গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং-যে বই কিনলে ঠকবেন!

প্রশ্ন: মানুষ কেন বই পড়ে?
স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উত্তর দেবেন, পরীক্ষায় পাশের জন্য। মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার উত্তর দেবেন, মেধাবিকাশের জন্য। হুমায়ুন আহমেদ বেঁচে থাকলে উত্তর দিতেন, লেখকরা কি ছাতা লেখেন তা জানার জন্য।
বই আসলে দুই কারণে পড়া হয়, কোরাতে এক উত্তর থেকে যা জেনেছি। প্রথম কারণটি হচ্ছে সাহিত্যিক মূল্যবোধ কিংবা আগ্রহ নিবারণের জন্য। আর দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে স্কিল ডেভলপমেন্টের জন্য। যেমন হ্যারিপটারের একটি বই যখন আমেরিকান কিংবা ব্রিটিশ কেউ পড়ে সে হচ্ছে বইটির সাহিত্যিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে। এই মূল্যবোধের সঙ্গে গল্প, কাহিনী আর সৃজনশীলতার সম্পর্ক আছে। আর অন্য দিকে সেই হ্যারিপটারের বই যখন বাংলাদেশি কোন কিশোর পড়ে সে সাহিত্য+স্কিল দুটো কারণেই পড়ে। ইংরেজি বইটি পড়লে নিজের ইংরেজি দক্ষতা বিকাশের দারুণ সুযোগ তৈরি হবে অবচেতন মনেই। একারণে ইংরেজি বই কিংবা ভিন্নভাষার বই পড়াকে স্কিল বিকাশের একটা ধাপ হিসেবে অনেক স্মার্ট লোকেরা মনে করেন। আমিও ইদানিং লোকজনকে ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদের বই সরাসরি পড়তে নিরুৎসাহিত করি। একই সঙ্গে যদি সাহিত্যের মজা+স্কিল বিকাশের সুযোগ থাকে তাহলে সরাসরি ইংরেজি বই পড়তেই হবে। দ্য অ্যালকেমিস্টের বাংলা বই আর ইংরেজি বই দুটো দুই দুনিয়ার স্টাইলে ছাপা হয়েছে এটা বলার অবকাশ রাখে না।

ছবিসূত্র: রংপাতা


গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং বইটির সত্যিকার অর্থে কোন সাহিত্যিক ভ্যালু নেই, শুধু মুনির হাসানের কথা বলার স্টাইলের লেখনি পাওয়া যাবে। কিন্তু বইটি স্কিল ডেভলপমেন্টের সোর্স হিসেবে বেশ কার্যকর একটি বই বলা যায়। মার্কেটিং বিষয়ে দুনিয়ার অনেক রেফারেন্স আছে বইটিতে। গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং নিয়ে গেল ২/৩ বছর বেশ মাতামাতি আছে প্রযুক্তির দুনিয়াতে। বাংলাদেশি হিসেবে আমরা সে সবের খোঁজ রাখিই না বলা যায়, বইটি সে সব অনেকগুলো গল্পের এক সংকলন।

আরও পড়ুন: মুনির হাসান ২০১৮ সালে যে বই পড়তে বলেন

বইটির সাফল্য:
১. এখন তো আমরা ১০ সেকেন্ডের মধ্যে অনেক তথ্যই ভুলে যাই। বইটি পড়লে অনেক কেইস বেশ কিছুদিন মনে থাকবে।
২. বাংলাদেশে অনেক স্টার্টআপ নিজেদের মার্কেটিংয়ের জন্য বইটি পড়লে মুনির হাসানকে পরামর্শক বা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিলে যা উপকার পাবেন তা জানতে পারবেন।


বইটির দুর্বলতা:
১. অনেকগুলো কেইস স্টাডি পাওয়া যাবে, যা আসলে সেকেন্ড টাইম অনুসরণ করলে কি হবে তা বলা মুশকিল।
২. বইটি শেষ করলে কি কি জানি বাদ পড়লো বলে পাঠকের মনে অনেক প্রশ্ন আসবে।
৩. মুনির হাসানের পোস্ট যারা ফেসবুকে অনুসরণ করেন তাদের জন্য বইটি রিভিশন হবে!
অতএব, বই কিনলে ঠকবেন!

(এই পোস্টটি লেখার একটাই কারণ! মুনির হাসান তার বইয়ের রিভিউ দিয়ে কিছু লিখলেই শেয়ার দেন! সেই শেয়ারে তার লাখখানেক ফলোয়ার ওয়েবসাইটে আসে। আমার সাইটে গেল কয়েকদিন লোকজন নাই বললেই যে চলে, আকাল। আকাল কাটানোর জন্য পোস্টটা লেখা। আমি শুধু শিরোনামে গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং লিখলেই মুনির হাসান পোস্টটি শেয়ার করবেন, তারপরেও যারা কষ্ট করে আসবেন তাদের জন্য বইটি সম্পর্কে ২/৩ লাইন লিখলাম!)

আরও পড়ুন: ইংরেজি থেকে অনুবাদ বই পড়া বোকামি, সময় নষ্ট

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 896 views. Thank You for caring my happiness.

জাস্টিন ট্রুডোর প্রিয় যত বই

I read anything, and everything, in huge quantities.

একজন প্রধানমন্ত্রীর বাক্য বলে মনে হয় উপরের লাইনটিকে?

