[unpost] আইপিডিসি ফিন্যান্সের সঙ্গে শেরিল স্যান্ডবার্গের ননপ্রফিট

শেরিল স্যান্ডবার্গের নাম সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচিত। ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা, সিওও তিনি। কয়েক বছর আগে তিনি নারীদের এগিয়ে যাওয়ার জোর বাড়াতে তৈরি করেন লিন ইন। বাংলাদেশে ২০১৫ সালে আমরা লিন ইন বাংলাদেশ চ্যাপ্টার চালু করি। টুকটাক সেমিনার, ওয়ার্কশপের মাধ্যমে লিন ইন বাংলাদেশ কর্পোরেট দুনিয়ার নারীদের তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
আইপিডিসি ফিন্যান্স গেল বছর ধরে জাগো উচ্ছ্বাসে স্লোগানে নারীদের জন্য নানান সিএসআর ঘরণার কাজ করছে। সেই কাজের অংশ হিসেবে তারা মনের বন্ধুর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে বিভিন্ন ওয়ার্কশপ আয়োজন করছে। লিন ইন বাংলাদেশ সেই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত মাস থেকে।


আইপিডিসি ফিন্যান্সের সিইও মোমিনুল ইসলামের সঙ্গে আমার তেমন ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। আইবিএর অ্যালামনাই হিসেবে নামডাক আছে তাঁর। আইপিডিসি ফিন্যান্সের উইকিপিডিয়া নিয়ে টুকটাক সংশোধনের পরে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল। লিন ইনের বাংলাদেশে কাজ নিয়ে তাঁর ও তার কমিউনিকেশন টিমের বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। প্রায় ১২ মাসের একটা বিশাল প্ল্যান নিয়ে মাঠে নেমেছেন তাঁরা। দেখা যাক, কতদূর পৌছায় লিন ইন ননপ্রফিটের কাজ।


এর বাইরে লিন ইন বাংলাদেশের আর প্ল্যান আছে:
আগামী মে মাসে নারী সচিব বা সেই পদমর্যাদার ব্যক্তিদের নিয়ে একটা বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরির প্ল্যান আছে লিন ইন বাংলাদেশের।
দেশের নারী পাইলটদের এক করা যায় কিনা সে বিষয়ে ভাবনা চলছে।
সিংগেল মাদার্সদের নিয়ে নেটওয়ার্কের কাজ বড় করতে হবে।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 301 views. Thank You for caring my happiness.

LPG গ্যাস সিলিন্ডারের ব্র্যান্ডিং নিয়ে আমি যা করতাম

আমাদের দেশের খুব স্বাভাবিক একটা ট্রেন্ড হচ্ছে কোন একটি পণ্য বাজারে আসলেই সেটার কপিক্যাট পণ্যে বাজার ছয়লাব হয়ে যায়। সেটা জিরা পানি থেকে শুরু করে রাইড শেয়ারিং অ্যাপসগুলোর দিকে তাকালে সহজেই বোঝা যায়। এই পোস্টের মাধ্যমে আমাদের দেশের LPG গ্যাস সিলিন্ডারের ব্র্যান্ডিং কমিউনিকেশন নিয়ে কিছু শব্দ প্রকাশ করতে চাই।
(যেহেতু বিজ্ঞাপন, ডকুমেন্টারি আর আইএমসি নিয়ে ঘাটাঘাটির আগ্রহ আছে আমার সেই প্রেক্ষিতেই নানান সময়ে নানান বিষয়ে কাল্পনিক ব্র্যান্ডিং নিয়েই লেখালেখি আমার। বিষয়টা সিরিয়াস না, আবার অনেকক্ষেত্রেই হাস্যকর মনে হয়-কিন্তু দুনিয়ার সব বড় বড় ব্র্যান্ডিং সাফল্যের শুরু নাকি ছোট কিন্তু সাধারণ আইডিয়া থেকে বলে এসব লেখালেখি আমার।)

