সোলায়মান সুখন থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে সোলায়মান সুখনকে এই সময়কার মানুষরা নামে চেনেন। পেশাজীবনে কর্পোরেট দুনিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও যারা সামনে নিজের কোন উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নামতে চান তারা সোলায়মান সুখনের কাছ থেকে দারুণ কিছু বিষয় ইতিবাচকভাবে শিখতে পারেন।


“আপনার পণ্য কে কিনবে তা কি জানেন?”


বিভিন্ন বিজনেজ কেস কম্পিটিশন কিংবা যে উদ্যোগের শুরুতে সব কিছুই রঙিন মনে হয়। দারুণ আইডিয়া দিয়ে দুনিয়া কাপানোর চেষ্টা থাকে সবারই। কিন্তু খুব কম সময়েই আমরা জানি না আমাদের পণ্য বা সেবা কে কিনবে? কিংবা কে আপনাকে সামনে নিয়ে যাবেন। সোলায়মান সুখন কিন্তু তার সোশ্যাল মিডিয়ার যত মেসেজ রাখেন সব কিন্তু ১৭ থেকে ২২ বা ২৫ বছরের তরুণদের উদ্দেশেই দেন। কারণ এই মানুষরা বয়সে তরুণ, তারা সোলায়মান সুখনের মত পারফেক্ট কেউ হতে চান বলেই সোলায়মান সুখনের ভিডিও কিংবা পোস্টে হামলে পড়েন। সোলায়মান সুখনও কিন্তু তার এই গ্রুপ সম্পর্কে জানেন, তিনি কিন্তু বিদেশপড়ুয়া কিংবা আইবিএ বা হাই-ক্যারিয়ার স্কোপ যাদের আছে তাদেরকে প্রাথমিক টার্গেট করে কনটেন্ট ডেভলপ করেন না। সোলায়মান সুখন ইচ্ছে করলেই কর্পোরেট দুনিয়ার তরুণ পেশাজীবিদের জন্য ভাইরাল কনটেন্ট বানাতে পারতেন, সেদিকে কিন্তু তিনি নেই। তার ফলোয়ার কারা এটা তিনি জানেন, সেভাবেই তিনি কনটেন্ট ডিজাইন করেন। আপনার পণ্যটি যাদের জন্য তাদের জানার চেষ্টা করুন। কাস্টমার ছাড়া আসলে যে কোন উদ্যোগই কাগজে কলমে হিট, বাস্তবে নাই।

মার্কেটিং শিখুন
কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মার্কেটিং আর ব্র্যান্ডিং করতে হয় তা সোলায়মান সুখনের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করা যায়। এক সময় এলিট মোবাইল কয়েক মাসের জন্য আলোচিত হয়েছিল, তার পেছনে ছিলেন সোলায়মান সুখন। এরপরে আমরা নেটওয়ার্কসের উই মোবাইল দিয়ে সাড়া ফেলেছেন। আমরা নেটওয়ার্কসকে এর আগে কর্পোরেট দুনিয়ার বাইরে কয়জনই চিনত? এখন জায়গায় জায়গায় ফ্রি ওয়াইফাই দিয়ে আমরার ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানোর আইডিয়া তার।

You বনাম My
আইপড স্টিভ জবস কিভাবে বিক্রি করতো তা খেয়াল করলে দেখা যায়, 1000 Songs in Your Pocket। আইপড বাজারে আনার সময় অ্যাপল কিংবা স্টিভ জবস কি নতুন এমপিথ্রি প্লেয়ার, নতুন পণ্য কিংবা হার্ডডিস্কে মেমরি দিয়ে বিজ্ঞাপন কিংবা হাইপ তোলার চেষ্টা করতে পারতো না? সাইমন সিনেকের স্টার্ট উইথ হোয়াই’তে আমি পড়েছি মানুষ আগে নিজের প্রয়োজনটাই সবার-সবার আগে বোঝার চেষ্টা করে। Your Pocket শব্দদুটো দিয়ে স্টিভ কিন্তু আপনাকে-কাস্টমারকে ফোকাস করেছে। সোলায়মান সুখনের বিভিন্ন ভিডিওতে এমনভাবে বাক্য ব্যবহার করেন যেন বিষয়টা You মানে আপনি কেন্দ্রিক থাকে। ফানেলের উপর থেকে কথা বলার স্টাইলে মানুষকে প্রভাবিত করা যায় না। হবু-উদ্যোক্তারা যখন পণ্য বা আইডিয়া নিয়ে কাজ করেন সেখানে কাস্টমাররা কি পাবেন-পাচ্ছেন সেটাই সবার আগে ফোকাস করা উচিত।
Quora তে একটা ডিবেইটে পড়েছিলাম Your Account শব্দটা My Account-এর চেয়ে বেশি শক্তিশালী! You-কে ফোকাস করুন।


নেটওয়ার্ক দিয়ে ডমিনো অ্যাপ্রোচ তৈরি করুন
সোলায়মান সুখন গত ৩/৪ বছর ধরে টেলিকমিউনিকেশন দুনিয়াতে যুক্ত। খেয়াল করলে দেখবেন তার নানান প্রচার প্রচারণায় তারই নেটওয়ার্কের লোকজনকে তিনি প্রভাবক হিসেবে কাজে লাগান। অন্যান্য ইউটিউবার কিংবা আলোচিত তরুণদের দিয়ে নানা ভাবে তার প্রতিষ্ঠানের পণ্যের ব্র্যান্ডিং করেন তিনি। আমরা যারা হবু-উদ্যোক্তা তারা সব সময় আইডিয়া অন্যদের কাছে লুকানোর চেষ্টা করি। চুরি হয়ে যাওয়ার ভয়ে চুপচাপ থাকি। বিষয়টা আসলে অন্যভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, আমরা যত বেশি একটা আইডিয়া নিয়ে যত বেশি যত মানুষের সঙ্গে কথা বলবো তত বেশি তথ্য আর উপাত্ত পাবো, বাজার সম্পর্কে ধারণা পাবো। মনে রাখা উচিত, একেক জন চুলে একেক স্টাইলের সিঁথি করে। সবার ভাবনার দুনিয়া আলাদা, কেন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না? যত ভাবনা তত কিন্তু পথ।