জাস্টিন ট্রুডোকে বর্তমান সময়ের বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে যাদের ধারণা আছে তারা বেশ চেনেন। কানাডার বেশ সুদর্শন আধুনিক প্রধানমন্ত্রী বলা যায় তাকে। সামাজিক যোগাযোগের দুনিয়াতে তার জনপ্রিয়তা বেশই বটে। বারাক ওবামা আর অ্যাঞ্জেলা মেরকেলদের সময় থেকেই বেশ নান্দনিক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনপ্রিয় ট্রুডো।

২০১৩ সালে কমনগ্রাউন্ড নামের একটি বই লিখেছিলেন এই প্রধানমন্ত্রী। কোরাতে এক প্রশ্নের উত্তরে নিজের প্রিয় বই আর লেখকের নাম লিখেছেন জাস্টিন, সেই লিষ্ট থেকেই এই পোস্ট।

“আমি পাঁড় পাঠক, পুরো জীবন ধরেই তো পাঠক। এখন সরকারী নীতিসংশ্লিষ্ট বই পত্র পড়ি, এরপাশে ফিকশন ঘরানার বইয়ের তালিকা করা বেশ কঠিন। আমি স্টিফেন কিং, নিল স্টেফেনসন আর ট্যাড উইলিয়ামসের ভীষণ ভক্ত। এসময়ে আমি লা পার্ট দ্য লওটার আর রেডি প্লেয়ার নামের বইটি পড়েছি।

ননফিকশনের মধ্যে আমার প্রিয় বইগুলো হচ্ছে:

Non-fiction: Gardens of Democracy, by Eric Liu and Nick Hanauer; Champlain’s Dream, by David Hackett Fischer”

 

 

অনলাইন ঘেটে দেখলাম, হকি নিয়ে বেশ বই-টই পড়েন ট্রুডো। গর্ড হাউই নামের কানাডার এক বিখ্যাত আইস হকি প্লেয়ারের বইপত্র নাকি পড়েন তিনি বেশ।

 

 

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 441 views. Thank You for caring my happiness.

মুনির হাসান ২০১৮ সালে যে বই পড়তে বলেন

মুনির হাসানের অনলাইনে বেশ তরুণ পাঠক আছে। গণিত অলিম্পিয়াড পরিমন্ডল থেকে শুরু করে আইসিটি-উদ্যোক্তা পরিমন্ডলের আলোচিত মুখ। কাঁচা-পাঁকা চুলের মুনির হাসান ২০১৮ সালে তরুণদের কি কি বই পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তা নিয়েই এই পোস্ট।

ব্যর্থদের উপর বই পড়তে হবে
“কি কি বই পড়ার পরামর্শ দেন?”, এমন প্রশ্নের প্রথম উত্তরে জানান, “ব্যর্থদের জীবনে নিয়ে বই পড়তে হবে। সফল-ব্যর্থদের জীবনী নিয়ে বই থেকে বাস্তব জীবনের জ্ঞান পাওয়া যায়।” আমি ব্যর্থদের জীবনী নিয়ে বেশ কিছু বই পড়েছি। সেগুলো মুনির হাসানের লিস্টিতে মিলে যাচ্ছে।


মেইড ইন জাপান: সনির প্রতিষ্ঠাতা আকিও মরিটার বায়োগ্রাফি টাইপের বই। সনির সব পণ্যই সব সময় সাফল্য পায় নি। সনির প্রথম পণ্য ছিল রাইস কুকার, যা কিনা ভাত পোড়ানোর জন্য জনপ্রিয়তা পায়। জাপানিজ নাবিক আকিও মরিটার অনেক ব্যর্থতার গল্প আছে বইটিতে।
মাই লাইফ অ্যান্ড ওয়ার্ক: হেনরি ফোর্ডের বই, সেই ১৯২২ সালে প্রকাশিত। আমি পড়ার পরেই বুঝেছি কেন যুক্তরাষ্ট্রেই গাড়ি উদ্ভাবনের বিকাশ ঘটেছে। ফোর্ডের সাফল্যের ভীড়ে কিন্তু তার আগের জীবনের অনেক গল্প আমরা জানি না। ফোর্ড কোম্পানির আগে ফোর্ড আরও দুটি গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান নিয়ে ধরা খেয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: জাস্টিন ট্রুডোর প্রিয় যত বই
রোমেল: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরাজিত জেনারেল রোমেলের যুদ্ধ কৌশল নিয়ে লেখা বইটিও দারুণ। বইটিতে রোমেলের নিজের হাতে তোলা অনেক ছবি সংযুক্ত আছে।


প্রসেস শক্তি বাড়ায় এমন বই পড়তে হবে
হিউম্যান প্রসেস বিষয়টার উপর বই পড়ার পরামর্শ দেন মুনির হাসান। কিভাবে দলগতভাবে কাজ করা যায়, কিভাবে নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ তৈরি করা যায় এমন বই পড়তে পরামর্শ দেন তিনি। এক্ষেত্রে ম্যাকেঞ্জি মাইন্ড নামের একটা বই আমি রেফার করতে পারি। আমাদের দেশে কনসালটেন্সি ফার্মগুলো তেমন কাজের কাজি না মনে হয়। ম্যাকেঞ্জি, জেপি মরগান, বোস্টন কনসালটেন্ট গ্রুপসহ বিভিন্ন দুনিয়াখ্যাত কনসালটেন্সি ফার্মগুলোর রেফার করা বই বেশ কাজের।


ইতিহাস-সংস্কৃতির বই পড়তে হবে
শুধু টেকনিক্যাল বা নন-ফিকশন বই পড়তে উৎসাহ দেন না মুনির হাসান। ইতিহাস-সংস্কৃতি সব ধরণের বই পড়তে পরামর্শ দেন তিনি।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 3,523 views. Thank You for caring my happiness.

পড়া বই: দ্য বুক অব জয়

(বইটি আমার ২০১৭ সালের #100Books চ্যালেঞ্জের অংশ হিসেবে পড়া)

Dalai Lama আর Desmond Tutu’র বই দ্য বুক অব জয়। সেই রকমের দারুণ একটা বই। দালাইলামা আর আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটুর মধ্যকার আনন্দ আর সুখের গল্পই আছে বইয়ে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাও-ইজম বা মিনিমালিজমের ভক্ত, তাই বইটা আমার কাছে বেশ বেশিই মনে হয়েছে। দারুণ বই।

দালাইলামা এক জায়গায় লিখেছেন,
মানুষ প্রত্যাশা করে সে এমন একটি ঔষুধ খাবে যা খেলেই ভয় আর দুশ্চিন্তা নিমিষেই পালিয়ে যাবে, আর সুখ চলে আসবে। যা কিন্তু অসম্ভব। একমাত্র মানসিক স্বস্তিই কিন্তু আপনাকে বেশ সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য হয় দ্রুত কিছু দরকার অথবা ভালো কিছু, দ্রুত আর ভালো এক করা বেশ কঠিন। মনের জোরই আপনাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

বইটির সর্বশ্রেষ্ট লাইনটি হচ্ছে একটি তিব্বতীয় প্রবাদবাক্য।

আপনি যেখানেই বন্ধু পাবেন, তাই আপনার দেশ; আর আপনি যেখানে ভালোবাসা পাবেন, তাই আপনার ঘর।

দালাইলামার নিজের দেশের কষ্ট কিন্তু এ লাইনে বোঝা যায়!

