চিন্তা শুরুর আগে পড়া-টরা বেশ জরুরী

গিয়েছিলাম ড্রিম ডিভাইজরদের সঙ্গে আড্ডা দিতে। ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী ভাইয়ের জোরাজুরিতে পাবলিক আড্ডায় যেতে বাধ্য ছিলাম। আমার অবশ্য উছিলা ছিল নতুন কি কি শেখা যায় সেই ধান্দায়। ২০২০ দশকে যারা কর্মবাজারে প্রবেশ করবেন, এমন ২০জনের মত তরুণ ছিলেন ড্রিম ডিভাইজরের কল্যানপুর অফিসে। আমার সঙ্গে ছিলেন জয়দিপ সুমন।

আমাদের আড্ডার মুল বিষয় ছিল, কিভাবে শেখা যায়। বই পড়ে এক দশক আগেও শিখতাম আমরা। বই থেকে এখন মুঠোফোনে চলে এসেছি আমরা, সামনে কি আসবে সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে। আড্ডা দিতে দিতে একটা ভাবনা মাথায় উঁকি দেয়। কিভাবে চিন্তা শুরু করবো আমরা। অনেক তথ্য আর ডেটা এক করে দেন ভাববো, নাকি ভেবে ভেবে ডেটা আর তথ্য যোগাড় করবো। ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে, নাজ থিওরী (গেলবার অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছিল এ থিওরীর স্রষ্টা) নিয়ে আগে চিন্তা করবো, নাকি সাধারণ মানুষের বাজারের কেনা কাটার কারণ অনুসন্ধান করতে করতে থিওরী দাঁড় করাবো? প্রশ্নের ভাঁজে ভাঁজে একটা প্রোপোজিশনে থেমে গেছি-যা চিন্তা করবো, তা নিয়ে সবার আগে গোটা ৫-৬ বেসিক বই পড়তে হবে। পড়ার পরে জানা যাবে চিন্তা কোন দিকে যাবে।


আড্ডা দিতে দিতে আরেকটা প্রশ্ন মনে উঁকি দেয়, আমরা কোন একটা ধাঁধার দিকে ছুটছি কি? ব্যাপারটা এমন, সামনে ভালো সময় আসবে-আর সে হিসেবে আমরা নিজেকে তৈরি করে যাচ্ছি? প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ বা ধর্ম প্রবর্তকের এ ধাঁধায় আমাদের তাদের অনুসারী করার ছক আটতেন। বা হোমারের প্রাচীন গ্রিসে গ্রীক বীররা শত শত যোদ্ধাদের সামনে ভালো কিছু আসবে, এমন ধাঁধায় যুদ্ধে আগ্রহী করে তুলতেন। সামনের অপেক্ষায় আমরা যে বর্তমানকে নষ্ট করে অতীতকে দুঃসহ করে তুলছি তা কি খেয়াল করেছি? এই যে আমি আমরা আমাদের বাবা-মাকে সময় দেই না। আমরা নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছি, আর মনে মনে ভাবছি-সামনে অনেক টাকা হলে আমি বাবা-মাকে অনেক সময় দিবো, সুখ কিনে দিবো। ঘড়ির অংকে আমরা হয়তো এক সময় সেই সময়ে পা রাখবো, কিন্তু বাবা-মার সঙ্গে কাটানো সময় তো আর বাড়বে না। বিষয়টা নিয়ে ভেবে কোন উপসংহারে আসার আগেই আড্ডা শেষ করতে হয়।

ড্রিম ডিভাইজর, একদল তরুণের স্বপ্ন ছোঁয়ার জায়গা। নিজেদের দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছেন চারপাশ বদলাতে। অনেক উদ্যম, কিন্তু সামগ্রিক একটা ভিশনের জন্য কতটা সামনে এগোবে তা নিয়ে আমরা প্রশ্ন আছে। আমাদের আমেরিকান ড্রিমের মত টুমোরো ড্রিভেন কোন ভিশন নাই, যে কারণে সামনে এগোনো বেশ কঠিন। ১৯৫০ পরবর্তী সময়ে এ দেশে স্বাধিকার আন্দোলন, নিজের দেশ দরকার বলে একটা ভিশন ছিল, যে কারণে ১৯৭১ সালে নতুন দেশ এসেছে। এরপরের সময়টায় কি কোন ভীষণ আসলেই দেখা গেছে?

