রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনার মত হতে চাইলে যে বই পড়তে হবে

একটা সময় জাঁদরেল রাজনীতিবিদরা রাজবন্দী থাকতেন, তখন তারা বই পড়তেন কিংবা লিখতেন। এখন রাজবন্দী থাকার তেমন চল-ই নেই। নেলসন ম্যান্ডেলা কিংবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখালেখি কিন্তু রাজবন্দী থাকাকালীন সময়ে। রাজনীতিবিদরা নিজের চোখে যে দুনিয়া দেখেন তা বইপত্র থেকে খুঁজে নিতেন, বা নিজের আত্মজীবনীতে লিখতেন। এখন তো পড়ার চল-ই নাই, আর রাজনীতিবিদরা আসবেন কোথা থেকে? বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ বই পড়েন। হাসিনা: অ্যা ডটার’স টেল সিনেমার বিভিন্ন শুটিংয়ের ছবি যারা দেখেছেন তারা ব্যক্তি শেখ হাসিনার একটা বুকশেলফের ছবি দেখতে পাবেন, সেখান বই সম্পর্কে একটা সামান্য চিত্র দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বই পড়েন তার আরেকটা দিক হচ্ছে তার প্রায় ২৮টি বই আছে। কোন কোন বই সম্পাদিত, আবার কোন কোন বইয়ে নানা নিবন্ধ সংকলিত আছে। রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনার স্টাইল নিয়ে বাংলাতে তেমন বইপত্র নেই, বা খুঁজে পাওয়া যায় না। শেখ হাসিনার অনুকরণে যারা রাজনীতি করতে চান, বা আরও জানতে চান তারা নিচের বইগুলো পড়তে পারেন।

আরও পড়ুন:তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

গ্লিমসেস অব ওয়ার্ল্ড হিস্টোরি-পন্ডিত জহরাল নেহরু


“আমাদের এই যুগটাই ভিন্ন জাতের; এটা হচ্ছে মোহভঙ্গের যুগ, সন্দেহ সংশয় আর প্রশ্নজিজ্ঞাসার যুগ। প্রাচীন কালের যে-সব মতামত আর রীতিনীতি ছিল তার অনেকগুলোই এখন আর আমরা মেনে নিতে পারছিনা, তাদের উপরে আর আমাদের বিশ্বাস নেই- এশিয়াতে ইউরোপে আমেরিকাতে সর্বত্রই। অতএব এখন আমরা সন্ধানে ফিরছি নূতন পথের, সত্যের নূতনতর রূপের, আমাদের এই পরিবেশের সঙ্গে যে রূপটির সামঞ্জস্য অধিকতর স্পষ্ট হবে।”
১১৯৩ পৃষ্টার বইটিতে পন্ডিত নেহেরুর ২০০+ চিঠি সংকলিত আছে। কন্যা ইন্দিরা গান্ধীকে লেখা চিঠিগুলো পড়লেই বোঝা যায় ইন্দিরা গান্ধীর কৈশোরের সময়টায় বাবা কন্যার মনকে কতটা আলোকিত-আলোড়িত করেছিলেন। পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসের দারুণ সংকলন বলা যায় বইটিকে। শশী থারুরের মত বাগ্মী রাজনীতিবিদরা বইটি ভারতবর্ষের সকল মানুষের পড়া উচিত বলে মনে করে। কেউ কেউ বইটি পড়লে নাকি টাইম ট্র্যাভেল হয় বলে মনে করেন। ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে বইটি শেষ করেছিলাম। মুগ্ধতা নয়, চিঠি লেখা শিখেছি বইটি থেকে।

গানস, জার্মস, অ্যান্ড স্টিল: দ্য ফেটস অব হিউম্যান সোসাইটিজ


একটি বই ২ লাখের বেশি মানুষ শুধু অনলাইনে পড়েছে, তাই দেখে পড়া শুরু করি গানস, জার্মস, অ্যান্ড স্টিল বইটি। মানবসভ্যতার ১৩ হাজার বছরের ইতিহাস আছে বইটিতে। রাজনীতি বিষয়টা কি শুধুই রাজনীতি না সংস্কৃতি-বিজ্ঞান-আবেগের মিলমেশ? এসব প্রশ্নের তাত্বিক চিত্র আছে বইটিতে। ধৈর্য্য নিয়ে পড়তে হয়েছিল বইটিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যা পড়ানো হয়, তা অন্যভাবে বইটিতে পেয়েছি।
ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন: স্যামিউল পি হান্টিংটন
শুধু কি নিজের আদর্শের বই পড়তে হবে, অন্যরা কি ভাবছে তাও রাজনীতি করলে পড়তে হবে। পশ্চিমা সভ্যতা কেন দারুণ তা নিয়ে পশ্চিমারা কি ভাবছে তা জানতে ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন পড়তে হবে। বইটি প্রোপাগান্ডা আমলের বলে কিছু কিছু বিষয় অতিরঞ্জনই মনে হবে।

টিম অব রাইভালস


আব্রাহাম লিংকন লোকটা না থাকলে আমেরিকান ইতিহাস আলাদা হয়ে যেতো। কনফেডারেট আমেরিকা বলে একটা বিষয় আমরা বাস্তবে দেখতাম। সেই ১৮৬০ দশকে আব্রাহাম লিংকন আমেরিকাকে ভাঙন থেকে কিভাবে বাচিয়েছিলেন তা জানা যায় টিম অব রাইভালস বইতে। গেটিসবার্গের ভাষণটা কেন আলোচিত তা বইটা শেষ করে বুঝতে পারা যায়। লিংকন মুভিটা এই বইটা কেন্দ্র করে বানিয়েছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ।

দ্য সিংগাপুর স্টোরি

আমরা ৮ হাজার মাইল দূরের আমেরিকা নিয়ে রেফারেন্স টানি, কিন্তু ইউরোপের কথা আনি বিভিন্ন উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনায়। একটা ইউরোপীয় পরিত্যাক্ত কলোনি থেকে সিংগাপুর কিভাবে সিংগাপুর হলেন তার ত্রিমাত্রিক চিত্র আছে বইটিতে। রাজনীতি মানে যে আবেগের চেয়েও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা প্রয়োজন তা লিকুয়ানের লেখা থেকে জানা যায়। লি ছিলেন ছোট সিংগাপুরের জাতির জনক।

