এক কাপ বই: গ্রোথ হ্যাকার মার্কেটিং

(এক কাপ বই সিরিজটি অনেকদিন ধরেই লেখার চেষ্টা আমার। এক কাপ চা খেতে খেতে যদি দারুণ কিছু শেখা যায় তাহলে মন্দ কি? এখন তো বই পড়ায় আমাদের সময় নেই তেমন, সেই না পাওয়াকেই আরেকটু অন্যরকম করে তোলার জন্যই এই এক কাপ বই সিরিজ। আর এখন ট্রেন্ডিং যত বই আছে সবগুলোই আসলে ২০ পাতার বই, কেন যে লেখকরা কাটতি বাড়ানোর জন্য ৪০০ পৃষ্টা লেখেন!)
রায়ান হলিডের গ্রোথ হ্যাকার মার্কেটিং বই পড়ে যা জেনেছি,
ব্যবসা কিংবা স্টার্টআপ শুরুর আগে আমরা বিলিওন ডলার আর কোটি কোটি কাস্টমার বিবেচনায় একগাদা প্ল্যান করি। এখন কোন কিছু শুরু করাটাই বেশ দ্বিধার, সেই দ্বিধা কাটাতে ছোট্ট কাস্টমার গ্রুপ নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত।
দুই দশক আগেও ব্যবসার প্যাটার্ন ছিল, দারুণ কোন পণ্য বা সেবা তৈরি করে যত লোকের চোখের সামনে হাজির করুন। ইন্টারনেটের বিস্তৃতির কারণে সেই প্যাটার্নে ধাক্কা লেগেছে। এখন পন্য অনেক, সেবা অনেক-মোটামুটি মাছের বাজার সবখানে। এখানে কিভাবে আপনার পন্যকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করবেন তা ঠিক করতে হবে আপনাকে। আপনার প্রোডাক্টকে ক্যাটাগরিতে এক নম্বর আনতে টাকার চেয়ে বুদ্ধিই বেশি খাটাতে হবে এখন।
আগে একটা নিয়ম ছিল, বাজারে যা ছাড়বেন সেটাই সব। কিন্তু এখন ভার্সন ওয়ান পয়েন্ট ও, ভার্সন টু পয়েন্ট ও করে করে পন্য-সেবাকে বিকাশের দারুণ সুযোগ আছে। এখন আসলে প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট বিষয়টা নিত্যদিনকার।
স্বর্ণকার গহনা বানিয়ে দেয়ার পরে সেটা ক্রেতা কিনে ফেললেই কিন্তু সব শেষ, কিন্তু আপনার অ্যাপটির প্রথম ভার্সনে বাগ দ্বিতীয় ভার্সনে না সরালে বিপদ কিন্তু! ফেসবুক গেল তের বছরে অনেকবারই তো হোম পেইজ বদলেছে, সঙ্গে আরও কত কি!


যারা আর্লি অ্যাডাপটার তাদেরকে শুরুতেই টার্গেট করুন। আপনার প্রোডাক্টটি কারা প্রথমে ব্যবহার করতে পারে তাদের সাইকোলজি বোঝার চেষ্টা করুন। টার্গেট দ্য রাইট পিপল। সাধারণভাবে আমাদের টার্গেট থাকে সবাই যেন আমাদের পণ্য বা সেবা নেয়, শুরুটায় এমন টার্গেট উচ্চাভিলাসী।
আবার আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখা জরুরী, আপনার পণ্য বা সেবা তা ঠিক কাস্টমারই কিনছে কিনা সেটা আপনার ভাবতে হবে। ভুল কাস্টমার যদি ভুল করে প্রোডাক্ট কেনে আর আপনি তা খেয়াল না করেন তাহলে কিন্তু পণ্যের ভবিষ্যৎ খারাপ।
শহরের মানুষদের কাছে লন মোয়ার বিক্রি করার সঙ্গে বিষয়টা মেলাতে পারেন।
ড্রপবক্স রাইট কাস্টমার ধরার জন্য ডিগ নামের সোশ্যাল মিডিয়াকে টার্গেট করেছিল। ড্রিউ হিউস্টোন ড্রপবক্স ব্যবহার নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেছিলেন, যেখানে ডিগ কমিউনিটি ব্যবহার করে এমন সব ইস্টার এগ ব্যবহার করা হয়েছিল। ভিডিও আপলোডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ড্রপবক্সে কয়েক হাজার সাইনিং আপ হয়েছিল।
পণ্য বা সেবাকে এমনভাবে ডিজাইন করুন যেন কাস্টমারই আপনার বিপণনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন। পণ্যকে ভাইরাল করতে দুটো পথ আছে,
পণ্যটিকে যেন ভাগাভাগি করার সুযোগ থাকে, আর সবাইকে তা শেয়ার করতে বলুন!

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 197 views. Thank You for caring my happiness.

বাংলাদেশ আর্মি থেকে যেসব নেতৃত্বগুণ শিখতে পারেন

ইদানিং যুদ্ধ আর রণকৌশল নিয়ে দারুণ কিছু বই পড়ছি। ব্যবসার দুনিয়াতে কৌশল আর যুদ্ধের রণাঙ্গনের কৌশল তো একই, তাই না? লক্ষ্য একটাই বিজয়। এক্সট্রিম ওনারশিপ নামের একটা বই পড়ছি এখন, সেই বইকেই বেইজ ধরে বাংলাদেশ আর্মি থেকে নেতৃত্ব শেখার যে পয়েন্টসগুলো জানতে পারেন তা নিয়ে এই লেখাটি দাঁড় করাচ্ছি।


