দ্য আর্ট অব সিম্পল কোয়েশ্চেন্স

ব্যবসা দুনিয়াতে বেশ আলোচিত একটা গুজবের কথা জানাতে চাই আপনাকে। “বড় লক্ষ্য” কিংবা “দারুণ আইডিয়া” নিয়েই বড় বড় সফল কোম্পানিগুলোর যাত্রা শুরু হয়। আবার তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়েও এমন মিথের গল্প শোনা যায়। “অমুক কিন্তু দারুণ আইডিয়া নিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে”-এমন কথা হরহামেশাই শুনি আমরা। মূলত, পত্রিকা কিংবা টিভি রিপোর্টে উদ্যোক্তা বা স্টার্টআপদের নিয়ে এমন ভাবে রিপোর্ট করা হয় যেন-‘দারুণ আইডিয়া নিয়ে কাজের জন্যই তরুণরা সফল’। বিষয়টা আসলে ভুল-মিথ। দারুণ আইডিয়াগুলোর পেছনে আসলে একটাই কারন খুঁজে পাওয়া যায়, সরল প্রশ্ন। দ্য আর্ট অব সিম্পল কোয়েশ্চেন্স গাই কাওয়াসাকির লেখা একটা ব্লগপোস্ট। সেটাকেই বাংলাদেশ উপযোগি করে তোলার জন্য এই পোস্ট।
স্টার্টআপ বাবল বলে যে টার্মটা আছে সেখানে যত সফল কিংবা কাজে সাফল্য পেয়েছেন এমন কোম্পানি তখনই সফল বলে বিবেচিত হয় যখন তাদের আইডিয়া অর্থ আয় শুরু করে। দারুণ আইডিয়া জেনারেশনের খুব সহজ একটা উপায় হচ্ছে, সরল প্রশ্ন করা!

তো, কি?

‘সবার কাছে স্মার্টফোন আছে, যেখানে ক্যামেরা আর ইন্টারনেট অ্যাকসেস আছে।’, “তো, কি?”, ‘তারা ছবি তুলে, ছবি শেয়ার করতে পারবে।’, “তো, কি?”, ‘আমরা এমন একটা অ্যাপ তৈরি করতে পারি যা কিনা ছবি শেয়ার করার জন্য ব্যবহার করা যাবে, লোকজনকে সেই ছবি রেটিং করার সুযোগ দেবে, কমেন্টস করা যাবে।’, “তো, কি?”, ‘ভায়োলা, দেয়ার্স ইনস্টাগ্রাম’! (গাই কাওয়াসাকি তার লেখায় অ্যাড্রিয়ান স্লাইওৎস্কির দ্য আর্ট অব প্রফিটাবিলিটি’র এই উদাহরণটি ব্যবহার করেছেন।)

এটা কি ইন্টারেস্টিং না?

উদ্যোক্তাদের ইন্টেলেকচুয়াল কিউরিওসিটি আর অ্যাকসিডেন্টাল ডিসকোভারি ইন্টেনশন এই ছোট প্রশ্নকে বড় কোন আইডিয়া পেতে সহায়তা করে। রে ক্রক নামের এক সাধারন সেলসম্যান তো ফাস্টফুডের ইতিহাসই বদলে দিয়েছিলেন! মাল্টি মিক্সার বিক্রি করতে রে। একবার এক রেস্টুরেন্ট থেকে আটটা মিক্সার অর্ডার করে, রে কৌতুহল বসে সেই রেস্টুরেন্ট ঘুরতে যান। এরপরে সেই রেস্টুরেন্ট ব্যবসার প্রতি এটাই আগ্রহী হয়ে উঠেন তিনি যে সেলসম্যানের চাকরি ছেড়ে দিয়ে সেই রেস্টুরেন্টে যোগ দেন। সেই রেস্টুরেন্ট এখন ম্যাকডোনাল্ডস! রে’র বয়স যখন ৫০,তখন সে ১৯৫৪ সালে এই কাজ শুরু করে। ১৯৭১ সালে রে ম্যাকডোনাল্ডসের সিইও হিসেবে অবসর নেন।

এটাই কি সবচেয়ে ভালো পথ?

বর্তমান অবস্থা নিয়ে যারা হতাশ থাকেন, তারা এই প্রশ্নের মাধ্যমে কোন একটা সরল পথ খুঁজে বের করতে পারে। ফার্দিন্যান্ড পোর্শ্যে একবার বলেছিলেন, ‘শুরুর দিকে আমি যখন চারপাশে দেখছিলাম, কোথাও আমার স্বপ্নের অটোমোবাইল খুঁজে পাচ্ছিলাম না; তখনই আমি নিজে থেকেই কাজ শুরু করে দেই।’ স্টিভ ওজনিয়াক অ্যাপল ওয়ান বানানোর সময় বিশ্বাস করতেন কম্পিউটার আরও ভালোভাবে সাধারন মানুষের কাছে পৌছানো সম্ভব।

আমরা কেন এটা করছি না?

স্টারবাক্সের শুরুটা ছিল এই সরল প্রশ্ন দিয়ে। হাওয়ার্ড শুলৎজ স্টারবাক্স নিয়ে বড় ব্যবসার পরিকল্পনা করার সময় ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে তেমন সাড়া পান নি। সময় নিয়ে নিজেই স্টারবাক্স কোম্পানি কিনে নিজের মত করে স্টারবাক্স চেইন শুরু করেন তিনি।
এটা তো সম্ভব, আমরা তাহলে কেন এটা করছি না?
গত শতাব্দীতে সত্তরের দশকে মটোরোলা পোর্টেবল ফোন উদ্ভাবন করে। তখন আসলে এই ধারণাই বাস্তব ছিল না যে ফোনের মাধ্যমে মানুষকে সংযুক্ত করা সম্ভব। এরপরের ইতিহাস তো সবাই জানে, মার্টিন কুপার আর তার প্রকৌশলীরা মুঠোফোন দিয়ে যোগাযোগের ইতিহাসে নতুন চ্যাপ্টার যুক্ত করে ফেলেন। “if we build it, they will come”-এই তত্বকে বিশ্বাস না করাই ভালো।

বড় মাছটা আসলে কোথায় দুর্বল?