ডেসমন্ড টুটুর একটা কথা বেশ লেগেছে,
আমরা বেশ ভঙ্গুর একটি প্রজাতি। এই দুর্বলতাই আমাদের সত্যিকারের আনন্দ খুঁজে বের করতে সম্ভাবনা তৈরি করে।

বইটা পড়লে স্কুলের পাঠ্য বই মনে হতে পারে, আমার কাছে মনে হয়েছে আমি দালাইলামা আর ডেসমন্ডের সঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম।
বইটি পড়লে আনন্দের আটটি পিলার সম্পর্কে জানা যাবে। আনন্দ, ভয়, হতাশা, ভোগান্তি, শত্রুতা, একাকীত্ব-আপনি যদি দুর্বল ধর্ম বিশ্বাসী হন বইটি আপনাকে অন্যকিছু ভাবাবেই।
বইটার একটাই ভাবার্থ,

প্রতিদিনই আপনার সামনে নতুন করে শুরু করার সুযোগ আসে। প্রতিদিনই আপনার জন্মদিন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 676 views. Thank You for caring my happiness.

“মেয়র আনিসুল হকের রেকমেন্ডেড ৭টি বই”

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক স্যারের সঙ্গে বেশ ক’বার দেখা করার সুযোগ মিলেছিল, কখনও বই-পত্র নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়নি। যখন দেখা হয়েছিল তখন অবশ্য আমার বই-টই নিয়ে এত আগ্রহ ছিল না। কিন্তু যখন আগ্রহ তৈরি হয় তখন আনিসুল হককে আর জিজ্ঞেস করতে পারি নি কি কি বই পড়েন তিনি। এই পোস্টটি পুরো আন্দাজে লেখা একটি পোস্ট। অনেকটা “আমার মনে হয়, তিনি যেমনটা বলতেন” টাইপের পোস্ট। লেখাটি ফিকশনাল।
আইবিএর শিক্ষক ও প্রাইড গ্রুপের আব্দুল মোমেন স্যার একবার ক্লাসে আনিসুল হককে নিয়ে বলেছিলেন। গুলশানের ফুটপাত নিয়ে আনিসুল হকের ভাবনা নিয়ে স্যার বলেন, “মেয়র সাহেব অনেক দেশ-দুনিয়া ঘুরেছেন বলেই হয় ক্যাপিটাল সিটির ফুটপাত এভাবে বদলানোর চেষ্টা করেছেন।” আনিসুল হকের ব্যক্তি মননকে দূর থেকে বিশ্লেষণ করে আমার মনে হয়েছে তিনি তরুণদের নিচের বইগুলো পড়ার পরামর্শ দিতেন।

ডু দ্য হার্ড থিংস ফার্স্ট

ব্যক্তি আনিসুল হকের বড় একটা পরিচয় ছিল ব্যবসায়ী হিসেবে। মাইকেল ব্লুমবার্গের ছায়া কি ভর করেছিল তা উপর? নিউ ইয়র্ক শহরের এক সময়কার মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ একাধারে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, মিডিয়ামুঘল! ডু দ্য হার্ড থিংস ফার্স্ট আসলে অডিও বই। এখানে ব্লুমবার্গ কিভাবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন তা নিয়ে কথা বলেছেন।

ক্লাইমেট অব হোপ

মাইকেল ব্লুমবার্গের আরেকটি বই। এখানে কিভাবে ব্যবসা আর নাগরিকরা পৃথিবীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে পারে তা নিয়ে লিখেছেন ব্লুমবার্গ। ঢাকা উত্তরের পরিবেশ নিয়ে বেশ কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন আনিসুল হক। আমার ধারণা এই বইটিও তিনি রেকমেন্ড করতেন।

(আরও পড়ুন: ওয়াল স্ট্রিটের লোকজন ২০১৭ সালে যে বই পড়েছে)

ফ্রম থার্ড ওয়ার্ল্ড টু ফার্স্ট

সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা লি কুন ইয়ুর বায়োগ্রাফি। কিভাবে মালয় উপদ্বীপের একটি বিচ্ছিন্ন শহর পুরো পৃথিবীর নগর রাষ্ট্রের উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে তার পরিচয় আছে বইটিতে। সিঙ্গাপুর সিটির ব্যবস্থাপনাকে ভিত্তি ধরে ঢাকার ব্যবস্থাপনা করা অসম্ভব একটি বিষয়, কিন্তু সেভাবে ভাবতে চেয়েছিলেন তো আনিসুল হক।

ট্যাপ ড্যান্সিং টু ওয়ার্ক

ওয়ারেন বাফেটকে নিয়ে তার সাংবাদিক বন্ধুর লেখা বই। ব্যবসাকে চ্যারিটির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন কৌশল আছে বইটিতে। ওয়ারেন বাফেট যতটা না ব্যবসায়ী ততটাই ব্যবসা-দার্শনিক। আনিসুল হক নিশ্চিত ওয়ারেন বাফেটের বই পড়তে পরামর্শ দিতে আমাকে।

ফ্রিকোনমিক্স

অর্থনীতির শিক্ষার্থী আনিসুল হক নিশ্চিত ফ্রিকোনমিক্স বইটি পড়ার পরামর্শ দিতেন। বইটি থেকে আমি পড়েছিলাম “The conventional wisdom is often wrong.” আনিসুল হকের রাজনীতি নিয়ে ভাবনার সঙ্গে লাইনটি মিলে যায় কিন্তু!

ন্যুজ

এবারের অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী থ্যালারের বই ন্যুজ। আমি ২০১৫ সালে পড়েছিলাম, যদিও বইটি ২০০৯ সালের। থ্যালারের কথা হচ্ছে, MBA students are not the only ones overconfident about their abilities. The “above average” effect is pervasive. Ninety percent of all drivers think they are above average behind the wheel! আনিসুল হক ১০ পার্সেন্ট ট্রাক ড্রাইভারদের জন্য ঢাকা উত্তরে বেশ সমস্যা তৈরি করেছিলেন কিন্তু!