আরও পড়ুন: বেলিসিমোর ব্র্যান্ডিং নিয়ে আমি যা করতাম

কেন এই পোস্ট?
টেলিভিশনের একটি অ্যাড দিয়ে এই পোস্টের কেন লিখছি তা প্রকাশ করতে চাই। একটি গ্যাস সিলিন্ডার কোম্পানির টিভি অ্যাডের মডেল ২০ বছর বয়সী বধু মেহজাবিন। মেহজাবিন অবশ্যই মডেল হিসেবে জনপ্রিয় কিংবা আলোচিত, তাকে সেই অ্যাডে গৃহিনী হিসেবে প্রকাশের কোন গাণিতিক যুক্তি কেউ বোঝাতে পারবে না। বিষয়টা এমন যে, তৌকির আহমেদ সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্টিলমিল আর রড নির্মাণ সামগ্রীর মডেল হয়েছেন। টাইগার উডসের কেলেঙ্কারির পরে নাইকি সরে এসেছিল নিজের ব্র্যান্ড ইমেজ হারানোর ভয়ে। সেই প্রেক্ষিতে বিষয়টি ভাবা যায় না?
ব্র্যান্ডিং নিয়ে আমি যা করতাম
আমি যেহেতু ফ্রিল্যান্সার লেখক সেহেতু আমি লিখতে বসলে কিংবা পরিকল্পনা দিলে আমার গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে নাসা কিংবা স্পেস এক্সের রকেট চালানোর বুদ্ধি দিতেই পারি। তারপরেও ঢাবি আইবিএর আইএমসি/ব্র্যান্ডের স্যার মুশতাক স্যারের সঙ্গে গল্প করতে করতে কিছু বাস্তব প্ল্যান বের করেছিলাম।
হেলথ ক্লাব: শহরের মধ্যবিত্ত সমাজে ধীরে ধীরে গ্যাস সিলিন্ডার প্রবেশ করছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলো স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার চেষ্টা করে। এলাকা এলাকায় পার্ক ধরে গ্যাস সিলিন্ডারকে সুস্বাস্থ্যরে সহযোগি ইমেইজে ফেলে হেলথ ক্লাব পরিচালনা করতাম। কমিউনিটি পাওয়ার বিষয়টা বাংলাদেশে তেমন প্র্যাকটিস হয় না, কিন্তু একটা কমিউনিটি প্রতিষ্ঠা করতে পারলে গ্যাস সিলিন্ডার ব্র্যান্ডের ইতিবাচক অবস্থান তৈরি হবে।
বাগান: গ্যাস সিলিন্ডারগুলোর দেখতে ড্রাম সাইজের বলে ঢাকাশহরের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাসমান বাগান করা যায়। যেখানে সিলিন্ডারেই থাকবে গাস। ব্যবহৃত পুরোনো সিলিন্ডারের সবুজ ব্যবহার নিশ্চিত অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
রোড ডিভাইডার: ঢাকার রোড ডিভাইডার হিসেবে বিএসআরএম সিমেন্টের ছোট ছোট বার ব্যবহার করে। গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার বিকল্প ভাবনা হতে পারে।
ভ্রাম্যমান ফিলার: এরই মধ্যে আমেরিকায় গাড়িতে গ্যাস দেয়ার জন্য বড় বড় ট্যাংক অনেক শহরে ভ্রাম্যমান হয়ে ঘুরছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ফিলারের জন্য ভ্রাম্যমান ছোট ছোট ট্রাক পরিবহন সেবা চালু করা যেতে পারে।
এলিট ক্লাব: ঢাকা শহরের বাড়িওয়ালারা যারা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে তাদের নিয়ে এলিট ক্লাব একটি বিকল্প ভাবনা হতে পারে। ঢাকা শহরে বসবাস করা ৬৮ শতাংশ মানুষ ভাড়া বাসায় থাকে। এই শতাংশ হিসেবে বাজারটা অনেক বড় না?
কনটেন্ট মার্কেটিং: রুপচাঁদা রান্নার অনুষ্ঠানের জন্য রিয়েলিটি শো করে একটা জায়গায় আসতে দারুণ সাফল্য পেয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার তো রান্নাঘরেরই বিষয়। সেই হিসেবে গ্যাস সিলিন্ডার ব্র্যান্ড যে কোন রান্নার শোতে যেতেই পারে।
পানি মার্কেটিং:অন্য ব্র্যান্ডের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে নিজের গ্যাস সিলিন্ডার গ্রাহক আনতে কোন একটা পানির ফিল্টার কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা যায়। পানির ফিল্টার আর রান্নার গ্যাসে মধ্যবিত্ত লোকজন বেশ অর্থ খরচ করে ইদানিং।
ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা: একার মডেল
ডেভিড একারের কথা ছিল, “A company’s brand is the primary source of its competitive advantage and a valuable strategic asset.” দিন শেষে আপনার গ্যাস সিলিন্ডারের কোয়ালিটিই আপনার কোম্পানির Quality, Trust & Expertise প্রতিষ্ঠা করবে। গ্যাস সিলিন্ডারের কোর ভ্যালু trustworthiness না থাকলে ব্যবহারকারী ধরে রাখা যাবে না। এরসঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডারকে পরিবেশবান্ধব বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 449 views. Thank You for caring my happiness.

ইংরেজি থেকে অনুবাদ বই পড়া বোকামি, সময় নষ্ট

টাইটানিক সিনেমার বাংলা ভাষান্তর দেখবেন নাকি মূল ইংরেজি সংস্করণ দেখে সিনেমা দেখার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় নিজের দক্ষতা বাড়াবেন। এক ঢিলে দুই পাখির মারার মতই মূল সংস্করণের ইংরেজি বই পড়ুন, জ্ঞান অর্জনও হবে দক্ষতা অর্জনও হবে। এই পোস্টটি বাংলা অনুবাদ সাহিত্যের প্রতি নেতিবাচক ভাবনা থেকে লেখা নয়, বরঞ্চ ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ বই পড়ার মাধ্যমে সময় নস্ট না করার একটা পোস্ট ভাবতে পারেন।

“প্রশ্ন: আমরা কেন বই পড়ি?”

এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকজনের কাছ থেকে অনেক রঙের উত্তর পাওয়া যাবে। কেউ বলবে জানার জন্য, কেউ বলবে জ্ঞান বিকাশের জন্য, কেউ বলবে সময় কাটানোর জন্য। আরেকটু স্পেসিফিকলি বললে, বিনোদন, জ্ঞান অর্জন আর দক্ষতা অর্জনের জন্যই আমরা বই পড়ি। জ্ঞান অর্জন আর দক্ষতা অর্জনের জন্য যদি বই পড়া অন্যতম কারণ হয় তাহলে ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদের যে কোন বই পড়াই বোকামি। নিছকই বোকামি বলতে চাই।
সাবেক ভারতীয় কূটনৈতিক শশী থারুর সম্প্রতি মিরর নাও’র সাংবাদিক ফায়ে ডি’সুজাকে এক্সটিনসিভ ভোকাবুলারি ব্যবহারের কারণ জিজ্ঞেস করেছিলেন। শশী থারুরের ইংরেজি শব্দ ব্যবহার রীতিমতো ভারতীয় তরুণদের কাছে সারকাজম। শশী থারুর মিরর নাওকে জানিয়েছেন, “ছোটবেলায় এমন এক পরিবেশে আমি বড় হয়েছি, যেখানে ছিল না ল্যাপটপ, যেখানে ছিল না ইলেকট্রিসিটি। প্রচুর বই পড়ার কারণে আমার শব্দ ভান্ডার বড় হয়। আমি শব্দ শেখার জন্য কোন অভিধান কোনদিন পড়ে দেখে নি।”

শশী প্রচুর ইংরেজি বই পড়তেন বলে তার শব্দ ভান্ডার এত দারুণ মনে হয় আমাদের। এক দশক আগেও ইংরেজি বই কিনে পড়ার চল ছিল না আমাদের। এখন অনেক ইংরেজি বই নিলক্ষেতের কল্যানে আমরা কম দামে পাই। বই পড়ার কারণ যদি দক্ষতা বিকাশই হয় তাহলে ইংরেজি বই অনুবাদ না পড়াই ভালো!