রিপাবলিক-দা আর্ট অব ওয়ার-দ্য প্রিন্স

“আই হেট রাজনীতি” প্রজন্ম এই তিনটে বইয়ের অডিও বই শুনতে পারেন। রাজনীতি যারা করেন তারা কি ভাবেন, কিভাবে ভাবেন তা বোঝার দারুণ তিনটে বই।

অর্থশাস্ত্র-ক্যাপিটাল-চাণক্য

সামান্য কয়েকটা বই, কোনটার বয়স হাজার বছর-এখনও কিভাবে দুনিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে তা ভাবা যায়? পৃথিবীর রাজনৈতিক স্বত্তা নিয়ে যারা ভাবেন তাদের জন্য পাঠ্যবই এগুলো।

১৯৮৪-এনিমেল ফার্ম

শুধুই কি নন-ফিকশন পড়তে হবে, কিছু ফিকশনে তো মানুষের রাজনীতি চেনা যায়, জানা যায়।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী-লং ওয়াক টু ফ্রিডম


রাজনীতিবিদরা দু রকমের হন। জন এফ কেনেডির মত ক্ষণজন্মা তারকা রাজনীতিবিদ আবার বটবৃক্ষের মতো বঙ্গবন্ধু বা মাদিবার মত বটবৃক্ষ-যেখানে সময়-সমাজ সভ্যতা সব একাকার হয়ে একবিন্দুতে এসে জমাট বাঁধে। সেই বিন্দুকে কিভাবে অনেক বিন্দুতে পরিণত করতে হয় তা শেখাটা আর্টই বটে!

 

অনলাইন ঘেঁটে দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহাশ্বেতা দেবী, সৈয়দ মুজতবা আলীর বই বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়েন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 304 views. Thank You for caring my happiness.

যা আইবিএ-ঢাবি, এনএসইউ বা হার্ভার্ড বিজনেজ স্কুল শেখায় না

মাঝেমধ্যে কিছু পপ বই পড়া দরকার, নইলে সিরিয়াস বইপত্রে মাথা গরম হয়ে যায়। গেল দুসপ্তাহের ব্যস্ততায় আমার শেষ হয়েছে Mark H. McCormack-এর What They Don’t Teach You at Harvard Business School: Notes from a Street-Smart Executive। হার্ভার্ড বিজনেজ স্কুলে কি কি শেখায় না তা নিয়ে লিখেছেন Mark H. McCormack, যাকে আবার স্পোর্টস মার্কেটিংয়ের গুরুদের একজন ধরা হয়। Mark H. McCormack নিজে হার্ভার্ডে পড়েন নি, What They Don’t Teach You at Harvard Business School বইটার শিরোনাম দেখে তাকে হার্ভার্ড বিরোধী মনে হতেই পারে। দারুণ বিষয় হচ্ছে, What They Don’t Teach You at Harvard Business School বিষয়টি আসলে বিজনেজ স্কুলগুলোতে আরও কি কি নতুন বিষয় পড়ানো যেতে পারে তার একটা মনোলগ বলা যেতে পারে। বইটি পড়াশেষে আমার মনে হয়েছে বইটার কিছু পয়েন্ট নিয়ে একটা নোট দেয়া যায়। স্বভাবতই বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আইবিএ-ঢাবি, এনএসইউ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় বা এআইইউবির বিজনেজ স্কুলে আরও কি শেখানো যায় তা বলা যায় বইটি পড়ে।

আমেরিকায় বইয়ের কাটতে বাড়ানোর জন্য বইপত্রে কিছু পপশব্দ ব্যবহার করে, সেই হিসেবে What They Don’t Teach You at Harvard Business School বইটার পপ শব্দ হচ্ছে Harvard Business School, যেমনটা আমার পোস্টে আইবিএ-ঢাবি, এনএসইউ!

1) Reading other people, their body language, their preferences
যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান কিংবা দীর্ঘদিন ব্যবসা করছেন তারা অন্যদের খেয়াল রাখতে পারেন। MBA বা ব্যবসাসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খুব বড় আকারে ব্যবসা কৌশল, বিপণন বা ব্যবসা বাড়ানোর সাধারণ হিসেব আলোচনা করা হয়। খুব কমক্ষেত্রেই কাস্টমার বা ইউজারদের বিষয়টা তেমন নজর দেয়া হয় না। দুনিয়ার অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী কাস্টমারসেন্ট্রিক হওয়ার কারণে টিকে যাচ্ছেন দিব্যি। নাইকি কিংবা স্টারবাক্সের কথা আনা যায়। আমরা কোন কাজে গ্রাহকদের কথা তেমন গুরুত্ব দেই না। কাস্টমার সার্ভিস বিষয়টা আমাদের দেশে যেন পাত্তাই পায় না।

2) অন্যের জুতা পরে দুনিয়া দেখুন
বিজনেজ স্কুলে অন্যেরা কি ভাবে ভাবে, কেন ভাবে তা নিয়ে কৌশল জানার বুদ্ধি শেখানো উচিত। অন্যরা কিভাবে চিন্তা করে তা নিয়ে আমরা তেমন সায়েন্টিফিক ওয়েতে চিন্তা করি না। নিজেকে অন্যের জুতায় দাড়িয়ে ভাবনা সবারই শেখা উচিত। এতে নেগোশিয়েশনে দারুণ কাজে দেয়। বিষয়টা এখন এম্প্যাথেটিক বিষয়টার সংগে সম্পৃক্ত করা যায়।
((একশ বছর আগে আমেরিকায় সেলসের বিষয়ে অনেক ট্রেনিং শুরু হয়। দিন শেষে কোম্পানির সেলসের লোকেরাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মার্কেটিং কিংবা ম্যানেজমেন্টে যতটা স্মার্টলোক দরকার তার চেয়ে কৌশলী লোক দরকার সেলস বিভাগে। সেলসের লোকেরা অন্যরা কি চায় তা নিয়ে দারুণ মাথা খাটায়।))