বাজারে যে বড় মাছ ব্যবসা করে যাচ্ছে সে আসলে দুর্বল কোথায় তা নিয়ে সরল প্রশ্ন করলে অনেক সময় বড় আইডিয়ার ঘ্রাণ পাওয়া যায়। সাধারনত তিন অবস্থায় মার্কেটের বড় মাছটা দুর্বল ভাবা হয়। বড় মাছটা যদি শুধু একটা পথেই ব্যবসা করে তাহলে সে কোথাও দুর্বল এটা ভাবতে পারেন। আইবিএম রিসেলারদের মাধ্যমে কম্পিউটার বিক্রয় করতো, ডেল তখন নিজেই ডিরেক্ট সেলিং শুরু করে। বড় মাছের গ্রাহকরা যদি অসন্তুষ্ট থাকে তাহলে সেখানে নতুন ব্যবসা আসবেই। ব্লকবাস্টার স্টোরের ডিভিডি আনা-নেওয়ার ঝামেলা এড়ানোর জন্যই নেটফ্লিক্সের জন্ম। আবার বড় মাছটা যদি নতুন পন্য উদ্ভাবন না করে একটা উপায়েই চলতে থাকে। মাইক্রোসফটের অফিসকে অনেকেই গুগল ডক্সের বিকল্প ভাবে কিন্তু!
‘আমরা কিভাবে অনেক টাকার মালিক হবো?’, ‘কত টাকা আসবে?’-এধরণের প্রশ্নকে আসলে ব্যবসা করার সময় ভালো প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক না। বড় বড় কোম্পানি কিন্তু আসলে কোন একটা সরল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পৃথিবীতে পরিবর্তন আনে। শুধু বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন আসলে ব্যবসায় সাফল্য আনে না।

আরও পড়ুন: ইন্টার্ন হউক রক স্টারের মতন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 2,034 views. Thank You for caring my happiness.

গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং-যে বই কিনলে ঠকবেন!

প্রশ্ন: মানুষ কেন বই পড়ে?
স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উত্তর দেবেন, পরীক্ষায় পাশের জন্য। মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার উত্তর দেবেন, মেধাবিকাশের জন্য। হুমায়ুন আহমেদ বেঁচে থাকলে উত্তর দিতেন, লেখকরা কি ছাতা লেখেন তা জানার জন্য।
বই আসলে দুই কারণে পড়া হয়, কোরাতে এক উত্তর থেকে যা জেনেছি। প্রথম কারণটি হচ্ছে সাহিত্যিক মূল্যবোধ কিংবা আগ্রহ নিবারণের জন্য। আর দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে স্কিল ডেভলপমেন্টের জন্য। যেমন হ্যারিপটারের একটি বই যখন আমেরিকান কিংবা ব্রিটিশ কেউ পড়ে সে হচ্ছে বইটির সাহিত্যিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে। এই মূল্যবোধের সঙ্গে গল্প, কাহিনী আর সৃজনশীলতার সম্পর্ক আছে। আর অন্য দিকে সেই হ্যারিপটারের বই যখন বাংলাদেশি কোন কিশোর পড়ে সে সাহিত্য+স্কিল দুটো কারণেই পড়ে। ইংরেজি বইটি পড়লে নিজের ইংরেজি দক্ষতা বিকাশের দারুণ সুযোগ তৈরি হবে অবচেতন মনেই। একারণে ইংরেজি বই কিংবা ভিন্নভাষার বই পড়াকে স্কিল বিকাশের একটা ধাপ হিসেবে অনেক স্মার্ট লোকেরা মনে করেন। আমিও ইদানিং লোকজনকে ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদের বই সরাসরি পড়তে নিরুৎসাহিত করি। একই সঙ্গে যদি সাহিত্যের মজা+স্কিল বিকাশের সুযোগ থাকে তাহলে সরাসরি ইংরেজি বই পড়তেই হবে। দ্য অ্যালকেমিস্টের বাংলা বই আর ইংরেজি বই দুটো দুই দুনিয়ার স্টাইলে ছাপা হয়েছে এটা বলার অবকাশ রাখে না।

ছবিসূত্র: রংপাতা


গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং বইটির সত্যিকার অর্থে কোন সাহিত্যিক ভ্যালু নেই, শুধু মুনির হাসানের কথা বলার স্টাইলের লেখনি পাওয়া যাবে। কিন্তু বইটি স্কিল ডেভলপমেন্টের সোর্স হিসেবে বেশ কার্যকর একটি বই বলা যায়। মার্কেটিং বিষয়ে দুনিয়ার অনেক রেফারেন্স আছে বইটিতে। গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং নিয়ে গেল ২/৩ বছর বেশ মাতামাতি আছে প্রযুক্তির দুনিয়াতে। বাংলাদেশি হিসেবে আমরা সে সবের খোঁজ রাখিই না বলা যায়, বইটি সে সব অনেকগুলো গল্পের এক সংকলন।

আরও পড়ুন: মুনির হাসান ২০১৮ সালে যে বই পড়তে বলেন

বইটির সাফল্য:
১. এখন তো আমরা ১০ সেকেন্ডের মধ্যে অনেক তথ্যই ভুলে যাই। বইটি পড়লে অনেক কেইস বেশ কিছুদিন মনে থাকবে।
২. বাংলাদেশে অনেক স্টার্টআপ নিজেদের মার্কেটিংয়ের জন্য বইটি পড়লে মুনির হাসানকে পরামর্শক বা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিলে যা উপকার পাবেন তা জানতে পারবেন।


বইটির দুর্বলতা:
১. অনেকগুলো কেইস স্টাডি পাওয়া যাবে, যা আসলে সেকেন্ড টাইম অনুসরণ করলে কি হবে তা বলা মুশকিল।
২. বইটি শেষ করলে কি কি জানি বাদ পড়লো বলে পাঠকের মনে অনেক প্রশ্ন আসবে।
৩. মুনির হাসানের পোস্ট যারা ফেসবুকে অনুসরণ করেন তাদের জন্য বইটি রিভিশন হবে!
অতএব, বই কিনলে ঠকবেন!

(এই পোস্টটি লেখার একটাই কারণ! মুনির হাসান তার বইয়ের রিভিউ দিয়ে কিছু লিখলেই শেয়ার দেন! সেই শেয়ারে তার লাখখানেক ফলোয়ার ওয়েবসাইটে আসে। আমার সাইটে গেল কয়েকদিন লোকজন নাই বললেই যে চলে, আকাল। আকাল কাটানোর জন্য পোস্টটা লেখা। আমি শুধু শিরোনামে গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং লিখলেই মুনির হাসান পোস্টটি শেয়ার করবেন, তারপরেও যারা কষ্ট করে আসবেন তাদের জন্য বইটি সম্পর্কে ২/৩ লাইন লিখলাম!)

আরও পড়ুন: ইংরেজি থেকে অনুবাদ বই পড়া বোকামি, সময় নষ্ট

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 402 views. Thank You for caring my happiness.