বই মেলা আর রকমারিতে আপনারা টাইম ম্যানেজমেন্ট, ইট দ্যাট ফ্রগ, থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচসহ হ্যারিপটার, শালর্কের বই অনুবাদ পাবেন। কম দামে দারুণ বই, কিন্তু অনুবাদের মান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যাচ্ছে তাই। আমি ছোট বেলা ডেল কার্নেগির বইয়ের বাংলা অনুবাদ পড়েছিলাম, আবার ২০১৫ সালে ইংরেজি বই পড়েছি। পড়ার পরে টের পেয়েছি বাংলা কোথায়, আর ইংরেজি কোথায়! জাতি হিসেবে এমনিতেই আমাদের ইংরেজির অবস্থা নড়বড়ে। বর্তমান কর্পোরেট দুনিয়া আর ইংরেজির প্রভাবের কারণে ইংরেজিতে ভালো করা মানে যে নিজের কমিউনিকেশন দক্ষতা বেশ ভালো এটা না বললেও চলে। সে ক্ষেত্রে ইংরেজি অনুবাদ না পড়ে মূল বই পড়ে যদি ইংরেজি দক্ষতা বাড়ে তা খারাপ না তো!

ধরেই নিলাম,আপনি হয়তো বেশি ইংরেজি বোঝেন না, সেক্ষেত্রে পড়া শুরু করুন। এক পৃষ্টা হয় তো বুঝবেন না, ৪/৫ পৃষ্টা পড়ার পরে এক-লাইন অন্তত বুঝতে পারবেন। আরও পড়লে আরও বুঝতে পারবেন। যখন ২০১৫ সালে ডেলিভারিং হ্যাপিনেস বইটা পড়া শুরু করি, তখন শুরুর দিকে অনেক শব্দের অর্থ বুঝি নাই। দিন কয়েক পড়েই শব্দ হয়তো বুঝি নাই, কিন্তু যে লাইন পড়ছি তা বুঝতে পারছি। এভাবে ইংরেজিতে বেশ ভালো করা যায়।

একটি ইংরেজি বইয়ের বাংলা অনুবাদ পড়তে ১ মাস লাগে, প্রতিদিন ১ ঘণ্টা পড়লে মোট সময় লাগবে ৩০ ঘন্টা। অনুবাদ পড়ার পরে আপনি ৩০ ঘণ্টায় শুধু বইটি পড়েই সাহিত্যিক দিকই অর্জন করতে পারবেন। এখন এক ঢিলে বই পড়ার মত ইংরেজি বই পড়লে ৩০ ঘণ্টায় শুধু বই-ই পড়া নয়, সঙ্গে ইংরেজি ভাষাতেও দক্ষতা বাড়বেই। সময় এমনিতেই আমাদের কম, সেই প্রেক্ষিতে কম সময় বই পড়া+ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ার সুযোগ মিললে ছাড়বেন কেন?

আমার ভাগ্নে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে হ্যারিপটার বই পড়তো, আমি অনুবাদ পড়তাম। বাংলা অনুবাদে আমার বাংলা দক্ষতা তো তেমন বাড়ে নাই, কিন্তু যখন ইংরেজি বই পড়া শুরু করি তখন টুকটাক কিন্তু ইংরেজি বোঝা শুরু করি। এখন farrago অর্থ না বুঝলেও কোন লাইনে ব্যবহার হতে দেখলে তা বুঝতে পারি।

অনুবাদ সাহিত্য অবশ্যই পড়া ভালো। প্রগতি প্রকাশনের রুশ বইয়ের বাংলা আমরা এক সময় পড়েছি। স্প্যানিশ কিংবা ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের ভাষার অনুবাদ বই অবশ্য পড়বেন, কিন্তু ইংরেজি বইয়ের অনুবাদ পড়ে নিজেকে ধীরস্থির প্রমাণের কোন মানে নাই।

আরও পড়ুন: একটু বেশিই যেভাবে বেশি বই পড়বেন

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,837 views. Thank You for caring my happiness.

২০১৭ সালে বারাক ওবামা যা পড়েছেন

আমরা এতই ব্যস্ত যে বছরে ২-৩টা বই পড়ে হাপিয়ে ওঠি। আর সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা এতটাই বেকার যে বছরে এক ডজনের বেশি বই পড়েন। পড়ার জন্যই যে বই পড়তে হবে-এ ধারণা কেন জানি আমাদের মস্তিষ্কে ছোটবেলা থেকে কে জানি ঢুকিয়ে দিয়েছে। বই পড়া বিনোদন-২০১৫ সাল থেকে আমি এই কথাটা এতটাই বিশ্বাস করা শুরু করেছি যে এখন বই পড়া জোস লাগে আমার। জ্ঞান ছড়ানো কিংবা অহংকার প্রকাশের জন্য না, নিজেকে চেনার জন্য বই পড়া বিষয়টা বেশ রঙিন একটা বিষয়।

In this photo taken Jan. 18, 2017, President Barack Obama speaks during his final presidential news conference, in the briefing room of the White House in Washington. In his last major act as president, Barack Obama cut short the sentences of 330 federal inmates convicted of drug crimes on Thursday, Jan. 19, 2017, bringing his bid to correct what he’s called a systematic injustice to a climactic close. (AP Photo/Pablo Martinez Monsivais)

বারাক ওবামা নতুন বছরের ঠিক আগের রাতে নিজের পড়া বেশ কিছু বইয়ের নাম ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। বইগুলোর মধ্যে আমি মাত্র ২টি বই পড়েছি, বাকিগুলো উপহারের জন্য অপেক্ষা করছি।
রাজনীতিবিদরা কি কি বই পড়েন তা নিয়ে এখন থেকে চেষ্টা করবো প্রতি মাসে কিছু না কিছু লিখতে। জাস্টিন ট্রুডোর একটা লিস্টি পেয়েছি-ট্রুডোও বেশ বড় পাঠক কিন্তু!