৩) টাইম ম্যানেজমেন্ট
বিজনেজ স্কুলে স্ট্র্যাটেজি শেখায় কিন্তু টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কোন ধারণাই দেয় না। আমাদের স্কুলগুলো ধরেই নেয় যে, ম্যানেজার যে হতে চায় তার টাইম সেন্স থাকবে। টাইম সেন্স আর টাইম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে। তা শেখানো উচিত।
৪) সব কিছু নোট রাখতে হবে
প্রযুক্তির কল্যানে সব অটোমেটেড হয়ে গেলেও বিজনেজ স্কুলে যারা যান তাদের নোট টেকিং স্কিলে জোর দেয়া উচিত। যতই প্রযুক্তি থাকুক না কেন নোট টেকিং বা ভিজুয়াল নোট টেকিং এখনকার সিইও বা সিএক্সওদের বেসিক যোগ্যতার একটি।
৫) Dangers of short term thinking
লাইনে বোঝা যাচ্ছে কি বলা হচ্ছে। শর্টটার্মের প্রফিট লং টাইমে লস হতেও পারে।
৬)The importance of training – more than hiring
আমরা নিয়োগে যতটা মনোযোগ দেই ট্রেনিংয়ে ততটা মনোযোগ মনে হয় তেমন দেই না। বিষয়টা এমন, আইপিএলের দলে ক্রিকেটার কিনেই আমরা খুশি। তার জন্য ট্রেনিং কি আর লাগে?
৭) Ask questions – listen AGGRESSTIVELY, observe AGGRESSIVELY, talk less
বস ইজ রাইট বলে একটা বিষয় নির্বাহীদের কান দিয়ে মাথায় চলে যায়। বিষয়টা ভুল, প্রশ্ন করা শিখতে হবে।
৮) ২৫০০ লোক আপনার কোম্পানিতে কাজ করলে ২৫০০ ইগো কাজ করবে। ইগো ম্যানেজমেন্ট আর্ট।

Mark McCormak সেই ১৯৮৬ সালে বইটি লিখেছেন।এখনও বেশ কাজের মনে হলো। যারা বিজনেজ স্কুলে আসলে পড়ছেন তারা বইটা থেকে কিছু পয়েন্টস ব্যক্তিজীবনে কাজে লাগাতে পারেন।

ব্যবসা দুনিয়াতে চ্যাম্পিয়ন হতে চাইলে কি করতে হবে?
যারা চ্যাম্পিয়ান,
-তারা নিজেদের পারফরমেন্সে সব সময় অখুশি থাকে। যে কোনো সাফল্যকে তারা বড় কোন সাফল্যের একটা স্টেপ হিসেবে ব্যবহার করে। অতীতের সাফল্যে কেউ বসে থাকে না। সামনে কি আছে তা নিয়ে যত মামলা।
-সঠিক সময় সঠিক জায়গায় জ্বলে ওঠে তারা। সব সময় একই মাত্রার পারফরমেন্স লেভেল রাখলেও যে দিন তার খেলার দিন সেই দিন তারা আকাশ স্পর্শ করবেনই।
-তারা কখনই প্রতিযোগিতায় আগে কিংবা কোন সুবিধা পাচ্ছেন এটা ধরে কৌশল আঁকেন না। স্কোরবোর্ডে যতই রান বা গোল থাকুক না কেন তারা সর্বোচ্চ বেগেই ছোটেন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 229 views. Thank You for caring my happiness.

গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং-যে বই কিনলে ঠকবেন!

প্রশ্ন: মানুষ কেন বই পড়ে?
স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উত্তর দেবেন, পরীক্ষায় পাশের জন্য। মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার উত্তর দেবেন, মেধাবিকাশের জন্য। হুমায়ুন আহমেদ বেঁচে থাকলে উত্তর দিতেন, লেখকরা কি ছাতা লেখেন তা জানার জন্য।
বই আসলে দুই কারণে পড়া হয়, কোরাতে এক উত্তর থেকে যা জেনেছি। প্রথম কারণটি হচ্ছে সাহিত্যিক মূল্যবোধ কিংবা আগ্রহ নিবারণের জন্য। আর দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে স্কিল ডেভলপমেন্টের জন্য। যেমন হ্যারিপটারের একটি বই যখন আমেরিকান কিংবা ব্রিটিশ কেউ পড়ে সে হচ্ছে বইটির সাহিত্যিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে। এই মূল্যবোধের সঙ্গে গল্প, কাহিনী আর সৃজনশীলতার সম্পর্ক আছে। আর অন্য দিকে সেই হ্যারিপটারের বই যখন বাংলাদেশি কোন কিশোর পড়ে সে সাহিত্য+স্কিল দুটো কারণেই পড়ে। ইংরেজি বইটি পড়লে নিজের ইংরেজি দক্ষতা বিকাশের দারুণ সুযোগ তৈরি হবে অবচেতন মনেই। একারণে ইংরেজি বই কিংবা ভিন্নভাষার বই পড়াকে স্কিল বিকাশের একটা ধাপ হিসেবে অনেক স্মার্ট লোকেরা মনে করেন। আমিও ইদানিং লোকজনকে ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদের বই সরাসরি পড়তে নিরুৎসাহিত করি। একই সঙ্গে যদি সাহিত্যের মজা+স্কিল বিকাশের সুযোগ থাকে তাহলে সরাসরি ইংরেজি বই পড়তেই হবে। দ্য অ্যালকেমিস্টের বাংলা বই আর ইংরেজি বই দুটো দুই দুনিয়ার স্টাইলে ছাপা হয়েছে এটা বলার অবকাশ রাখে না।

ছবিসূত্র: রংপাতা


গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং বইটির সত্যিকার অর্থে কোন সাহিত্যিক ভ্যালু নেই, শুধু মুনির হাসানের কথা বলার স্টাইলের লেখনি পাওয়া যাবে। কিন্তু বইটি স্কিল ডেভলপমেন্টের সোর্স হিসেবে বেশ কার্যকর একটি বই বলা যায়। মার্কেটিং বিষয়ে দুনিয়ার অনেক রেফারেন্স আছে বইটিতে। গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং নিয়ে গেল ২/৩ বছর বেশ মাতামাতি আছে প্রযুক্তির দুনিয়াতে। বাংলাদেশি হিসেবে আমরা সে সবের খোঁজ রাখিই না বলা যায়, বইটি সে সব অনেকগুলো গল্পের এক সংকলন।

আরও পড়ুন: মুনির হাসান ২০১৮ সালে যে বই পড়তে বলেন

বইটির সাফল্য:
১. এখন তো আমরা ১০ সেকেন্ডের মধ্যে অনেক তথ্যই ভুলে যাই। বইটি পড়লে অনেক কেইস বেশ কিছুদিন মনে থাকবে।
২. বাংলাদেশে অনেক স্টার্টআপ নিজেদের মার্কেটিংয়ের জন্য বইটি পড়লে মুনির হাসানকে পরামর্শক বা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিলে যা উপকার পাবেন তা জানতে পারবেন।


বইটির দুর্বলতা:
১. অনেকগুলো কেইস স্টাডি পাওয়া যাবে, যা আসলে সেকেন্ড টাইম অনুসরণ করলে কি হবে তা বলা মুশকিল।
২. বইটি শেষ করলে কি কি জানি বাদ পড়লো বলে পাঠকের মনে অনেক প্রশ্ন আসবে।
৩. মুনির হাসানের পোস্ট যারা ফেসবুকে অনুসরণ করেন তাদের জন্য বইটি রিভিশন হবে!
অতএব, বই কিনলে ঠকবেন!

