব্র্যান্ডের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে নিজের গ্যাস সিলিন্ডার গ্রাহক আনতে কোন একটা পানির ফিল্টার কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা যায়। পানির ফিল্টার আর রান্নার গ্যাসে মধ্যবিত্ত লোকজন বেশ অর্থ খরচ করে ইদানিং।
ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা: একার মডেল
ডেভিড একারের কথা ছিল, “A company’s brand is the primary source of its competitive advantage and a valuable strategic asset.” দিন শেষে আপনার গ্যাস সিলিন্ডারের কোয়ালিটিই আপনার কোম্পানির Quality, Trust & Expertise প্রতিষ্ঠা করবে। গ্যাস সিলিন্ডারের কোর ভ্যালু trustworthiness না থাকলে ব্যবহারকারী ধরে রাখা যাবে না। এরসঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডারকে পরিবেশবান্ধব বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 708 views. Thank You for caring my happiness.

ইংরেজি থেকে অনুবাদ বই পড়া বোকামি, সময় নষ্ট

টাইটানিক সিনেমার বাংলা ভাষান্তর দেখবেন নাকি মূল ইংরেজি সংস্করণ দেখে সিনেমা দেখার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় নিজের দক্ষতা বাড়াবেন। এক ঢিলে দুই পাখির মারার মতই মূল সংস্করণের ইংরেজি বই পড়ুন, জ্ঞান অর্জনও হবে দক্ষতা অর্জনও হবে। এই পোস্টটি বাংলা অনুবাদ সাহিত্যের প্রতি নেতিবাচক ভাবনা থেকে লেখা নয়, বরঞ্চ ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ বই পড়ার মাধ্যমে সময় নস্ট না করার একটা পোস্ট ভাবতে পারেন।

“প্রশ্ন: আমরা কেন বই পড়ি?”

এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকজনের কাছ থেকে অনেক রঙের উত্তর পাওয়া যাবে। কেউ বলবে জানার জন্য, কেউ বলবে জ্ঞান বিকাশের জন্য, কেউ বলবে সময় কাটানোর জন্য। আরেকটু স্পেসিফিকলি বললে, বিনোদন, জ্ঞান অর্জন আর দক্ষতা অর্জনের জন্যই আমরা বই পড়ি। জ্ঞান অর্জন আর দক্ষতা অর্জনের জন্য যদি বই পড়া অন্যতম কারণ হয় তাহলে ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদের যে কোন বই পড়াই বোকামি। নিছকই বোকামি বলতে চাই।
সাবেক ভারতীয় কূটনৈতিক শশী থারুর সম্প্রতি মিরর নাও’র সাংবাদিক ফায়ে ডি’সুজাকে এক্সটিনসিভ ভোকাবুলারি ব্যবহারের কারণ জিজ্ঞেস করেছিলেন। শশী থারুরের ইংরেজি শব্দ ব্যবহার রীতিমতো ভারতীয় তরুণদের কাছে সারকাজম। শশী থারুর মিরর নাওকে জানিয়েছেন, “ছোটবেলায় এমন এক পরিবেশে আমি বড় হয়েছি, যেখানে ছিল না ল্যাপটপ, যেখানে ছিল না ইলেকট্রিসিটি। প্রচুর বই পড়ার কারণে আমার শব্দ ভান্ডার বড় হয়। আমি শব্দ শেখার জন্য কোন অভিধান কোনদিন পড়ে দেখে নি।”

শশী প্রচুর ইংরেজি বই পড়তেন বলে তার শব্দ ভান্ডার এত দারুণ মনে হয় আমাদের। এক দশক আগেও ইংরেজি বই কিনে পড়ার চল ছিল না আমাদের। এখন অনেক ইংরেজি বই নিলক্ষেতের কল্যানে আমরা কম দামে পাই। বই পড়ার কারণ যদি দক্ষতা বিকাশই হয় তাহলে ইংরেজি বই অনুবাদ না পড়াই ভালো!

বই মেলা আর রকমারিতে আপনারা টাইম ম্যানেজমেন্ট, ইট দ্যাট ফ্রগ, থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচসহ হ্যারিপটার, শালর্কের বই অনুবাদ পাবেন। কম দামে দারুণ বই, কিন্তু অনুবাদের মান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যাচ্ছে তাই। আমি ছোট বেলা ডেল কার্নেগির বইয়ের বাংলা অনুবাদ পড়েছিলাম, আবার ২০১৫ সালে ইংরেজি বই পড়েছি। পড়ার পরে টের পেয়েছি বাংলা কোথায়, আর ইংরেজি কোথায়! জাতি হিসেবে এমনিতেই আমাদের ইংরেজির অবস্থা নড়বড়ে। বর্তমান কর্পোরেট দুনিয়া আর ইংরেজির প্রভাবের কারণে ইংরেজিতে ভালো করা মানে যে নিজের কমিউনিকেশন দক্ষতা বেশ ভালো এটা না বললেও চলে। সে ক্ষেত্রে ইংরেজি অনুবাদ না পড়ে মূল বই পড়ে যদি ইংরেজি দক্ষতা বাড়ে তা খারাপ না তো!