ড্রিম ডিভাইজরের জন্য পরামর্শ:
১. টেকনিক্যাল স্কিলে সময় দিতে হবে।
২. ইংরেজি-ইংরেজি স্পিকার হতে হবে। ইংলিশ লার্নার হওয়ার দিন শেষ।
৩. সফল স্কিলে আরও মনোযোগ দিতে হবে।
৪. সোশাল টুলস ব্যবহার করা শিখতে হবে।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 594 views. Thank You for caring my happiness.

ম্যাকেঞ্জি ট্যুর থেকে যা শিখলাম

ঈদের ছুটিতে সবাই যায় কক্সবাজার কিংবা ব্যাংকক, বা ভারতে। আমি গিয়েছিলাম ভারতে, তবে আগ্রা বা কাশ্মীরে না-নয়াদিল্লীতে। কনসালটিং ফার্ম ম্যাকেঞ্জির ইন্ডিয়া অফিসে ট্যুর+ট্রেনিং+ওয়ার্কশপ=মাইন্ডক্র্যাপিং এক্সপেরিয়েন্স। এবছরের (২০১৮) জুলাই মাস থেকে আমি রিটারমেন্টে চলে আসছি বলে এখন সব এক্সপেরিয়েন্স ভাবি। সেই পাল্লাকে আরও ভারী করেছে এবারের ট্যুর।

আমাদের ট্রেনিং ছিল ৬ ঘণ্টার, ২ দিন ধরে। মোট ১৬জন ছিল, যার মধ্যে একমাত্র বিদেশের লোক হচ্ছি আমি। যেহেতু ইনহাউজ ট্রেনিং তাই তেমন কঠিন কিছু ছিল না। প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আর প্রবলেম সলভিং নিয়ে কাজ ছিল বেশি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই পোস্ট।

১. চাকা আবার আবিষ্কার করবো?

আমরা কোন সমস্যা সমাধান করতে গেলে নিজের থেকে সমাধানের চেষ্টা করে অনেক সময় নষ্ট করি প্রায়ই। ম্যাকেঞ্জি মাইন্ড নামের একটি বই আছে। সেখানে বলা আছে, সারা দুনিয়ার ম্যাকেঞ্জির যত কনসালটেন্ট আছে সবাই ইনহাউজ কিছু মডেল ব্যবহার করে। (যেমন বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের অনেক মডেল জনপ্রিয়) সমস্যা সমাধানের জন্য প্রথমেই সমাধান না খুঁজে সমস্যাকে বিশ্লেষণ করতে হবে, বিশ্লেষণ করলেই ডটগুলোর কোথায় সমস্যা তা জানা যাবে। যত তথ্য তত সমস্যাকে ঘায়েল করা সম্ভব। অ্যাপোলো ১৩ সিনেমা যারা দেখেছেন তারা জানেন কেন অ্যাপোলো ১৩ চাঁদে পা রাখে নাই। অ্যাপোলো ১১ চাঁদে নামার আগে ১০বার চেষ্টা করা হয়, ১০ বারে ১০ রকম এরর ছিল, সেই এররগুলো থেকে মিস্টেক কমাতেন প্রোগ্রামাররা, যত কম এরর তত সমস্যা সমাধানে সাফল্য।

২. মেন্টাল মডেলিং

দুনিয়ার যে কোনো কর্পোরেট সমস্যা সমাধানে কার্যকর ২০টার মতো মডেল আছে। এটা অনেকটা ক্রিকেট খেলার আউটের মত-১৩ উপায়ে আউট করা সম্ভব। আমরা যখন জানবো যে কোন সমস্যা সমাধানে ২০টা মডেল আছে তখন সমাধান বেশ কার্যকর মনে হবে।