(এই পোস্টটি লেখার একটাই কারণ! মুনির হাসান তার বইয়ের রিভিউ দিয়ে কিছু লিখলেই শেয়ার দেন! সেই শেয়ারে তার লাখখানেক ফলোয়ার ওয়েবসাইটে আসে। আমার সাইটে গেল কয়েকদিন লোকজন নাই বললেই যে চলে, আকাল। আকাল কাটানোর জন্য পোস্টটা লেখা। আমি শুধু শিরোনামে গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং লিখলেই মুনির হাসান পোস্টটি শেয়ার করবেন, তারপরেও যারা কষ্ট করে আসবেন তাদের জন্য বইটি সম্পর্কে ২/৩ লাইন লিখলাম!)

আরও পড়ুন: ইংরেজি থেকে অনুবাদ বই পড়া বোকামি, সময় নষ্ট

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,542 views. Thank You for caring my happiness.

জাস্টিন ট্রুডোর প্রিয় যত বই

I read anything, and everything, in huge quantities.

একজন প্রধানমন্ত্রীর বাক্য বলে মনে হয় উপরের লাইনটিকে?

জাস্টিন ট্রুডোকে বর্তমান সময়ের বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে যাদের ধারণা আছে তারা বেশ চেনেন। কানাডার বেশ সুদর্শন আধুনিক প্রধানমন্ত্রী বলা যায় তাকে। সামাজিক যোগাযোগের দুনিয়াতে তার জনপ্রিয়তা বেশই বটে। বারাক ওবামা আর অ্যাঞ্জেলা মেরকেলদের সময় থেকেই বেশ নান্দনিক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনপ্রিয় ট্রুডো।

২০১৩ সালে কমনগ্রাউন্ড নামের একটি বই লিখেছিলেন এই প্রধানমন্ত্রী। কোরাতে এক প্রশ্নের উত্তরে নিজের প্রিয় বই আর লেখকের নাম লিখেছেন জাস্টিন, সেই লিষ্ট থেকেই এই পোস্ট।

“আমি পাঁড় পাঠক, পুরো জীবন ধরেই তো পাঠক। এখন সরকারী নীতিসংশ্লিষ্ট বই পত্র পড়ি, এরপাশে ফিকশন ঘরানার বইয়ের তালিকা করা বেশ কঠিন। আমি স্টিফেন কিং, নিল স্টেফেনসন আর ট্যাড উইলিয়ামসের ভীষণ ভক্ত। এসময়ে আমি লা পার্ট দ্য লওটার আর রেডি প্লেয়ার নামের বইটি পড়েছি।

ননফিকশনের মধ্যে আমার প্রিয় বইগুলো হচ্ছে:

Non-fiction: Gardens of Democracy, by Eric Liu and Nick Hanauer; Champlain’s Dream, by David Hackett Fischer”

 

 

অনলাইন ঘেটে দেখলাম, হকি নিয়ে বেশ বই-টই পড়েন ট্রুডো। গর্ড হাউই নামের কানাডার এক বিখ্যাত আইস হকি প্লেয়ারের বইপত্র নাকি পড়েন তিনি বেশ।

 

 

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 835 views. Thank You for caring my happiness.

মুনির হাসান ২০১৮ সালে যে বই পড়তে বলেন

মুনির হাসানের অনলাইনে বেশ তরুণ পাঠক আছে। গণিত অলিম্পিয়াড পরিমন্ডল থেকে শুরু করে আইসিটি-উদ্যোক্তা পরিমন্ডলের আলোচিত মুখ। কাঁচা-পাঁকা চুলের মুনির হাসান ২০১৮ সালে তরুণদের কি কি বই পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তা নিয়েই এই পোস্ট।

ব্যর্থদের উপর বই পড়তে হবে
“কি কি বই পড়ার পরামর্শ দেন?”, এমন প্রশ্নের প্রথম উত্তরে জানান, “ব্যর্থদের জীবনে নিয়ে বই পড়তে হবে। সফল-ব্যর্থদের জীবনী নিয়ে বই থেকে বাস্তব জীবনের জ্ঞান পাওয়া যায়।” আমি ব্যর্থদের জীবনী নিয়ে বেশ কিছু বই পড়েছি। সেগুলো মুনির হাসানের লিস্টিতে মিলে যাচ্ছে।


মেইড ইন জাপান: সনির প্রতিষ্ঠাতা আকিও মরিটার বায়োগ্রাফি টাইপের বই। সনির সব পণ্যই সব সময় সাফল্য পায় নি। সনির প্রথম পণ্য ছিল রাইস কুকার, যা কিনা ভাত পোড়ানোর জন্য জনপ্রিয়তা পায়। জাপানিজ নাবিক আকিও মরিটার অনেক ব্যর্থতার গল্প আছে বইটিতে।
মাই লাইফ অ্যান্ড ওয়ার্ক: হেনরি ফোর্ডের বই, সেই ১৯২২ সালে প্রকাশিত। আমি পড়ার পরেই বুঝেছি কেন যুক্তরাষ্ট্রেই গাড়ি উদ্ভাবনের বিকাশ ঘটেছে। ফোর্ডের সাফল্যের ভীড়ে কিন্তু তার আগের জীবনের অনেক গল্প আমরা জানি না। ফোর্ড কোম্পানির আগে ফোর্ড আরও দুটি গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান নিয়ে ধরা খেয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: জাস্টিন ট্রুডোর প্রিয় যত বই
রোমেল: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরাজিত জেনারেল রোমেলের যুদ্ধ কৌশল নিয়ে লেখা বইটিও দারুণ। বইটিতে রোমেলের নিজের হাতে তোলা অনেক ছবি সংযুক্ত আছে।