১. সব দায় লিডারের
যা হবে, যা হয়েছে-তার সব দায় আপনারই। আপনার টিমের কেউ যদি আপনার নির্দেশনা না বোঝে তাহলে টিম লিডার হিসেবে আপনি তাকে দোষারোপ করতে পারেন না। নেতা হিসেবে আপনার দায় হচ্ছে দলের সব সদস্যকে সব কিছু বুঝিয়ে দেয়া। যুদ্ধের সময়, আপনার দলের কোন সৈনিক আপনার কথা যদি না বুঝতে পারে তাহলে কত বড় বিপর্যয় হতে পারে তা কি ভেবেছেন? একই কথা আসে ব্যবসার দুনিয়াতে। আপনার কোন কর্মী যদি আপনার কথা না বুঝতে পারে তাহলে তার দায় আপনারই। আপনাকে শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে কিভাবে আপনার কথা আপনার দলের সদস্যরা বুঝবে। আপনার দলের সদস্য আপনার কাছে না এলেও আপনাকে তার কাছে যেতে হবে, তাকে বুঝাতে হবে। হলিউডের মুভিতে দেখেন না, সিনেমায় মিশনে যাওয়ার আগে মেজর কিংবা কমান্ডেন্ট বারবার একই কথা তার টিমের সদস্যদের কেন বলে? বলা কথার জোর অনেক বেশি কিন্তু!
আপনি হয়তো ভেবে আছেন, আপনার অফিসের কর্মী আপনার কথা সব বুঝে যায়। বাস্তবতা আসলে বেশ ভিন্ন। বারবার আপনার কাজের লক্ষ্য, সাফল্যের শীর্ষ কোথায় তা আপনার দলের সদস্যদের বুঝিয়ে বলুন। আপনি যদি আপনার কাজের সাফল্য আনতে চান, তাহলে পুরোপুরো দায় নিয়ে নিজের মধ্যে চুম্বকের মত ডায়নামিজম তৈরি করুন।
ভাবনার প্রশ্ন: আপনার কর্মীকে ব্যর্থতার জন্য দিনে দশবার কথা না শুনিয়ে তাকে কি কখনও একই বিষয় ৩ বার বুঝিয়ে বলেছেন? সমস্যা নিয়ে ভাবনার চেয়ে সমাধান নিয়ে তাকে ভাবতে উৎসাহ দিয়েছেন কি?


২. খারাপ টিম বলে কোন কথা নেই, সব খারাপ আসলে লিডারই
সেনাবাহিনীর সব সদস্যই শুরু থেকে দল হিসেবে কাজের শিক্ষা পায়। আমাদের অফিসগুলোতে যে যার মত আলাদা আলাদা কাজ করে দুনিয়া উদ্ধার করে। সেনাবাহিনীতে কখনই কখনই একক কোন কাজের দৃষ্টান্ত আনতে পারবেন না, সবাই টিম। ভাবুন তো, আপনি আর্মির কোন একটি টিমের লিডার, আপনার দলের সবাই আলাদা আলাদা কাজে ওস্তাদ। সবাই র‍্যাম্বো, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ মাঠে কি হবে? মনে রাখা উচিত, যারা বীর হিসেবে স্বীকৃত তারা সবাই দারুণ কোন একটি দলের সদস্য ছিলেন। আমাদের বীরশ্রেষ্টদের যুদ্ধের ঘটনাগুলো পড়তে পারেন। বীরশ্রেষ্ট মতিউর রহমান ছাড়া বাকি সবাই কোন না কোন টিমের সদস্য ছিলেন। সিপাহী নূর মোহাম্মদ বীরশ্রেষ্ট মানে কিন্তু তার সেই টিমের সবাই এক!
আপনার টিমের সাফল্য নির্ভর করছে আপনার উপর। টিম খারাপ ছিল, এটা মূর্খদের এক্সকিউজ। মরিস ওদুম্বে নামে কেনিয়ার একজন ক্রিকেটার ছিলেন, তার সময়ের সেরা ক্রিকেটার। কেনিয়া দল খারাপ ছিল, কিন্তু সে ভালো ছিল। সে ভালো থাকলে কি হবে? কেনিয়া কি ভালো করেছে কিনা তাই ভাবার বিষয়!

১৯৯৪ সালে বসনিয়াতে বাংলাদেশ আর্মির কমান্ডার ন্যাটোর সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়েছিল। সেবার একজন সৈনিক হারিয়েছিল বাংলাদেশ আর্মি। লিডারের ভূমিকাই সব।

(ফেসবুকে আমি ভুলে একশ জন সৈনিক হারানোর কথা লিখেছিলাম, উইকিপিডিয়া থেকে পড়ার সময় ভুল বুঝেছিলাম আমি। দুঃখিত।)
হয় নেতৃত্ব দিতে শিখুন, কিংবা শেখার জন্য বই পড়ুন। শেখ মুজিবুর রহমান এক দিনে নেতা হয়েছেন?
যে কোন যুদ্ধে পরাজিত হলে কার দোষ হয় বলুন তো? ইয়াহিয়া খানের, সেনাপ্রধানের। তাহলে ব্যবসার ক্ষেত্রে দায় কেন টিমের সদস্যদের উপর দিচ্ছেন?
৩. শুরুটা আপনারই করতে হবে
টিমে কাজ করার সময় নেতা হিসেবে আমাদের কথা কেউ না শুনলে আমরা “বসের অর্ডার” কিংবা উপরের অর্ডার বলে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেই কথা বার্তা। আপনার উপরে টিমের বিশ্বাস থাকে না বলেই কিন্তু আপনাকে হাইকোর্ট দেখাতে হচ্ছে!
সেনাবাহিনীতে কি এমনটা হতে শুনেছেন? ট্রেনিংয়ের প্রথম দিন থেকেই নেতার কথা শুনতে হবে এমনটাই মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়। নেতার মনস্তত্বের উপরে ভরসার কথা বলা হয়। আবার যিনি নেতা হবেন তাকেও এমনভাবে ট্রেনিং দেয়া হয় যেন তার উপরে সবার শ্রদ্ধা আর ভরসা তৈরি হয়। অনাস্থা কিন্তু সেনাবাহিনীতে ভয়ানক একটি রোগ। আপনার উপর একবার অনাস্থা তৈরি হলে আপনি সম্ভবত সেনাবাহিনীতে আর টিকবেন না!
অফিসগুলোতে কি দেখি আমরা? যে টিমলিডার থাকে তার উপরই যত অনাস্থা! টিমের কর্মীদের মধ্যে কেন টিমলিডার কিছুই পারে না বলে ধারণা তৈরি হয়?
আপনি যদি নিজের টিমের মধ্যে লিডারশিপের জায়গা তৈরি করতে চান, তাহলে আপনি উপরের সিদ্ধান্তে কাজ করছেন এমন কোন কারণ তৈরি করবেন না।