৩. পড়তে হবে

আইআইটি কিংবা আইআইএম গ্র্যাজুয়েট হলেও ভারতের টেকনিক্যাল লোকজন অনেক পড়ে। সিরিজ বই বলে একটা বিষয় শিখলাম। এটা অনেকটা ১০১, ১০২, ১০৩…. টাইপের বই। আমরা হুজুগে প্রথমে যদি ১০৫ লেভেলের বই পড়ি তাহলে বেসিকে সমস্যা থাকবে।

৪. টুলস নির্ভর হওয়া যাবে না

প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টে আমরা বেশি টুলস নির্ভর হই, কিন্তু টুলসের লজিকগুলো শিখি না-যা আমাদের ক্যারিয়ারে ভবিষ্যতে বিপদ তৈরি করে। আমেরিকায় ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টরা ৪০ বছর হলেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক কিংবা কোম্পানিগুলোর বোর্ডে বসে যায়, কারণ কি? কারণ হচ্ছে তারা টুলসের প্রয়োগ যেমন জানে তেমন লজিকও জানে। খুব সহজে বলা যায়, আমরা বয়স চিনি ২০ কিংবা ৪০ হিসেবে, এটাকে সংখ্যা হিসেবে প্রথমেই শিখি না আমরা।

৫. টিম ডেভলপমেন্ট

পৃথিবীর বড় বড় কনসালটিং ফার্মগুলো একটা ডেস্কে কাজ করে না। কেউ ইজরায়েলে বসে ডেটা সংগ্রহ করে ভারতের অফিস থেকে ডেটা নিয়ে মডেল তৈরি করে। ভার্চুয়াল টিম তৈরি করে নিজেকে ঠান্ডা রাখতে হবে।

 

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 325 views. Thank You for caring my happiness.

দারুণ একটা ক্রোম এক্সটেনশন

প্রতিদিন সকালে অফিস কিংবা বাসায় যেখানেই কম্পিউটারে বসি প্রথমেই মজিলা/ক্রোমের অ্যাডড্রেস বারে www এর পরে ডট তারপরে facebook ডট com লিখার অভ্যাসটা ছাড়াই দায়। ফেসবুকের নীল দুনিয়াতে মাথা একবার গুজলে কোথা থেকে কয়েকঘণ্টা হাওয়া হয়ে যায় তা টের পাওয়া বা হিসেব রাখাই মুশকিল।

আমি মোবাইল থেকে ফেসবুক অ্যাপ আর মেসেঞ্জারখানা সরানোর পরেও ফেসবুকাসক্তি কমাতে পারি নাই।

ফেসবুক আসক্তি যখন চরমে তখন গত মাসে দ্য ভার্জে Todobook নামে একটা ক্রোম এক্সিনশনের খোঁজ পাই, প্রোডাক্টিভিটি এক্সটেনশন। সঙ্গে সঙ্গেই ক্রোমে যোগ করে ফেলি, আর এরপরে ফেসবুকেই থাকি-কিন্তু আগে কাজ তারপরে নীল দুনিয়াতে পা রাখার সুযোগ পাই।

টুডুবুক আসলে ফেসবুকের হোমে এসে বসে থাকে, যেখানে ৪/৫টা টু ডু লিস্টের কাজ শেষ না করে টিক না দিলে ফেসবুকে ঢোকা যায় না। নিজের সঙ্গে একটু সততা বজায় রেখে কাজ শেষ করেই ফেসবুকে আসা যায়।

দারুণ একটা ক্রোম এক্সটিনশন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,622 views. Thank You for caring my happiness.