মনোযোগি ফলোয়ার হউন
আমরা হুট করেই কিছু না ভেবেই মাঠে নেমে যাই। মাঠে নেমে যাওয়ার পরে হুতাশ শুরু হয়। এটা থেকে মুক্তির একটা উপায় হচ্ছে মাঠে নামার আগে মাঠে যারা নেমেছিলেন তাদের পরামর্শ নেয়া। জিই’র সিইও জ্যাকের বায়োগ্রাফিতে পড়েছি, ভালো ফলোয়াররাই নাকি দারুণ নেতা হয়। অন্যকে অনুসরণ করে নিজেকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যান। অন্যকে অনুসরণ করে তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যান। সোলায়মান সুখন কিন্তু মাঝেমধ্যে তার ব্যবসা দুনিয়াতে যাদের ফলো করেন তাদের নিয়ে কথা বলেন। অন্যকে অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে যান, অনুকরণ নয়।

“পরিবারকে সময় দিন!”
স্টার্টআপ করার সময় নাকি অনেকেই প্রেমিকাকে ছেড়ে দেন!-এমনটা পড়তে ভালো লাগে, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা শকিং কিন্তু! সোলায়মান সুখনের শত ব্যস্ততায় কিন্তু তার পরিবারের পেছনে সময় দেয়ার চেষ্টার ছবি তার ফেসবুকেই দেখা যায়। সব কিছুই ব্যালেন্স করে সামনে এগিয়ে যান।

আরও পড়ুন: তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

যা পারেন না তা করবেন না
সোলায়মান সুখন কিন্তু ভিডিও কনটেন্টে দারুণ হলেও লেখালেখিতে সম্ভবত তেমন শক্ত নন। সে কারণেই কিন্তু তিনি ভিডিও দিয়েই তার ফলোয়ারদের সঙ্গে কানেক্টেড হন। আমাদের মধ্যে জ্যাক অব অল ট্রেডস হওয়ার প্রবণতা আছে। যা পারি না, তাই বলার চেষ্টা করি, শো-অফটাই বেশি। হবু-উদ্যোক্তাদের জন্য এ বিষয়টা গুরুত্ব দেয়া উচিত। যা পারেন না, তা না শিখে কিছু না করাই ভালো! এক্ষেত্রে উপায় হচ্ছে, কোফাউন্ডার খুঁজে মাঠে নেমে পড়া। একা তেমন কিছু করা যায় না, কিন্তু ২-৩জনের গ্রুপেই মোটামুটি দারুণ অনেক কিছু করা যায়।


সব ধরার চেষ্টা করলে ধরা খাবেন!
চীনে একশ কোটির বেশি লোক। কেউ যদি চিন্তা করেন একশ কোটি লোকের জন্য দুশ কোটি জুতো দরকার, আর কালকেই জুতা বানানো শুরু করেন তাহলে কি হবে! নাইকির প্রতিষ্ঠাতা ফিল নাইটের বইয়ে এই লাইনটাই পড়েছিলাম! ১শ কোটি লোক, ২শ কোটি পা! ২শ কোটি পায়ের জুতো তৈরি কত বড় হাঙামা তা কি জানেন! সোলায়মান সুখনসহ আমরা যাদের অনলাইনে ইনফ্লুয়েনশিয়াল হিসেবে দেখি তারা কিন্তু দুনিয়ার সব কিছুতেই মতামত দেয়ার চেষ্টা করেন। সব কিছু নিয়ে কথা বলার কারণেও কিন্তু মাঝেমধ্যে গণরোষে পড়েন তারা। সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি হচ্ছে, টুকরো টুকরো মার্কেট সেগমেন্ট ধরে প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট, তারপরে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

সামাজিক কাজে যুক্ত থাকুন
শুধু নিজেকে নিয়ে কিংবা নিজের ছোট দুনিয়া নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি। এটা ঠিক না, অসুস্থতা। ফরিদপুর থেকে হেলিকাপ্টারে করে ঢাকায় একটা বাচ্চাকে আনার দারুণ একটা কাজ করেছিলেন সোলায়মান সুখন গত বছর। শুধু নিজেকে নিয়ে পড়ে থাকলে এসব করা যায় না, নেটওয়ার্ক বড় হয় না।

শিখুন।
সোলায়মান সুখনের সঙ্গে একবার কথা বলার সময় তার নতুন অফিসের টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে একটি অভিজ্ঞতা শুনেছিলাম। টেকনিক্যাল বিষয় না বোঝার কারণে বেশ বিপদে পড়ার সম্ভবনা ছিল তার, পরে ইউটিউব আর অনলাইন থেকে তা শিখে বিপদ পাড় করেন। হবু-উদ্যোক্তারা অনেক কিছুতে আটকে থেমে যায়। অনলাইনে কোর্সেরা-এডএক্স থেকে অনেক কোর্সের শুধু ভিডিও দেখেই অনেক ধারণা পাওয়া যায়। শিখলে লস নাই আসলে!

 

(এই পোস্টের সব ছবি সোলায়মান সুখনের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেয়া। সোলায়মান সুখন ভাইকে আমি অন্যদের মতই ফলো করি, এছাড়া উনার সঙ্গে আমার আর কোন সম্পর্ক নেই। আরেকটা সম্পর্ক আছে, ২৯ জুলাই আমার জন্মদিন, উনার মেয়েরও মেবি একই দিনে জন্মদিন!)

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 8,370 views. Thank You for caring my happiness.

অনার্সের তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় যা করা উচিত!