৪. নিজের ইগো সম্পর্কে সতর্ক থাকুন
সিয়েরা লিওনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরাসরি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। ভাবুন তো সেখানে আপনি মেজর পদমর্যাদার কোন অফিসার। আপনার কোন কলিগের সঙ্গে আপনার “শো অফ” ক্রাইসিস আছে। সেই কলিগ কারও কথা শুনেন না, তার সঙ্গে কোন সৈনিক কেউ যুদ্ধমাঠে যেতে চান না। তাহলে পরিস্থিতি কি হবে ভাবুন তো?
আমাদের অফিসগুলোতে কিন্তু এমন অনেক কর্মী আছেন, কিংবা আপনিই সেই টিমলিডার যার সঙ্গে কেউ কাজ করতে চান না। আপনি ম্যানেজার পদের মানুষ বলে সবার সঙ্গে খারাপ বিহেইভ করেন, ইগোর কারণে মাটিতে পা পড়ে না। সেনাবাহিনীতে এমন হলে পরিস্থিতি কি হবে ভাবুন তো?
সেনা অফিসাররা অনেকেই অনেক সৈনিকের চেয়ে বয়সে কম। তার নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার অধীনস্ত টিম কি সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারবে?
“আমি সব জানি”, এমন বস বা টিম লিডার অফিসে থাকবেই। সেনাবাহিনীতে এমন অফিসার থাকলে কি বিপত্তি হবে তা ভাবুন একবার!

৫. কভার অ্যান্ড মুভ
সেনাবাহিনীতে কভার অ্যান্ড মুভ নামের একটা যুদ্ধ স্ট্র্যাটেজি আছে। গোলাগুলি চলুক না চলুক আপনি যখন সামনে এগোবেন তখন সব সময় আপনার যে সদস্যরা সামনে এগোচ্ছে তাদের কেউ না কেউ কভার করছে।
এ সময় আরেকটা স্ট্র্যাটেজি কাজে লাগানো হয়, সাধারণভাবে আমরা হেটে চলার সময় এক পা সামনের মাটিয়ে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরের পা তুলে হেটে যাই এমনটার উল্টো! আপনি প্রথমে প্রথম পা ফেলবেন, তা পুরোপুরি মাটিতে রেখে তারপরে দ্বিতীয় পা সামনে বাড়াবেন!
আমরা অফিসে টিমলিডাররা কি করি? নিজের কাজ করে সামনে এগিয়ে যাই। যুদ্ধের মাঠে এমনটা করলে কি হবে বলুন তো! যুদ্ধের মাঠে প্রত্যেক সেনাসদস্য যেমন নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তেমনি নিজের সহযোদ্ধারও। অফিসে এমনটা করার চর্চা প্রয়োজন আমাদের। এতে নেতার প্রতি সবার বিশ্বাস তৈরি হয়।


৬. সব কিছু সরল রাখুন
বলা হয়, রণকৌশল যত কঠিন যুদ্ধে জেতা তত কঠিন। সব সোজা আর সরল রাখা হয় যুদ্ধ কৌশলে, যেন সৈনিকরা সবাই সব কিছু বুঝতে পারে।
অফিসে কি হয়? একটা পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে চার্ট আর চার্ট দিয়ে ভরে ফেলি আমরা। তারপরে তার সাতসমুদ্রের যতজ্ঞান আছে তা নিয়ে ভয়ানক একটা স্ট্র্যাটেজি তৈরি করি! এতে ভরকে যায় আপনার টিমমেইটরা!
অ্যাপল কিন্তু দুনিয়া সেরা সাফল্য পেয়েছে তার সরল ডিজাইনের জন্য!

 

 

 


আরও পড়ুন:

তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 4,302 views. Thank You for caring my happiness.

ব্যবসা কি তা জানতে যে বইটা পড়া জরুরী

ইনোভেটিভ বিজনেজ মডেলের উপর Alexander Osterwalder আর Yves Pigneur-এর বই Business Model Generation। বিজনেজ কিংবা স্টার্টআপ-অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ নিয়ে যারা আগ্রহী তাদের জন্য দারুণ একটা বই। গুডরিডস রেটিং ৪.১৬, ৪+ বলেই বোঝা যায় ২৭০ পৃষ্ঠার বইটা বেশ কাজের।  
বইটা পড়ার পরে ডিজাইন থিংকিং বিষয়টা সম্পর্ক ধারনা বেড়েছে আমার। আর বইটা নাইন বিল্ডিং ব্লকসের বিজনেজ মডেল ক্যানভাস তৈরির জন্য আলোচিত। আপনি যদি কোন কিছু শুরু করতে চান, তাহলে এই ক্যানভাসে পুরো ব্যবসাকে বসিয়ে নিন। যদি বসানোর পরে দেখেন কোন একটা ঘর খালি, তাহলে আবার নতুন করে ভাবতে হবে।
৪-৫টা ব্যবসা মডেলের কথা এই বইয়ে লেখা হয়েছে। আনবিল্ডিং মডেল, দ্য লং টেইল মডেলগুলো সম্পর্কে প্রথম জানতে পারি আমি।
ডিজাইন থিংকিং, ভিজ্যুয়াল স্টোরি টেলিং যে কতটা আনন্দের আর মজার তা নতুন করে শিখেছি।

কোন ব্যবসা শুরুর আগে, কিংবা প্রচলিত ব্যবসাকে এই মডেলে ফেলে পুরো ব্যবসাকে একটা পেইজে আনা যায়। ডানে কাস্টমার, আর বামপাশে আপনি-আপনার প্রোডাক্টস; নিচে রেভিনিউ আর খরচ।

        

 

যে কোন স্টার্টআপের শুরুতে এই বিজনেজ মডেলের উপর বইটা পড়া বেশ কাজ দিবে বলে মনে হয় আমার। আইটি কিংবা নন-আইটি যে কোন ব্যবসাকে কাস্টমারের কাছে নেয়ার মডেল ব্যাখ্যা, ভ্যালু তৈরি করে তা কিভাবে কাস্টমারের কাছে পৌছাবেন তাই জানতে পারবেন এই বইটা থেকে।

 

আরও পড়ুন:

এক বছরেই ২০০ বই পড়বেন যেভাবে!

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 963 views. Thank You for caring my happiness.