দ্য আর্ট অব বিজনেজ মডেল

প্রথমেই বলা ভালো, আমি নিজে কোন সফল কেউ না বা সেই টাইপেরও কোন ব্যক্তি না। উদ্যোক্তা আর উদ্ভাবন নিয়ে কথা বলা পর্যন্তই দৌড় আমার, বাস্তবের দুনিয়াতে তেমন স্পর্শই নাই আমার। এই পোস্টটা গাই কাওয়াসাকিসহ আরও ২/৩জন স্টার্টআপ এনথুসিয়াস্টদের ভাবনা থেকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি।
ভালো ব্যবসা কাকে বলে? ১০ টাকার কোন কিছু ১ লাখ পিছ বিক্রি করে লাভবান হওয়া নাকি ১ লাখ টাকার কোন জিনিষ ১০ পিছ বিক্রি করে ব্যবসা করা, কোনটাকে ভালো ব্যবসা বলবেন? ভালো ব্যবসার মডেল আপনাকে দুটো প্রশ্নের সামনে দাড় করিয়ে দিবেই।

প্রথম প্রশ্ন, আপনার টাকা কার পকেটে আছে?
দ্বিতীয় প্রশ্ন, কিভাবে আপনি সেই টাকা আপনার পকেটে আনবেন?

টাকা আয় আসলে সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে কাস্টমারের পকেট থেকে টাকা বের করা তো এভারেস্টেই চড়া। কাস্টমার হিসেবে নিজেকে দেখুন, কোন কিছু কেনার আগে কত চয়েস, কত দোকানে ঘোরা, কত ঘোড়ায় চড়াচড়ি, শেষপর্যন্ত কিছু একটা কেনা। কাস্টমার হচ্ছে দুনিয়ার সবচেয়ে বুদ্ধিমান হোমো স্যাপিয়েন্স, তাদের কাছ থেকে টাকা সরানো-সহজ বাংলায় লুট- করা কিন্তু কঠিন!


প্রথম প্রশ্নটি আসলে কে আপনার কাস্টমার, কার কাছ থেকে টাকা নেবেন; আর দ্বিতীয় প্রশ্নটি কিভাবে টাকা আয় করবেন সেই মেকানিজম-বিক্রয় সম্পর্কিত।
নতুন স্টার্টআপ কিংবা উদ্যোগের শুরুতে বিজনেজ মডেল কি হবে তা না ভেবে মাঠে নামলে বিপদ+ভোগান্তিতে পড়বেনই। এছাড়াও কাস্টমার আপনার কাছে আসবে সেটা না ভেবে সেবা বা পণ্যকে কিভাবে কাস্টমারের কাছে নিয়ে যাওয়া যায় তা ভাবতে পারেন।
বিজনেজ মডেল দাড় করানোর ক্ষেত্রে গাই কাওয়াসাকির তিনটে পরামর্শ অনুসরণ করা যেতে পারে।

স্পেসিফিক নিশ টার্গেট সেট করুন

আপনি যত ক্ষুদ্রভাবে আপনার কাস্টমার শ্রেনিকে ভাগ করতে পারবেন ততই আপনার ব্যবসা মডেল পরিষ্কার ভাবতে পারবেন। ফেসবুক কিন্তু আইভি লিগের ৪/৫টা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে ছিল, শেষ পর্যন্ত তা কোথায় এসে ঠেকেছে তা তো সবাই জানেন।
আমার পণ্যের কোটি কোটি গ্রাহক হবে, এটা কখনই ভাববেন না। মার্কেটিং দুনিয়াতে ‘ওয়ান পার্সেন্ট অব চাইনিজ মার্কেট’ বলে কিছু কথা আছে। দুনিয়ার যে কোন পণ্য চীনের এক শতাংশ জনসংখ্যা ব্যবহার করলেই তার মিলিয়ন ডলার রেভিনিউ আসবেই কিন্তু। এত বড় বাজারে নামার সাহস খুব কম কোম্পানিরই আছে, সেক্ষেত্রে নিশ মার্কেট ধরে ধরে এগোনোই ভালো।

অন্যকে অনুসরণ করুন!