প্রথমেই শিরোনামে “উচিত” শব্দটি কেন লিখেছি তা বলে নেয়া ভালো। এই উচিতটা আসলে সেই সব খুবই সাধারণ মানের শিক্ষার্থীদের যাদের সিজিপিএ নিয়ে তেমন ভাবনাই নেই। পাশ, আর সেমিস্টার বদলই যাদের জীবনের ধ্যান তারাই মোটামুটি সাধারণ মানের শিক্ষার্থীদের বলা যায়। এই শিক্ষার্থীদের অনেকের অনেক বড় বড় স্বপ্ন থাকে-বিসিএস ক্যাডার, প্রাইভেট ব্যাংকের এমটিও, কিংবা ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোবাকোর টেরিটোরি ম্যানেজার পোস্টসহ আরও অনেক আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন। স্বপ্ন বড় হলেও অভিকর্ষের টানে এই শিক্ষার্থীরা গড়পড়তা একটা জীবন কাটিয়ে দেয়। ভালো চাকরি হবে এই প্রত্যাশায় অনার্স জীবন শেষ হলেও ভালো চাকরি তেমন ধরাই দেয় না তাদের হাতে। আক্ষেপের একটা জীবন কাটিয়ে যায় সবাই। সেই সব শিক্ষার্থীর জন্য এই পোস্ট। আমি নিজে খুবই সাধারণ শিক্ষার্থী ছিলাম দেখে সেই সব সাধারণ শিক্ষার্থীর হতাশার মাত্রাটা বুঝি, নিজের অভিজ্ঞতা আছে অনেক!
অনার্সের তৃতীয় বর্ষে তেমন কিছু কাজ করলে পরের সময়টায় দারুণ কিছু করার সুযোগ তৈরি করা যায়। মনে রাখা ভালো, জীবনে নিজের সুযোগ নিজেরই তৈরি করতে হয়; অন্যের করুণার সুযোগের প্রতীক্ষায় কেন বসে থাকবেন। অনেকেই এই কথার বিরোধিতা করবেন, তাদের বলি-শচীন টেন্ডুলকার অনেক ম্যাচে খারাপ করলেও পরের ম্যাচগুলো খেলতেন সৌভাগ্য কিংবা পরিশ্রমের জোরেই। আপনি আমি শচীন না, আমাদের পরিশ্রম আছে, কিন্তু সৌভাগ্য সব সময় ধরা দেবে না। আর ধরা কেনই বা দেবে? সব মিলিয়ে দেশে প্রতিবছর ২ হাজারের বেশি ভালো চাকরির সুযোগ আসে (বিসিএস+ব্যাংক নিয়ে দু হাজার ভালো সুযোগ আসলেই কম)! সবার যদি সমান সৌভাগ্য আসতো, তাহলে চাকরি আর কারো করা লাগতো না।
তো তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় কি করতে পারেন? আমি কিছু বুলেট পয়েন্ট লিখতে চাই, এগুলোকে পরামর্শ না ধরাই ভালো। নিজের চারপাশের মানুষদের কাছ থেকে এসব শিখে দেখে লিখছি।
* নিয়মিত পত্রিকার অভ্যাস করুন। অনার্স শেষে বিসিএস পরীক্ষার জন্য হুট করেই পত্রিকা পড়ার অভ্যাস আমাদের অনেকের। ওই সময়ের জন্য পত্রিকা পড়ার অভ্যাস না রেখে এখনই শুরু করুন। সাকসেস আসলে লাইফস্টাইল, পত্রিকা পড়ার অভ্যাস আপনার প্রতিদিনকার অভ্যাস হিসেবে গড়ে তুলুন। দেখবেন কয়েকমাস পরে আপনার মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয় একটা স্পঞ্জের মত হয়ে যাবে, সহজেই যে কোন ইনফরমেশন মনে রাখতে পারবেন। আমাদের ব্রেইনও কিন্তু আমাদের মত, কথা শুনতে চায় না। বাড়ির পাশে রাতে জোরে গান বাজালে যেমন শুনুন না শুনুন কানে আসবেই, তেমনি নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করুন। ব্রেইন স্বয়ংক্রিয় নিজেই ইনফরমেশন নেয়া শুরু করবে।
* সপ্তাহের ২ দিন অন্তত নিজের মত সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। আমাদের বর্তমান যে রুটিন, ক্লাস+বাসা+ঘুম+ফেসবুক=জীবন! এটা অন্তত দুদিনের জন্য বাদ দিন। চেষ্টা করুন প্রতি সপ্তাহে দুদিন বই পড়া, সিনেমা দেখা, ঘুরতে যাওয়ার মত অভ্যাস চালু করুন। ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে একা একা হেটে হেটে ফার্মগেট চলে যান, খামারবাড়ী হয়ে সংসদ ভবন একা ঘুরে আসুন। একঘেয়ে জীবন ব্রেইন+শরীর অটোমেটেড মুডে চলে যায়, শরীরকে দৌড়ের উপর রাখুন।
* নেটওয়ার্ক পাওয়ার তৈরি শুরু করুন। আপনি যে বিষয়ে পড়ছেন কিংবা যে দিকে চাকরি করতে চান সেই দিকে নেটওয়ার্ক শুরু করুন। সিনিয়র ২/৩ ব্যাচের চেয়ে আরও সিনিয়র যারা চাকরি করছেন তাদের ফেসবুক বা লিংকডইনে খুঁজে রাখুন। জুনিয়রদের ফেসবুক কিংবা বাস্তব দুনিয়াতে চিনে রাখুন, নেটওয়ার্ক পাওয়ার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। শখের কোন বিষয় থাকলে সেদিকেও নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন।
* সিভি তৈরি শুরু করুন। তৃতীয় বর্ষ থেকেই নিজের ইউনিক সিভি তৈরির চেষ্টা শুরু করুন। অন্যের সিভি দেখে শিখুন, কপি করবেন না। করলে আমার মত ধরা খাবেন। একবার এক সিভির টেমপ্লেট দিয়ে আমরা ৪ বন্ধু গ্রামীণফোনে ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করে ছিলাম, চারজনই ভাইবাতে বাদ পড়েছিলাম।
* যোগাযোগের জাহাজ হউন। তৃতীয় বর্ষ থেকে নিজেকে ক্যারিয়ারের জন্য রেডি করুন। বিবিএ পড়ছেন না তো কি হয়েছে, ইউটিউব থেকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা আনুন। ইংরেজি জানা আর বলা এখন ফুটানি না কিন্তু। আপনাকে নিজেকেই নিজে তৈরি করতে হবে, কেউ শিখিয়ে দেবে এটা ভাববেন না। ভাবলে বিপদে পড়বেন।
* মোটিভেশন থেকে দূরে থাকুন। নিজেকে নিজেই মোটিভেশন দিন কিংবা সর্বোচ্চ টেডেক্সের ভিডিওগুলো দেখুন। মোটিভেইট+লিসেনিং পাওয়ার বাড়বে।
* ফেসবুকে আসক্তি কমানো ভালো কিন্তু। কোরা কিংবা লিংকডইনে সময় দিতে পারেন। লাইফ হ্যাকিং রিলেটেড বিষয়গুলো শেখা শুরু করুন।
* নিজে যে বিষয়ে পড়ছেন সেই দুনিয়াতে ক্যারিয়ার করা অনেক প্রেশার, চেষ্টা করুন অন্য দুনিয়াতে কাজ করতে। হোটেলেও কিন্তু মেডিকেল পাশ ডাক্তাররা চাকরি করে, পত্রিকায় প্রকৌশলীদেরও চাকরি করতে দেখবেন।
* সবশেষে জ্ঞান দেয়া-উচিত টাইপের লেখা-টেখা পড়া বাদ দিন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,676 views. Thank You for caring my happiness.