প্রসেস শক্তি বাড়ায় এমন বই পড়তে হবে
হিউম্যান প্রসেস বিষয়টার উপর বই পড়ার পরামর্শ দেন মুনির হাসান। কিভাবে দলগতভাবে কাজ করা যায়, কিভাবে নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ তৈরি করা যায় এমন বই পড়তে পরামর্শ দেন তিনি। এক্ষেত্রে ম্যাকেঞ্জি মাইন্ড নামের একটা বই আমি রেফার করতে পারি। আমাদের দেশে কনসালটেন্সি ফার্মগুলো তেমন কাজের কাজি না মনে হয়। ম্যাকেঞ্জি, জেপি মরগান, বোস্টন কনসালটেন্ট গ্রুপসহ বিভিন্ন দুনিয়াখ্যাত কনসালটেন্সি ফার্মগুলোর রেফার করা বই বেশ কাজের।


ইতিহাস-সংস্কৃতির বই পড়তে হবে
শুধু টেকনিক্যাল বা নন-ফিকশন বই পড়তে উৎসাহ দেন না মুনির হাসান। ইতিহাস-সংস্কৃতি সব ধরণের বই পড়তে পরামর্শ দেন তিনি।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 3,955 views. Thank You for caring my happiness.

পড়া বই: দ্য বুক অব জয়

(বইটি আমার ২০১৭ সালের #100Books চ্যালেঞ্জের অংশ হিসেবে পড়া)

Dalai Lama আর Desmond Tutu’র বই দ্য বুক অব জয়। সেই রকমের দারুণ একটা বই। দালাইলামা আর আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটুর মধ্যকার আনন্দ আর সুখের গল্পই আছে বইয়ে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাও-ইজম বা মিনিমালিজমের ভক্ত, তাই বইটা আমার কাছে বেশ বেশিই মনে হয়েছে। দারুণ বই।

দালাইলামা এক জায়গায় লিখেছেন,
মানুষ প্রত্যাশা করে সে এমন একটি ঔষুধ খাবে যা খেলেই ভয় আর দুশ্চিন্তা নিমিষেই পালিয়ে যাবে, আর সুখ চলে আসবে। যা কিন্তু অসম্ভব। একমাত্র মানসিক স্বস্তিই কিন্তু আপনাকে বেশ সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য হয় দ্রুত কিছু দরকার অথবা ভালো কিছু, দ্রুত আর ভালো এক করা বেশ কঠিন। মনের জোরই আপনাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

বইটির সর্বশ্রেষ্ট লাইনটি হচ্ছে একটি তিব্বতীয় প্রবাদবাক্য।

আপনি যেখানেই বন্ধু পাবেন, তাই আপনার দেশ; আর আপনি যেখানে ভালোবাসা পাবেন, তাই আপনার ঘর।

দালাইলামার নিজের দেশের কষ্ট কিন্তু এ লাইনে বোঝা যায়!

ডেসমন্ড টুটুর একটা কথা বেশ লেগেছে,
আমরা বেশ ভঙ্গুর একটি প্রজাতি। এই দুর্বলতাই আমাদের সত্যিকারের আনন্দ খুঁজে বের করতে সম্ভাবনা তৈরি করে।

বইটা পড়লে স্কুলের পাঠ্য বই মনে হতে পারে, আমার কাছে মনে হয়েছে আমি দালাইলামা আর ডেসমন্ডের সঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম।
বইটি পড়লে আনন্দের আটটি পিলার সম্পর্কে জানা যাবে। আনন্দ, ভয়, হতাশা, ভোগান্তি, শত্রুতা, একাকীত্ব-আপনি যদি দুর্বল ধর্ম বিশ্বাসী হন বইটি আপনাকে অন্যকিছু ভাবাবেই।
বইটার একটাই ভাবার্থ,

প্রতিদিনই আপনার সামনে নতুন করে শুরু করার সুযোগ আসে। প্রতিদিনই আপনার জন্মদিন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,034 views. Thank You for caring my happiness.

Sense of Pursuit of Less

Stunning book! Essentialism: The Disciplined Pursuit of Less by Greg McKeown. On the off chance that you think less is lovely, this book is for you.

As a person, you have the energy of basic leadership. Choose what your motivation or objective is. Simply seek after just open doors and works that lead you to that solitary objective. Do you run your days or days keep running on you-it’s relies on you, genuinely?

As a negligible feeling of effects, don’t be reluctant to be inaccessible. It’s alright inaccessible for in some cases.

Since 2016, I’ve built up a propensity for journalizing. Keeping a diary and setting aside a few minutes to peruse is vital and positively affects our brain.

 

Direct quote takeaways:

“The word priority came into the English language in the 1400s. It was singular. It meant the very first or prior thing. It stayed singular for the next five hundred years. Only in the 1900s did we pluralize the term and start talking about priorities.”

“When we are unclear about our real purpose in life– in other words, when we don’t have a clear sense of our goals, our aspirations and our values– we make up our own social games. We waste time and energy on trying to look good in comparison to other people.”

“Apply the principle of zero-based budgeting” to your life and time. Don’t budget based on existing commitments- start from scratch.

Invaluable lessons learned, plans made, what remains is to execute them. “The life of an Essentialist is a life without regret “

Highlights:
“The life of an Essentialist is a life of meaning. It is life that really matters.”

“The problem with being sleep-deprived is that it compromises our ability to tell the difference, and thus our precious ability to prioritize.”

“When there is a serious lack of clarity about what the team stands for and what their goals and roles are, people experience confusion, stress, and frustration”

“If you have correctly identified what really matters, if you invest your time and energy in it, then it is difficult to regret the choices you make. You become proud of the life you have chosen to live.”

“Done is better than perfect.”

“There should be no shame in admitting to a mistake, after all, we really are only admitting that we are wiser than we once were.”

Some of my favorite bits of wisdom from inside include:

* Have extreme criteria for what you will say yes to

* Only say yes to those things that score a 9 or 10 out of 10

* Make more choices. Eliminate “have to” or “should”

* Use the delayed yes. “Let me get back to you.” Allow yourself space to say a graceful no.

* To counter the bias of “ownership,” ask yourself this question: If I didn’t already own this (or have this opportunity), how hard would I be willing to work to get it?