আধুনিক ব্যবসা দুনিয়ার বয়সও প্রায় ১০০ বছরের বেশি। অনেক রকম বিজনেজ মডেল নিয়ে দুনিয়ার নানান প্রান্তে নানান ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা কাজ করছেন। যে পণ্য নিয়ে ব্যবসা করতে চান তার মতই ব্যবসা কেউ না কেউ করছে বা প্রায় কিছুটা করে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে নতুন ব্যবসা মডেল তৈরিতে সময় বেশি নষ্ট না করে, প্রচলিত মডেলকে কিভাবে লোকালাইজেশন করা যায় সেদিকে নতুন করে ভাবতে পারেন। যেমন আপনি শরবত বিক্রি করার কিছু করতে চাইলে স্টারবাকসের মডেলকে আদর্শ ধরতে পারেন।

কোনটা খাবেন?

কেকের বড় টুকরো খাবেন, নাকি ছোট ছোট অনেকগুলো টুকরো খাবেন?

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,051 views. Thank You for caring my happiness.

20 ways to get a high income without having a college degree

I find this awesome from a discussion board of Babson College’s X course. User aashanqeeti share this post.

1- Learn Programming, Learn Web Development
2- Learn Design
3- Create a storage company
4- Expand your network on linked in
5- Search for services jobs
6- Invent something
7- Write a book
8- Create a blog
9- Work as a Digital Marketer


10- Create a youtube channel
11- Get some professional certificates
12- Create an online store
13- Create an Instagram business profile
14- Try to be famous by any mean so that you can get money by marketing
15- Create a traveling services company
16- Create a training company
17- Go for Stocks
18- Present a project idea to a big entrepreneur
19- Create movie content
20- Be a singer

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 596 views. Thank You for caring my happiness.

ইন্টার্ন হউন রক স্টারের মতন

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার শেষের দিকে নিয়মের খাতিরে আমাদের ইন্টার্নশিপ নামের কি-জানি-কি একটায় যুক্ত হতে হয়। প্রচলিত ইন্টার্নশিপ মানে হচ্ছে একটা ব্যাংকে যাও, কয়েকটা কাগজ ফটোকপি করো, সিনিয়রদের স্যার-স্যার কর আর মাস তিনেক পর থিসিস পেপারের মত কিছু একটাতে সাইন করে মুক্তি!
আমাদের দেশের ব্যাংকসহ বিভিন্ন বড় বড় যে সব প্রতিষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পায় সেখানে আসলে তেমন কর্ম পরিবেশ থাকে না। বেসরকারী ব্যাংকগুলোতে নিয়মের খাতিরে ইন্টার্ন নিলেও তেমন কাজের সুযোগও মেলে না।
ইন্টার্নশিপ মূল কথা হচ্ছে, কাজের ঘ্রাণ নেয়া। ইন্টার্ন হয়ে কাজ শেখার সবচেয়ে দারুণ বুদ্ধি হচ্ছে ইয়াং সিইও বেইজড কোন স্টার্টআপ কোফাউন্ডারের কোন কাজে যুক্ত হওয়া। আপনি ব্যাংকে কিংবা প্রতিষ্ঠিত কোথাও যুক্ত হলে সেখানে একটা টেমপ্লেটেড কাজে যুক্ত হয়ে যাবেন আপনি, কিন্তু ছোট অফিস-স্ট্র্যাগল করছে এমন কোন প্রতিষ্ঠান বা স্টার্টআপে কাজের সুযোগ মেলে অনেক। আবার বড় কোন টেলকোতেও কাজের সুযোগ পেলে লুফে নিন।
ইন্টার্ন হিসেবে কোথাও কাজের সুযোগ পেলে সেখানে আপনার ‘মার্ক’ রেখে আসার চেষ্টা করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে এই কাজটি সবচেয়ে অমনোযোগ দিয়ে করি আমরা। দেরি করে অফিসে যাওয়া, কাজে বিরক্তিবোধ প্রকাশ করা, নিয়মের তোয়াক্কা না করা প্রায়শই ইন্টার্ন হিসেবে আমরা নিজের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে ফেলি।

“Oh, I’m just an intern, so this experience doesn’t really matter.”