বারাক ওবামা যা ২০১৭ সালে পড়েছেন

  1. দ্য পাওয়ার, নাওমি অলডারম্যান: সায়েন্স ফিকশন ঘরানার বই। 
  2. গ্র্যান্ট, রন চেরনো
    “তার বীরত্ব নেই, কিন্ত সর্বকালের সেরা বীরদের একজন”, এমনটাই ভাবা হয় আমেরিকার গৃহযুদ্ধের জেনারেল আলেসিস গ্রান্টকে
  3. ইভেক্টেড: পোভার্টি অ্যান্ড প্রোফিট ইন দ্য আমেরিকান সিটি
  4. জেনসভিল: অ্যান আমেরিকান স্টোরি
  5. এক্সিট ওয়েস্ট 
  6. ফাইভ-কারেট সউল
  7. অ্যানিথিং ইজ পসিবল
  8. ডাইয়িং: অ্যা মেমোয়ার 
  9. অ্যা জেন্টেলম্যান ইন মস্কো
  10. সিং, আনব্যারিড, সিং
  11. কোচ উডেন অ্যান্ড মি
  12. বাস্কেটবল

ওবামার স্মৃতিবই
ড্রিম ফ্রম মাই ফাদার

এই বইটা বেশ দারুণ ভেবেছিলাম। কেন জানি ২/৩ ফর্মা পড়ার পরে আর পড়তে ইচ্ছে করে নাই।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 593 views. Thank You for caring my happiness.

যেভাবে মাত্র ১৭ দিনে বেইলি ফ্রেঞ্চ শিখেছিলেন!

আমি ২০০৮ সালে ফ্রেঞ্চ ভাষা শেখার চেষ্টা করেছিলাম। এক বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএমএলে গিয়ে ক্লাস করেছিলাম। বছর শেষে আসলে ‘জো সুই এতুদ্যিউ’ পর্যন্তই দৌড় হয়ে আমার। উল্টো ইংরেজির ১২টা বেজে গিয়েছিল। ইউরোপীয় ভাষামন্ডলে ফরাসী বেশ কঠিন একটি ভাষা, তাই আয়ত্বে আনা বেশ কঠিন। কঠিন বলেই টাটা বলে দেই!

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে কোর্সের বাধ্যতামূলক জাপানিজ শিখতে হয়। ৬ মাস জাপানিজ শিখেছিলাম বেশ ভালোই, এরপরে আইএমএলে সিনিয়র লেভেলে ভর্তি হওয়ার পরে আর কন্টিনিউ করা হয় নি। জাপানিজ দৌড়টা আমার সুবিধার না, আমি যে জাপানিজ বলি তা এখন পর্যন্ত কোন জাপানিজকে বুঝতে দেখলাম না!

ইংরেজি আমার দ্বিতীয় ভাষা, তার অবস্থাও ভালো না! কথা বলার সময় গ্রামার একদিকে যায়, আর আমার বাক্য আরেক দিকে। ভয়ানক অবস্থা।

এই যখন অবস্থা তখন ডেভিড বেইলির ফরাসী ভাষা শেখার গল্পটা পড়ি, বেশ কার্যকরই মনে হয়েছে আমার। 

 

২০০৫ সালে বেইলি ফরাসী ভাষার শেখার চেষ্টা করেন। সে সময়টায় তিনি ফ্রান্সের একটি গ্রামে অবস্থান করেছিলেন।
ডেভিড ১৭ দিনে যেভাবে ফরাসী শিখেছিলেন,
১. প্রতিদিন একই কাজ করার জন্য একটি রুটিন ঠিক করে নিয়েছিলেন বেইলি। বেইলি প্রতিদিন সকালে ২ ঘন্টা খালি ফরাসী বাক্য আর শব্দ হাতে লিখতেন কাগজে।
২. প্রতিদিন ৩০ মিনিট অডিও শুনতেন বেইলি। আমরা ভাষা শেখার সময় নতুন ভাষার শব্দ বা বাক্য শুনি কম, তাই বেশ বোরিং মনে হয় প্রথম দিকে। 
৩. প্রতিদিন বিকালে বেইলি ফরাসী গান শুনতে ঘুরে বেড়াতেন। গানের উপস্থিতি আমাদের মস্তিষ্কে অবচেতনভাবে থাকে, অনেকদিন থাকে।
৪. প্রতিদিন একজন ফরাসী বন্ধুর সঙ্গে লাঞ্চ করতেন বেইলি। এতে নাকি ফরাসী অনেকটুকু আয়ত্বে নেন বেইলি।
৫. প্রতিদিন বিকালে ছোটদের লেখা বই ফরাসীতে পড়তেন বেইলি। ছোটদের গল্প রুপকথার মতো আমাদের মগজে গেঁথে যায়, সেই কারণে রুপকথা পড়ে ভাষা শেখার আইডিয়া দারুণ।
৬. প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেড়ঘণ্টার মত ফরাসী লিখতেন বেইলি। সহজ সরল প্রশ্ন যেমন ‘আপনি কোথা থেকে এসেছেন?’, ‘আপনি ফ্রান্স কতটা ভালোবাসেন?’-এমন প্রশ্নের উত্তর বারবার লিখতেন বেইলি।
৭. ফিলার ওয়ার্ড শিখতেন বেইলি। যেমন বাংলাতে ‘আ’, ‘হুম’ শব্দগুলো বলি আমরা এমন।
আমি এখন চাইনিজ শেখার চেষ্টা করছি। ১ বছর সময় দেয়ার পরে দেখব কি হবে!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 732 views. Thank You for caring my happiness.