প্রেজেন্টেশন সিক্রেটস অব স্টিভ জবস

টেলিভিশন দুনিয়ার লোক ছিলেন আনিসুল হক। উপস্থাপনা যার অন্য পরিচয়। আনিসুল হক অবশ্যই আমাকে প্রেজেন্টেশন সিক্রেটস অব স্টিভ জবস বইটি পড়তে পরামর্শ দিতেন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,093 views. Thank You for caring my happiness.

বেঁচে থাকার জন্য উইনস্টন চার্চিলের স্পেস মডেল জানেন কি?

১৯৩১ সালের কথা। উইনস্টন চার্চিল ব্রিটিশ রাজনীতিতে পুরো কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। বিরোধীপক্ষ ছাড়াও নিজের দলের থেকৈ ভীষণ চাপে পড়েছিলেন চার্চিল। এমন কি তুখোড় রাজনীতিবিদ হওয়ার পরেও চার্চিলকে মন্ত্রীসভায় আমন্ত্রণ জানানো হয় নি। চার্চিল বাতিল আর সেকেলে বলে নিগ্রহের শিকার হন। সবাই দেখছিল কিভাবে সব হারিয়ে প্রায় শূণ্য হয়ে যান চার্চিল।
বাতিল হয়ে যাওয়া চার্চিলের রাজনীতির শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকেই। সেই সময়টা চার্চিলের জায়গায় আমরা থাকলে হারিয়ে যেতাম হতাশায়। চার্চিলের ওপর কি হতাশা ভর করেছিল?
এখন আমরা চার্চিল ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ পরিচয়ের বাইরে লেখক হিসেবে পরিচয় দেখি। সারা জীবনে চার্চিল ১০ লাখ শব্দ লিখেছিলেন! সেই চার্চিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ সময়টায় ১৯৩১ সালের পরের হতাশা কাটিয়েছেন স্পেস মডেল দিয়ে!

স্পেস মডেল কি?

রাজনীতি পরিমন্ডল থেকে চার্চিল ১৯৩১ সালের পরে নিজেকে সরিয়ে নেন। আসলে সরিয়ে নেয়া ছাড়া কি-ই-বা করার ছিল? এ সময় রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে অন্য দুনিয়া গোছানোর জন্য মনোযোগ দেন চার্চিল। ১৯৩৯ সালের আগে তিনি ১১ খন্ড বই প্রকাশ করেন, ৪০০+ আর্টিকেল প্রকাশ করেন। আর নানান সুধী সমাবেশে ৩৫০+ বক্তব্য রাখেন। নিজেকে অন্য দিকে ব্যস্ত রেখে হতাশা কাটানোর দুর্দান্ত উপায় বের করেন চার্চিল। সেই স্পেস মডেলের জোরেই কিন্তু চার্চিল আবারও রাজনীতিতে মনোযোগ আনতে পারেন। সাময়িক বিরতি, দুশ্চিন্তা কিংবা হতাশা কাটানোর বেশ বড় একটি উপায় হতে পারে। যেটা আমরা কর্মজীবনে কিংবা যে কোন ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হলে মডেল হিসেবে কাজে লাগাতে পারি।
(এখন চার্চিলয়ের বায়োগ্রাফি পড়ছি। তাই সেখান থেকে নিজের মতো করে নিজের জন্য লেখা থেকে এই পোস্ট।)

মুদ্রার উল্টো পিঠের যে গল্প

লেখালেখির মাধ্যমে চার্চিল আসলে নিজের অন্য একটি সুপারপাওয়ার তৈরি করেছিলেন। সবাই তো রাজনীতিবিদ হয়, কিন্তু লেখক+রাজনীতিবিদ কতজন হয়? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লেখনিওয়ালা চার্চিল বেশি শক্তি নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। শব্দ আর বাক্যকে নিজের সুপারপাওয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন চার্চিল। এই আচরণকে রাজনীতিবিদদের মনস্তাত্বিক ইনস্যুরেন্স পলিসি বলা যায়, যা কিনা ইনফ্লুয়েন্স বাড়ানোর অস্ত্র। আপনার অস্ত্র কি?

জ্যাকারবার্গের শুরুতে ছিল হার্ভার্ড ডর্মের বন্ধুরা, স্টিভ জবস-ওজনিয়াকের ছিল কম্পিউটার ক্লাবের বন্ধুরা, নাইকির ফিল নাইটের ছিল ৩/৪জন পাগলাটে বন্ধু! আপনার?

১০০০ লোক যখন শক্তি!

চার্চিলের এগিয়ে যাওয়ার প্ল্যাটফর্ম ছিল তার লেখালেখি। লেখালেখির মাধ্যমে নিজের ভক্ত কিংবা ভোটার ধরে রাখার কৌশল বলা যায় না একে? আপনি যদি উদ্যোক্তা হতে চান, তাহলে ১০০০ মানুষকে নিজের পণ্য বা সেবা কেনাতে পারবেন? আমাদের মাথায় বিলিয়ন ডলার আইডিয়া থাকে, কিন্তু সেই আইডিয়ার উপর নির্ভর করে তৈরি পন্য বা সেবা ১০০০ হাজার লোক গ্রহণ করবে কিনা তা আমরা জানি না।

Read More: বাংলাদেশ আর্মি থেকে যেসব নেতৃত্বগুণ শিখতে পারেন
প্রথম ১০০০ ভক্ত বা গ্রাহক কিংবা ভোটার তৈরি করাই কিন্তু আসল পরিশ্রম!
আশির দশকের ব্যান্ড আয়রন মেইডেনের রেডিওতে গান বাজানো হতো না। এমনকি এমটিভিও নাকি তাদের গান বাজাতো না তখন। সেই আয়রন মেইডেন নব্বই দশকে গানের অ্যালবাম মিলিয়ন কপি বিক্রি করেছে কোন মাধ্যম ছড়াই! আয়রন মেইডেনের ভক্তদের নাকি বিশাল এক ইমেইল লিস্টি তাদের সংগ্রহে ছিল, সেই মেইল লিস্টি দিয়েই আয়রন মেইডেন মিলিয়ন ডলারের অ্যালবামে সাফল্য পায়।