যে কারণে হবু-উদ্যোক্তা আর হবু-লিডারদের বই পড়া উচিতই না

আপনি হয়তো উদ্যোক্তা, কিংবা সামনে নিজের কিছু একটা করবেন। অনলাইনে কিংবা বিভিন্ন নেটওয়ার্ক সেশনে ভালো উদ্যোক্তা হতে চাইলে কি করতে হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে সব সময়ই কমন একটা উত্তর পাবেন, বই পড়তেই হবে নাকি আপনার। আসলেই কি তাই?
স্কুল-কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে অপছন্দের কাজ হচ্ছে বই পড়া। কি প্রকৌশল, কি ভাষাবিজ্ঞান-বই পড়াই সবচেয়ে বিতৃষ্ণার কাজ অধিকাংশই শিক্ষার্থীর। এখানে সেই সব শিক্ষার্থীর কথা বলছি, যারা কোন মতে আমার মত দিন পার করে দিতে পারলেই খুশি হন।

বাস্তবতা যেখানে এমন সেখানে ই-বুক, কি-বুক-সব বই পড়তে হবে এমন একটা ধারণা পান উদ্যোক্তা হতে চান যারা। বিশাল বিশাল লিস্ট পাওয়া যায় অনলাইনে লিডার কিংবা উদ্যোক্তা হতে চাওয়ার উপরে। খুবই সরল একটা সারকাস্টিক কথা হচ্ছে, যারা দারুণ উদ্যোক্তা কিংবা সেই লেভেলের লিডার তারাই বই লেখেন কম! সেখানে তাদের বই পড়ে কিই বা শেখার আশা করা যায়? আর বেশির ভাগ বই-ই তো ইংরেজি ভাষায় লেখা, বই বোঝার আগে ইংরেজি আতঙ্কও ভর করার সম্ভবনাও আছে কিন্তু।

আমি খুবই সরলভাবে সবাইকে একটাই পরামর্শ দেই, প্রথমেই জোর করে বই পড়ার দরকার নাই। যা শুরু করতে চান, তাই শুরু করে দিন। পরে সফল হলে অবসর সময়ে বই পড়বেন, বই লিখবেন, লাইব্রেরি বানাবেন-কিংবা রিডিং ক্লাব করবেন।

যারা হবু-উদ্যোক্তা কিংবা লিডার তারা গ্ল্যাডওয়েল আর গডিন হুজুগের পেছনে ছোটেন। এসব বই পড়া বেশ সহজ, আর আনন্দেরও বটে। মোটামুটি সব হবু-উদ্যোক্তাই গ্ল্যাডওয়েল বা গডিনের কোন না কোন বই পড়েন। এসব বইয়ে সেই মাত্রার কোন প্রত্যাশা অর্জনের জন্য নানান কৌশল নানান ভাবে ইতিবাচকভাবে লেখার চেষ্টা করা হয়।

এসব বইয়ের কোন সমস্যা নেই, সমস্যা হচ্ছে এসব বই পড়ে আপনার আসলেই কোন কাজে আসবে না। কাজে লাগার কোন বিজ্ঞানও নেই! উদ্যোগ শুরু করার পেছনে এসব বইয়ের নূন্যতম ভূমিকাও খুঁজে পাবেন না।
কোন বিষয় নিয়ে ১০ হাজার ঘণ্টা চর্চা করুন, এতে সাফল্য পাবেন। কিংবা আপনার পণ্য ৪১২তম কাস্টমার কিনলেই আপনি একটু সাফল্যের হাসি হাসতে পারেন। নিজের প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্টে সময় দেয়াই বুদ্ধিমানের। এসব ইতিবাচক স্টাইলে লেখা বই কিন্তু আসলেই তেমন কাজে আসবে না আপনার।

আরও পড়ুন: তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, “কিন্তু টিপিং পয়েন্টস বা পার্পল কাউ বই পড়ে আমার তো ব্যবসায় কাজে লেগেছে।” একটু অন্যভাবে দেখুন, ব্যবসা করতে হলে আপনার মার্কেটিং আর ট্রেন্ড কি সেটা জানতে হবে। সেথ গডিন কিংবা এসব বইয়ে কিন্তু আপনার-আমার আশেপাশের ঘটনাকেই ব্যাখা করা হয়। একটু সরল ভাবে বললে, এসব বইয়ে যে ধরণের তথ্য দেয়া হয় তা এক কিংবা দুই পৃষ্ঠায় সার-সংক্ষেপ হিসেবে লেখা যায়। আরও বড় করে বললে, এসব বইয়ে যেসব তথ্য থাকে তা হুট করে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। আপনার পণ্যকে কিভাবে রিমার্ককেবল করা যায় তা জানা এক বিষয়। আবার আপনার পণ্যকে কিভাবে রিমার্ককেবল করা যায় তা হাতে কলমে করা আরেক বিষয়। জানাই সব না, হাত লাগানোই সব!
আর এসব বই পড়া শেষ হলে কি করা উচিত, তাই খুঁজে বের করা কঠিন!