LPG গ্যাস সিলিন্ডারের ব্র্যান্ডিং নিয়ে আমি যা করতাম

আমাদের দেশের খুব স্বাভাবিক একটা ট্রেন্ড হচ্ছে কোন একটি পণ্য বাজারে আসলেই সেটার কপিক্যাট পণ্যে বাজার ছয়লাব হয়ে যায়। সেটা জিরা পানি থেকে শুরু করে রাইড শেয়ারিং অ্যাপসগুলোর দিকে তাকালে সহজেই বোঝা যায়। এই পোস্টের মাধ্যমে আমাদের দেশের LPG গ্যাস সিলিন্ডারের ব্র্যান্ডিং কমিউনিকেশন নিয়ে কিছু শব্দ প্রকাশ করতে চাই।
(যেহেতু বিজ্ঞাপন, ডকুমেন্টারি আর আইএমসি নিয়ে ঘাটাঘাটির আগ্রহ আছে আমার সেই প্রেক্ষিতেই নানান সময়ে নানান বিষয়ে কাল্পনিক ব্র্যান্ডিং নিয়েই লেখালেখি আমার। বিষয়টা সিরিয়াস না, আবার অনেকক্ষেত্রেই হাস্যকর মনে হয়-কিন্তু দুনিয়ার সব বড় বড় ব্র্যান্ডিং সাফল্যের শুরু নাকি ছোট কিন্তু সাধারণ আইডিয়া থেকে বলে এসব লেখালেখি আমার।)

আরও পড়ুন: বেলিসিমোর ব্র্যান্ডিং নিয়ে আমি যা করতাম

কেন এই পোস্ট?
টেলিভিশনের একটি অ্যাড দিয়ে এই পোস্টের কেন লিখছি তা প্রকাশ করতে চাই। একটি গ্যাস সিলিন্ডার কোম্পানির টিভি অ্যাডের মডেল ২০ বছর বয়সী বধু মেহজাবিন। মেহজাবিন অবশ্যই মডেল হিসেবে জনপ্রিয় কিংবা আলোচিত, তাকে সেই অ্যাডে গৃহিনী হিসেবে প্রকাশের কোন গাণিতিক যুক্তি কেউ বোঝাতে পারবে না। বিষয়টা এমন যে, তৌকির আহমেদ সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্টিলমিল আর রড নির্মাণ সামগ্রীর মডেল হয়েছেন। টাইগার উডসের কেলেঙ্কারির পরে নাইকি সরে এসেছিল নিজের ব্র্যান্ড ইমেজ হারানোর ভয়ে। সেই প্রেক্ষিতে বিষয়টি ভাবা যায় না?
ব্র্যান্ডিং নিয়ে আমি যা করতাম
আমি যেহেতু ফ্রিল্যান্সার লেখক সেহেতু আমি লিখতে বসলে কিংবা পরিকল্পনা দিলে আমার গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে নাসা কিংবা স্পেস এক্সের রকেট চালানোর বুদ্ধি দিতেই পারি। তারপরেও ঢাবি আইবিএর আইএমসি/ব্র্যান্ডের স্যার মুশতাক স্যারের সঙ্গে গল্প করতে করতে কিছু বাস্তব প্ল্যান বের করেছিলাম।
হেলথ ক্লাব: শহরের মধ্যবিত্ত সমাজে ধীরে ধীরে গ্যাস সিলিন্ডার প্রবেশ করছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলো স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার চেষ্টা করে। এলাকা এলাকায় পার্ক ধরে গ্যাস সিলিন্ডারকে সুস্বাস্থ্যরে সহযোগি ইমেইজে ফেলে হেলথ ক্লাব পরিচালনা করতাম। কমিউনিটি পাওয়ার বিষয়টা বাংলাদেশে তেমন প্র্যাকটিস হয় না, কিন্তু একটা কমিউনিটি প্রতিষ্ঠা করতে পারলে গ্যাস সিলিন্ডার ব্র্যান্ডের ইতিবাচক অবস্থান তৈরি হবে।
বাগান: গ্যাস সিলিন্ডারগুলোর দেখতে ড্রাম সাইজের বলে ঢাকাশহরের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাসমান বাগান করা যায়। যেখানে সিলিন্ডারেই থাকবে গাস। ব্যবহৃত পুরোনো সিলিন্ডারের সবুজ ব্যবহার নিশ্চিত অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
রোড ডিভাইডার: ঢাকার রোড ডিভাইডার হিসেবে বিএসআরএম সিমেন্টের ছোট ছোট বার ব্যবহার করে। গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার বিকল্প ভাবনা হতে পারে।
ভ্রাম্যমান ফিলার: এরই মধ্যে আমেরিকায় গাড়িতে গ্যাস দেয়ার জন্য বড় বড় ট্যাংক অনেক শহরে ভ্রাম্যমান হয়ে ঘুরছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ফিলারের জন্য ভ্রাম্যমান ছোট ছোট ট্রাক পরিবহন সেবা চালু করা যেতে পারে।
এলিট ক্লাব: ঢাকা শহরের বাড়িওয়ালারা যারা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে তাদের নিয়ে এলিট ক্লাব একটি বিকল্প ভাবনা হতে পারে। ঢাকা শহরে বসবাস করা ৬৮ শতাংশ মানুষ ভাড়া বাসায় থাকে। এই শতাংশ হিসেবে বাজারটা অনেক বড় না?
কনটেন্ট মার্কেটিং: রুপচাঁদা রান্নার অনুষ্ঠানের জন্য রিয়েলিটি শো করে একটা জায়গায় আসতে দারুণ সাফল্য পেয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার তো রান্নাঘরেরই বিষয়। সেই হিসেবে গ্যাস সিলিন্ডার ব্র্যান্ড যে কোন রান্নার শোতে যেতেই পারে।
পানি মার্কেটিং:অন্য ব্র্যান্ডের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে নিজের গ্যাস সিলিন্ডার গ্রাহক আনতে কোন একটা পানির ফিল্টার কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা যায়। পানির ফিল্টার আর রান্নার গ্যাসে মধ্যবিত্ত লোকজন বেশ অর্থ খরচ করে ইদানিং।
ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা: একার মডেল
ডেভিড একারের কথা ছিল, “A company’s brand is the primary source of its competitive advantage and a valuable strategic asset.” দিন শেষে আপনার গ্যাস সিলিন্ডারের কোয়ালিটিই আপনার কোম্পানির Quality, Trust & Expertise প্রতিষ্ঠা করবে। গ্যাস সিলিন্ডারের কোর ভ্যালু trustworthiness না থাকলে ব্যবহারকারী ধরে রাখা যাবে না। এরসঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডারকে পরিবেশবান্ধব বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 45 views. Thank You for caring my happiness.

ইংরেজি থেকে অনুবাদ বই পড়া বোকামি, সময় নষ্ট

টাইটানিক সিনেমার বাংলা ভাষান্তর দেখবেন নাকি মূল ইংরেজি সংস্করণ দেখে সিনেমা দেখার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় নিজের দক্ষতা বাড়াবেন। এক ঢিলে দুই পাখির মারার মতই মূল সংস্করণের ইংরেজি বই পড়ুন, জ্ঞান অর্জনও হবে দক্ষতা অর্জনও হবে। এই পোস্টটি বাংলা অনুবাদ সাহিত্যের প্রতি নেতিবাচক ভাবনা থেকে লেখা নয়, বরঞ্চ ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ বই পড়ার মাধ্যমে সময় নস্ট না করার একটা পোস্ট ভাবতে পারেন।

“প্রশ্ন: আমরা কেন বই পড়ি?”

এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকজনের কাছ থেকে অনেক রঙের উত্তর পাওয়া যাবে। কেউ বলবে জানার জন্য, কেউ বলবে জ্ঞান বিকাশের জন্য, কেউ বলবে সময় কাটানোর জন্য। আরেকটু স্পেসিফিকলি বললে, বিনোদন, জ্ঞান অর্জন আর দক্ষতা অর্জনের জন্যই আমরা বই পড়ি। জ্ঞান অর্জন আর দক্ষতা অর্জনের জন্য যদি বই পড়া অন্যতম কারণ হয় তাহলে ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদের যে কোন বই পড়াই বোকামি। নিছকই বোকামি বলতে চাই।
সাবেক ভারতীয় কূটনৈতিক শশী থারুর সম্প্রতি মিরর নাও’র সাংবাদিক ফায়ে ডি’সুজাকে এক্সটিনসিভ ভোকাবুলারি ব্যবহারের কারণ জিজ্ঞেস করেছিলেন। শশী থারুরের ইংরেজি শব্দ ব্যবহার রীতিমতো ভারতীয় তরুণদের কাছে সারকাজম। শশী থারুর মিরর নাওকে জানিয়েছেন, “ছোটবেলায় এমন এক পরিবেশে আমি বড় হয়েছি, যেখানে ছিল না ল্যাপটপ, যেখানে ছিল না ইলেকট্রিসিটি। প্রচুর বই পড়ার কারণে আমার শব্দ ভান্ডার বড় হয়। আমি শব্দ শেখার জন্য কোন অভিধান কোনদিন পড়ে দেখে নি।”

শশী প্রচুর ইংরেজি বই পড়তেন বলে তার শব্দ ভান্ডার এত দারুণ মনে হয় আমাদের। এক দশক আগেও ইংরেজি বই কিনে পড়ার চল ছিল না আমাদের। এখন অনেক ইংরেজি বই নিলক্ষেতের কল্যানে আমরা কম দামে পাই। বই পড়ার কারণ যদি দক্ষতা বিকাশই হয় তাহলে ইংরেজি বই অনুবাদ না পড়াই ভালো!

বই মেলা আর রকমারিতে আপনারা টাইম ম্যানেজমেন্ট, ইট দ্যাট ফ্রগ, থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচসহ হ্যারিপটার, শালর্কের বই অনুবাদ পাবেন। কম দামে দারুণ বই, কিন্তু অনুবাদের মান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যাচ্ছে তাই। আমি ছোট বেলা ডেল কার্নেগির বইয়ের বাংলা অনুবাদ পড়েছিলাম, আবার ২০১৫ সালে ইংরেজি বই পড়েছি। পড়ার পরে টের পেয়েছি বাংলা কোথায়, আর ইংরেজি কোথায়! জাতি হিসেবে এমনিতেই আমাদের ইংরেজির অবস্থা নড়বড়ে। বর্তমান কর্পোরেট দুনিয়া আর ইংরেজির প্রভাবের কারণে ইংরেজিতে ভালো করা মানে যে নিজের কমিউনিকেশন দক্ষতা বেশ ভালো এটা না বললেও চলে। সে ক্ষেত্রে ইংরেজি অনুবাদ না পড়ে মূল বই পড়ে যদি ইংরেজি দক্ষতা বাড়ে তা খারাপ না তো!

ধরেই নিলাম,আপনি হয়তো বেশি ইংরেজি বোঝেন না, সেক্ষেত্রে পড়া শুরু করুন। এক পৃষ্টা হয় তো বুঝবেন না, ৪/৫ পৃষ্টা পড়ার পরে এক-লাইন অন্তত বুঝতে পারবেন। আরও পড়লে আরও বুঝতে পারবেন। যখন ২০১৫ সালে ডেলিভারিং হ্যাপিনেস বইটা পড়া শুরু করি, তখন শুরুর দিকে অনেক শব্দের অর্থ বুঝি নাই। দিন কয়েক পড়েই শব্দ হয়তো বুঝি নাই, কিন্তু যে লাইন পড়ছি তা বুঝতে পারছি। এভাবে ইংরেজিতে বেশ ভালো করা যায়।

একটি ইংরেজি বইয়ের বাংলা অনুবাদ পড়তে ১ মাস লাগে, প্রতিদিন ১ ঘণ্টা পড়লে মোট সময় লাগবে ৩০ ঘন্টা। অনুবাদ পড়ার পরে আপনি ৩০ ঘণ্টায় শুধু বইটি পড়েই সাহিত্যিক দিকই অর্জন করতে পারবেন। এখন এক ঢিলে বই পড়ার মত ইংরেজি বই পড়লে ৩০ ঘণ্টায় শুধু বই-ই পড়া নয়, সঙ্গে ইংরেজি ভাষাতেও দক্ষতা বাড়বেই। সময় এমনিতেই আমাদের কম, সেই প্রেক্ষিতে কম সময় বই পড়া+ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ার সুযোগ মিললে ছাড়বেন কেন?

আমার ভাগ্নে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে হ্যারিপটার বই পড়তো, আমি অনুবাদ পড়তাম। বাংলা অনুবাদে আমার বাংলা দক্ষতা তো তেমন বাড়ে নাই, কিন্তু যখন ইংরেজি বই পড়া শুরু করি তখন টুকটাক কিন্তু ইংরেজি বোঝা শুরু করি। এখন farrago অর্থ না বুঝলেও কোন লাইনে ব্যবহার হতে দেখলে তা বুঝতে পারি।

অনুবাদ সাহিত্য অবশ্যই পড়া ভালো। প্রগতি প্রকাশনের রুশ বইয়ের বাংলা আমরা এক সময় পড়েছি। স্প্যানিশ কিংবা ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের ভাষার অনুবাদ বই অবশ্য পড়বেন, কিন্তু ইংরেজি বইয়ের অনুবাদ পড়ে নিজেকে ধীরস্থির প্রমাণের কোন মানে নাই।

আরও পড়ুন: একটু বেশিই যেভাবে বেশি বই পড়বেন

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 717 views. Thank You for caring my happiness.

সারভাইভাল গাইড: বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম ৬ মাস কিভাবে টিকে থাকবেন

(‌প্রথমেই একটা সতর্কবার্তা, “এই পোস্টটি লেখার জন্য অনেক জ্ঞানী-গুনির বাক্য ও বোধ ব্যবহার করা হয়েছে। সহজাত বাঙালিয়ানার কারণে অন্যকে ছোট করার প্রবণতা থেকে লেখা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অসম্মান কোনভাবেই কাম্য নয়।”)