“মেয়র আনিসুল হকের রেকমেন্ডেড ৭টি বই”

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক স্যারের সঙ্গে বেশ ক’বার দেখা করার সুযোগ মিলেছিল, কখনও বই-পত্র নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়নি। যখন দেখা হয়েছিল তখন অবশ্য আমার বই-টই নিয়ে এত আগ্রহ ছিল না। কিন্তু যখন আগ্রহ তৈরি হয় তখন আনিসুল হককে আর জিজ্ঞেস করতে পারি নি কি কি বই পড়েন তিনি। এই পোস্টটি পুরো আন্দাজে লেখা একটি পোস্ট। অনেকটা “আমার মনে হয়, তিনি যেমনটা বলতেন” টাইপের পোস্ট। লেখাটি ফিকশনাল।
আইবিএর শিক্ষক ও প্রাইড গ্রুপের আব্দুল মোমেন স্যার একবার ক্লাসে আনিসুল হককে নিয়ে বলেছিলেন। গুলশানের ফুটপাত নিয়ে আনিসুল হকের ভাবনা নিয়ে স্যার বলেন, “মেয়র সাহেব অনেক দেশ-দুনিয়া ঘুরেছেন বলেই হয় ক্যাপিটাল সিটির ফুটপাত এভাবে বদলানোর চেষ্টা করেছেন।” আনিসুল হকের ব্যক্তি মননকে দূর থেকে বিশ্লেষণ করে আমার মনে হয়েছে তিনি তরুণদের নিচের বইগুলো পড়ার পরামর্শ দিতেন।

ডু দ্য হার্ড থিংস ফার্স্ট

ব্যক্তি আনিসুল হকের বড় একটা পরিচয় ছিল ব্যবসায়ী হিসেবে। মাইকেল ব্লুমবার্গের ছায়া কি ভর করেছিল তা উপর? নিউ ইয়র্ক শহরের এক সময়কার মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ একাধারে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, মিডিয়ামুঘল! ডু দ্য হার্ড থিংস ফার্স্ট আসলে অডিও বই। এখানে ব্লুমবার্গ কিভাবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন তা নিয়ে কথা বলেছেন।

ক্লাইমেট অব হোপ

মাইকেল ব্লুমবার্গের আরেকটি বই। এখানে কিভাবে ব্যবসা আর নাগরিকরা পৃথিবীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে পারে তা নিয়ে লিখেছেন ব্লুমবার্গ। ঢাকা উত্তরের পরিবেশ নিয়ে বেশ কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন আনিসুল হক। আমার ধারণা এই বইটিও তিনি রেকমেন্ড করতেন।

(আরও পড়ুন: ওয়াল স্ট্রিটের লোকজন ২০১৭ সালে যে বই পড়েছে)

ফ্রম থার্ড ওয়ার্ল্ড টু ফার্স্ট

সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা লি কুন ইয়ুর বায়োগ্রাফি। কিভাবে মালয় উপদ্বীপের একটি বিচ্ছিন্ন শহর পুরো পৃথিবীর নগর রাষ্ট্রের উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে তার পরিচয় আছে বইটিতে। সিঙ্গাপুর সিটির ব্যবস্থাপনাকে ভিত্তি ধরে ঢাকার ব্যবস্থাপনা করা অসম্ভব একটি বিষয়, কিন্তু সেভাবে ভাবতে চেয়েছিলেন তো আনিসুল হক।

ট্যাপ ড্যান্সিং টু ওয়ার্ক

ওয়ারেন বাফেটকে নিয়ে তার সাংবাদিক বন্ধুর লেখা বই। ব্যবসাকে চ্যারিটির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন কৌশল আছে বইটিতে। ওয়ারেন বাফেট যতটা না ব্যবসায়ী ততটাই ব্যবসা-দার্শনিক। আনিসুল হক নিশ্চিত ওয়ারেন বাফেটের বই পড়তে পরামর্শ দিতে আমাকে।

ফ্রিকোনমিক্স

অর্থনীতির শিক্ষার্থী আনিসুল হক নিশ্চিত ফ্রিকোনমিক্স বইটি পড়ার পরামর্শ দিতেন। বইটি থেকে আমি পড়েছিলাম “The conventional wisdom is often wrong.” আনিসুল হকের রাজনীতি নিয়ে ভাবনার সঙ্গে লাইনটি মিলে যায় কিন্তু!

ন্যুজ

এবারের অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী থ্যালারের বই ন্যুজ। আমি ২০১৫ সালে পড়েছিলাম, যদিও বইটি ২০০৯ সালের। থ্যালারের কথা হচ্ছে, MBA students are not the only ones overconfident about their abilities. The “above average” effect is pervasive. Ninety percent of all drivers think they are above average behind the wheel! আনিসুল হক ১০ পার্সেন্ট ট্রাক ড্রাইভারদের জন্য ঢাকা উত্তরে বেশ সমস্যা তৈরি করেছিলেন কিন্তু!

প্রেজেন্টেশন সিক্রেটস অব স্টিভ জবস

টেলিভিশন দুনিয়ার লোক ছিলেন আনিসুল হক। উপস্থাপনা যার অন্য পরিচয়। আনিসুল হক অবশ্যই আমাকে প্রেজেন্টেশন সিক্রেটস অব স্টিভ জবস বইটি পড়তে পরামর্শ দিতেন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,311 views. Thank You for caring my happiness.

আরিফুজ্জামান শিক্ষার্থীদের যা পড়তে বলেন

এস এম আরিফুজ্জামান, পেশায় শিক্ষক। আগে ব্র্যাক বিজনেজ স্কুলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে অ্যাকাডেমিক অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর ও হেড অব বিজনেজ স্কুল। “আজীবন এডুকেটর হয়ে থাকতে চাই”, এই তার ক্যারিয়ার মোটো। এস এম আরিফুজ্জামান তার শিক্ষার্থীদের বেশ ক’টি বই নিয়মিত পড়তে বলেন। আপনি কোনটি পড়েছেন তা মিলিয়ে নিন।

ইউ ক্যান উইন

শিব খেরার এই বইটি তিনি প্রথমে সাধারণ লেভেলে পড়ার পরামর্শ দেন। ভারতীয় লেখকের বই শুনতে ক্লিশে শোনালেও যে কোন বই-ই পড়ার বই এবং তা থেকে শেখা যায় বলে মনে করেন আরিফুজ্জামান।

গুড টু গ্রেট

জেমস কলিন্সের দারুন একটা বই। ২০০১ সালের বই, আমি অবশ্য পড়েছি ২০১৬ সালে। বইটার বিখ্যাত একটা লাইন হচ্ছে, “Great vision without great people is irrelevant.” অর্গানাইজেশনাল লিডারশিপের উপর দারুণ একটি বই।

 