এসব বইয়ের বাইরে আরেক ঘরণার বই আছে, যাকে এভরিওয়ান ইজ ইন ফরচুন ৫০০ ইফেক্ট বলা হয়।
এসব বই লেখা হয় কিভাবে আপনি ব্যবসা করার জন্য ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে কাজ করবেন, কিভাবে রেভিনিউ মডেলেকে মার্কেটে নিয়ে আসবেন, কিভাবে বিজনেজ মডেল ঠিক করবেন, কিভাবে শেষ পর্যন্ত গ্রেট একটা কোম্পানি তৈরি করবেন তাই লেখা হয়। এক কথায় বললে, এসব বইয়ে কিভাবে সনি, কিংবা ফেসবুক-গুগলের মত কোম্পানি বানাবেন তাই লেখা হয়। আমার কাছে এসব বইকে আসলে আপনি এমবিএ ক্লাসে শিক্ষককে মুগ্ধ করে দেয়া রেফারেন্স ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। এসব বই পড়লে দিনে সিক্স ডিজিট কামানো ব্যবসা বা সেবা তৈরি করা খুবই সহজ মনে হবে আপনাকে।

সারা দিনে আমরা যত তথ্য পাই নানা ভাবে তার খুব কম অংশই আমরা কাজে লাগাই। এসব বই পড়া শেষে রিভিউ লেখা, কিংবা গুড রিডসে শেয়ার দিয়ে লাইক কামানোই একটা ট্রেন্ড এখন। এসবে আসলে দিন শেষে হবু-উদ্যোক্তা হিসেবে সময়ই নষ্ট হয়।

হবু-উদ্যোক্তা, কিংবা আসল উদ্যোক্তাদের ব্যবসা কিংবা এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ সংক্রান্ত বই পড়া আসলে ইংরেজি সিরিজ দেখার মত নেশাই বলা যায়। মাঝেমধ্যে শার্লক, গেম অব থ্রন্স বা নারকোসের হুজুগ ওঠে, তেমনি বই পড়াও হুজুগ।

 

 

(রব ওয়ালিংয়ের দারুণ একটা লেখা আছে কেন উদ্যোক্তাদের বই পড়া উচিত না, সেখান থেকেই এই লেখা।)

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 4,482 views. Thank You for caring my happiness.

সমাবর্তন শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যা করতে পারেন

(এই পোস্টটা সেই সব সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য যারা কোন মতে একটা সিজিপিএ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেছেন। যাদের পড়াশোনা শেষে চাকরিতে ঢুকে যাওয়াটাই একমাত্র লক্ষ্য। বিসিএস হলে হবে-না হলে নাই তাদের জন্য এই পোস্ট!)
সিজিপিএ ২.৫০ থেকে শুরু করে ৪, সবাই সমাবর্তন নেয়। সমাবর্তনের পরের চ্যাপ্টার সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরির বাজারে প্রবেশই বলা যায়। সমাবর্তন শেষে কেউ উচ্চ সিজিপিএ নিয়ে শিক্ষকতায় যোগ দিবেন, যাদের ধ্যান-জ্ঞান বিসিএস তারা সেদিকে যাবেন-কিন্তু যারা খুব সাধারণ তারা কি করবেন! আপনার জন্য চাকরি বসে নেই, আপনি কিংব আমি এমন কেউ না যে কোথাও সিভি জমা দিলেই চাকরির ডাক পড়বে। সবার আসলে এই সময়টায় একটা স্ট্রাগল টাইম চলে। হতাশা না কাটাতে চাইলেও আশপাশে এসে আপনাকে বিরক্ত করবেই।

ওমুকের ভালো চাকরি, মা-বাবার কাছ থেকে ভালো চাকরির প্রত্যাশা, দিনের পর দিন ইন্টারভিউয়ের জন্য অপেক্ষা করা-পুরো সময়টাই অনেক ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়ে বিরক্ত থাকি আমরা। পারি না কষ্টের কথা কাউকে বলতে, কাউকে শেয়ার করতে-দ্বিধার মধ্যেই হতাশার মাত্রা বেড়ে যায় আমাদের। যারা এমন সংকটে ভুগছেন তাদের এই পোস্টটা কাজে দিতে পারে।

আরও পড়ুন: তাহসান থেকে হবু-উদ্যোক্তারা যা শিখতে পারেন

যে বিষয়ে পড়ছেন তার বাইরে চাকরির খোঁজ করুন

ধরুন, আপনি পড়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে। সমাবর্তন শেষে কিংবা গ্র্যাজুয়েশনের পরে এনজিওগুলোতে প্রথমে আবেদন করবেন, এরসঙ্গে ব্যাংক আর বিসিএস। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কিংবা ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ বা জেন্ডার স্টাডিজ পড়া শেষে এনজিওগুলোতেই চাকরির আবেদন করি আমরা। নিজের ক্ষেত্র বাড়াতে অন্য দুনিয়ার চাকরির খোঁজ করুন। বিক্যাশ বলেন কিংবা অ্যাপোলো হাসপাতাল বলেন, নানান জায়গায় কমিউনিকেশন কিংবা কমিউনিটি সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্টে নতুনদের নিয়োগ করা হয়। সেসব ক্ষেত্রে আবেদন করুন। যে বিষয়ে পড়ছেন সেই ট্র্যাকেই যে চাকরি করবেন সেটা ফিক্সড ভাবা ঠিক না।

বিডিজবসের বাইরেও চোখ দিন

বিডিজবস কিংবা অন্যান্য বড় চাকরির পোর্টালগুলোতে আমরা চোখ রাখি। এর বাইরে বড় বড় প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি, ব্র্যাক, গ্রামীণছাড়াও আপনি যে ট্র্যাকের লোক তার ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন। অনেক চাকরির বিজ্ঞাপন হয়তো যে যার ওয়েবে প্রকাশ করে, কিন্তু বিডিজবসে বা চাকরি ডট কমে হয়তো প্রকাশিত হয় না।

সিভি তৈরি করুন

ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড সিভি তৈরি করুন। অন্যের সিভি কপি করার চেয়ে, সিনোনিম মেরে হলেও নিজের সিভি তৈরি করুন। আরেকটা বিষয়, কভার লেটার বিষয়টা এখন অনেকেই সিরিয়াসলি নেন না। একই কভার লেটার কপি-পেস্টে মেরে দেন। এটা করা ঠিক না।

নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করুন

মনে রাখা উচিত, কেউ কখনও চাকরি নিয়ে বসে থাকে না। আমরা খুব নিয়মিত, নেটওয়ার্কের লোকজনকে ভাই একটা চাকরি দিয়েন বলে রিকোয়েস্ট করি। এটা পেশাগত ভাষা না। আপনি আপনার নেটওয়ার্কে যারা প্রভাবশালী তারা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তার ফেসবুক কিংবা ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন নিয়মিত। সেখান থেকে চাকরির সন্ধান পাবেন অনেক।

লিংকডইন ব্যবহার করুন

বাংলাদেশে লিংকডইনকে তেমন সবার সামনে দেখা যায় না। কিন্তু গ্রামীণফোন, রবি কিংবা ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোবাকোর রিক্রুটমেন্টের বড় একটা টুলস এখন লিংকড ইন। একটা স্ট্যান্ডার্ড লিংকডইন প্রোফাইল তৈরি করুন।

লিংকডইনে আমি যা লিখি তা পড়তে পারেন!