নানান ঘাটের নানান মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাদের নিচে পড়তে আসে। নানান মন, নানান রঙের শিক্ষার্থীরা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখে। ভর্তি পরীক্ষা পরবর্তী কার্যক্রম শেষে ক্লাস শুরুর দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় চারবছরের রেস-ঘোড়ার দৌড়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্টিফিকেটের জোর আর ব্রেইনের ধার দিয়ে ভর্তি হওয়ার পরে বেশ সংশয়ের কিছু জায়গা অনেক শিক্ষার্থীর থেকে যায়। সবাই তো ঢাকা কিংবা নামী স্কুল বা পরিবেশ থেকে আসে না। পরিবেশের প্যারামিটারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রথম বর্ষে দুভাগে ভাগ করা যায়: এক দল নুন, আরেক দল লবণ। এক দল ঝোল, আরেক দল শুরা! একদল ফারামগেট, আরেকদল ফার্মগেট।-এটা নিত্য সত্য।
সবাই যেহেতু একই পরিবেশ থেকে আসে না, সেহেতু ভিন্নতা থাকেই। এক কথায়, যারা ঢাকার বাইরে থেকে আসে শহর যাদের কাছে প্রথম তাদের জন্যই এই লেখা। এই লেখা বেশ Order Style-এ লেখা। Attacking স্টাইলে লেখা বলে কোন ক্ষেত্রে খারাপ লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে একটা অনুরোধ করতে পারি, সবাইকে তো সব শিখে আসে না। বিষয়টা অনেকটা কমন সেন্সের মত-দেখে শিখতে হয়, নতুবা ঠেকে শিখতে হবেই। যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জড়তা বিভ্রাট কাটানোর জন্য এই লেখার চেষ্টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে বিসিএস ফরেন সার্ভিসের বন্ধু, বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় ভাই-বন্ধু, সাংবাদিক, পুলিশ আর ব্যাংকে চাকরি করা এমন ৪০+ জনের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা থেকেই এই পোস্টটি দাঁড়ানো। 
 

প্রথম মাস

২. ২টি সিনেমা দেখতে হবে
৩. একটু ডকুমেন্টারি দেখতে হবে
৪. শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের জন্য প্রতিদিন আয়নার সামনে ২ মিনিট টেলিভিশন সংবাদ পড়ার স্টাইলে কথা বলে যেতে হবে
৫. শুদ্ধ ইংরেজি শেখার জন্য আয়নার সামনে পরিচিত কোন একটি বিষয়ে ৫ মিনিট অনবরত ভুল-ভাল জড়তা নিয়ে কথা বলে যেতে হবে

দ্বিতীয় মাস

১. ২টি বই পড়তে হবে
২. ২টি সিনেমা দেখতে হবে
৩. একটু ডকুমেন্টারি দেখতে হবে
৪. শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের জন্য প্রতিদিন আয়নার সামনে ২ মিনিট টেলিভিশন সংবাদ পড়ার স্টাইলে কথা বলে যেতে হবে
৫. শুদ্ধ ইংরেজি শেখার জন্য আয়নার সামনে পরিচিত কোন একটি বিষয়ে ৫ মিনিট অনবরত ভুল-ভাল জড়তা নিয়ে কথা বলে যেতে হবে
৬. কম্পিউটার শেখার জন্য প্রতিদিন মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে
৭. প্রতিদিন ঢাকার শহরে নতুন ২টি রাস্তায় হেটে চলতে হবে! থিংকিং লাইক অ্যা ট্র্যাভেলার!
 

তৃতীয় মাস

১. ২টি বই পড়তে হবে
২. ২টি সিনেমা দেখতে হবে
৩. একটু ডকুমেন্টারি দেখতে হবে
৪. শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের জন্য প্রতিদিন আয়নার সামনে ২ মিনিট টেলিভিশন সংবাদ পড়ার স্টাইলে কথা বলে যেতে হবে
৫. শুদ্ধ ইংরেজি শেখার জন্য আয়নার সামনে পরিচিত কোন একটি বিষয়ে ৫ মিনিট অনবরত ভুল-ভাল জড়তা নিয়ে কথা বলে যেতে হবে
৬. কম্পিউটার শেখার জন্য প্রতিদিন মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে
৭. প্রতিদিন ঢাকার শহরে নতুন ২টি রাস্তায় হেটে চলতে হবে!
৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কোন একটি অপরিচিত সংগঠনের সদস্য হতে হবে
৯. নিজের কমিউনিকেশন দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজতে হবে
১০. নিজের সত্যিকারের আগ্রহী কোন দিকে তা খুঁজতে হবে
 

চতুর্থ মাস

২. ২টি সিনেমা দেখতে হবে
৩. একটু ডকুমেন্টারি দেখতে হবে
৪. শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের জন্য প্রতিদিন আয়নার সামনে ২ মিনিট টেলিভিশন সংবাদ পড়ার স্টাইলে কথা বলে যেতে হবে
৫. শুদ্ধ ইংরেজি শেখার জন্য আয়নার সামনে পরিচিত কোন একটি বিষয়ে ৫ মিনিট অনবরত ভুল-ভাল জড়তা নিয়ে কথা বলে যেতে হবে
৬. কম্পিউটার শেখার জন্য প্রতিদিন মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে
৭. প্রতিদিন ঢাকার শহরে নতুন ২টি রাস্তায় হেটে চলতে হবে!
৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কোন একটি অপরিচিত সংগঠনের সদস্য হতে হবে
৯. নিজের কমিউনিকেশন দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজতে হবে
১০. নিজের সত্যিকারের আগ্রহী কোন দিকে তা খুঁজতে হবে
১১. মেন্টর খুঁজতে হবে
১৩. প্রেজেন্টেশন তৈরি করা শিখতে হবে

পঞ্চম মাস

১. ২টি বই পড়তে হবে
২. ২টি সিনেমা দেখতে হবে
৩. একটু ডকুমেন্টারি দেখতে হবে
৪. শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের জন্য প্রতিদিন আয়নার সামনে ২ মিনিট টেলিভিশন সংবাদ পড়ার স্টাইলে কথা বলে যেতে হবে
৫. শুদ্ধ ইংরেজি শেখার জন্য আয়নার সামনে পরিচিত কোন একটি বিষয়ে ৫ মিনিট অনবরত ভুল-ভাল জড়তা নিয়ে কথা বলে যেতে হবে
৬. কম্পিউটার শেখার জন্য প্রতিদিন মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে
৭. প্রতিদিন ঢাকার শহরে নতুন ২টি রাস্তায় হেটে চলতে হবে!
৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কোন একটি অপরিচিত সংগঠনের সদস্য হতে হবে
৯. নিজের কমিউনিকেশন দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজতে হবে
১০. নিজের সত্যিকারের আগ্রহী কোন দিকে তা খুঁজতে হবে
১১. মেন্টর খুঁজতে হবে
১২. ইমেইল লেখা শিখতে হবে
১৩. প্রেজেন্টেশন তৈরি করা শিখতে হবে
১৫. নেতিবাচক অবস্থা কাটানো শিখতে হবে
 