টনি রবিন্সের সব বই

আমি ২০১৫ সালে টনি রবিন্সের মানি বইটা পড়েছিলাম। অ্যাগ্রেসিভ মুডে লেখা। অর্থ-কড়ি ব্যবস্থাপনা বিষয়ের বই। বইয়ের মূল কথা হচ্ছে, কম বয়স থাকতেই টাকা-পয়সা আয়ের সোর্স তৈরি করতে হবে। আরিফুজ্জামান টনি রবিন্সের প্রায় সব বই পড়েছেন এবং তার শিক্ষার্থীদের বই পড়তে উৎসাহ দেন।

লাইভ ইয়ুর ড্রিমস, লং লাইফ অ্যান্ড গুড ডেজ

লেস ব্রাউনের লেখা বই। আমি অবশ্য লেস ব্রাউনকে আগে কাউকে রেফার করতে শুনি নি।ইন্টারনেট ঘেঁটে বুঝলাম বেশ ভালো বই কয়েকটি বই আছে তার।

(আরও পড়ুন: সাইফ নোমান খানের রেকমেন্ডেড যত বই)

ইউ লার্ন বাই লিভিং

এলেনর রুজভেল্টের বায়োগ্রাফি। এলেনরের উক্তি আর কথা অনেক পড়েছি। তার বইটি পড়া জরুরী। প্রথম মার্কিন ফাস্টঁ লেডি যিনি ১২ বছর এই পরিচয়ে থেকেছিলেন। গুডরিডস থেকে তার যে লাইনটি দারুণ লেগেছে, There is not human being from whom we cannot learn something if we are interested enough to dig deep.

জ্যাক মার বায়োগ্রাফি

আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মার আসল নাম জ্যাক মা না। ৯ বছর টুরিস্টদের গাইডের কাজ করা জ্যাক মার বায়োগ্রাফি বেশ সিনেম্যাটিক।

(আরও পড়ুন: স্টিভ জবসের সেই ইন্টারভিউ, পর্ব এক)

স্টিভ জবসের বায়োগ্রাফি

যে বইটি পড়ে আমার প্রথম ননফিকশন বই পড়াতে আগ্রহ জন্মেছে তা ছিল স্টিভের বায়ো। অসাধারণ বই কিন্তু।

হার্ভার্ড বিজনেজ রিভিউ

ব্যবসার শিক্ষক আরিফুজ্জামান হার্ভার্ড বিজনেজ রিভিউ পড়তে বলবেন না তা কি করে হয়?!

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 645 views. Thank You for caring my happiness.

ওয়াল স্ট্রিটের লোকজন ২০১৭ সালে যে বই পড়েছে

ওয়াল স্ট্রিটের কোটটাই পরা ইনভেস্টমেন্ট এজেন্টদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস আছে। বিজনেজ ইনসাইডার এমনই ২৩টি খুঁজে বের করেছে যা কিনা ওয়াল স্ট্রিটের লোকজন ২০১৭ সালে পড়েছে। বাংলাদেশের ব্যবসা দুনিয়ার লোকজন কেমন বই পড়ে তা জানার চেষ্টা করবো সামনে। এখনকার তরুণ সিইওদের বই পড়ার আগ্রহ আছে বলে শুনেছি।

আমি ওয়াল স্ট্রিটের লোকজন যে ২৩টি বই পড়েছে তার ১৭টি ২০১৬-২০১৭ সালের মধ্যে পড়েছি। কিছু বই দুর্দান্ত, এবং সবই ননফিকশন। নন-ফিকশন বইয়ের যারা পাঠক তারা আগ্রহ নিয়ে বইগুলো পড়তে পারেন।

ওপেন-অ্যান্দ্রে অগাসি

রোজেনবার্গ ইকুইটিসের সিইও হেইডি রিডলে অ্যান্দ্রে অগাসির বায়োগ্রাফি পড়তে বলেছেন। খেলার মাঠ মানেই যেমন চ্যালেঞ্জ, বিজনেজ দুনিয়াও হচ্ছে চ্যালেঞ্জের।বইটা পড়ে আমার কাছে একটা লাইন সে রকম লেগেছে।

-পারফেকশন কখন আসে?

যখন আপনি অন্যদের সহযোগিতা করবেন!

“বড় স্বপ্ন, অনেক বেশি ক্লান্তিকর!”

“জেগে থেকে স্বপ্ন দেখা কত সুখকর তাই না?”

হোমো দিউস, ইয়ুভাল নোয়াহ

আমার কাছে বইটাকে ফিকশন আর ননফিকশনের মধ্যকার একটি ক্যাটাগরি মনে হয়েছে। অতীতের কথাগুলো ননফিকশন, কিন্তু ভবিষ্যৎ?-ফিকশন?

 

দ্যা অরিজিনালস-অ্যাডাম গ্র্যান্ট

তুখোড় মানুষ সিয়াম ভাই আমাকে এই বইটা পড়তে বলছিলেন। যদিও তার পরামর্শ দেয়ার আগেই বইটা পড়ে ফেলছি আমি। একটা ভবিষ্যতের কথা বলতে চাই, অ্যাডাম গ্র্যান্টকে আমাদের আগামী ৫০ বছর সহ্য করে যেতে হবে। হোয়ার্টনের এই তরুণ অধ্যাপক ৩০ বছর বয়সে মনস্তত্ব ও মনন নিয়ে যা লিখেছেন তা না পড়লে অনেক কিছু জানা যাবে না।

 

দ্য রোড টু উইগান পিয়ার, জর্জ ওরওয়েল

জর্জ ওরওয়েল তার সময়কার তুখোড় মানুষদের একজন ছিলেন বলে আমার বিশ্বাস। জেন অস্টিন আর জর্জ ওরওয়েল না পড়ে মরতে চাই না।

 

জেন্সভাইল: অ্যান আমেরিকান স্টোরি-এমি গোল্ডেস্টেইন

আমেরিকানদের সমস্যা হচ্ছে সব সমস্যাকেই ইনেসপিরেশন ধরে বসে থাকে। জেনারেল মটরস জেনসভাইলের কোম্পানি কেন বন্ধ করে দিয়েছিল তা নিয়ে এই বই। আমাদের আদমজী পাটকল নিয়ে এমন বই কেউ কি লিখবেন? ১৯৫০ দশকে এরচেয়ে বড় কারখানা ছিল কিনা না তা প্রশ্ন করতেই পারেন।