“উদ্যোক্তা হবেন যারা, তারাও চাকরি করুন”

যারা উদ্যোক্তা কিংবা নিজের কিছু করতে চান তারাও কিছু দিন চাকরি করে নিজের স্কিল ভারী করার চেষ্টা করুন। স্যার ফজলে হাসান আবেদের নানান লেখায়, শিক্ষার্থীদের প্রথমে চাকরি তারপরে নিজের কিছু করার গুরুত্বের প্রমান পাওয়া যায়।

স্কিল শক্ত করুন

ইংরেজি-বাংলায় কথা বলা, মানে কমিউনিকেশনের যদি জড়তা থাকে তা দূর করার চেষ্টা করুন। ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও থেকে শেখার চেষ্টা করুন। যে লাইনে চাকরি করতে চান তার বর্তমানে কি কি স্কিল লাগে তা সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা রাখুন। মাইক্রোসফট এক্সেল, এসপিএসএস, ফটোশপ কিংবা ওয়ার্ডপ্রেসে কনটেন্ট আপলোড বিষয়গুলো এখন খুবই কমন স্কিল।

হতাশা কাটানোর চেয়ে এড়ানো ভালো

গ্র্যাজুয়েশনের পরের সময়টা খুবই হতাশার মধ্যে যায় অনেকের। বন্ধুদের ভালো চাকরির খবরে মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। চেষ্টা করুন এসময়টায় নিজেকে গোছানোর জন্য কি কি করা যেতে পারে তার পেছনে। কিছু ক্যারিয়ার সংক্রান্ত বই পড়তে পারেন।
আর কি করতে পারেন? কমেন্টসে জানান না?

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 7,744 views. Thank You for caring my happiness.

তো WHY-ই সব

রিসেন্টলি যারা টেডের বিভিন্ন ভিডিও দেখেছেন তারা সেরা বিশটির একটি ভিডিও বলতে সাইমন সিনেকের একটা ভিডিওকে রেফার করে থাকেন। আমি Rachel Smith-এর টেডের ভিডিও দেখে তাকে কয়েকটা ভিডিও রেফার করার অনুরোধ করেছিলাম। র‍্যাচেল আমাকে তিনটে ভিডিও পাঠায়, যার একটা সাইমনের। সাইমন তার বিখ্যাত এক লাইন “People don’t buy WHAT you do, they buy WHY you do it.”-এর জন্য দারুণ আলোচিত। এটার ব্যাখার সবচেয়ে সহজ উদাহরণ অ্যাপল, মানুষ আইফোন বা আইপ্যাড কেনে না, কেনে অ্যাপলের ইনোভেশনের যুক্তিকে। সাইমনের বিখ্যাত বই Start With Why


WHY আসলে আমাদের বিশ্বাসটা। আমরা অফিসে যাই কাজ করতে, যা কিনা What। কিন্তু কেন যাই সেটা অনেকেই জানি না, Why যেহেতু নাই সেহেতু সেখানে শুধু কাজই করে যাই আমরা। প্রথমে WHY, তারপরে HOW এবং সবশেষে WHAT-ই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সূত্র হওয়া উচিত বলে মনে করে সাইমন।

যে কারণে মানুষ জিনিষপত্র কেনে

আপনি বিজ্ঞাপন দিয়ে পণ্য কেনাতে পারেন মানুষকে। কিন্তু সেটা কত দিন? লয়াল কাস্টমার তৈরিই কিন্তু পণ্য কেনানোর সবচেয়ে সহজ কিন্তু কঠিন উপায়। উইন্ডোজ অপারেটিং মানুষ কেন ব্যবহার করে তারা তা জানে না, কিন্তু যারা ম্যাক বা উবুন্টু-লিনাক্স ব্যবহার করে তারা নিজেদের লয়াল ভাবে। যারা টরেন্ট সাইটগুলো ব্যবহার করে তারা যেমন নিজেদের একটা বিশেষ দল ভাবে, তেমনি আইফোন যারা কেনে তারাও নিজেদের একটু আলাদাই ভাবে। কিন্তু স্যামসাং বা অন্য কোন ফোনের লয়াল কাস্টমার নেই। নোকিয়ার ছিল একটা সময়, এখন নেই কিন্তু।
সাউথওয়েস্ট এয়ারওয়েজের অনেকগুলো রেফারেন্স বইটায় আছে। নাইন এলিভেনের ঘটনার পরে মানুষ সাউথওয়েস্টকে চেক পাঠিয়েছিল লস যেন কম হয় তার জন্য, লয়াল কাস্টমাররাই সাউথওয়েস্টকে সেই ১৯৭০ সাল থেকে লাভের মুখ দেখাচ্ছে।

কর্মীরা আগে

সাউথওয়েস্ট এয়ারওয়েজ তার কর্মীদেরকেই সর্বপ্রথম প্রায়োরিটি দেয়। কর্মীরা আপনার উপর খুশি থাকলেই ভালো কাস্টমার সেবা দেবে, কোম্পানির সুনাম বাড়বে। ওয়ালমার্ট স্যাম ওয়ালটন যত দিন বেঁচে ছিলেন ততদিন দারুণ ছিল, স্যাম তার কর্মীদের প্রায়োরিটি দিতেন। স্যাম চলে যাবার পরে ওয়ালমার্ট কিন্তু অনেক কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হয়েছে।
বেশ দারুণ একটা বই। পড়ে উপযোগিতা খুঁজে বের করেছি।

 

আরও পড়ুন:

এক বছরেই ২০০ বই পড়বেন যেভাবে!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ২০১৭ সালে যে বইগুলো পড়া উচিত

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,848 views. Thank You for caring my happiness.