ষষ্ঠ মাস

১. ২টি বই পড়তে হবে
২. ২টি সিনেমা দেখতে হবে
৩. একটু ডকুমেন্টারি দেখতে হবে
৪. শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের জন্য প্রতিদিন আয়নার সামনে ২ মিনিট টেলিভিশন সংবাদ পড়ার স্টাইলে কথা বলে যেতে হবে
৫. শুদ্ধ ইংরেজি শেখার জন্য আয়নার সামনে পরিচিত কোন একটি বিষয়ে ৫ মিনিট অনবরত ভুল-ভাল জড়তা নিয়ে কথা বলে যেতে হবে
৬. কম্পিউটার শেখার জন্য প্রতিদিন মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে
৭. প্রতিদিন ঢাকার শহরে নতুন ২টি রাস্তায় হেটে চলতে হবে!
৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কোন একটি অপরিচিত সংগঠনের সদস্য হতে হবে
৯. নিজের কমিউনিকেশন দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজতে হবে
১০. নিজের সত্যিকারের আগ্রহী কোন দিকে তা খুঁজতে হবে
১১. মেন্টর খুঁজতে হবে
১২. ইমেইল লেখা শিখতে হবে
১৪. ফরমাল ড্রেস পড়া শিখতে হেব
১৫. নেতিবাচক অবস্থা কাটানো শিখতে হবে
১৬. ডিজাইনিং কিংবা প্রোগ্রামিংয়ে নজর দিতে হবে
১৭. সাইকেল চালানো কিংবা ব্যায়াম শুরু করতে হবে
১৮. নোট নেয়া শিখতে হবে
১৯. কোন বিষয়ে ওস্তাদ হয়ে ওঠতে হবে
২০. শহুরে কালচারগুলো ধীরে ধীরে আয়ত্ব করতে হবে
(আরও চলবে, যদি আরও রেসপন্স পাই।)
(লেখার জন্য কৃতজ্ঞতা: ফরেন ক্যাডার পারুল, ব্যাংকার গোলাম রাব্বী, আজহারুল ইসলাম, গায়ক জয় ভাই, ফটোগ্রাফার প্রীত রেজা ভাই, গ্রাফিক আর্টিস্ট কাজী শশী ভাই, এমআইটির নাজিয়া, স্ট্যানফোর্ডের মুন, গণিত অলিম্পিয়াডের সুব্রত দা, ড্যাফোডিলের শিক্ষক বিপাশা আপা, ঢাবি শিক্ষক সাইমুম, এআইইউবির শিক্ষক সাবরিনা-প্রমুখ)
 
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,330 views. Thank You for caring my happiness.

(UnPost) নানান রঙের নানা গল্পের সেবা এক্সওয়াইজেড

(স্টিভ জবস যখন আইফোন লঞ্চ করেন সেই অনুষ্ঠানে অনেক জন টেক ব্লগারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই ব্লগাররাই প্রথম আইফোনের কথা প্রচলিত মিডিয়ার বাইরে সারা দুনিয়াতে জানায়। সেই ২০০৭ সালে জবস যা করেছিলেন আমাদের দেশে সেই চর্চা এখন তেমন শুরু হয় নাই, বা আমাদের আগ্রহের জায়গায় নাই। রিয়েল টাইম ব্লগিং বিষয়টা আমাদের দেশে তেমন প্রচলিত না। একটা টেক ইভেন্টে ব্লগার কিংবা টেক রিভিউয়াররা থাকবে না এটা আমেরিকাতে কল্পনা করা বেশ কঠিন, যা বাংলাদেশে হয়তো কখনই দেখা যাবে না। এখানে টেক রিলেটেড ইভেন্টে বিশেষজ্ঞ আর গণমাধ্যম কর্মীদের ভীড়ে সাধারন ব্যবহারকারীদের উপস্থিতি থাকেই না বললে চলে। এ অবস্থায়, আমার চেষ্টা থাকে বিভিন্ন টেক ইভেন্ট থেকে সরাসরি নিজের কথা ভুল-ভাল-ভালো-বাংলায় টুকে রাখা। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই পোস্ট। UnPost অর্থ হচ্ছে পোস্ট না কিন্তু মতামত!)


“নাগরিক জীবনের ব্যস্ততায় ইলেক্ট্রিশিয়ান, প্লাম্বার কিংবা ক্লিনার খোঁজার জন্য সময় বের করাটা সহজ নয়। এ ছাড়াও নিরাপত্তা, সঠিক সার্ভিসের নিশ্চয়তার প্রশ্ন তো আছেই ।প্রতিদিনের এই কঠিন কাজগুলো সহজ করতে সেবা এক্সওয়াইজেড।নতুন মার্কেটিং টিম নিয়ে নতুন বছরে নতুন লোগো নিয়ে যাত্রা শুরু করল সেবা।”-এই ভাষাতে একটি প্রেস রিলিজ পাই আজকে সকাল ১১টায় ঢাকার আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ৫ তালা অডিটরিয়ামে। এখন যেটি আইসিটি টাওয়ার সেটি আগে বিসিসি বা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল নামেই বেশ পরিচিত ছিল। সেই ২০১১ সালে ইএশিয়া নামের একটা সম্মেলনে সেক্রেটারিয়েটে কাজ করার জন্য এই ভবনে মুনির হাসানের নেতৃত্বে পা রেখেছিলাম। তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ছিলেন ইয়াফেস ওসমান। আইসিটি টাওয়ারের প্রতি তালাতে এখন অনেক পরিচিত মুখ পাই-কাব্য ভাই, বেনাউল ভাই, শাহ ইমরান, নাসের ভাই, মাসুদ!
অনুষ্ঠান ১০.৩০ মিনিটে শুরু হলেও ১১.১০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক ভাই এলেই অনুষ্ঠান শুরু হয়। আইসিটি টাওয়ারে সেবাএক্সওয়াইজেড উন্মোচন করে তাদের নতুন লোগো যার মাধ্যমে সেবা প্রকাশ করে তাদের মূল্যবোধ এবং স্বপ্ন। অনেকগুলো ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন ছিল, আর ছিল কিঞ্চিৎ সময় কাটানো বক্তৃতা পর্ব। সর্বশেষে ছিল পলক ভাইয়ের বক্তব্য, যেখানে ড্যাভোসের বিভিন্ন গল্প জানান তিনি।
সেবার সিইও আদনান ইমতিয়াজ হালিম ভাইয়ের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। এর আগে একটা ইন্টারভিউ নেয়ার জন্য সময় নিলেও দেখা করা আর হয়ে ওঠে নাই। বাংলাদেশের সকল স্তরের মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য ২০১৫ সাল থেকে সেবা কাজ করছে। আরমিন জামান নামের এক তরুণ উদ্যোক্তা, যাকে আমি আবার ছোট বেলা থেকে চিনি-তিনিও ছিলেন লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে। বর্তমানে সমগ্র ঢাকা জুড়ে সেবা হেন কোন সার্ভিস নাই প্রদান করছে না। যমুনা টেলিভিশনের প্রডিউসার মনজুর মোরশেদ নয়ন ভাইয়ের ধারণা, “ঢাকার পরে খুব দ্রুত এই সেবা চট্টগ্রাম আর সিলেটে পৌছাবে। বাঙালি যত অলস হবে তত সেবার ব্যবসা বাড়বে!”
১২টার দিকে অনুষ্ঠানের শেষে এক ফাঁকে পলক ভাইয়ের সঙ্গে আমি আর মনজুর মোরশেদ দেখা করি। আমার ২০১৫ সাল পর্যন্ত ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ারের জন্য আইসিটি মন্ত্রণালয়ে যাওয়া পড়তো বলে অনেকবার পলক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল, তখন আমার বেশ চুল বড় ছিল। আজকে পলক ভাই নামে না ডাকলেও, “চুল ছোট কেন?” বলে প্রশ্ন করে। আগামী মাসে বেশ বড় একটা ইন্টারভিউয়ের জন্য সময় নেয়ার উছিলা ছিল আমার। পাশ।
অনুষ্ঠানে ৫ জন সেবার সার্ভিস প্রোভাইডারের গল্প শোনানো হয়, যারা নিজেদের সাফল্যের কথা সবার সামনে তুলে ধরেন। আমি অবশ্য এমন গল্প শুনতেই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। যে কোন গল্পই দারুণ কোন প্লটের অংশকে অনেক শক্ত করে।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 903 views. Thank You for caring my happiness.