পড়ো পড়ো পড়ো পড়া

জানুয়ারি মাসেই মুনির হাসানের নতুন বই পড়ো পড়ো পড়ো ফেসবুক ফিডে চলে আসে। পড়ার আগ্রহ তো এমনিই থাকে, মুনির হাসান স্যারের বই বা লেখা হলে তো কথাই নেই।

মুনির হাসানকে আমরা অনেকেই প্রকাশ্যে স্যার বলি, কিন্তু সামনে কথা বলার সময় “ভাই”, “বস”-ই ভরসা। স্যারের বই না পড়াটা অন্যায়, আর না কেনা তো মহাপাপ। কিন্তু আমি তো বই কেনার লোক না! শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের সাজ্জাদ ভাই আমাকে পড়ো পড়ো পড়ো কিনে দেন।

আমি মনে হয় সেই টাইপের পাঠক যাকে যে বই কিনে দেন তার অটোগ্রাফ নেই। আমার পড়ো পড়ো পড়ো বইয়ে লেখকের অটোগ্রাফ নেই, যিনি উপহার দিয়েছেন সেই সাজ্জাদ ভাইয়ের আছে।
গণিত অলিম্পিয়াডের বায়েজিদ ভূঁইয়া জুয়েল ভাইকে বলে রেখেছি, আমি কোন দিন “পড়ো পড়ো পড়ো” নিয়ে রিভিউ লিখতে তা ২৮০ পৃষ্ঠা লিখবো। মূল বই ২২০ পৃষ্ঠা, আর তার রিভিউ ২৮০ পৃষ্ঠা-দারুণ মার্কেটিং হাইপ হবে!

(আরও পড়ুন: এক বছরেই ২০০ বই পড়বেন যেভাবে!)

লর্ড অব দ্য রিংসের স্রষ্টা জে আর আর টোলকিয়েন ক্রিটিক সম্পর্ক বলেছেন, “কেউ বই পড়ে তারপরে বইটাকে কোন মতে একটা রিভিউ লিখে দেয়। বইটা পড়ে বিরক্তিকর, হাস্যকর কিংবা আবোলতাবোল মনে করে। আমিও তাদের লিখা নিয়ে একই ধারণা পোষণ করি।” কোন বই পড়ে কমেন্টস করা একটা আর্ট, ক্রিটিসিজম ইট সেল্ফ অ্যা আর্ট। আমি কে কোন বই পড়ে তা নিয়ে লেখার। পারমিনিট ২৫০+ শব্দ পড়ুয়া একজন ফাঁকিবাজ পাঠক হিসেবে দাবি করে কিছু বই যে পড়ি না তা অস্বীকার করবো না।


পড়ো পড়ো পড়ো শুরুর আগে আমি ফিল নাইটের শু ডগ বই পড়া শুরু করি। ফিল নাইট নাইকির প্রতিষ্ঠাতা। তার অটোবায়োগ্রাফি শু ডগ, আবার মুনির হাসানের বায়োগ্রাফির প্রথম অংশই পড়ো পড়ো পড়ো। যে কোন বায়োগ্রাফিরই প্রথমদিকটা আমার কাছে খুবই ঝাপসা মনে হয়। ফিল নাইট তার বইতে তার ঘর-বাড়ি-বারান্দার দারুণ এক চিত্র তুলে ধরেছেন, দূরের পাঠক হিসেবে সেইসব জায়গা কল্পনা করাটা খুব কঠিন। আমি যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে কোন দিন যাই নাই, সেহেতু আমাকে ওরেগনের পরিবেশ সম্পর্কে যতটাই লিখে বলা হউক না কেন, আমি বুঝে উঠতে পারবো না।
মুনির হাসান যখন ১৯৮৮ সালে বুয়েটে পড়ছেন, রাজনীতির আশেপাশে ঘুরছেন-সেই সময়টাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ছিল উত্তাল। যারা পড়ো পড়ো পড়ো পড়বেন তারা জেনারেল এরশাদের কারণেই ক্যান্টনমেন্ট+দেশ উত্তাল দেখতে পারবেন। সে সময়টায় আরেকটা কারণে ক্যান্টনমেন্ট গরম ছিল, সেটা ছিল আমার জন্ম। আমি সিএমএইচে জন্মেছিলাম তখন! কাকতালীয়ই বটে, স্যারের জন্মদিন আর আমার জন্মদিনই একই তারিখ, ২৯ জুলাই। পরে জেনেছি ২৯ জুলাই উদ্যোক্তা তানিয়া ওয়াহাব ও সোলায়মান সুখনের মেয়েরও জন্মদিন! সব লিও!
পড়ো পড়ো পড়োর শুরুর দিকেও অনেকগুলো চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হতে হয়ে পাঠকদের। বুয়েট আর চট্টগ্রামের নানান মানুষ আর চরিত্রের নানান ঘটনা, কিছুটা আড্ডার স্টাইলে লেখা। যারা মুনির হাসানের কথা শুনেছেন তারা বইটা পড়ার সময় মুনির হাসানই কথা বলছেন এমনটা ভাবতে পারেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফিল নাইটের শু ডগ পড়ে যেখানে কুয়াশা দেখেছি সেই অবস্থা ছিল বুয়েটের হল আর ক্লাসরুমের নানান চিত্র পড়ার সময়। তবে এটা ঠিক যারা বুয়েটে পড়েছেন তারা নিজেকে মুনির হাসানের জায়গায় কল্পনাতে নিয়ে যেতে পারবেন। দূরের পাঠক হিসেবে মূল ঘটনার ক্রিমটাই পড়ে মুখে হাসি আসবে আপনার।
যেহেতু বইটি কোন এক বড় আত্মজীবনীর অংশ সেহেতু প্রথমটুকুই পড়ে কোন ধরণের ক্রিটিক টাইপের মন্তব্য করতে আমি রাজি না। ৪০ বছর পরের কেউ যদি টাইম মেশিনে এখন চলে আসলে সে বইটা সম্পর্কে দারুণ কোন রিভিউ করতে পারবেন, আমি না।
যারা মুনির হাসানের বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা নিয়মিত পড়েন তারা নিশ্চিত বইটির শেষের অংশ পড়ে এখনকার মুনির হাসানকে মেলাতে পারবেন। আমি মুনির হাসানকে ২০০৭ থেকে চিনি, এরপরের অংশটুকুর জন্য বইটির দ্বিতীয় পর্ব টুকু পড়তেই হবে।

(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ২০১৭ সালে যে বইগুলো পড়া উচিত!)