ভাষা যেন ভ্রকুটি

অন্ধত্ব, গোঁড়ামি, অজ্ঞতার মাত্রা যে হারে বাড়ছে তাতে আগামীতে আপনার-আমার মাতৃভাষাকে কেউ সম্মানের চোখে দেখবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারেন। 🙂
১২৫ মিলিয়নের মত মানুষ জাপানিজে কথা বলেন, তারা জাতি হিসেবে যে সম্মান আদায় করে নেন; তা ৪২০ মিলিয়ন লোকের আরবী ভাষার দিকে তাকালেই বোঝা যায়। 🙂
একশ বছর আগেও বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে বাঙালিদের যে সম্মান ছিল, তা এখন কই?
আমেরিকার ওকলাহোমার টালসা শহরে আমি জীবনের দারুণ কিছু মুহুর্ত কাটানোর সময় পেয়েছিলাম। সেই শহরের নামী-দামী মানুষদের “বাংলাদেশ”-কে চেনানোর জন্য কতটা যে কষ্ট করতে হইছে তা বলে বোঝাতে পারবো না। মার্কিন মুল্লুকে বাংলা ভাষা-বাংলাদেশকে চেনানোর সেই কষ্ট, আর বিদেশে বাংলাদেশিদের নেতিবাচক পরিচয় নিজেকে ছোট করে।
ঢাকা কিন্তু ভাষা গবেষণার দুনিয়ার মধ্যমনি হতে পারতো ১৯৫২ সালের ইতিহাসের জন্যই। গুগল ক্যালেন্ডারের কারণে দুনিয়ার যত মানুষ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কথা জানতে পারে, আমাদের প্রশাসনিক কোন কাজ কি এক্ষেত্রে চোখে পড়ে?
 
ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনিস্টিটিউটে যতটা আন্তর্জাতিক রিসার্চ আছে, তারচেয়ে গুগলে দেখা যায় ফিলিপাইনে মাতৃভাষা নিয়ে অনেক বেশি রিসার্চ আছে।
 
বাংলা একাডেমি, ইভেন্ট আর প্রেস ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে আর কত দিন নামে টিকে থাকবে? ওপার বাংলায় আমার ৩/৪জন মোটামুটি বিশ্ববিদ্যালয় পাশ+উচ্চ বেতনের বন্ধু “একুশে বইমেলা” কি জানেন না, আমি জানিয়েছি তাদের-অন্যদের জানাবে কে?
 
ব্র্যাক-গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনে “সিয়েরালিওন” নামে একটি দেশের কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞাপনে লেখা “সিয়েরালিওন” শব্দটি ভুল, Sierra Leone কে বাংলায় সিয়েরা লিওন লেখা হয়। দুবছর হলেও বিজ্ঞাপনটিকে সংশোধন করা হয়নি।
 
আরটিভিতে আজকে হুইসপারের একটি বিজ্ঞাপন দেখলাম। অর্ধেক বাংলা, অর্ধেক হিন্দি। ভাষাপ্রেম দেখাচ্ছি না, অন্যভাষার বিজ্ঞাপন প্রচারে কি আমাদের গণমাধ্যমের সচেতনতা থাকবে না?
 
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” গানটিকে দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যের ভাষায় গাওয়ানোর যুক্তি কি আছে? “বাঙালি ভাইয়ের শহীদ”-ইতিহাস আমাদের বাঙালিদের, মারমা-চাকমাদের না। জোর করে তাদের “ভাই” বলার মানে কি? শিকাগোর হে মার্কেটের নিহত শ্রমিকদের কারণে মে দিবস পালন করা হয়, ঐ শ্রমিকরা বাঙালি না, কিন্তু সেই প্রেক্ষিত সার্বজনীন। নিজের ইতিহাসকে অন্যকে দিয়ে গাওয়ানোর কোন মানে নেই। ৫২, ইতিহাসটা বাঙালি, প্রেক্ষিতটা মাতৃভাষার-বৈশ্বিক।
 
গতকাল কালার্স এফএমে মনের বন্ধুর রেডিও শোতে কথা বলার সময় জানতে পেরেছি আমাদের দেশের যে সব সুবর্ণ নাগরিকরা কথা বলতে পারেন না, তারা আমেরিকান-ইংরেজি- সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ শেখেন, বাংলা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ নেই।
 
(আমার লেখায় ভুল থাকাটা স্বাভাবিক, আপনি কোন ভুল তথ্য দেখে থাকলে অনুগ্রহ করে আমাকে জানানোর অনুরোধ রাখছি আমি।)
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,944 views. Thank You for caring my happiness.

পড়ো পড়ো পড়ো’র সেরা ৪ লাইন

মুনির হাসানের পড়ো পড়ো পড়ো পড়ার সময়ই কোন কোন লাইন ফেসবুকে উদ্ধৃতি দিয়ে শেয়ার দিব তা পেন্সিল দিয়ে মার্ক করে রেখেছিলাম। সেই লাইনগুলো নিয়েই এই পোস্ট। যেহেতু বইটি আত্মানুসন্ধান ঘরণার আত্মজীবনী তাই জ্ঞানী-জ্ঞানী লাইন খুঁজে বের করা একটা কঠিন কাজ ছিল আমার জন্য। এটা সত্য যে, বইটি যে আত্মজীবনীর প্রথম পর্ব তার শেষটুকু নিশ্চিত দারুণ হবে।

(ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে)….লড়তে হলে স্বাস্থ্য ভালো হতে হবে, নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে। এবং আত্মসংযমী হতে হবে।

পৃ ১২৪

কোয়ান্টাম বাস্তবতা আর শ্রোয়েডিঞ্জারের বিড়ালের আবির্ভাব আমাদের মাথার পোকাটা নাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সত্যানুসন্ধান বন্ধ হয় না।

পৃ ১০৭

আরও পড়ুন: বেশি বই বেশি পড়ার উপায়

গ্রামের গল্প শহরে করে কোন লাভ নাই!

পৃ ৬১

টাকা ছাড়া জীবনে কিছুই করা যায়,…..

পৃ ৩১

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 3,475 views. Thank You for caring my happiness.

ফিলের কথা

শু ডগ নামে একটি বই পড়ছি বর্তমানে। নাইকির প্রতিষ্ঠাতা ফিল নাইটের বায়োগ্রাফি। দারুণ একটা বই। সেই বই থেকে কয়েকটা লাইনের ইমেজপোস্টই এই পোস্ট।

This slideshow requires JavaScript.

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,981 views. Thank You for caring my happiness.