আমাদের বেশির ভাগই ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দিয়ে এই ভাবনাই ভাবি, যা কিনা সম্পূর্ণ ভুল। আপনার জীবন বৃত্তান্ত ভারী করতে ইন্টার্ন হিসেবে যতটা সম্ভব অনেক বেশি কাজ শিখুন। ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করার সময় ভুল করলে, কেউ বকবে না কিন্তু! পরে পেশাজীবনে কাজে ভুল হলে কিন্তু কেউ ছাড় দিবে না আপনাকে।

“What are we going to do without you?”

ইন্টার্নশিপের শেষ দিনে যেন বস আপনাকে বলে “What are we going to do without you?” আমি নিজে যখন ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সচেঞ্জ স্টুডেন্ট হিসেবে টলসা শহরের মেন্টাল হেলথ অ্যাসোসিয়েশন ও ফ্যামিলি অ্যান্ড চিলড্রেন সার্ভিসেসের সঙ্গে প্লেসমেন্ট ইন্টার্ন/স্টাফ হিসেবে কয়েক সপ্তাহ ছিলাম, তখন শেষ দিনে আমার দুই মেন্টরের কাছ থেকে আমি “What are we going to do without you?” লাইনটা আদায় করে নিয়ে ছিলাম। দুজনের সঙ্গে এখনও আমার ইমেইল প্রায় প্রতিদিনই তো কথা হয়, সপ্তাহে ৪/৫বার স্কাইপ মিটিংও হয়।

ভালো ইন্টার্ন হওয়ার যত বুদ্ধি

পোষাক পরুন অফিসের মত: আপনার ইন্টার্নশিপ যেখানে সেখানকার পরিবেশ অনুসারে পোষাক পরুন। অফিস কালচালারের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন। আপনার যদি টাকা না থাকে তাহলে বন্ধুর কাছ থেকে পোষাক ধার করুন! এই বুদ্ধি আমার না, গাই কাওয়াসাকি নামের এক ভদ্রলোক আছে তার বুদ্ধি এটা। আমার মত কোন রঙের কাপড় পরবেন তা নিয়ে কনফিউশন থাকলে সব সময় কালো রঙের উপরেই থাকা ভালো। কালোতে ভুল নাকি কম হয়? ২০০৯ সালে আমি প্যান-প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলে একটা চার দিনের সার্ভের কাজ করেছিলাম ইন্টার্ন হিসেবে। সেখানে কালো শার্ট-প্যান্ট আর জুতো দিয়ে কোন মতে পার পেয়ে গিয়েছিলাম।

রক স্টার হউন

কনসার্টে সবাই রক স্টারের গান শুনতে যায়, তার পারফরম্যান্স দেখতে চায়। ইন্টার্ন হিসেবে সেই ক্যারিশমা আয়ত্বে আনার চেষ্টা করুন না! অফিস ম্যানার, এটিকেট তো মানুষ জন্মের সময় নিয়ে আসে না, শিখে-শিখুন।

বসকে চিনেন তো?

আপনার যে ইন্টার্ন মনিটর তাকে ভালো করে চিনে নিন! তার নাম গুগল করেন, ফেসবুকে দেখেন। সে কোন কলেজ-কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তা জেনে নিন।

সময়ের আগে চলুন

ইন্টার্ন হিসেবে ৫-১০ মিনিট লেইট আমাদের অভ্যাসে পরিনত হয়ে যায়। আমার নিজেরও সময় নিয়ে হাজারও সমস্যা আছে, কিন্তু চেষ্টা করুন সময়ের আগে চলতে। দেরি হয়ে গেলে আসলে কোন ‘এক্সকিউজ’ই তখন কাজে আসে না। দেরি করলেই আপনি ডেড, লেট করেছেন তো ডেড-এটা ভাবুন।

নিজে থেকেই শুরু করুন

সব ইন্টার্নের কপালে যে ভালো ম্যানেজার পরে তা কিন্তু সত্য নয়। আপনি সেল্ফ-স্টার্টার হলে কোন বিপদে পড়ার সম্ভবনা নেই। ইন্টার্ন হিসেবে আপনার হয়তো জব ডেস্ক্রিপশন নির্দিষ্ট, কিন্তু তার বাইরে অনেক সময় পাবেন কিছু করতে। খালি সময়টা বসে না থাকে কিছু করুন, নতুবা বসের প্রিয় কোন বই পড়া শুরু করুন। ডেলিভারিং হ্যাপিনেস বইটা কি পড়ছেন?