যে সব কারণে পড়ো পড়ো পড়ো পড়া ঠিক হবে না

  1. আপনি যদি বিসিএস পরীক্ষাই ধ্যানজ্ঞান মনে করেন তাহলে বইটা ধরাই ঠিক হবে না।
  2. বইটির শেষ দিকে আরও কিছু বইয়ের নাম দেয়া আছে। এটা আসলে ওই বইগুলো বেঁচার ধান্দা! অ্যাফিলিয়েটিং মার্কেটিং, একটা কিনলে আরেকটায় যাওয়ার ব্যবসা!
  3. বইটার শেষ দিকে কিছু মুভি দেখার তালিকা আছে, তাহসানম্যানিয়াক হলে বইটা না ধরাই উত্তম।

আমরা যারা মুনির হাসান হতে চাই, তাদের জন্য বইটা থেকে দুষ্টামি শেখার সুযোগ যেমন আছে। তেমনি বইটি পড়ে “অ্যাট দ্য এন্ড অব দ্য ডে হোয়াট ইউ রিড ইজ ইউ” বলে মনে হবে আপনার।
হ্যাপি রিডিং!

 

 

আরও পড়তে পারেন:

নবী মোহাম্মদ কি জুতো পরতেন

ফোর্বস ম্যাগ যে বই উদ্যোক্তাদের Must পড়তে বলে

এক বছরেই ২০০ বই পড়বেন যেভাবে!

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,667 views. Thank You for caring my happiness.

শিক্ষক-ছাত্রের সেই যে পাগলামিই নাইকি!

আমাদের দেশে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক যেন কেমন জানি ভয় আর দূরত্বের বেশ বড় একটা সম্পর্ক। আমাদের দেশে তেমন দেখা না গেলেও পশ্চিমের দুনিয়াতে ছাত্র-শিক্ষকরা অনেক বড় প্রতিষ্ঠানই গড়ে তুলেছেন এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায়।

অরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ে উইলিয়াম বাওয়ারম্যান নামের একজন ফিল্ড কোচ ছিলেন। পদে কোচ হলেও নিজেকে প্রফেসর হিসেবেই দাবি ছিল তার। তার বিশ্ববিদ্যালয় টিমের এক শিক্ষার্থী ছিল ফিল নাইট।

অরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪ বছর কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাওয়ারম্যান। ১৯৬৪ সালের অলিম্পিকে মার্কিন অ্যাথলেটদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল বেশ। জগিংয়ের উপরেও বেশ ভালো বই লিখে ষাটের দশকে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। এই বাওয়ারম্যানই তার টিমের ব্যাকআপ প্লেয়ার ফিল নাইটকে নিয়েই দারুণ এক কোম্পানি গড়ে তুলেছিলেন, নাইকি।
কে এই ফিল?
অন্য আট-দশটা মার্কিনের মতই সাদা চামড়ার মানুষ ফিল নাইট। প্রথমে অরেগন বিশ্ববিদ্যালয় তারপরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়েন ফিল। এরপরে সেনাবাহিনীতেও কিছুকাল রিজার্ভ হিসেবে কাজ করেন। মা-বাবার দারিদ্র্যতাকে কাটানোর জন্য কি করা যায় তা নিয়ে প্রায়শই ভাবতো ফিল।

স্ট্যানফোর্ড পড়ার সময় “Can Japanese Sports Shoes Do to German Sports Shoes What Japanese Cameras Did to German Cameras?” নামের একটা পেপার প্রকাশ করেন ফিল। নিজের কাছে সেই রকম মনে হলেও তার এই পেপার প্রেজেন্টেশনের সময় নাকি ক্লাসের বাকি সবাই ঘুমাচ্ছিল বলে নিজের বায়োগ্রাফিতে লিখেছিলেন ফিল। ১৯৬২ সালে স্ট্যানফোর্ডের পড়াশোনা শেষ করে সারা পৃথিবী ঘোরার আগ্রহ দেখা যায় তার। জমানো টাকা নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন, প্রথমে হাওয়াই।
একবন্ধুর সঙ্গে হাওয়াইর বিমান উঠে পড়েন ফিল। সেখানে কিছুদিন এনসাইক্লোপিডিয়া বিক্রি করার চেষ্টা করে ফিল, কয়েক সপ্তাহ পরে হিসেব করে দেখেন কোন কিছুই বিক্রি পারেন না ফিল। এরপরে ছুট দেন জাপান। টাইগার নামের এক জুতো জাপান থেকে আমেরিকায় এনে বিক্রির প্ল্যান করে ফিল। নিজের ঘরে অনেক পুরষ্কার নীল ফিতা দিয়ে জড়ানো ছিল, প্রতিদিন সন্ধ্যায় সেখানে ফিলের নজর পড়ত, তাই জাপানিজদের নিজের কোম্পানির নাম হিসেবে বলেন ‘ব্লু রিবন’।

এই সেই ফিল!

জুতো জাপান থেকে দেশে ফিরতে ফিরতে ফিল চীন, ভারত, ফিলিপাইন, নেপাল, গ্রীস, মিশর, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স হয়ে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে অ্যাকাউনটেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরই মধ্যে জুতো জাপান থেকে বাড়িতে আসলে চমকে যান ফিল। নিজের শিক্ষক+কোচ বাওয়ারম্যানকে জুতো কেনার অনুরোধ করে। বাওয়ারম্যান শুধু জুতোই নয় ব্লু রিবন কোম্পানির শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেন।
বাওয়ারম্যানের এক উকিল বন্ধুর বাড়িতে হ্যান্ডশেইক চুক্তির মাধ্যমে ব্লু রিবন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন ছাত্র-শিক্ষক নাইট ও বাওয়ারম্যান।
——-

এখন পড়ছি শু ডগ নামের একটি বই। #21daysofReading চ্যালেঞ্জের অংশ হিসেবে প্রতিদিন ২০ পৃষ্ঠা করে বইটা পড়ছি। সাড়ে তিনশ পৃষ্ঠা শেষ হবে কবে?

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 973 views. Thank You for caring my happiness.

নবী মোহাম্মদ কি জুতো পরতেন

শিরোনাম দেখে ধর্মবিদ্বেষ ভাবনা আসতে পারে অনেকের মধ্যে। এই জিজ্ঞাসা আমার না, ফিল নাইট নামের এক ভদ্রলোকের। ১৯৬০ দশকে পৃথিবী ঘুরতে বেরিয়ে ছিল ফিল নাইট। জেরুজালেমের একটি পাথরের গায়ে নবী মোহাম্মদের পদচিহ্নের কথা জেনে ফিলের মনে প্রথম এই প্রশ্নই এসেছিল, ‘নবী মোহাম্মদ কি খালি পায়ে চলতেন, না জুতো পরতেন?’