ফোর্বস ম্যাগ যে বই উদ্যোক্তাদের Must পড়তে বলে

ফোর্বস ম্যাগের যে পোস্ট নিয়ে এই লেখা তার সময়কাল ছিল ২০১৫। দুইবছর আগের লেখা হলেও, যে বইগুলোর তালিকা ফোর্বস ম্যাগে ম্যুরে নিউল্যান্ডস দিয়েছেন তা এখনও প্রাসঙ্গিক।
ফোর্বস ম্যাগে যা বলা হয়েছিল, আপনি এমবিএ পড়েন না পড়েন কিন্তু ব্যবসা বা উদ্যোক্তা হতে চাইলে এই বইগুলো পড়ে দেখা আবশ্যক। বিজনেজ স্কুলগুলোতে যা শেখায় না তাও নাকি এই বইগুলো থেকে জানা যাবে।
১. দ্য লিন স্টার্ট-আপ
এরিখ রিসের এই বইটা উদ্যোক্তা বিষয়ক বিভিন্ন বইয়ের তালিকায় প্রায়শই দেখা যায়। আমি অবশ্য ৩০ পৃষ্ঠার মতো পড়ে বইটা রেখে দিয়েছি, একটু বোরিং মনে হয়েছে। এরিখ এই বই যে কোন ব্যবসার জন্য দারুণ এক বৈজ্ঞানিক প্রসেস ডেভলপ করে বইটা লিখেছে।

২. ১০১ ক্রুশিয়াল লেসন্স দে ডোন্ট টিচ ইউ ইন দ্য বিজনেজ স্কুল
ক্রিস হ্যারউনের এই বই how to find customers আর how to network তৈরি করবেন তা নিয়ে অনেক কথা বলা আছে।

৩. জিরো টু ওয়ান
পিটার থেইলের এই বইটা যারা পড়েছেন তারা জানেন পিটার আসলে কি মাল! পিটার-এলন মাস্করা সেই ১৯৯৯ সালে পেপ্যাল তৈরি করেছিল। এই বইটা পড়লে ছয়টা প্রশ্ন পাবেন, তার উত্তর খোঁজাই নাকি উদ্যোক্তাজীবন।

৪. দ্য সেলফ-মেইড বিলিওনেয়ার ইফেক্ট
 he Self-Made Billionaire Effect by John Sviokla and Mitch Cohen
জন সিভিওকলা ও মিচ কোহেন নাকি এই বইয়ের ১২০ বিলিওনেয়ারের উপর গবেষণা করে এই বইটা লিখেছেন। যার কোম্পানির যত বড় ভ্যালু সেন্স সে তত বড় প্রভাবশালী হয়।

৫. স্টার্ট উইথ হোয়াই
সাইমন সিনেক নামটা কয়েকমাস ধরেই নানা জায়গায় দেখতেছি, তার বই নাকি সেই লেভেলের। এই বই থেকে জানবেন, মেকিং মানি ইজ নট অ্যা হোয়াই!

৬. দ্য ৭ হ্যাবিটস অব হাইলি ইফেক্টিভ পিপল
স্টিফেন কোভের এই বইটা ক্লাসিক লিডারশিপের উপর বইগলোর একটা হিসেবে ধরা হয়।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,393 views. Thank You for caring my happiness.

সেই কাজের কাজি স্কেচবোর্ড

স্কেচবোর্ড ডট আইও, স্ল্যাক অ্যাসোসিয়েটেড একটু অনলাইন টুলস। গেল ৬/৭ মাস ধরেই ব্যবহার করে আসছি,দারুণ কাজের। খুব সাধারণ ড্রইং টুলস দিয়ে এপর্যন্ত ৫/৬টা প্রেজেন্টেশন কনটেন্ট তৈরি করেছি। বিনে পয়সায় দারুণ কাজের টুল একটা।

যে ভাবে কাজ করে
টিম কিংবা একক বোর্ডে ছবি আকার সুবিধা যেমন আছে, তেমন তা উন্মুক্ত ভাবে প্রকাশ করা যায়। বিষয়টা অনেকটা অফিস মিটিংয়ে একটা হোয়াইট বোর্ডে সবাই মিলে কাটাকাটি করার মত। ব্যবহার শিখে ফেললে বেশি কথা না বলে অনেক দ্রুত অনেক কিছু বলার একটা টুলস।

সাইকি তানাবে এই বোর্ড টুলসের প্রতিষ্ঠাতা।
আমি ফ্রি টুলসটি ব্যবহার করে আসছি, যেখানে সর্বোচ্চ তিনজন ব্যবহারকারী অতিরিক্ত যোগ করা যায়।

orgs-simplified3

যারা গ্রুপ প্রেজেন্টেশন নিয়ে একটু অন্যদের চেয়ে আলাদা কাজ করতে চান, তারা এই টুলসটি ব্যবহার করতে পারেন।
এখন কিন্তু চেনা-জানা অনেক অফিসেই এমন টুলস ব্যবহার করছে। ওয়ার্ক এনিহোয়্যার, যাদের পলিসি তারা এসব টুলস ব্যবহার করেন। নতুন পেশাজীবি হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার জন্য স্কেচবোর্ড ব্যবহার শেখার বুদ্ধি দেয়া যায়।

যে বিষয়গুলো বোরিং পাওয়ারপয়েন্টের বাইরে দারুণ করে দেখানো যায়, তার জন্য স্কেচবোর্ড ব্যবহার করা যায় কিন্তু।

(ডিজাইন থিংকিং এখন ব্যবসা দুনিয়ার বেশ কাঁপানো একটা বিষয়, সেখানে এসব টুলস সেই মাপে ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে পেশাজীবিরা এসব টুলস ব্যবহার করলেও শিক্ষার্থীরা কর্মবাজারে প্রবেশের পরে ব্যবহার শিখে। আগে থেকে এসব টুলস নিয়ে জানা-শোনা থাকলে পরে কিন্তু বেশ কাজে দেয়।) 

যারা সেলস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান তারা এসব সম্পর্কে মনে হয় জানেনই। এসময় চাকরির বাজারে লড়তে যেসব টুলস সম্পর্কে জানা জরুরী তার মধ্যে স্কেচবোর্ড কিন্তু একটা!

আরও যা টুলস (সফটওয়্যার/ওয়েব) জানা জরুরী:
স্ল্যাক
ট্রেলো
সেলসফোর্স
স্যাপ
স্লাইড
ভিজুয়ালি

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,022 views. Thank You for caring my happiness.