Read More: সাইফ নোমান খানের রেকমেন্ডেড যত বই

শোবিজ দুনিয়ায় যে থিওরী চলে

উইয়ার্ড ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা কেভিন কেলির একটা এন্টারটেইনমেন্ট থিওরী ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা কিংবা লেখক বা যে কেউই অনুসরণ করতে পারেন। কেলির ভাষ্যে, “আপনার যদি ১০০০ সত্যিকারের ভক্ত থাকে আপনি সুপার ম্যান। আপনি যাই সৃষ্টি করুন না কেন, তা দর্শন, চিত্রশিল্পী কিংবা রাজনৈতিক আদর্শ-এক হাজার লোক আপনার ট্রু ফ্যান হলেই আপনি সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন।”
জ্যাকারবার্গের শুরুতে ছিল হার্ভার্ড ডর্মের বন্ধুরা, স্টিভ জবস-ওজনিয়াকের ছিল কম্পিউটার ক্লাবের বন্ধুরা, নাইকির ফিল নাইটের ছিল ৩/৪জন পাগলাটে বন্ধু! আপনার?
এই এক হাজার মানুষই আসলে আপনার বিলিয়ন ডলার আইডিয়া কিংবা লাখো পাঠক তৈরি করবে। এটা ডমিনো থিওরী না?
আপনার পণ্য কিংবা সেবা নির্ভর উদ্যোগের সাফল্য আসলে নির্ভর করে আপনি কতটুকু আপনার ভক্তদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারেন!

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 602 views. Thank You for caring my happiness.

বই-টই: দ্য লিন স্টার্টআপ

আপনি যদি ব্যর্থ না হন, তাহলে শিখতে পারবেন না-এরিখ রেইসের লিন স্টার্টআপ বইয়ের একটি কথা। এসময়কার উদ্যোক্তাদের কাছে বেশ পরিচিত বই-দ্য লিন স্টার্টআপ। এই বইয়ের মূল কথা হচ্ছে, “তৈরি করুন-পর্যবেক্ষণ করুন-শিখুন”-যে কোন স্টার্টআপকে বড় করে তুলতে এই মডেল দারুণ কার্যকর।

(বইটা দারুণ হলেও আমার কাছে বেশ বোরিং মনে হয়েছে। সম্ভবত, একই ধরণের অনেক বই পড়ার কারণে বইটি একটু নিরস মনে হয়েছে।)

লিন স্টার্টআপের মূলধারণা
সবখানেই কিন্তু উদ্যোক্তা আছেন, যে প্রতিষ্ঠান কিংবা যে ক্ষেত্রেই কাজ করুন না কেন-উদ্যোক্তারা সবখানেই ছড়িয়ে আছে।

the-lean-startup

  • এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ হলো ম্যানেজমেন্ট, আর স্টার্টআপ হলো একটি প্রতিষ্ঠান যা আপনাকে ম্যানেজ করতে হবে।
  • স্টার্টআপগুলো টিকে যায়, শুধু ব্যবসা কিংবা পণ্যের সাফল্যের জন্য না, সাসটেইনেবল ব্যবসা তৈরি করার জন্য।
  • Build-measuer-learn: যে স্টার্টআপই দিন না কেন, আপনার আইডিয়াকে পণ্যে কনভার্ট করতে হবে। তারপরে কাস্টমার তা নিয়ে কেমন আগ্রহ প্রকাশ করে তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে, সব শেষে শিখতে হবে কিভাবে আগ্রহকে ধরে রাখতে হবে।

ls2

লিন স্টার্টআপ থেকে…
* স্টার্টআপের ক্ষেত্রে সাফল্য আসলে “পন্য বা সেবা ডেলিভারি করা নয়, সাফল্য আসলে কাস্টমারের কোন সমস্যা সমাধান” হিসেবে চিন্তা করতে হবে।
* বেশির ভাগক্ষেত্রেই কাস্টমার জানে না তারা আসলে আগে কি চায়।
* আপনি যদি আপনার কাস্টমার কে তা না জানেন তাহলে আপনি কোয়ালিটি কি তা জানেন না।
* প্রতিটি বাঁধাই কিছু না কিছু শেখার সুযোগ কিন্তু।

LS1

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 784 views. Thank You for caring my happiness.

ভালো বনাম দুর্দান্ত, কোনটি বেঠিক?

জেনারেল জর্জ প্যাটুন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার মিত্রপক্ষের প্রভাবশালী এক জেনারেল ছিলেন। যুদ্ধের কৌশল আর ইতিহাস নিয়ে যারা আগ্রহী তাদের কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এই জেনারেল বেশ পরিচিত। মিত্রপক্ষের সেভেন্থ আর্মির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্যাটুন। প্যাটুনের বায়োগ্রাফি দ্য ওয়ার আই নিউ ইট পড়ছি এখন, দুর্দান্ত বই। রণকৌশল কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে বেশ ভালো ভাবেই কাজে লাগানো যায়। সেই বইয়ের প্রথম ৪ চ্যাপ্টার পড়ে কিছু লাইন দাগিয়ে রেখেছি, দুর্দান্ত সব কথা!

এখনকার ভালো পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহের দুর্দান্ত পরিকল্পনার চেয়ে কার্যকর বেশি।

জেনারেল প্যাটুন ‘প্যারালাইসিস বাই অ্যানালাইসিস’ বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন। কোন বিষয় নিয়ে বেশি অ্যানালাইসিস কখনই কাজের না মনে করতেন তিনি। অনেক সময় নিয়ে দুর্দান্ত কোন যুদ্ধ পরিকল্পনার চেয়ে ভালো আর সাধারণ পরিকল্পনা যুদ্ধের ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যায়।

নেতৃত্ব দিন, নেত্বত্ব দিতে দিন কিংবা পথ থেকে সরে দাড়ান। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রণাঙ্গনে অনেক জেনারেল যুদ্ধ করেছিলেন। এক বনে হাজারখানেক বাঘ থাকলে যে ঝামেলা হয়, সেই ঝামেলা তখনও ছিল। জেনারেল প্যাটুন নিজের ইউনিট নিয়ে নেতৃত্ব দিয়ে যুদ্ধ করতে চাইতেন। সিনিয়ররা তার যুদ্ধের স্টাইলকে পছন্দ না করলে প্যাটুনের সরাসরি কথা ছিল “নেতৃত্ব দিন”। আমরা কাজের ক্ষেত্রে এটা অনেক দেখি। আপনি দলগতভাবে কোন কাজ করছেন। উর্ধ্বতন কর্তারা আপনাকে বেশিরভাগ সময় নেতৃত্ব দিতে দিবে না, আমার নিজেরাও নেতৃত্ব দিবে না।

যা আদেশ দিচ্ছেন তা নিজে করছেন কি?