কেন এই প্রশ্ন আসলো তার মনে? প্রশ্নের শুরুটা আসলে ১৯৬২ সালের শুরুর দিকেই। ফিল নিজের জন্য কিছু করবে দেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন থেকে হাওয়াই হয়ে জাপান চলে যায়। জাপানে সেই রকম কিছু কাজ করে বিশ্ব দেখতে বের হয় ফিল, আর তখনই এমন একটা প্রশ্ন আসে তার মনে। লিওনার্দো ভিঞ্চির শহরে ঘুরতে যেয়ে ফিলের লিও’র ‘মানুষের পা নাকি সবচেয়ে সুন্দর’ এমন ভাবনায় আলোড়িত হয় ফিল। শেক্সপিয়ারের এলাকা দেখার সময় এলিজাবেথিয়ান সময়কার নারীরা জুতোর উপরে লাল কাপড় পড়তেন। দুনিয়ার যাই দেখতেন ফিল সবখানেই জুতো দেখতেন! নেপাল ঘোরার সময় তিব্বতীয় মংকদের জুতোই দেখতেন ফিল।
যুদ্ধের জেনারেল যে বুট-জুতা পছন্দ করতেন তাকেই সেই মাত্রায় পছন্দ করতেন ফিল। পাগলামি!
অবরুদ্ধ বার্লিনে একদিকে মার্ক্স-এঙ্গেলস-প্ল্যাৎজকে খুঁজে বেরিয়েছেন ফিল, আর অন্য দিকে দুটো ছেলে একটা মেয়ের ছবি তোলার সময় নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। “Will I ever forget her? Or her shoes?”, এখানেও জুতো তার।
সব দিকে জুতো-জুতো দেখা এই মানুষটা ফিল নাইট, নাইকির প্রতিষ্ঠাতা।

মন্ত্রমুগ্ধে মত ফিল নাইটের লেখা শ্যু ডগ পড়ছি। স্টিভ জবস, রিচার্ড ফাইনম্যানের বায়োগ্রাফি পড়ার পরে এই বই হাতে আসছে। প্রতিদিন ২০ পেইজ, এমাসের শেষে এই বই শেষ হবেই। ফিল নাইটের কথা প্রথম জানি আমার যমুনা টিভির সহকর্মী-বড় ভাই এইচ এম সুজা ভাইয়ের কাছে। সুজা ভাইও ফিলের মত মাল, চালু।

 

 

সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ক্লাসরুমে বসে ৯ ফেব্রুয়ারি এই পোস্টটা লিখেছি।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,315 views. Thank You for caring my happiness.

ফোর্বস ম্যাগ যে বই উদ্যোক্তাদের Must পড়তে বলে

ফোর্বস ম্যাগের যে পোস্ট নিয়ে এই লেখা তার সময়কাল ছিল ২০১৫। দুইবছর আগের লেখা হলেও, যে বইগুলোর তালিকা ফোর্বস ম্যাগে ম্যুরে নিউল্যান্ডস দিয়েছেন তা এখনও প্রাসঙ্গিক।
ফোর্বস ম্যাগে যা বলা হয়েছিল, আপনি এমবিএ পড়েন না পড়েন কিন্তু ব্যবসা বা উদ্যোক্তা হতে চাইলে এই বইগুলো পড়ে দেখা আবশ্যক। বিজনেজ স্কুলগুলোতে যা শেখায় না তাও নাকি এই বইগুলো থেকে জানা যাবে।
১. দ্য লিন স্টার্ট-আপ
এরিখ রিসের এই বইটা উদ্যোক্তা বিষয়ক বিভিন্ন বইয়ের তালিকায় প্রায়শই দেখা যায়। আমি অবশ্য ৩০ পৃষ্ঠার মতো পড়ে বইটা রেখে দিয়েছি, একটু বোরিং মনে হয়েছে। এরিখ এই বই যে কোন ব্যবসার জন্য দারুণ এক বৈজ্ঞানিক প্রসেস ডেভলপ করে বইটা লিখেছে।

২. ১০১ ক্রুশিয়াল লেসন্স দে ডোন্ট টিচ ইউ ইন দ্য বিজনেজ স্কুল
ক্রিস হ্যারউনের এই বই how to find customers আর how to network তৈরি করবেন তা নিয়ে অনেক কথা বলা আছে।

৩. জিরো টু ওয়ান
পিটার থেইলের এই বইটা যারা পড়েছেন তারা জানেন পিটার আসলে কি মাল! পিটার-এলন মাস্করা সেই ১৯৯৯ সালে পেপ্যাল তৈরি করেছিল। এই বইটা পড়লে ছয়টা প্রশ্ন পাবেন, তার উত্তর খোঁজাই নাকি উদ্যোক্তাজীবন।

৪. দ্য সেলফ-মেইড বিলিওনেয়ার ইফেক্ট
 he Self-Made Billionaire Effect by John Sviokla and Mitch Cohen
জন সিভিওকলা ও মিচ কোহেন নাকি এই বইয়ের ১২০ বিলিওনেয়ারের উপর গবেষণা করে এই বইটা লিখেছেন। যার কোম্পানির যত বড় ভ্যালু সেন্স সে তত বড় প্রভাবশালী হয়।

৫. স্টার্ট উইথ হোয়াই
সাইমন সিনেক নামটা কয়েকমাস ধরেই নানা জায়গায় দেখতেছি, তার বই নাকি সেই লেভেলের। এই বই থেকে জানবেন, মেকিং মানি ইজ নট অ্যা হোয়াই!

৬. দ্য ৭ হ্যাবিটস অব হাইলি ইফেক্টিভ পিপল
স্টিফেন কোভের এই বইটা ক্লাসিক লিডারশিপের উপর বইগলোর একটা হিসেবে ধরা হয়।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,132 views. Thank You for caring my happiness.