 

দ্য ক্যাপ্টেন ক্লাস-স্যাম ওয়াকার

বইটি ২০১৭ প্রকাশিত, আমি পড়িনি। তবে বইটি থেকে দারুণ একটি লাইন পেয়েছি,

গ্রেট লিডার হতে চাইলে মটিভেশনাল স্পিচ, সুদর্শন, ক্যারিশমা, সুনাম কিংবা এমন ঐশ্বরিক গুন থাকার দরকার নেই। দলের সাফল্যের জন্য সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে যাওয়াটাই সব। গ্রেট লিডার তারা যারা দলের জন্য “ক্যারি দ্য ওয়াটার”-পানির বোতল টানে!

এ ম্যান ফর অল মার্কেটস

এই বইটা কেন আমি খুঁজে পাইনি!বইটা লিখেছেন এডওয়ার্ড থর্প, ১৯৬০ সালের কাঁপানো লোক। তার ভাষ্যে,

জীবন হচ্ছে উপন্যাস পড়ে যাওয়া কিংবা ম্যারাথনে দৌড়ানো। লক্ষ্য জয় করাই শুধু জীবনের সব না, অভিজ্ঞতা অর্জন করে বেঁচে থাকা আনন্দের।

গণিতবিদ থর্প কিভাবে কি করলে তা পড়তেই হবে।

 

বর্ন টু রান-ক্রিষ্টোফার ম্যাকডগাল

২০০৯ সালের এই বই গুডরিডসে ৪.১ রেটিং পাওয়া! ১ লাখের ওপর রেটিং! পড়া দরকার।

 

ইউ সে মোর দ্যান ইউ থিংক

কমিউনিকেশনের ওপর দারুণ বই। ঘাড়ের উপর দাঁড়ানো শেখা যাবে বইটি পড়ে!

গ্রীট- অ্যাঞ্জেলা ডাকওর্থ

গ্রীট পড়ে লেখিকাকে মেইল করে আরও ৩টি বই রেকমেন্ডেশন নিয়েছিলাম!
উলেসিস গ্রান্ট-রন চের্নাও

লিংকনের সেনাপ্রধানের জীবনী নিয়ে বই।

 

লিওনার্দো দ্যভিঞ্চি-ওয়াল্টার আইজ্যাকসন

ননফিকশন নাকি ফিকশন-এখনো দ্বিধায় আছি।

 

আরও যা পড়েছে ওয়াল স্ট্রিট বাসিন্দারা:

দ্য ফামা পোর্টফলিও, শ্যাডো ড্রাইভার্স, দ্য ফিস দ্যাট অ্যাট দ্য হোয়েল, দ্য ব্যাটল ফর ব্রেটন উডস, ক্রিয়েটিভিটি, বাফেট, রেড নোটিশ, একপার্ট পলিটিক্যাল জাজমেন্ট।

 

 

বইময় দুনিয়া সুন্দর।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 756 views. Thank You for caring my happiness.

চেয়ার তত্ত্ব

আলিয়া ভাট আর শাহরুখ খানের সিনেমা ডিয়ার জিন্দেগী। ভারতের গোয়াতে শুটিং লোকেশন ছিল মুভিটা তাই দেখার লিস্টে ছিল অনেকদিন। সেই মুভিটায় শাহরুখ খান ওরফে ড. জাহাঙ্গীরের ভূমিকা ছিল একজন থেরাপিস্ট হিসেবে, আর আলিয়া ওরফে কাইরা ছিল মারদাঙা উড়াধুরা সেই লেভেলের একটা মানুষ-যার জীবনে আমাদের মতই আবেগ -অনুভূতি আর হতাশা ভর করে। এই মুভিতে কাইরার প্রেম করার মানুষ খোঁজা নিয়ে হতাশা ছিল। সেই হতাশায় দ্বিধায় ছিল কাইরা, সেখানেই থেরাপিস্ট ড. জাগ তাকে চেয়ার থিওরী বলে জীবনের দারুণ একটা কথা বুঝিয়ে দেয়।

চেয়ার তত্ত্বের প্রেক্ষিত: কায়রার প্রথম প্রেম ছিল একজন সিনেমা পরিচালকের সঙ্গে, এরপরে হয় একজন গায়কের সঙ্গে। দুজনেই সুর্দশন, কিন্তু কায়রার সঙ্গে তাদের জোড় আর গড়ে ওঠেনি।

চেয়ার থিওরী: আমরা দোকানে চেয়ার কিনতে যাই। গিয়েই কি হুট করে প্রথম যে চেয়ার পছন্দ করি, তাই কিনে বাড়িতে নিয়ে আসি? উত্তরটা নিশ্চয়ই, না! তো আমরা কি করি? অনেক দোকানে ঘুরি? অনেক চেয়ার দেখি। কোনটার রঙ পছন্দ হয়, কোনটার স্টাইল, আবার কোনটায় বসে মজা নেই, কোনটা বসলে আরাম পাওয়া যায় না। অনেক ঘোরাঘুরি করেই আমরা পছন্দের চেয়ার কিনি।

সিনেমার চেয়ার থিওরী: ডিয়ার জিন্দেগীতে ড. জাহাঙ্গীর কায়রাকে এভাবে জীবনসঙ্গী বেছে নেয়ার একটা কল্পনা ধরিয়ে দেন। জীবনসঙ্গী বিষয়টাও খোঁজার বিষয়- খুঁজতে হয়, বেছে নিতে হয়; তারপর তাকে জয় করতে হয়।

সিনেমার মত কি আর জীবন চলে? চেয়ার থিওরীটিকে বাস্তবে আনার চেষ্টার জন্যই এই পোস্টটা লিখছি।

চশমা তত্ত্ব: ডিয়ার জিন্দেগীর কথাটা ছিল, জীবনসঙ্গী খুঁজতে হয়। সেই খোঁজাকেই বাস্তবে খোঁজার চেষ্টা করেছি আমি। আমরা যখন চশমা কিনতে যাই, তখন যে চশমা পছন্দ হয় তাই কি কিনে নিয়ে আসি? মনে হয় না! একটু পরে দেখি, আয়নায় দেখি কেমন লাগে আমাদের। অন্যরা ভালো বললেও নিজের কাছে ভালো না লাগলে সেই চশমা আমরা কিনি না।

আমাদের জীবনটাও বেশ বড় অর্থেই এমনটা কিন্তু!