জেনারেল প্যাটুন সেই ধরণের যোদ্ধা ছিলেন না যে তাঁর দলকে আদেশ দিয়ে নিজে তাবুতে সময় কাটাতেন।  নিজের ব্যাটেলিয়ানে তার বেশ জনপ্রিয়তা ছিল সৈনিকদের নিয়ে কাজ করার জন্য।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ আর্মি থেকে যেসব নেতৃত্বগুণ শিখতে পারেন

যা বলছেন তা কি বুঝে বলছেন? যা বুঝছেন তা কি বলছেন?

আমি এই লাইনটাকে দারুণ বলবই। আমি দলগতভাবে অনেক কাজ করি। প্রায়শই যা বলি তা বুঝে বলি না, যে কারণে দলের সদস্যরা আমার কথা বোঝে না। আবার যা বুঝি তা পরিষ্কারভাবে বলতে দ্বিধায় থাকি, যার কারণে কমিউনিকেশনে ধোঁয়াশা তৈরি করি নিজেই।

“Never tell people how to do things. Tell them what to do and they will surprise you with their ingenuity.”

বলতে গেলে সাত সমুদ্র এক মিনিটেই পাড়ি দেয়া যায়। মুখের কথায় চিড়ে ভিজে না, বাস্তবে? দলগতভাবে কাজের ক্ষেত্রে, যা দলের সদস্যদের করতে হবে তা করতে বলুন। কিভাবে করতে হবে, সেটা বলতে গেলেই মাইক্রোম্যানেজমেন্ট জটিলতায় আটকে যাবেন কিন্তু।

“Better to fight for something than live for nothing.” 

কোন কিছু না করার থেকে কিছু করে বেঁচে থাকা আনন্দের।

 

শেষ যে লাইনটি জেনারেল প্যাটুনের কাছ থেকে জেনেছি, “When in doubt, ATTACK!” 

 

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 782 views. Thank You for caring my happiness.

এক কাপ বই: গ্রোথ হ্যাকার মার্কেটিং

(এক কাপ বই সিরিজটি অনেকদিন ধরেই লেখার চেষ্টা আমার। এক কাপ চা খেতে খেতে যদি দারুণ কিছু শেখা যায় তাহলে মন্দ কি? এখন তো বই পড়ায় আমাদের সময় নেই তেমন, সেই না পাওয়াকেই আরেকটু অন্যরকম করে তোলার জন্যই এই এক কাপ বই সিরিজ। আর এখন ট্রেন্ডিং যত বই আছে সবগুলোই আসলে ২০ পাতার বই, কেন যে লেখকরা কাটতি বাড়ানোর জন্য ৪০০ পৃষ্টা লেখেন!)
রায়ান হলিডের গ্রোথ হ্যাকার মার্কেটিং বই পড়ে যা জেনেছি,
ব্যবসা কিংবা স্টার্টআপ শুরুর আগে আমরা বিলিওন ডলার আর কোটি কোটি কাস্টমার বিবেচনায় একগাদা প্ল্যান করি। এখন কোন কিছু শুরু করাটাই বেশ দ্বিধার, সেই দ্বিধা কাটাতে ছোট্ট কাস্টমার গ্রুপ নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত।
দুই দশক আগেও ব্যবসার প্যাটার্ন ছিল, দারুণ কোন পণ্য বা সেবা তৈরি করে যত লোকের চোখের সামনে হাজির করুন। ইন্টারনেটের বিস্তৃতির কারণে সেই প্যাটার্নে ধাক্কা লেগেছে। এখন পন্য অনেক, সেবা অনেক-মোটামুটি মাছের বাজার সবখানে। এখানে কিভাবে আপনার পন্যকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করবেন তা ঠিক করতে হবে আপনাকে। আপনার প্রোডাক্টকে ক্যাটাগরিতে এক নম্বর আনতে টাকার চেয়ে বুদ্ধিই বেশি খাটাতে হবে এখন।
আগে একটা নিয়ম ছিল, বাজারে যা ছাড়বেন সেটাই সব। কিন্তু এখন ভার্সন ওয়ান পয়েন্ট ও, ভার্সন টু পয়েন্ট ও করে করে পন্য-সেবাকে বিকাশের দারুণ সুযোগ আছে। এখন আসলে প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট বিষয়টা নিত্যদিনকার।
স্বর্ণকার গহনা বানিয়ে দেয়ার পরে সেটা ক্রেতা কিনে ফেললেই কিন্তু সব শেষ, কিন্তু আপনার অ্যাপটির প্রথম ভার্সনে বাগ দ্বিতীয় ভার্সনে না সরালে বিপদ কিন্তু! ফেসবুক গেল তের বছরে অনেকবারই তো হোম পেইজ বদলেছে, সঙ্গে আরও কত কি!