বেশি বই বেশি পড়ার উপায়

আপনি বছরে কয়’টা বই পড়েন? আমার অফিস+ক্লাসমেটদের এই প্রশ্নের উত্তরে যা জানলাম তা ভয়ানক। অফিসের লোকেরা বছরে একটা বইও পড়েন না, ২০ পৃষ্ঠাও পড়েন না অনেকেই। আর যারা ক্লাসমেট তারা পড়ার বই শুধু ধরেন, পড়েন না তেমন। এর বাইরে বিভিন্ন হিসেব বলছে, প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষ গড়-পড়তা ভাবে বছরে ৫টি বই পড়েন, যদি না তিনি সৌভাগ্যবান হন।

হার্ভার্ড বিজনেজ রিভিউতে দ্য হ্যাপিনেস ইকুয়েশন বইয়ের লেখক নেইল প্যাসরিশা বেই বই বেশি পড়ার উপায় সম্পর্কে লিখেছেন।
নেইল প্যাসরিশা যা লিখেছেন তা অনেকটা এমন,
প্রকাশ্যে প্রতিজ্ঞা করুন যে কোন কোন বই পড়বেন। রবার্ট সিয়ালদিনি দ্য সাইকোলজি অব পারসুয়েশন বইয়ে লিখেছেন, যখন মানুষ ঘোড়দৌড়ের মাঠে ঘোড়ার উপরে মানুষ বাজি ধরে, তখন দৌড়ানোর আগ পর্যন্ত বাজিকররা তার ঘোড়াই সেরা বলে সবাইকে জানাতে থাকে। এ সময়টায় সেই মানুষটা সবচেয়ে বেশি উজ্জীবিত থাকেন। আমরা কেন নিজেকে নেই মানুষটার মত ভাবতে পারি না? গুডরিডস বা এধরণের উন্মুক্ত ফোরামে বন্ধুবান্ধব নিয়ে উন্মুক্ত কোন বইলিস্ট তৈরি করতে পারেন, দল বেঁধে বই পড়ার আগ্রহ বেশি পড়তে উৎসাহিত করে।
বিল গেটসে রিডিং লিস্ট, ড্রেরেক শিভারর্সে লিস্ট কিংবা টিম ফেরিসের বই তালিকা ধরে বই পড়া শুরু করতে পারেন।

ফার্স্ট ফাইভ পেজ টেস্ট

যে কোন বই পুরো পড়ার আগে, ফার্স্ট ফাইভ পেজ টেস্ট করুন। কিংবা যে কোন বই কেনার আগেও ফার্স্ট ফাইভ পেজ টেস্ট করতে পারেন। ফার্স্ট ফাইভ পেজ টেস্টে বোঝা যায় কোন বই আপনাকে কেমন সাপোর্ট দিবে।

মলাটের বই পড়ুন

ই-বুক পড়া মানুষদের সংখ্যা কিন্তু বাড়ছে। তারপরেও মলাটের বইয়ে যে টান থাকে সেটা ইবুকে কিন্তু পাওয়া যায় না। স্মার্টফোন কিংবা কিন্ডল-নুকে বই পড়লে একটু ফেসবুক-একটু সোশাল মিডিয়াতে ঢু মারা সুযোগ থাকে, এতে পড়তে কিন্তু বেশিই টাইম লাগে। হাতে ধরা বই পড়ার সুখ আলাদাই কিন্তু।

দশ হাজার স্টেপস রুল অনুসরণ করুন

দিনের অনেকটা সময় কিন্তু আমরা এলোমেলো থাকি। সেই সময়গুলোই কিন্তু বই পড়ার কাজে ব্যবহার করা যায়। সকালে অফিসে যাওয়ার সময়, বাসে বসে বসে, চা খাওয়ার সময় কিন্তু নিজেকে সময় দিতে বই পড়তে পারেন। দশ হাজার স্টেপস রুলটা হচ্ছে, সারাদিন আমরা যারা তেমন চলাফেরা করি না, তারা একটু দোকানে যাওয়া, বাড়ির বাইরে যাওয়া, পার্কে একটা চক্বর দিয়ে আসলেই দিনের ১০ হাজার স্টেপস হাটা হয়ে যায়।

একসঙ্গে অনেক বই পড়ুন

অনেকে আবার একসঙ্গে অনেক বই পড়তে পছন্দ করেন না। আমি আবার একই সঙ্গে ২/৩টি ভিন্ন ধারার বই পড়তে পছন্দ করি, সকালে রিচার্ড ফাইনম্যান তো বিকেলে টিম ফেরিস। গল্প-উপন্যাসের ক্ষেত্রে আবার এই ফর্মূলা একটু বিভ্রান্তকরই।

তো হ্যাপি রিডিং!

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,316 views. Thank You for caring my happiness.

এক বছরেই ২০০ বই পড়বেন যেভাবে!

এমনিতেই কিন্তু বই পড়ার অভ্যাস তেমন নেই আমাদের। সেখানে এক বছরে ২০০ বই পড়া পাগলামি মনে হতে পারে। আবার ২০০ বইয়ে কতগুলো পৃষ্ঠা থাকবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতেই পারেন। মোটামুটি গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ পৃষ্ঠার ২০০ বই পড়ার দারুণ এক ফর্মূলা প্রকাশ করেছে ইন্ক ডট কম, যদিও বেটার হিউম্যানসে প্রথম লেখাটি প্রকাশিত হয়। ইতিবাচক লাইফস্টাইল, পার্সোনাল মটিভেশন, স্টার্টআপ-অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ, গোল সেটিং, লিডারশিপ, মার্কেটিং-সেলসের উপর বইপত্র দারুণ এই উপায়ে পড়া যায়।

২০১৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমি ৩৯টা বই পড়া শেষ করেছিলাম। বেশির ভাগ বই উদ্যোগসম্পৃক্ত আর গোল সেটিং রিলেটেড। চেষ্টা ছিল বিভিন্ন লিস্টে টপ টেন বইগুলোকে পড়তে। সব বই যে পড়ে দারুণ লেগেছে তা বলবো না, কিছু বই ছিল দারুণ (স্টিভ জবসের বায়ো ছিল ২০১৬ সালে আমার পড়া সেই মাত্রার দারুণ বই)-আর কিছু বই আমি বুঝিই নাই-মাথার উপরে ছিল (যেমন এরিক রিসের লিন স্টার্টআপ)।

সপ্তাহে নিজের স্কিল বাড়ানোর জন্য যে কোন বই ত্রিশ মিনিট পড়াকে দারুণভাবে উৎসাহ দেন অনেক লাইফ কোচ। ওয়ারেন বাফেট এখন নাকি দিনের ৮০ ভাগ সমই কোন না কোন বই পড়েন। বছর শেষে নিজের কর্মীদের বই পড়ার পরামর্শ লিখে নিয়মিত চিঠি লেখেন এই ধনকুবের। শুধু বাফেট নয়, বিল গেটস তো রীতিমতো গেটস নোটস লিখেন বিভিন্ন বই পড়ে। বছরে ৫০টার মত বই পড়েন হাইস্কুল ড্রপআউট বিল। অন্যদিকে জ্যাকারবার্গ দু’সপ্তাহে নাকি একটা বই শেষ করেন। এলন মাস্ক, জ্যাক ডর্সি সবাই কিন্তু সেই লেভেলে বই পড়েন।