ধরেই নিলাম,আপনি হয়তো বেশি ইংরেজি বোঝেন না, সেক্ষেত্রে পড়া শুরু করুন। এক পৃষ্টা হয় তো বুঝবেন না, ৪/৫ পৃষ্টা পড়ার পরে এক-লাইন অন্তত বুঝতে পারবেন। আরও পড়লে আরও বুঝতে পারবেন। যখন ২০১৫ সালে ডেলিভারিং হ্যাপিনেস বইটা পড়া শুরু করি, তখন শুরুর দিকে অনেক শব্দের অর্থ বুঝি নাই। দিন কয়েক পড়েই শব্দ হয়তো বুঝি নাই, কিন্তু যে লাইন পড়ছি তা বুঝতে পারছি। এভাবে ইংরেজিতে বেশ ভালো করা যায়।

একটি ইংরেজি বইয়ের বাংলা অনুবাদ পড়তে ১ মাস লাগে, প্রতিদিন ১ ঘণ্টা পড়লে মোট সময় লাগবে ৩০ ঘন্টা। অনুবাদ পড়ার পরে আপনি ৩০ ঘণ্টায় শুধু বইটি পড়েই সাহিত্যিক দিকই অর্জন করতে পারবেন। এখন এক ঢিলে বই পড়ার মত ইংরেজি বই পড়লে ৩০ ঘণ্টায় শুধু বই-ই পড়া নয়, সঙ্গে ইংরেজি ভাষাতেও দক্ষতা বাড়বেই। সময় এমনিতেই আমাদের কম, সেই প্রেক্ষিতে কম সময় বই পড়া+ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ার সুযোগ মিললে ছাড়বেন কেন?

আমার ভাগ্নে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে হ্যারিপটার বই পড়তো, আমি অনুবাদ পড়তাম। বাংলা অনুবাদে আমার বাংলা দক্ষতা তো তেমন বাড়ে নাই, কিন্তু যখন ইংরেজি বই পড়া শুরু করি তখন টুকটাক কিন্তু ইংরেজি বোঝা শুরু করি। এখন farrago অর্থ না বুঝলেও কোন লাইনে ব্যবহার হতে দেখলে তা বুঝতে পারি।

অনুবাদ সাহিত্য অবশ্যই পড়া ভালো। প্রগতি প্রকাশনের রুশ বইয়ের বাংলা আমরা এক সময় পড়েছি। স্প্যানিশ কিংবা ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের ভাষার অনুবাদ বই অবশ্য পড়বেন, কিন্তু ইংরেজি বইয়ের অনুবাদ পড়ে নিজেকে ধীরস্থির প্রমাণের কোন মানে নাই।

আরও পড়ুন: একটু বেশিই যেভাবে বেশি বই পড়বেন

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,778 views. Thank You for caring my happiness.

সারভাইভাল গাইড: বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম ৬ মাস কিভাবে টিকে থাকবেন

(‌প্রথমেই একটা সতর্কবার্তা, “এই পোস্টটি লেখার জন্য অনেক জ্ঞানী-গুনির বাক্য ও বোধ ব্যবহার করা হয়েছে। সহজাত বাঙালিয়ানার কারণে অন্যকে ছোট করার প্রবণতা থেকে লেখা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অসম্মান কোনভাবেই কাম্য নয়।”)