* Don’t mistake output with effort. Meaningful work doesn’t always produce immediately tangible results.

* Think “less but better”

* Explore a broad set of options, then choose one.

* Identify and remove whatever gets in the way of the Essential

* Create routines for doing anything that is essential

* JOMO = Joy of Missing Out. Make tradeoffs. Let excellent opportunities go. There will be more.

 

I wish there would a greater amount of system for applying standards like this. Some understanding of recognizing the Essential would be great. Likewise, I found the reward framework embraced in the significance of advance part somewhat basic and, non-useful over the long haul.

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 401 views. Thank You for caring my happiness.

“মেয়র আনিসুল হকের রেকমেন্ডেড ৭টি বই”

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক স্যারের সঙ্গে বেশ ক’বার দেখা করার সুযোগ মিলেছিল, কখনও বই-পত্র নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়নি। যখন দেখা হয়েছিল তখন অবশ্য আমার বই-টই নিয়ে এত আগ্রহ ছিল না। কিন্তু যখন আগ্রহ তৈরি হয় তখন আনিসুল হককে আর জিজ্ঞেস করতে পারি নি কি কি বই পড়েন তিনি। এই পোস্টটি পুরো আন্দাজে লেখা একটি পোস্ট। অনেকটা “আমার মনে হয়, তিনি যেমনটা বলতেন” টাইপের পোস্ট। লেখাটি ফিকশনাল।
আইবিএর শিক্ষক ও প্রাইড গ্রুপের আব্দুল মোমেন স্যার একবার ক্লাসে আনিসুল হককে নিয়ে বলেছিলেন। গুলশানের ফুটপাত নিয়ে আনিসুল হকের ভাবনা নিয়ে স্যার বলেন, “মেয়র সাহেব অনেক দেশ-দুনিয়া ঘুরেছেন বলেই হয় ক্যাপিটাল সিটির ফুটপাত এভাবে বদলানোর চেষ্টা করেছেন।” আনিসুল হকের ব্যক্তি মননকে দূর থেকে বিশ্লেষণ করে আমার মনে হয়েছে তিনি তরুণদের নিচের বইগুলো পড়ার পরামর্শ দিতেন।

ডু দ্য হার্ড থিংস ফার্স্ট

ব্যক্তি আনিসুল হকের বড় একটা পরিচয় ছিল ব্যবসায়ী হিসেবে। মাইকেল ব্লুমবার্গের ছায়া কি ভর করেছিল তা উপর? নিউ ইয়র্ক শহরের এক সময়কার মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ একাধারে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, মিডিয়ামুঘল! ডু দ্য হার্ড থিংস ফার্স্ট আসলে অডিও বই। এখানে ব্লুমবার্গ কিভাবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন তা নিয়ে কথা বলেছেন।

ক্লাইমেট অব হোপ

মাইকেল ব্লুমবার্গের আরেকটি বই। এখানে কিভাবে ব্যবসা আর নাগরিকরা পৃথিবীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে পারে তা নিয়ে লিখেছেন ব্লুমবার্গ। ঢাকা উত্তরের পরিবেশ নিয়ে বেশ কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন আনিসুল হক। আমার ধারণা এই বইটিও তিনি রেকমেন্ড করতেন।

(আরও পড়ুন: ওয়াল স্ট্রিটের লোকজন ২০১৭ সালে যে বই পড়েছে)

ফ্রম থার্ড ওয়ার্ল্ড টু ফার্স্ট

সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা লি কুন ইয়ুর বায়োগ্রাফি। কিভাবে মালয় উপদ্বীপের একটি বিচ্ছিন্ন শহর পুরো পৃথিবীর নগর রাষ্ট্রের উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে তার পরিচয় আছে বইটিতে। সিঙ্গাপুর সিটির ব্যবস্থাপনাকে ভিত্তি ধরে ঢাকার ব্যবস্থাপনা করা অসম্ভব একটি বিষয়, কিন্তু সেভাবে ভাবতে চেয়েছিলেন তো আনিসুল হক।

ট্যাপ ড্যান্সিং টু ওয়ার্ক

ওয়ারেন বাফেটকে নিয়ে তার সাংবাদিক বন্ধুর লেখা বই। ব্যবসাকে চ্যারিটির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন কৌশল আছে বইটিতে। ওয়ারেন বাফেট যতটা না ব্যবসায়ী ততটাই ব্যবসা-দার্শনিক। আনিসুল হক নিশ্চিত ওয়ারেন বাফেটের বই পড়তে পরামর্শ দিতে আমাকে।

ফ্রিকোনমিক্স

অর্থনীতির শিক্ষার্থী আনিসুল হক নিশ্চিত ফ্রিকোনমিক্স বইটি পড়ার পরামর্শ দিতেন। বইটি থেকে আমি পড়েছিলাম “The conventional wisdom is often wrong.” আনিসুল হকের রাজনীতি নিয়ে ভাবনার সঙ্গে লাইনটি মিলে যায় কিন্তু!

ন্যুজ

এবারের অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী থ্যালারের বই ন্যুজ। আমি ২০১৫ সালে পড়েছিলাম, যদিও বইটি ২০০৯ সালের। থ্যালারের কথা হচ্ছে, MBA students are not the only ones overconfident about their abilities. The “above average” effect is pervasive. Ninety percent of all drivers think they are above average behind the wheel! আনিসুল হক ১০ পার্সেন্ট ট্রাক ড্রাইভারদের জন্য ঢাকা উত্তরে বেশ সমস্যা তৈরি করেছিলেন কিন্তু!

প্রেজেন্টেশন সিক্রেটস অব স্টিভ জবস

টেলিভিশন দুনিয়ার লোক ছিলেন আনিসুল হক। উপস্থাপনা যার অন্য পরিচয়। আনিসুল হক অবশ্যই আমাকে প্রেজেন্টেশন সিক্রেটস অব স্টিভ জবস বইটি পড়তে পরামর্শ দিতেন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,667 views. Thank You for caring my happiness.

বেঁচে থাকার জন্য উইনস্টন চার্চিলের স্পেস মডেল জানেন কি?