যে ভাবে ২০০ বই শেষ হবে
এমনি মানুষ গড়ে ২০০ থেকে ৪০০ শব্দ পড়তে পারেন, যেখানে বিভিন্ন বইয়ে গড়-পড়তা ভাবে ৫০ হাজারের কম-বেশি শব্দ থাকে।
এই হিসেবে,
২০০ বই  * ৫০০০০ শব্দ/বই = ১০ মিলিয়ন শব্দ (১ কোটি শব্দ)
১০ মিলিয়ন শব্দ/৪০০ শব্দ পার মিনিট = ২৫,০০০ মিনিট
২৫,০০০ মিনিট/৬০ = ৪১৭ ঘণ্টা

হিসেব পরিষ্কার, বছরে ২০০ বই পড়তে আপনার-আমার মতো গড় মানুষের বছরে ৪১৭ ঘণ্টা সময় লাগবে, মাত্র।
৪০০ তো ব্রায়ান লারার টেস্ট ক্রিকেটে রান ছিল, সেখানে সারা বছরে এত ঘণ্টা কিভাবে পড়া সম্ভব!

একটু অন্য পরিসংখ্যান দেখা যাক,
আমরা নাকি বছরে ৬০৮ ঘণ্টা গড়ে সোশাল মিডিয়াতে সময় কাটাই। (প্রতিদিন গড়ে ২ ঘণ্টা তো কমনই!)
১৬৪২ ঘণ্টা দেখি টেলিভিশন, সুলতান সুলেমান+শার্লক+ডেক্সটার।
৩৬০ ঘণ্টা বছরে গড়ে ট্রাফিক জ্যামে সময় কাটাই আমরা।

এই ঘণ্টার হিসেব কিন্তু বলছে বছরে ইচ্ছে করলে ১০০০ বই পড়া সম্ভব!
আসলে সারা দিন মিলিয়ে ৭০ মিনিট পড়ার সময় দিলেই বছরে ২০০ বই পড়া সম্ভব। এ হিসেবে মাসে ২০০০+ মিনিট; বছরে ৪২০+ ঘণ্টা।

পেশাজীবিদের জন্য অবশ্য দিনে ৭০ মিনিট পড়ার জন্য ব্যয় করা বেশিই ব্যয়বহুল।

গুগলিং করে পেশাজীবিদের জন্য যা পেলাম,
সকালে নাশতার আগে পড়ে ১০ মিনিট, ট্রাফিক জ্যাম বা অফিসে যেতে যেতে ২০ মিনিট, সকাল ১১-১২টার নাশতার সময় ১০ মিনিট, দুপুরের লাঞ্চ ব্রেকে ১০ মিনিট, অফিস থেকে ফেরার পথে ২০ মিনিট, রাতের খাবারের পরে ২০ মিনিট=মোট ৭০+ মিনিট!
সারা সপ্তাহে পড়ার তেমন সময় না পেলেও শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনটিকে বই পড়ার জন্য ব্যয় করতে পারেন।

তো কি কি শিখতে পারেন,
যে যেই পেশার মানুষ সেই পেশার আলোচিত ৩ মানুষের জীবনী দিয়ে শুরু করুন।
গুড রিডসসহ বিভিন্ন বুক রিভিউ সাইটে পছন্দের লিস্ট খুঁজে নিতে পারেন।
অফিসের বস যে বই পড়ছেন তাও পড়তে পারেন।

তো, হ্যাপি রিডিং।

 

 

আমার পছন্দের যে বইগুলো পড়তে পারেন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে বইগুলো পড়া উচিত

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,264 views. Thank You for caring my happiness.

কাজী আরেফিন শশীর পাঁচ কাজের প্রিয় বই

কাজী আরেফিন শশী, তার নেটওয়ার্কের লোকজন তাকে মুক্তখবরের শশী নামেই ডাকে। মাল একটা। শশী ভাই ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার লোক, দারুণ উৎসাহী-ভার্সেটাইল সেন্সের মানুষ।
তার কাছ থেকেই এই বইয়ের লিস্টের পাই, সৃজনশীলতা+ডিসিপ্লিন্ড লাইফের জন্য এই বইগুলো নাকি দারুণ, জোস।

সেইভ দ্য ক্যাট!: দ্য লেটেস্ট বুক অন স্ক্রিনরাইটিং ইউ উইল এভার নিড

ব্লেইক স্নাইডার-এর বই। বিড়ালের গলায় ঘন্টা পড়াবেন কিভাবে তা জানা যাবে নাকি এই বই থেকে। কিংবা বিড়ালকে কিভাবে নাচাবেন তাই জানতে পারবেন এই বই থেকে! গুডরিডসে এই বইয়ের পাশে রেটি ৪+ দেখে আসলেই চমকে যাবেন।  বইটা নাকি আসলে punchy আর fast read টাইপের।

দ্য আর্ট অব স্টোরিটেলিং: ইজি স্টেপস টু প্রেজেন্টিং অ্যান আনফরগেটবল স্টোরি

জন ডি ওয়ালশ-এর বই। প্রত্যেক মানুষেরই বিভিন্ন রকমের নানান রঙের গল্প থাকে। সেই গল্প আপনি কিভাবে বলছেন তার চেয়ে আপনাকে যাকে বলছেন সে কিভাবে শুনছে-দেখছে তাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই স্টেপসগুলো নিয়েই এই বই।

রিওয়ার্ক

জেসন ফ্রাইড ও ডেভিড হ্যানসন-এর বই। ব্যবসা-দুনিয়ার বই। বইটাতে ব্যবসায় কিভাবে কম কাজে বেশি কাজ করা যায় তাই বলা আছে। Don’t copy competitors, Decomodify your product, Pick a fight আর Do less and be easier to use বিষয় সম্পর্কে সেই লেভেলে লেখা আছে নাকি।
Create something new আর Say no by default নিয়ে লেখা আছে বলে এবছর আমার পড়ার লিষ্টে বইটা আছে।

 

শশী ভাই আরও যে বই পড়ার রেফারেন্স দিয়েছেন:
অন ডিরেক্টিং
মডার্ন ওয়ার্কশপ অন স্ক্রীপ্টিং
The Modern Library Writer’s Workshop.

 

 

 
 
Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 994 views. Thank You for caring my happiness.