যে সময়জ্ঞান আমি আগে জানলে ভালো হতো

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 289 views. Thank You for caring my happiness.

যে ৫টি বিষয় আমি ২০১৭ সালে শিখেছি

শেখার কোন সময় নাই, শিখতে কোন ইগো নাই। ইগো নিয়ে পড়ে থাকার কারণেই নিজেকে অনেক পিছনে দেখছি। ২০১৭ সালে যা শিখেছি তা নিয়ে এই পোস্টটি। 

১. যে কোন কিছু কাগজে কলমে লিখে করাই বেশি ভালো!

আমি ২০১৭ সালে প্রথম কাগজে আগামীকাল কি করবো তা লেখার অভ্যাস শুরু করি। সেপ্টেম্বরে হুট করেই টু ডু লিস্ট লেখা শুরু করি-এখন যা প্রতিদিনকার অভ্যাস। যেহেতু সময় বুঝি না বলে একটা বদনাম আছে, সেই বদনাম কাটানোর জন্য এই অভ্যাসটা দারুণ কাজে দিচ্ছে। কাগজে কলমে লেখালেখির অভ্যাসের মত অ্যানালগ বিষয় নিজের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ তৈরি করে।

২. যে কোন কিছু শিখতে শুধুমাত্র সময় দিয়ে সব কিছু থেকে দূরে থাকতে হয়।

স্মার্টফোন হচ্ছে প্যারাসাইট, যা আমাদের জীবনীশক্তি শুষে নিচ্ছে। তাই ডিসট্র্যাকশন যত কমিয়ে কিছু শেখা যায় ততই মঙ্গল। ২০১৭ সালে ডিসট্র্যাকশন কমানোর জন্য স্মার্টফোন থেকে মেসেঞ্জার ফেলে দিছি। জিমেইলে কোনভাবেই ১ জিবির ওপরে মেইল সংরক্ষণ করিনি।


৩. ২০১৭ সালে আমি ডিভাইসে যত কিছু পড়েছি তার চেয়ে বেশি বুঝতে পেরেছি কাগজে পড়ে।

আমি ২০১৭ সালে বেশির ভাগ বই কিন্ডলে পড়েছি, আর গোটা দশেক মৃত গাছের মন্ডের কাগজে পড়েছি। এলইডি বা এলসিডি ডিসপ্লেতে পড়ার অভ্যাস খারাপ। শেষ দিকে অডিওবুকে অভ্যস্ত হয়েছি।

৪. ওপেন মাইন্ড বিকাশের জন্য বেশ চেষ্টা করেছি।

যেহেতু আইডিয়ার শেষ নেই, আইডিয়াকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করে বাস্তবে আনা যায় তা বোঝার বিভিন্ন মডেল শিখেছি। ১৬টা মডেল বুঝি এখন আমি!


৫. সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাধি।

ফেসবুকে সময় কমানোর জন্য অনেক বন্ধুকে আনফ্রেন্ড করেছি। অনেক গ্রুপ থেকে সরে এসেছি। এখন সিএনএন, ম্যাশেবল, আইএনসিসহ ৮/৯টা পেইজের পোস্ট শুধু হোমে আসে আমার।

৫+. নিউজ পড়া বাদ দিয়েছি!

টেলিভিশনে কাজ করি, পত্রিকায় টুকটাক লিখি-এমন অবস্থায় নিউজ পড়া বা দেখা বাদ দেয়া বিপদজ্জনক। সত্যি সত্যি ২০১৭ সালে টেলিভিশনে আর পত্রিকার সব নিউজ এড়িয়ে গেছি আমি, কিন্তু তারপরেই ইকনোমিস্ট আর টাইমসের বদৌলতে তথ্য ঘাটতিতে পড়িনি।

(টাটা কনসালটেন্সির অশোক কৃষকের পোষ্টের অবিকল পোস্ট এই লেখাটি!)

ফিচার ছবিটি নাইকির প্রতিষ্ঠাতা ফিল নাইটের বিখ্যাত একটি লাইন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 233 views. Thank You for caring my happiness.

২০১৭ সালে বারাক ওবামা যা পড়েছেন

আমরা এতই ব্যস্ত যে বছরে ২-৩টা বই পড়ে হাপিয়ে ওঠি। আর সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা এতটাই বেকার যে বছরে এক ডজনের বেশি বই পড়েন। পড়ার জন্যই যে বই পড়তে হবে-এ ধারণা কেন জানি আমাদের মস্তিষ্কে ছোটবেলা থেকে কে জানি ঢুকিয়ে দিয়েছে। বই পড়া বিনোদন-২০১৫ সাল থেকে আমি এই কথাটা এতটাই বিশ্বাস করা শুরু করেছি যে এখন বই পড়া জোস লাগে আমার। জ্ঞান ছড়ানো কিংবা অহংকার প্রকাশের জন্য না, নিজেকে চেনার জন্য বই পড়া বিষয়টা বেশ রঙিন একটা বিষয়।

In this photo taken Jan. 18, 2017, President Barack Obama speaks during his final presidential news conference, in the briefing room of the White House in Washington. In his last major act as president, Barack Obama cut short the sentences of 330 federal inmates convicted of drug crimes on Thursday, Jan. 19, 2017, bringing his bid to correct what he’s called a systematic injustice to a climactic close. (AP Photo/Pablo Martinez Monsivais)

বারাক ওবামা নতুন বছরের ঠিক আগের রাতে নিজের পড়া বেশ কিছু বইয়ের নাম ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। বইগুলোর মধ্যে আমি মাত্র ২টি বই পড়েছি, বাকিগুলো উপহারের জন্য অপেক্ষা করছি।
রাজনীতিবিদরা কি কি বই পড়েন তা নিয়ে এখন থেকে চেষ্টা করবো প্রতি মাসে কিছু না কিছু লিখতে। জাস্টিন ট্রুডোর একটা লিস্টি পেয়েছি-ট্রুডোও বেশ বড় পাঠক কিন্তু!