নানান ঘাটের নানান মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাদের নিচে পড়তে আসে। নানান মন, নানান রঙের শিক্ষার্থীরা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখে। ভর্তি পরীক্ষা পরবর্তী কার্যক্রম শেষে ক্লাস শুরুর দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় চারবছরের রেস-ঘোড়ার দৌড়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্টিফিকেটের জোর আর ব্রেইনের ধার দিয়ে ভর্তি হওয়ার পরে বেশ সংশয়ের কিছু জায়গা অনেক শিক্ষার্থীর থেকে যায়। সবাই তো ঢাকা কিংবা নামী স্কুল বা পরিবেশ থেকে আসে না। পরিবেশের প্যারামিটারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রথম বর্ষে দুভাগে ভাগ করা যায়: এক দল নুন, আরেক দল লবণ। এক দল ঝোল, আরেক দল শুরা! একদল ফারামগেট, আরেকদল ফার্মগেট।-এটা নিত্য সত্য।
সবাই যেহেতু একই পরিবেশ থেকে আসে না, সেহেতু ভিন্নতা থাকেই। এক কথায়, যারা ঢাকার বাইরে থেকে আসে শহর যাদের কাছে প্রথম তাদের জন্যই এই লেখা। এই লেখা বেশ Order Style-এ লেখা। Attacking স্টাইলে লেখা বলে কোন ক্ষেত্রে খারাপ লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে একটা অনুরোধ করতে পারি, সবাইকে তো সব শিখে আসে না। বিষয়টা অনেকটা কমন সেন্সের মত-দেখে শিখতে হয়, নতুবা ঠেকে শিখতে হবেই। যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জড়তা বিভ্রাট কাটানোর জন্য এই লেখার চেষ্টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে বিসিএস ফরেন সার্ভিসের বন্ধু, বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় ভাই-বন্ধু, সাংবাদিক, পুলিশ আর ব্যাংকে চাকরি করা এমন ৪০+ জনের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা থেকেই এই পোস্টটি দাঁড়ানো। 
 

প্রথম মাস

২. ২টি সিনেমা দেখতে হবে
৩. একটু ডকুমেন্টারি দেখতে হবে
৪. শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের জন্য প্রতিদিন আয়নার সামনে ২ মিনিট টেলিভিশন সংবাদ পড়ার স্টাইলে কথা বলে যেতে হবে
৫. শুদ্ধ ইংরেজি শেখার জন্য আয়নার সামনে পরিচিত কোন একটি বিষয়ে ৫ মিনিট অনবরত ভুল-ভাল জড়তা নিয়ে কথা বলে যেতে হবে

দ্বিতীয় মাস

১. ২টি বই পড়তে হবে
২. ২টি সিনেমা দেখতে হবে
৩. একটু ডকুমেন্টারি দেখতে হবে
৪. শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের জন্য প্রতিদিন আয়নার সামনে ২ মিনিট টেলিভিশন সংবাদ পড়ার স্টাইলে কথা বলে যেতে হবে
৫. শুদ্ধ ইংরেজি শেখার জন্য আয়নার সামনে পরিচিত কোন একটি বিষয়ে ৫ মিনিট অনবরত ভুল-ভাল জড়তা নিয়ে কথা বলে যেতে হবে
৬. কম্পিউটার শেখার জন্য প্রতিদিন মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে
৭. প্রতিদিন ঢাকার শহরে নতুন ২টি রাস্তায় হেটে চলতে হবে! থিংকিং লাইক অ্যা ট্র্যাভেলার!
 

তৃতীয় মাস

১. ২টি বই পড়তে হবে
২. ২টি সিনেমা দেখতে হবে
৩. একটু ডকুমেন্টারি দেখতে হবে
৪. শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের জন্য প্রতিদিন আয়নার সামনে ২ মিনিট টেলিভিশন সংবাদ পড়ার স্টাইলে কথা বলে যেতে হবে
৫. শুদ্ধ ইংরেজি শেখার জন্য আয়নার সামনে পরিচিত কোন একটি বিষয়ে ৫ মিনিট অনবরত ভুল-ভাল জড়তা নিয়ে কথা বলে যেতে হবে
৬. কম্পিউটার শেখার জন্য প্রতিদিন মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে
৭. প্রতিদিন ঢাকার শহরে নতুন ২টি রাস্তায় হেটে চলতে হবে!
৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কোন একটি অপরিচিত সংগঠনের সদস্য হতে হবে
৯. নিজের কমিউনিকেশন দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজতে হবে
১০. নিজের সত্যিকারের আগ্রহী কোন দিকে তা খুঁজতে হবে
 

চতুর্থ মাস

২. ২টি সিনেমা দেখতে হবে
৩. একটু ডকুমেন্টারি দেখতে হবে
৪. শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের জন্য প্রতিদিন আয়নার সামনে ২ মিনিট টেলিভিশন সংবাদ পড়ার স্টাইলে কথা বলে যেতে হবে
৫. শুদ্ধ ইংরেজি শেখার জন্য আয়নার সামনে পরিচিত কোন একটি বিষয়ে ৫ মিনিট অনবরত ভুল-ভাল জড়তা নিয়ে কথা বলে যেতে হবে
৬. কম্পিউটার শেখার জন্য প্রতিদিন মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে
৭. প্রতিদিন ঢাকার শহরে নতুন ২টি রাস্তায় হেটে চলতে হবে!
৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কোন একটি অপরিচিত সংগঠনের সদস্য হতে হবে
৯. নিজের কমিউনিকেশন দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজতে হবে
১০. নিজের সত্যিকারের আগ্রহী কোন দিকে তা খুঁজতে হবে
১১. মেন্টর খুঁজতে হবে
১৩. প্রেজেন্টেশন তৈরি করা শিখতে হবে

