ক্যারিয়ারে অন্য ট্র্যাকে যাবেন না কেন?

পড়াশোনা শেষে যখন আমরা চাকরির বাজারে সিভি জমা দেয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ি তখন সবারই প্রায় একই স্কিল থাকে সিভিতে। পড়াশোনা+এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিসসহ প্রায় সবই একই থাকে। হাজারো সিভির মধ্যে নিজেকে আলাদা করা সত্যিই কঠিন একটা কাজ। আমি ৩/৪দিন আগে ফিল নাইটের শু ডগ বায়োগ্রাফি পড়া শেষ করে। সেই বইয়ের শেষ দিকে স্কিল নিয়ে দারুণ একটা ঘটনা পড়েছি।

ফিল নাইট নাইকির প্রতিষ্ঠাতা। নিজের কোচ বাওয়ারম্যানকে নিয়ে তিনি নাইকি প্রতিষ্ঠা করেন। ফিল নিজে ছিলেন অ্যাকাউন্টিংয়ে গ্র্যাজুয়েট, সঙ্গে ছিল স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ। ফিল নাইকির আগে ব্লু রিবন নামে যে জুতার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেখানে ফিলের বন্ধু-বান্ধব ঘরণার লোকজনই কাজ করতো। ফিল যখন নাইকি শুরু করেন তখন তিনি নানান দুনিয়ার লোক নেয়া শুরু করেন। ফিল আইন পড়া কিংবা অ্যাকাউন্টিং পাশ করা লোকজনকেই বেশি চাকরিতে নিতেন। ফিল তার বইয়ে এর পেছনের কারণটি এভাবে লিখেছেন, ‘যে অ্যাকাউন্টিং বা আইন পাশ করে সে জীবনের অনেকটা সময় পরিশ্রম করে তা আয়ত্ব করে। আর যে শুধু মার্কেটিং কিংবা সাধারণ বিষয়ে পড়াশোনা করে তার আয়ত্বের বিষয়ের গভীরতা অন্যদের চেয়ে কম। অ্যাকাউন্টিং বা আইন পাশ করা কেউ যদি মার্কেটিং কিংবা কমিউনিকেশনে কাজ করে তাহলে তার কিন্তু বেসিক স্কিল তাকে ভালো পেশাজীবি হতে সহায়তা করে।’

নাইকি কিংবা ওয়ালমার্টের বড় বড় ডিপার্টমেন্টে কিন্তু এই বেসিক স্কিলওয়ালা লোকগুলোই বেশি কাজের সুযোগ পান। নাইকির মার্কেটিংয়ে অ্যাকাউন্টিং পড়ুয়ারা বেশি গুরুত্ব পায় যতটা না পায় শুধু মার্কেটিং পড়ুয়ারা।
আমাদের দেশেও কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায়। বিভিন্ন টেলিভিশনে অনেক সাংবাদিকদের চিনি যারা আসলে পড়েছেন অন্য বিষয়ে, অ্যাকাউন্টিং কিংবা বিবিএয়ের অন্য কোন বিষয়ে; তারা কিন্তু সাংবাদিকতাকে তার অন্য বিষয়ে পড়ার কারণে আরও বেশি স্কিলড উপায়ে ক্যারিয়ার হিসেবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক আরজে আছেন যারা ডাক্তার। বুয়েট পাশ অনেক প্রকৌশলী কিন্তু সাংবাদিক লেখক! (যেমন আনিসুল হক, মুনির হাসান!)

ফিল নাইটের বই পড়ে যা বুঝলাম, যে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ হয়, সেই বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি অন্য কোন ট্র্যাকে কিছু করার সুযোগ আছে কিনা তা খুঁজে বের করা যেতে পারে। বিষয়টা অনেকটা এমন, আপনি চিকিৎসক, জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে কিনা তা খুঁজে বের করা। কিংবা আপনি পড়ছেন ফিন্যান্সে, অ্যাপোলো হাসপাতালের সিইও কিংবা অ্যাডমিনে যোগ দেবেন কিনা তার বুদ্ধি বের করা। বর্তমানে চাকরির দুনিয়ার যে অবস্থা, যে বিষয়ে ডিগ্রি পাবেন তা দিয়েই ক্যারিয়ার গড়া কিন্তু একটু বেশিই কঠিন। অন্য রঙে নিজেকে রাঙাতে একটু ট্রিক্স খাটতে এক সার্টিফিকেটে অন্য দুনিয়াতে আবেদন করার উপায় বের করতে পারেন কিন্তু।

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,253 views. Thank You for caring my happiness.

এক বছরেই ২০০ বই পড়বেন যেভাবে!

এমনিতেই কিন্তু বই পড়ার অভ্যাস তেমন নেই আমাদের। সেখানে এক বছরে ২০০ বই পড়া পাগলামি মনে হতে পারে। আবার ২০০ বইয়ে কতগুলো পৃষ্ঠা থাকবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতেই পারেন। মোটামুটি গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ পৃষ্ঠার ২০০ বই পড়ার দারুণ এক ফর্মূলা প্রকাশ করেছে ইন্ক ডট কম, যদিও বেটার হিউম্যানসে প্রথম লেখাটি প্রকাশিত হয়। ইতিবাচক লাইফস্টাইল, পার্সোনাল মটিভেশন, স্টার্টআপ-অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ, গোল সেটিং, লিডারশিপ, মার্কেটিং-সেলসের উপর বইপত্র দারুণ এই উপায়ে পড়া যায়।