বারাক ওবামা যা ২০১৭ সালে পড়েছেন

  1. দ্য পাওয়ার, নাওমি অলডারম্যান: সায়েন্স ফিকশন ঘরানার বই। 
  2. গ্র্যান্ট, রন চেরনো
    “তার বীরত্ব নেই, কিন্ত সর্বকালের সেরা বীরদের একজন”, এমনটাই ভাবা হয় আমেরিকার গৃহযুদ্ধের জেনারেল আলেসিস গ্রান্টকে
  3. ইভেক্টেড: পোভার্টি অ্যান্ড প্রোফিট ইন দ্য আমেরিকান সিটি
  4. জেনসভিল: অ্যান আমেরিকান স্টোরি
  5. এক্সিট ওয়েস্ট 
  6. ফাইভ-কারেট সউল
  7. অ্যানিথিং ইজ পসিবল
  8. ডাইয়িং: অ্যা মেমোয়ার 
  9. অ্যা জেন্টেলম্যান ইন মস্কো
  10. সিং, আনব্যারিড, সিং
  11. কোচ উডেন অ্যান্ড মি
  12. বাস্কেটবল

ওবামার স্মৃতিবই
ড্রিম ফ্রম মাই ফাদার

এই বইটা বেশ দারুণ ভেবেছিলাম। কেন জানি ২/৩ ফর্মা পড়ার পরে আর পড়তে ইচ্ছে করে নাই।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 198 views. Thank You for caring my happiness.

জাস্টিন ট্রুডোর প্রিয় যত বই

I read anything, and everything, in huge quantities.

একজন প্রধানমন্ত্রীর বাক্য বলে মনে হয় উপরের লাইনটিকে?

জাস্টিন ট্রুডোকে বর্তমান সময়ের বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে যাদের ধারণা আছে তারা বেশ চেনেন। কানাডার বেশ সুদর্শন আধুনিক প্রধানমন্ত্রী বলা যায় তাকে। সামাজিক যোগাযোগের দুনিয়াতে তার জনপ্রিয়তা বেশই বটে। বারাক ওবামা আর অ্যাঞ্জেলা মেরকেলদের সময় থেকেই বেশ নান্দনিক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনপ্রিয় ট্রুডো।

২০১৩ সালে কমনগ্রাউন্ড নামের একটি বই লিখেছিলেন এই প্রধানমন্ত্রী। কোরাতে এক প্রশ্নের উত্তরে নিজের প্রিয় বই আর লেখকের নাম লিখেছেন জাস্টিন, সেই লিষ্ট থেকেই এই পোস্ট।

“আমি পাঁড় পাঠক, পুরো জীবন ধরেই তো পাঠক। এখন সরকারী নীতিসংশ্লিষ্ট বই পত্র পড়ি, এরপাশে ফিকশন ঘরানার বইয়ের তালিকা করা বেশ কঠিন। আমি স্টিফেন কিং, নিল স্টেফেনসন আর ট্যাড উইলিয়ামসের ভীষণ ভক্ত। এসময়ে আমি লা পার্ট দ্য লওটার আর রেডি প্লেয়ার নামের বইটি পড়েছি।

ননফিকশনের মধ্যে আমার প্রিয় বইগুলো হচ্ছে:

Non-fiction: Gardens of Democracy, by Eric Liu and Nick Hanauer; Champlain’s Dream, by David Hackett Fischer”

 

 

অনলাইন ঘেটে দেখলাম, হকি নিয়ে বেশ বই-টই পড়েন ট্রুডো। গর্ড হাউই নামের কানাডার এক বিখ্যাত আইস হকি প্লেয়ারের বইপত্র নাকি পড়েন তিনি বেশ।

 

 

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 207 views. Thank You for caring my happiness.

মুনির হাসান ২০১৮ সালে যে বই পড়তে বলেন

মুনির হাসানের অনলাইনে বেশ তরুণ পাঠক আছে। গণিত অলিম্পিয়াড পরিমন্ডল থেকে শুরু করে আইসিটি-উদ্যোক্তা পরিমন্ডলের আলোচিত মুখ। কাঁচা-পাঁকা চুলের মুনির হাসান ২০১৮ সালে তরুণদের কি কি বই পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তা নিয়েই এই পোস্ট।

ব্যর্থদের উপর বই পড়তে হবে
“কি কি বই পড়ার পরামর্শ দেন?”, এমন প্রশ্নের প্রথম উত্তরে জানান, “ব্যর্থদের জীবনে নিয়ে বই পড়তে হবে। সফল-ব্যর্থদের জীবনী নিয়ে বই থেকে বাস্তব জীবনের জ্ঞান পাওয়া যায়।” আমি ব্যর্থদের জীবনী নিয়ে বেশ কিছু বই পড়েছি। সেগুলো মুনির হাসানের লিস্টিতে মিলে যাচ্ছে।


মেইড ইন জাপান: সনির প্রতিষ্ঠাতা আকিও মরিটার বায়োগ্রাফি টাইপের বই। সনির সব পণ্যই সব সময় সাফল্য পায় নি। সনির প্রথম পণ্য ছিল রাইস কুকার, যা কিনা ভাত পোড়ানোর জন্য জনপ্রিয়তা পায়। জাপানিজ নাবিক আকিও মরিটার অনেক ব্যর্থতার গল্প আছে বইটিতে।
মাই লাইফ অ্যান্ড ওয়ার্ক: হেনরি ফোর্ডের বই, সেই ১৯২২ সালে প্রকাশিত। আমি পড়ার পরেই বুঝেছি কেন যুক্তরাষ্ট্রেই গাড়ি উদ্ভাবনের বিকাশ ঘটেছে। ফোর্ডের সাফল্যের ভীড়ে কিন্তু তার আগের জীবনের অনেক গল্প আমরা জানি না। ফোর্ড কোম্পানির আগে ফোর্ড আরও দুটি গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান নিয়ে ধরা খেয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: জাস্টিন ট্রুডোর প্রিয় যত বই
রোমেল: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরাজিত জেনারেল রোমেলের যুদ্ধ কৌশল নিয়ে লেখা বইটিও দারুণ। বইটিতে রোমেলের নিজের হাতে তোলা অনেক ছবি সংযুক্ত আছে।


প্রসেস শক্তি বাড়ায় এমন বই পড়তে হবে
হিউম্যান প্রসেস বিষয়টার উপর বই পড়ার পরামর্শ দেন মুনির হাসান। কিভাবে দলগতভাবে কাজ করা যায়, কিভাবে নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ তৈরি করা যায় এমন বই পড়তে পরামর্শ দেন তিনি। এক্ষেত্রে ম্যাকেঞ্জি মাইন্ড নামের একটা বই আমি রেফার করতে পারি। আমাদের দেশে কনসালটেন্সি ফার্মগুলো তেমন কাজের কাজি না মনে হয়। ম্যাকেঞ্জি, জেপি মরগান, বোস্টন কনসালটেন্ট গ্রুপসহ বিভিন্ন দুনিয়াখ্যাত কনসালটেন্সি ফার্মগুলোর রেফার করা বই বেশ কাজের।


ইতিহাস-সংস্কৃতির বই পড়তে হবে
শুধু টেকনিক্যাল বা নন-ফিকশন বই পড়তে উৎসাহ দেন না মুনির হাসান। ইতিহাস-সংস্কৃতি সব ধরণের বই পড়তে পরামর্শ দেন তিনি।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 3,220 views. Thank You for caring my happiness.