যারা আর্লি অ্যাডাপটার তাদেরকে শুরুতেই টার্গেট করুন। আপনার প্রোডাক্টটি কারা প্রথমে ব্যবহার করতে পারে তাদের সাইকোলজি বোঝার চেষ্টা করুন। টার্গেট দ্য রাইট পিপল। সাধারণভাবে আমাদের টার্গেট থাকে সবাই যেন আমাদের পণ্য বা সেবা নেয়, শুরুটায় এমন টার্গেট উচ্চাভিলাসী।
আবার আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখা জরুরী, আপনার পণ্য বা সেবা তা ঠিক কাস্টমারই কিনছে কিনা সেটা আপনার ভাবতে হবে। ভুল কাস্টমার যদি ভুল করে প্রোডাক্ট কেনে আর আপনি তা খেয়াল না করেন তাহলে কিন্তু পণ্যের ভবিষ্যৎ খারাপ।
শহরের মানুষদের কাছে লন মোয়ার বিক্রি করার সঙ্গে বিষয়টা মেলাতে পারেন।
ড্রপবক্স রাইট কাস্টমার ধরার জন্য ডিগ নামের সোশ্যাল মিডিয়াকে টার্গেট করেছিল। ড্রিউ হিউস্টোন ড্রপবক্স ব্যবহার নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেছিলেন, যেখানে ডিগ কমিউনিটি ব্যবহার করে এমন সব ইস্টার এগ ব্যবহার করা হয়েছিল। ভিডিও আপলোডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ড্রপবক্সে কয়েক হাজার সাইনিং আপ হয়েছিল।
পণ্য বা সেবাকে এমনভাবে ডিজাইন করুন যেন কাস্টমারই আপনার বিপণনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন। পণ্যকে ভাইরাল করতে দুটো পথ আছে,
পণ্যটিকে যেন ভাগাভাগি করার সুযোগ থাকে, আর সবাইকে তা শেয়ার করতে বলুন!

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 856 views. Thank You for caring my happiness.

বাংলাদেশ আর্মি থেকে যেসব নেতৃত্বগুণ শিখতে পারেন

ইদানিং যুদ্ধ আর রণকৌশল নিয়ে দারুণ কিছু বই পড়ছি। ব্যবসার দুনিয়াতে কৌশল আর যুদ্ধের রণাঙ্গনের কৌশল তো একই, তাই না? লক্ষ্য একটাই বিজয়। এক্সট্রিম ওনারশিপ নামের একটা বই পড়ছি এখন, সেই বইকেই বেইজ ধরে বাংলাদেশ আর্মি থেকে নেতৃত্ব শেখার যে পয়েন্টসগুলো জানতে পারেন তা নিয়ে এই লেখাটি দাঁড় করাচ্ছি।


১. সব দায় লিডারের
যা হবে, যা হয়েছে-তার সব দায় আপনারই। আপনার টিমের কেউ যদি আপনার নির্দেশনা না বোঝে তাহলে টিম লিডার হিসেবে আপনি তাকে দোষারোপ করতে পারেন না। নেতা হিসেবে আপনার দায় হচ্ছে দলের সব সদস্যকে সব কিছু বুঝিয়ে দেয়া। যুদ্ধের সময়, আপনার দলের কোন সৈনিক আপনার কথা যদি না বুঝতে পারে তাহলে কত বড় বিপর্যয় হতে পারে তা কি ভেবেছেন? একই কথা আসে ব্যবসার দুনিয়াতে। আপনার কোন কর্মী যদি আপনার কথা না বুঝতে পারে তাহলে তার দায় আপনারই। আপনাকে শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে কিভাবে আপনার কথা আপনার দলের সদস্যরা বুঝবে। আপনার দলের সদস্য আপনার কাছে না এলেও আপনাকে তার কাছে যেতে হবে, তাকে বুঝাতে হবে। হলিউডের মুভিতে দেখেন না, সিনেমায় মিশনে যাওয়ার আগে মেজর কিংবা কমান্ডেন্ট বারবার একই কথা তার টিমের সদস্যদের কেন বলে? বলা কথার জোর অনেক বেশি কিন্তু!


আপনি হয়তো ভেবে আছেন, আপনার অফিসের কর্মী আপনার কথা সব বুঝে যায়। বাস্তবতা আসলে বেশ ভিন্ন। বারবার আপনার কাজের লক্ষ্য, সাফল্যের শীর্ষ কোথায় তা আপনার দলের সদস্যদের বুঝিয়ে বলুন। আপনি যদি আপনার কাজের সাফল্য আনতে চান, তাহলে পুরোপুরো দায় নিয়ে নিজের মধ্যে চুম্বকের মত ডায়নামিজম তৈরি করুন।
ভাবনার প্রশ্ন: আপনার কর্মীকে ব্যর্থতার জন্য দিনে দশবার কথা না শুনিয়ে তাকে কি কখনও একই বিষয় ৩ বার বুঝিয়ে বলেছেন? সমস্যা নিয়ে ভাবনার চেয়ে সমাধান নিয়ে তাকে ভাবতে উৎসাহ দিয়েছেন কি?


২. খারাপ টিম বলে কোন কথা নেই, সব খারাপ আসলে লিডারই
সেনাবাহিনীর সব সদস্যই শুরু থেকে দল হিসেবে কাজের শিক্ষা পায়। আমাদের অফিসগুলোতে যে যার মত আলাদা আলাদা কাজ করে দুনিয়া উদ্ধার করে। সেনাবাহিনীতে কখনই কখনই একক কোন কাজের দৃষ্টান্ত আনতে পারবেন না, সবাই টিম। ভাবুন তো, আপনি আর্মির কোন একটি টিমের লিডার, আপনার দলের সবাই আলাদা আলাদা কাজে ওস্তাদ। সবাই র‍্যাম্বো, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ মাঠে কি হবে? মনে রাখা উচিত, যারা বীর হিসেবে স্বীকৃত তারা সবাই দারুণ কোন একটি দলের সদস্য ছিলেন। আমাদের বীরশ্রেষ্টদের যুদ্ধের ঘটনাগুলো পড়তে পারেন। বীরশ্রেষ্ট মতিউর রহমান ছাড়া বাকি সবাই কোন না কোন টিমের সদস্য ছিলেন। সিপাহী নূর মোহাম্মদ বীরশ্রেষ্ট মানে কিন্তু তার সেই টিমের সবাই এক!
আপনার টিমের সাফল্য নির্ভর করছে আপনার উপর। টিম খারাপ ছিল, এটা মূর্খদের এক্সকিউজ। মরিস ওদুম্বে নামে কেনিয়ার একজন ক্রিকেটার ছিলেন, তার সময়ের সেরা ক্রিকেটার। কেনিয়া দল খারাপ ছিল, কিন্তু সে ভালো ছিল। সে ভালো থাকলে কি হবে? কেনিয়া কি ভালো করেছে কিনা তাই ভাবার বিষয়!