১৯৩১ সালের কথা। উইনস্টন চার্চিল ব্রিটিশ রাজনীতিতে পুরো কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। বিরোধীপক্ষ ছাড়াও নিজের দলের থেকৈ ভীষণ চাপে পড়েছিলেন চার্চিল। এমন কি তুখোড় রাজনীতিবিদ হওয়ার পরেও চার্চিলকে মন্ত্রীসভায় আমন্ত্রণ জানানো হয় নি। চার্চিল বাতিল আর সেকেলে বলে নিগ্রহের শিকার হন। সবাই দেখছিল কিভাবে সব হারিয়ে প্রায় শূণ্য হয়ে যান চার্চিল।
বাতিল হয়ে যাওয়া চার্চিলের রাজনীতির শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকেই। সেই সময়টা চার্চিলের জায়গায় আমরা থাকলে হারিয়ে যেতাম হতাশায়। চার্চিলের ওপর কি হতাশা ভর করেছিল?
এখন আমরা চার্চিল ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ পরিচয়ের বাইরে লেখক হিসেবে পরিচয় দেখি। সারা জীবনে চার্চিল ১০ লাখ শব্দ লিখেছিলেন! সেই চার্চিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ সময়টায় ১৯৩১ সালের পরের হতাশা কাটিয়েছেন স্পেস মডেল দিয়ে!

স্পেস মডেল কি?

রাজনীতি পরিমন্ডল থেকে চার্চিল ১৯৩১ সালের পরে নিজেকে সরিয়ে নেন। আসলে সরিয়ে নেয়া ছাড়া কি-ই-বা করার ছিল? এ সময় রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে অন্য দুনিয়া গোছানোর জন্য মনোযোগ দেন চার্চিল। ১৯৩৯ সালের আগে তিনি ১১ খন্ড বই প্রকাশ করেন, ৪০০+ আর্টিকেল প্রকাশ করেন। আর নানান সুধী সমাবেশে ৩৫০+ বক্তব্য রাখেন। নিজেকে অন্য দিকে ব্যস্ত রেখে হতাশা কাটানোর দুর্দান্ত উপায় বের করেন চার্চিল। সেই স্পেস মডেলের জোরেই কিন্তু চার্চিল আবারও রাজনীতিতে মনোযোগ আনতে পারেন। সাময়িক বিরতি, দুশ্চিন্তা কিংবা হতাশা কাটানোর বেশ বড় একটি উপায় হতে পারে। যেটা আমরা কর্মজীবনে কিংবা যে কোন ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হলে মডেল হিসেবে কাজে লাগাতে পারি।
(এখন চার্চিলয়ের বায়োগ্রাফি পড়ছি। তাই সেখান থেকে নিজের মতো করে নিজের জন্য লেখা থেকে এই পোস্ট।)

মুদ্রার উল্টো পিঠের যে গল্প

লেখালেখির মাধ্যমে চার্চিল আসলে নিজের অন্য একটি সুপারপাওয়ার তৈরি করেছিলেন। সবাই তো রাজনীতিবিদ হয়, কিন্তু লেখক+রাজনীতিবিদ কতজন হয়? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লেখনিওয়ালা চার্চিল বেশি শক্তি নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। শব্দ আর বাক্যকে নিজের সুপারপাওয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন চার্চিল। এই আচরণকে রাজনীতিবিদদের মনস্তাত্বিক ইনস্যুরেন্স পলিসি বলা যায়, যা কিনা ইনফ্লুয়েন্স বাড়ানোর অস্ত্র। আপনার অস্ত্র কি?

জ্যাকারবার্গের শুরুতে ছিল হার্ভার্ড ডর্মের বন্ধুরা, স্টিভ জবস-ওজনিয়াকের ছিল কম্পিউটার ক্লাবের বন্ধুরা, নাইকির ফিল নাইটের ছিল ৩/৪জন পাগলাটে বন্ধু! আপনার?

১০০০ লোক যখন শক্তি!

চার্চিলের এগিয়ে যাওয়ার প্ল্যাটফর্ম ছিল তার লেখালেখি। লেখালেখির মাধ্যমে নিজের ভক্ত কিংবা ভোটার ধরে রাখার কৌশল বলা যায় না একে? আপনি যদি উদ্যোক্তা হতে চান, তাহলে ১০০০ মানুষকে নিজের পণ্য বা সেবা কেনাতে পারবেন? আমাদের মাথায় বিলিয়ন ডলার আইডিয়া থাকে, কিন্তু সেই আইডিয়ার উপর নির্ভর করে তৈরি পন্য বা সেবা ১০০০ হাজার লোক গ্রহণ করবে কিনা তা আমরা জানি না।

Read More: বাংলাদেশ আর্মি থেকে যেসব নেতৃত্বগুণ শিখতে পারেন
প্রথম ১০০০ ভক্ত বা গ্রাহক কিংবা ভোটার তৈরি করাই কিন্তু আসল পরিশ্রম!
আশির দশকের ব্যান্ড আয়রন মেইডেনের রেডিওতে গান বাজানো হতো না। এমনকি এমটিভিও নাকি তাদের গান বাজাতো না তখন। সেই আয়রন মেইডেন নব্বই দশকে গানের অ্যালবাম মিলিয়ন কপি বিক্রি করেছে কোন মাধ্যম ছড়াই! আয়রন মেইডেনের ভক্তদের নাকি বিশাল এক ইমেইল লিস্টি তাদের সংগ্রহে ছিল, সেই মেইল লিস্টি দিয়েই আয়রন মেইডেন মিলিয়ন ডলারের অ্যালবামে সাফল্য পায়।

Read More: সাইফ নোমান খানের রেকমেন্ডেড যত বই

শোবিজ দুনিয়ায় যে থিওরী চলে

উইয়ার্ড ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা কেভিন কেলির একটা এন্টারটেইনমেন্ট থিওরী ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা কিংবা লেখক বা যে কেউই অনুসরণ করতে পারেন। কেলির ভাষ্যে, “আপনার যদি ১০০০ সত্যিকারের ভক্ত থাকে আপনি সুপার ম্যান। আপনি যাই সৃষ্টি করুন না কেন, তা দর্শন, চিত্রশিল্পী কিংবা রাজনৈতিক আদর্শ-এক হাজার লোক আপনার ট্রু ফ্যান হলেই আপনি সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন।”
জ্যাকারবার্গের শুরুতে ছিল হার্ভার্ড ডর্মের বন্ধুরা, স্টিভ জবস-ওজনিয়াকের ছিল কম্পিউটার ক্লাবের বন্ধুরা, নাইকির ফিল নাইটের ছিল ৩/৪জন পাগলাটে বন্ধু! আপনার?
এই এক হাজার মানুষই আসলে আপনার বিলিয়ন ডলার আইডিয়া কিংবা লাখো পাঠক তৈরি করবে। এটা ডমিনো থিওরী না?
আপনার পণ্য কিংবা সেবা নির্ভর উদ্যোগের সাফল্য আসলে নির্ভর করে আপনি কতটুকু আপনার ভক্তদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারেন!