২০১৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমি ৩৯টা বই পড়া শেষ করেছিলাম। বেশির ভাগ বই উদ্যোগসম্পৃক্ত আর গোল সেটিং রিলেটেড। চেষ্টা ছিল বিভিন্ন লিস্টে টপ টেন বইগুলোকে পড়তে। সব বই যে পড়ে দারুণ লেগেছে তা বলবো না, কিছু বই ছিল দারুণ (স্টিভ জবসের বায়ো ছিল ২০১৬ সালে আমার পড়া সেই মাত্রার দারুণ বই)-আর কিছু বই আমি বুঝিই নাই-মাথার উপরে ছিল (যেমন এরিক রিসের লিন স্টার্টআপ)।

সপ্তাহে নিজের স্কিল বাড়ানোর জন্য যে কোন বই ত্রিশ মিনিট পড়াকে দারুণভাবে উৎসাহ দেন অনেক লাইফ কোচ। ওয়ারেন বাফেট এখন নাকি দিনের ৮০ ভাগ সমই কোন না কোন বই পড়েন। বছর শেষে নিজের কর্মীদের বই পড়ার পরামর্শ লিখে নিয়মিত চিঠি লেখেন এই ধনকুবের। শুধু বাফেট নয়, বিল গেটস তো রীতিমতো গেটস নোটস লিখেন বিভিন্ন বই পড়ে। বছরে ৫০টার মত বই পড়েন হাইস্কুল ড্রপআউট বিল। অন্যদিকে জ্যাকারবার্গ দু’সপ্তাহে নাকি একটা বই শেষ করেন। এলন মাস্ক, জ্যাক ডর্সি সবাই কিন্তু সেই লেভেলে বই পড়েন।

যে ভাবে ২০০ বই শেষ হবে
এমনি মানুষ গড়ে ২০০ থেকে ৪০০ শব্দ পড়তে পারেন, যেখানে বিভিন্ন বইয়ে গড়-পড়তা ভাবে ৫০ হাজারের কম-বেশি শব্দ থাকে।
এই হিসেবে,
২০০ বই  * ৫০০০০ শব্দ/বই = ১০ মিলিয়ন শব্দ (১ কোটি শব্দ)
১০ মিলিয়ন শব্দ/৪০০ শব্দ পার মিনিট = ২৫,০০০ মিনিট
২৫,০০০ মিনিট/৬০ = ৪১৭ ঘণ্টা

হিসেব পরিষ্কার, বছরে ২০০ বই পড়তে আপনার-আমার মতো গড় মানুষের বছরে ৪১৭ ঘণ্টা সময় লাগবে, মাত্র।
৪০০ তো ব্রায়ান লারার টেস্ট ক্রিকেটে রান ছিল, সেখানে সারা বছরে এত ঘণ্টা কিভাবে পড়া সম্ভব!

একটু অন্য পরিসংখ্যান দেখা যাক,
আমরা নাকি বছরে ৬০৮ ঘণ্টা গড়ে সোশাল মিডিয়াতে সময় কাটাই। (প্রতিদিন গড়ে ২ ঘণ্টা তো কমনই!)
১৬৪২ ঘণ্টা দেখি টেলিভিশন, সুলতান সুলেমান+শার্লক+ডেক্সটার।
৩৬০ ঘণ্টা বছরে গড়ে ট্রাফিক জ্যামে সময় কাটাই আমরা।

এই ঘণ্টার হিসেব কিন্তু বলছে বছরে ইচ্ছে করলে ১০০০ বই পড়া সম্ভব!
আসলে সারা দিন মিলিয়ে ৭০ মিনিট পড়ার সময় দিলেই বছরে ২০০ বই পড়া সম্ভব। এ হিসেবে মাসে ২০০০+ মিনিট; বছরে ৪২০+ ঘণ্টা।

পেশাজীবিদের জন্য অবশ্য দিনে ৭০ মিনিট পড়ার জন্য ব্যয় করা বেশিই ব্যয়বহুল।

গুগলিং করে পেশাজীবিদের জন্য যা পেলাম,
সকালে নাশতার আগে পড়ে ১০ মিনিট, ট্রাফিক জ্যাম বা অফিসে যেতে যেতে ২০ মিনিট, সকাল ১১-১২টার নাশতার সময় ১০ মিনিট, দুপুরের লাঞ্চ ব্রেকে ১০ মিনিট, অফিস থেকে ফেরার পথে ২০ মিনিট, রাতের খাবারের পরে ২০ মিনিট=মোট ৭০+ মিনিট!
সারা সপ্তাহে পড়ার তেমন সময় না পেলেও শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনটিকে বই পড়ার জন্য ব্যয় করতে পারেন।

তো কি কি শিখতে পারেন,
যে যেই পেশার মানুষ সেই পেশার আলোচিত ৩ মানুষের জীবনী দিয়ে শুরু করুন।
গুড রিডসসহ বিভিন্ন বুক রিভিউ সাইটে পছন্দের লিস্ট খুঁজে নিতে পারেন।
অফিসের বস যে বই পড়ছেন তাও পড়তে পারেন।

তো, হ্যাপি রিডিং।

 

 

আমার পছন্দের যে বইগুলো পড়তে পারেন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে বইগুলো পড়া উচিত

Hi! Myself Aashaa Zahid.
Basically, I’m a Transporter of Happiness. An average son of a great parent. An average man.
You could knock me, text me, ping me for nothing!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 3,008 views. Thank You for caring my happiness.