আমরা যখন প্রথম চাকরি পাই, ধরেই নিই সেই চাকরি আমাদের জীবনের সেরা চাকরি। অনেকটা সময় কাটানোর পরে অনেকক্ষেত্রেই মনে হয় “আমি এ কি করছি?”

“আমি এ কি করছি?”, অনেকটা জীবন কাটিয়ে দেয়া অনেক মানুষের কাছ থেকে এ প্রশ্ন জেনেছি। নিজেকেই তারা প্রশ্ন করেন, তারপরে কেউ কেউ উত্তরের জন্য উত্তর-দক্ষিণ মেরু পাড়ি দেন। আবার কেউ হতাশার চাপে একঘেঁয়ে জীবনের ঘানি টেনে কালো সব চুল সাদা করে ফেলেন।

চেয়ার থিওরীকে বাস্তবে এনে দেখা যেতে পারে। কোন সিদ্ধান্তই শেষ কিংবা চরম ধরে বসে নেয়া ঠিক না। একটার পর একটা অপশন তৈরি করে সামনে এগিয়ে নিতে যাওয়াটাই বোধহয় জীবন।

 

—–

ডিয়ার জিন্দেগীতে দারুণ একটি লাইন খুঁজে পেয়েছি, অনেক সময় সরল সমাধানই খুঁজে বের করা সরল কাজ। যে সরল কাজে আমাদের জীবনটা সরল হওয়ার সম্ভবনাই থাকে। আমরা কি করি? সব সময় কঠিন সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত থাকি, কঠিনকে খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে ফেলি জীবনের সহজ সঙ্গাকেই।

তখন শূণ্যতা ভর করে শুধু।

 

আমার সব লেখা মিডিয়ামে পড়ুন। কিংবা, নিউজলেটার অপশনে ইমেইল ঠিকানা লিখলে প্রতি সোমবার আমি নিশ্চিত অন্যরকম কিছু লেখা আপনার সঙ্গে শেয়ার করবো!

 

 

 

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,155 views. Thank You for caring my happiness.

যেভাবে দারুণ কনটেন্ট আইডিয়া তৈরি হয়

মেড টু স্টিক নামে দারুণ একটা বই পড়া শেষ করেছি এমাসেই। গ্রোথ হ্যাকিং, ডিজাইন থিংকিং নিয়ে যারা আগ্রহী তাদের পছন্দের প্রিয় দশ বইয়ের একটা এই বই। কিভাবে আইডিয়া যুগের পরে যুগ টিকে থাকে তা নিয়ে মনোবিশ্লেষণধর্মী মেড টু স্টিক বইটি। বইটা পড়েই জেনেছি কেন “আঙ্গুর ফল টক” গল্পের শেয়াল আর আঙ্গুরের কথা প্রাচীন গ্রীস থেকে শুরু করে সব ভাষার গল্পে খুঁজে পাওয়া যায় কেন!

বইটি পড়া শেষে গুগল করে How to Produce Better Content Ideas নামে একটা স্লাইড শোর খোঁজ পাই। ইদানিং ফেসবুকের চেয়ে বেশি সময় দিচ্ছি স্লাইডশেয়ারে, দিনে ২টা ভালো স্লাইডশো যদি একবার পাই, সেই দিন সেই রঙে কেটে যায়।

আজকে Mark Johnstone এর স্লাইডশোটা পুরোটা দেখেছি, সেই রকমের মুগ্ধতা দেখা যায়।

একমাস জিমে যাওয়ার পরে যদি সিক্স তৈরি না হয়, তাহলে দোষ কার? আপনার-আমার অমনোযোগিতাই কিন্তু! সেইভাবে কোন কিছু নিয়ে ৭ দিন কিংবা ৩০ দিন নতুন করে না ভাবলে নতুন আইডিয়া তৈরি হওয়ার কথা না কিন্তু!

স্লাইডশোর শেষ দিকে রেড বুলের একটা উদাহরণের কথা বলা আছে। রেড বুল তার বিজ্ঞাপন কিংবা কোন কিছুতেই কিন্তু ক্যাফিনেটেড পানি খেলে কি হবে, কিংবা রেড বুলের উপকারিতা কি তা নিয়ে ঘ্যানর-ঘ্যানর করে না। রেড বুল জীবনশক্তি, অ্যাড্রেনালিন রাশ আর সীমানার বাইরে জীবন নিয়ে যাওয়ার দর্শনকেই ভিত্তি করে ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি তৈরি করেছে।

আপনার পণ্য বা সেবা যাই থাকুক না কেন, তা নিয়ে কখনই কথা বলা যাবে না। আপনার আদর্শকেই মানুষ গ্রহণ করবে।

কয়েকদিন আগে কোথায় জানি পড়েছিলাম, আপনি গরু ব্যবসায়ী হলে কিভাবে ব্যবসা করবেন? গরুর বিজ্ঞাপন দেবেন? কখনওই না, গরুর মাংসের কালোভুনা বিষয়টা কি তা আপনার ক্রেতাদের বোঝান। এরপরে গরু তারা এমনিই কিনবে।

 

এমন আরও ২৪টা স্লাইডশো বুকমার্ক করে রেখেছি। “শেখা” বিষয়টা তেমন খারাপ না।

 

এখন বেশির ভাগ সময় মিডিয়ামেই চোখ থাকে। আর লিংকডইনের স্টুডেন্ট ভয়েসও টুকটাক পোস্ট দেয়াই এখন আসক্তি আমার।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,639 views. Thank You for caring my happiness.