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 905 views. Thank You for caring my happiness.

সাইফ নোমান খানের রেকমেন্ডেড যত বই

 

ঢাবি-আইবিএর বিজনেজ কমিউনিকেশন ও ডিজাইন থিংকিং শিক্ষক সাইফ নোমান খান, এসএনকে শর্ট নেইম। সমসাময়িক বিজনেজ এক্সিকিউটিভদের মধ্যে বেশ পরিচিত এই শিক্ষক।

কমিউনিকেশন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান, আর নিজের স্টার্টআপ রিসার্চ সেন্টার দিয়ে ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিংয়ের কাজ করছেন। সাইফ নোমান খান বিজনেজ কমিউনিকেশন আর ডিজাইন থিংকিং নিয়ে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের ক্লাস নিয়ে থাকেন। সাইফ নোমান খান স্যারের সঙ্গে কথা বলে একটি বইয়ের তালিকা বের করার চেষ্টা করেছি, তিনি এই বইগুলোকে যারা ম্যানেজার কিংবা পেশাজীবনে সিইও হতে চান সামনে তাদের অন্তত একবার হলেও পড়ে দেখার পরামর্শ দেন। এই লেখার বিশেষত্ব হচ্ছে, এসএনকে কোন দিন ক্লাসে তেমন করে এসব বইয়ের নাম কখনই বলেন নাই। সে হিসেবে এই তালিকা আলাদা কিন্তু!

উইনিং, জ্যাক ওয়েলশ

জেনারেল ইলেকট্রিকের সিইও জ্যাক ওয়েলশের বই উইনিং। জ্যাক জেনারেল ইলেকট্রিকে ৪০ বছর কাজ করেছেন। ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে উইনিং বইটি লেখেন জ্যাক। ২০১৬ সালের অক্টোবরে আমি বইটি পড়া শেষ করি, যে পড়বে তার সময় নষ্ট হবে না নিশ্চিত।

প্লেয়িং টু উইন: হাউ স্ট্র্যাটেজি রিয়েলি ওয়ার্কস

এ জে ল্যাফলে ও রজার মার্টিনের লেখা বই। স্ট্র্যাটেজির উপর দারুণ এক বই বলা যায়। এই বই থেকে স্ট্র্যাটেজির ৬টি ট্র্যাপ সম্পর্কে জানতে পারি আমি।

* ডু-ইট-অল স্ট্র্যাটেজি: এই স্ট্র্যাটেজিতে সবকিছুকেই গুরুত্বপূর্ণ ভাবার ফাঁদে পা রাখি আমরা

* ড কুইজিকোট স্ট্র্যাটেজি: এমন স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করা যা দেখে শক্তিশালী কেউ আপনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে!

* ওয়াটার লু স্ট্র্যাটেজি: একই সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ ঘোষণা করা।

* সামথিং-ফর-এভরিওয়ান স্ট্র্যাটেজি: চীনের একশ কোটি মানুষকে কাস্টমার বানানোর চেষ্টা করা!

* ড্রিমস-দ্যাট-নেভার-কাম-ট্রু স্ট্র্যাটেজি: মেঘের ওপর ঘুড়ি ওড়ানোর চেষ্টা করা।

* প্রোগ্রাম-অব-দ্য-মান্থ স্ট্র্যাটেজি: কাস্টমারদের জন্য এমন প্ল্যান করা যাদের পেছনে সব কোম্পানি একই সময় দৌড়ানো শুরু করে!

এই বইয়ের বিখ্যাত একটি লাইন মনে আছে,

স্ট্র্যাটেজির সার্থকতা নির্ভর করে দুটি প্রশ্নের ওপর। এক, আপনি কোন মাঠে খেলবেন?; দুই, আপনি সেখানে কিভাবে জিততে চান?

 

ডিজাইন থিংকিংয়ের উপর বই

ডিজাইন থিংকিং নিয়ে সাইফ নোমান খান কাজ করেন বলে এই বিষয় আইডিয়োর বইপত্র যা আছে তা ঘেঁটে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।

ওয়ান মিনিট ম্যানেজার

কথায় বলে এক মিনিটে যে সিদ্ধান্ত নেয়ার কৌশল জানে না, সে এক জীবনে অনেক কৌশল নিতে পারে না। ওয়ান মিনিট ম্যানেজার বইটি ২০১৫ সালের শেষ দিকে পড়েছিলাম। আপনি যদি ম্যানেজার হতে চান, বইটি থেকে যা শিখবেন, “আপনার দলের কর্মীদের মানুষ ভাবুন, কর্মী মৌমাছি নয়!”

এক মিনিটের অনেক অভ্যাস আপনাকে বদলে দিতে পারে। বইটিতে কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের এক মিনিটের কিছু অভ্যাসের কথা বলা আছে,

* সুন্দর করে হ্যান্ডশেক করা শিখুন।

* যার প্রশংসা করতে চান, তাকে সবার সামনেই প্রশংসার কথা জানান।

* যখনকার প্রশংসা তখনই করুন! যখনকার সমালোচনা তখনই করুন।

দ্য নিউ ওয়ান মিনিট ম্যানেজার

এই বইটি ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়। গুডরিডসে বইটির দুই হাজারের বেশি রেটিং জমা পড়েছে, ৩.৯ হলেও বোঝা যায় বইটি কত মানুষ পড়েছে!

“এভরিওয়ান ইজ অ্যা পটেনশিয়াল উইনার। সাম পিপল আর ডিজগাইজড অ্যাজ লুজারস”, বইটির আলোচিত একটি লাইন।

হার্ভার্ড বিজনেজ রিভিউয়ের মাস্ট রিডস সিরিজ

হার্ভার্ড বিজনেজ রিভিউয়ের মিনি বুক সিরিজগুলো বেশ কার্যকর। সাইফ নোমান স্যার সময়কে গুরুত্ব দিয়ে এসব বই অনেক পড়েন বলে জানান।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 3,949 views. Thank You for caring my happiness.