সোশ্যাল মিডিয়াতে সাবধান

ইন্টার্ন হিসেবে এমন কোন ছবি কিংবা মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করবেন না যা কিনা আপনার অফিস বা আপনার বসের ক্ষতি করে। Don’t post about your internship! What happens in the office stays in the office.

সরাসরি কথা বলুন

অফিসে বিরক্তি আসলে বসকে সরাসরি জানানোর চেষ্টা করুন। নতুন কাজ চেয়ে নিন কিংবা স্কোপ দেখে শুরু করে দিন। Robert De Niro আর Anne Hathaway-এর দ্য ইন্টার্ন মুভিটা দেখেছেন? ডি নিরোর যখন অফিসে কাজ ছিল না সে নিজেই নিজের কাজ খুঁজে নিত, এতেই সে অফিসে সবার মন জয় করেছিল।

Yes, yes, yes and also yes!

“আপনি কাজটা করতে পারবেন?”-এমন প্রশ্নের উত্তর “Yes!!” বলা ছাড়া আর কোন উত্তরই শিখবেন না। এমন কি বডি ল্যাঙ্গুয়েজেও ‘না’বোধ প্রকাশ না পায়।

ইতিবাচক মানুষ হউন

‘আমার এটা চাই-ই চাই’, ‘অ্যাই পিয়ন, কফি দাও’-এসব বাক্য পরিহার করে চলুন। ইতিবাচক কথা বলা শিখুন।

 

পড়ুন: রকস্টার ইন্টার্ন হওয়ার জন্য গাই কাওয়াসাকির পরামর্শ তার ব্লগে পড়ুন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,829 views. Thank You for caring my happiness.

দিয়ার গল্প

সাবহানাজ রশীদ দিয়া, নাম একটা-পরিচয় কয়েকটা। আমি চিনি তাকে ২০০৮ সাল থেকে। সে আমাকে চেনেন ২০১০ সাল থেকে। এটিএন নিউজের টেক নিউজ অনুষ্ঠানে খান অ্যাকাডেমির ভিডিও বাংলা করা নিয়ে তার ইন্টারভিউ করেছিলাম ২০১০ সালে, সেই সুবাদে পরিচয়। এরপরে দিয়া যখন ঢাকায় ছিলেন তখন এমন কোন কাজ ছিল না, যেখানে উনাকে জ্বালাই নাই। আগামী দিনের লিডার, পলিসি মেকার-জ্বালানোর হাজারো কারন আছে।

দিয়ার সেই ইন্টারভিউ! এরপরে আরেকবার ইন্টারভিউ করছিলাম দিয়াদের বাসার ছাদে, সেই ইন্টারভিউ অবশ্য অনএয়ার হয় নাই।
সর্বশেষ দেশ ছাড়ার আগে কোন এক ঈদে দিয়ার ১৫ মিনিট টিভি ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম রবীন্দ্র সরোবরে। সেই শ্যাষ দেখা!

aashaawithdiya
গতবছর দিয়ার সঙ্গে আমি। ছবি: আকিব।

গেল ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দিয়া পাবলিক উইন্ডো নামে দারুণ এক কাজ করেছিল। আমাকে দিয়া সেই কাজে বাংলা অনুবাদে নিয়েছিল। দিয়ার অনেক বাংলা লেখার প্রুফ রিড ছিলাম আমি!

শুভ জন্মদিন দিয়ামিয়া।

পড়ুন: দিয়ার ব্লগ

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,289 views. Thank You for caring my happiness.