১৯৯৪ সালে বসনিয়াতে বাংলাদেশ আর্মির কমান্ডার ন্যাটোর সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়েছিল। সেবার একজন সৈনিক হারিয়েছিল বাংলাদেশ আর্মি। লিডারের ভূমিকাই সব।

(ফেসবুকে আমি ভুলে একশ জন সৈনিক হারানোর কথা লিখেছিলাম, উইকিপিডিয়া থেকে পড়ার সময় ভুল বুঝেছিলাম আমি। দুঃখিত।)
হয় নেতৃত্ব দিতে শিখুন, কিংবা শেখার জন্য বই পড়ুন। শেখ মুজিবুর রহমান এক দিনে নেতা হয়েছেন?
যে কোন যুদ্ধে পরাজিত হলে কার দোষ হয় বলুন তো? ইয়াহিয়া খানের, সেনাপ্রধানের। তাহলে ব্যবসার ক্ষেত্রে দায় কেন টিমের সদস্যদের উপর দিচ্ছেন?
৩. শুরুটা আপনারই করতে হবে
টিমে কাজ করার সময় নেতা হিসেবে আমাদের কথা কেউ না শুনলে আমরা “বসের অর্ডার” কিংবা উপরের অর্ডার বলে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেই কথা বার্তা। আপনার উপরে টিমের বিশ্বাস থাকে না বলেই কিন্তু আপনাকে হাইকোর্ট দেখাতে হচ্ছে!
সেনাবাহিনীতে কি এমনটা হতে শুনেছেন? ট্রেনিংয়ের প্রথম দিন থেকেই নেতার কথা শুনতে হবে এমনটাই মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়। নেতার মনস্তত্বের উপরে ভরসার কথা বলা হয়। আবার যিনি নেতা হবেন তাকেও এমনভাবে ট্রেনিং দেয়া হয় যেন তার উপরে সবার শ্রদ্ধা আর ভরসা তৈরি হয়। অনাস্থা কিন্তু সেনাবাহিনীতে ভয়ানক একটি রোগ। আপনার উপর একবার অনাস্থা তৈরি হলে আপনি সম্ভবত সেনাবাহিনীতে আর টিকবেন না!
অফিসগুলোতে কি দেখি আমরা? যে টিমলিডার থাকে তার উপরই যত অনাস্থা! টিমের কর্মীদের মধ্যে কেন টিমলিডার কিছুই পারে না বলে ধারণা তৈরি হয়?
আপনি যদি নিজের টিমের মধ্যে লিডারশিপের জায়গা তৈরি করতে চান, তাহলে আপনি উপরের সিদ্ধান্তে কাজ করছেন এমন কোন কারণ তৈরি করবেন না।

৪. নিজের ইগো সম্পর্কে সতর্ক থাকুন
সিয়েরা লিওনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরাসরি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। ভাবুন তো সেখানে আপনি মেজর পদমর্যাদার কোন অফিসার। আপনার কোন কলিগের সঙ্গে আপনার “শো অফ” ক্রাইসিস আছে। সেই কলিগ কারও কথা শুনেন না, তার সঙ্গে কোন সৈনিক কেউ যুদ্ধমাঠে যেতে চান না। তাহলে পরিস্থিতি কি হবে ভাবুন তো?
আমাদের অফিসগুলোতে কিন্তু এমন অনেক কর্মী আছেন, কিংবা আপনিই সেই টিমলিডার যার সঙ্গে কেউ কাজ করতে চান না। আপনি ম্যানেজার পদের মানুষ বলে সবার সঙ্গে খারাপ বিহেইভ করেন, ইগোর কারণে মাটিতে পা পড়ে না। সেনাবাহিনীতে এমন হলে পরিস্থিতি কি হবে ভাবুন তো?
সেনা অফিসাররা অনেকেই অনেক সৈনিকের চেয়ে বয়সে কম। তার নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার অধীনস্ত টিম কি সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারবে?
“আমি সব জানি”, এমন বস বা টিম লিডার অফিসে থাকবেই। সেনাবাহিনীতে এমন অফিসার থাকলে কি বিপত্তি হবে তা ভাবুন একবার!

৫. কভার অ্যান্ড মুভ
সেনাবাহিনীতে কভার অ্যান্ড মুভ নামের একটা যুদ্ধ স্ট্র্যাটেজি আছে। গোলাগুলি চলুক না চলুক আপনি যখন সামনে এগোবেন তখন সব সময় আপনার যে সদস্যরা সামনে এগোচ্ছে তাদের কেউ না কেউ কভার করছে।
এ সময় আরেকটা স্ট্র্যাটেজি কাজে লাগানো হয়, সাধারণভাবে আমরা হেটে চলার সময় এক পা সামনের মাটিয়ে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরের পা তুলে হেটে যাই এমনটার উল্টো! আপনি প্রথমে প্রথম পা ফেলবেন, তা পুরোপুরি মাটিতে রেখে তারপরে দ্বিতীয় পা সামনে বাড়াবেন!
আমরা অফিসে টিমলিডাররা কি করি? নিজের কাজ করে সামনে এগিয়ে যাই। যুদ্ধের মাঠে এমনটা করলে কি হবে বলুন তো! যুদ্ধের মাঠে প্রত্যেক সেনাসদস্য যেমন নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তেমনি নিজের সহযোদ্ধারও। অফিসে এমনটা করার চর্চা প্রয়োজন আমাদের। এতে নেতার প্রতি সবার বিশ্বাস তৈরি হয়।


৬. সব কিছু সরল রাখুন
বলা হয়, রণকৌশল যত কঠিন যুদ্ধে জেতা তত কঠিন। সব সোজা আর সরল রাখা হয় যুদ্ধ কৌশলে, যেন সৈনিকরা সবাই সব কিছু বুঝতে পারে।
অফিসে কি হয়? একটা পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে চার্ট আর চার্ট দিয়ে ভরে ফেলি আমরা। তারপরে তার সাতসমুদ্রের যতজ্ঞান আছে তা নিয়ে ভয়ানক একটা স্ট্র্যাটেজি তৈরি করি! এতে ভরকে যায় আপনার টিমমেইটরা!
অ্যাপল কিন্তু দুনিয়া সেরা সাফল্য পেয়েছে তার সরল ডিজাইনের জন্য!

 

 

 


আরও পড়ুন:

তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 5,526 views. Thank You for caring my happiness.