পঞ্চম মাস

১. ২টি বই পড়তে হবে
২. ২টি সিনেমা দেখতে হবে
৩. একটু ডকুমেন্টারি দেখতে হবে
৪. শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের জন্য প্রতিদিন আয়নার সামনে ২ মিনিট টেলিভিশন সংবাদ পড়ার স্টাইলে কথা বলে যেতে হবে
৫. শুদ্ধ ইংরেজি শেখার জন্য আয়নার সামনে পরিচিত কোন একটি বিষয়ে ৫ মিনিট অনবরত ভুল-ভাল জড়তা নিয়ে কথা বলে যেতে হবে
৬. কম্পিউটার শেখার জন্য প্রতিদিন মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে
৭. প্রতিদিন ঢাকার শহরে নতুন ২টি রাস্তায় হেটে চলতে হবে!
৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কোন একটি অপরিচিত সংগঠনের সদস্য হতে হবে
৯. নিজের কমিউনিকেশন দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজতে হবে
১০. নিজের সত্যিকারের আগ্রহী কোন দিকে তা খুঁজতে হবে
১১. মেন্টর খুঁজতে হবে
১২. ইমেইল লেখা শিখতে হবে
১৩. প্রেজেন্টেশন তৈরি করা শিখতে হবে
১৫. নেতিবাচক অবস্থা কাটানো শিখতে হবে
 

ষষ্ঠ মাস

১. ২টি বই পড়তে হবে
২. ২টি সিনেমা দেখতে হবে
৩. একটু ডকুমেন্টারি দেখতে হবে
৪. শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের জন্য প্রতিদিন আয়নার সামনে ২ মিনিট টেলিভিশন সংবাদ পড়ার স্টাইলে কথা বলে যেতে হবে
৫. শুদ্ধ ইংরেজি শেখার জন্য আয়নার সামনে পরিচিত কোন একটি বিষয়ে ৫ মিনিট অনবরত ভুল-ভাল জড়তা নিয়ে কথা বলে যেতে হবে
৬. কম্পিউটার শেখার জন্য প্রতিদিন মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে
৭. প্রতিদিন ঢাকার শহরে নতুন ২টি রাস্তায় হেটে চলতে হবে!
৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কোন একটি অপরিচিত সংগঠনের সদস্য হতে হবে
৯. নিজের কমিউনিকেশন দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজতে হবে
১০. নিজের সত্যিকারের আগ্রহী কোন দিকে তা খুঁজতে হবে
১১. মেন্টর খুঁজতে হবে
১২. ইমেইল লেখা শিখতে হবে
১৪. ফরমাল ড্রেস পড়া শিখতে হেব
১৫. নেতিবাচক অবস্থা কাটানো শিখতে হবে
১৬. ডিজাইনিং কিংবা প্রোগ্রামিংয়ে নজর দিতে হবে
১৭. সাইকেল চালানো কিংবা ব্যায়াম শুরু করতে হবে
১৮. নোট নেয়া শিখতে হবে
১৯. কোন বিষয়ে ওস্তাদ হয়ে ওঠতে হবে
২০. শহুরে কালচারগুলো ধীরে ধীরে আয়ত্ব করতে হবে
(আরও চলবে, যদি আরও রেসপন্স পাই।)
(লেখার জন্য কৃতজ্ঞতা: ফরেন ক্যাডার পারুল, ব্যাংকার গোলাম রাব্বী, আজহারুল ইসলাম, গায়ক জয় ভাই, ফটোগ্রাফার প্রীত রেজা ভাই, গ্রাফিক আর্টিস্ট কাজী শশী ভাই, এমআইটির নাজিয়া, স্ট্যানফোর্ডের মুন, গণিত অলিম্পিয়াডের সুব্রত দা, ড্যাফোডিলের শিক্ষক বিপাশা আপা, ঢাবি শিক্ষক সাইমুম, এআইইউবির শিক্ষক সাবরিনা-প্রমুখ)
 
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,859 views. Thank You for caring my happiness.