দ্য আর্ট অব সিম্পল কোয়েশ্চেন্স

ব্যবসা দুনিয়াতে বেশ আলোচিত একটা গুজবের কথা জানাতে চাই আপনাকে। “বড় লক্ষ্য” কিংবা “দারুণ আইডিয়া” নিয়েই বড় বড় সফল কোম্পানিগুলোর যাত্রা শুরু হয়। আবার তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়েও এমন মিথের গল্প শোনা যায়। “অমুক কিন্তু দারুণ আইডিয়া নিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে”-এমন কথা হরহামেশাই শুনি আমরা। মূলত, পত্রিকা কিংবা টিভি রিপোর্টে উদ্যোক্তা বা স্টার্টআপদের নিয়ে এমন ভাবে রিপোর্ট করা হয় যেন-‘দারুণ আইডিয়া নিয়ে কাজের জন্যই তরুণরা সফল’। বিষয়টা আসলে ভুল-মিথ। দারুণ আইডিয়াগুলোর পেছনে আসলে একটাই কারন খুঁজে পাওয়া যায়, সরল প্রশ্ন। দ্য আর্ট অব সিম্পল কোয়েশ্চেন্স গাই কাওয়াসাকির লেখা একটা ব্লগপোস্ট। সেটাকেই বাংলাদেশ উপযোগি করে তোলার জন্য এই পোস্ট।
স্টার্টআপ বাবল বলে যে টার্মটা আছে সেখানে যত সফল কিংবা কাজে সাফল্য পেয়েছেন এমন কোম্পানি তখনই সফল বলে বিবেচিত হয় যখন তাদের আইডিয়া অর্থ আয় শুরু করে। দারুণ আইডিয়া জেনারেশনের খুব সহজ একটা উপায় হচ্ছে, সরল প্রশ্ন করা!

তো, কি?

‘সবার কাছে স্মার্টফোন আছে, যেখানে ক্যামেরা আর ইন্টারনেট অ্যাকসেস আছে।’, “তো, কি?”, ‘তারা ছবি তুলে, ছবি শেয়ার করতে পারবে।’, “তো, কি?”, ‘আমরা এমন একটা অ্যাপ তৈরি করতে পারি যা কিনা ছবি শেয়ার করার জন্য ব্যবহার করা যাবে, লোকজনকে সেই ছবি রেটিং করার সুযোগ দেবে, কমেন্টস করা যাবে।’, “তো, কি?”, ‘ভায়োলা, দেয়ার্স ইনস্টাগ্রাম’! (গাই কাওয়াসাকি তার লেখায় অ্যাড্রিয়ান স্লাইওৎস্কির দ্য আর্ট অব প্রফিটাবিলিটি’র এই উদাহরণটি ব্যবহার করেছেন।)

এটা কি ইন্টারেস্টিং না?

উদ্যোক্তাদের ইন্টেলেকচুয়াল কিউরিওসিটি আর অ্যাকসিডেন্টাল ডিসকোভারি ইন্টেনশন এই ছোট প্রশ্নকে বড় কোন আইডিয়া পেতে সহায়তা করে। রে ক্রক নামের এক সাধারন সেলসম্যান তো ফাস্টফুডের ইতিহাসই বদলে দিয়েছিলেন! মাল্টি মিক্সার বিক্রি করতে রে। একবার এক রেস্টুরেন্ট থেকে আটটা মিক্সার অর্ডার করে, রে কৌতুহল বসে সেই রেস্টুরেন্ট ঘুরতে যান। এরপরে সেই রেস্টুরেন্ট ব্যবসার প্রতি এটাই আগ্রহী হয়ে উঠেন তিনি যে সেলসম্যানের চাকরি ছেড়ে দিয়ে সেই রেস্টুরেন্টে যোগ দেন। সেই রেস্টুরেন্ট এখন ম্যাকডোনাল্ডস! রে’র বয়স যখন ৫০,তখন সে ১৯৫৪ সালে এই কাজ শুরু করে। ১৯৭১ সালে রে ম্যাকডোনাল্ডসের সিইও হিসেবে অবসর নেন।

এটাই কি সবচেয়ে ভালো পথ?

বর্তমান অবস্থা নিয়ে যারা হতাশ থাকেন, তারা এই প্রশ্নের মাধ্যমে কোন একটা সরল পথ খুঁজে বের করতে পারে। ফার্দিন্যান্ড পোর্শ্যে একবার বলেছিলেন, ‘শুরুর দিকে আমি যখন চারপাশে দেখছিলাম, কোথাও আমার স্বপ্নের অটোমোবাইল খুঁজে পাচ্ছিলাম না; তখনই আমি নিজে থেকেই কাজ শুরু করে দেই।’ স্টিভ ওজনিয়াক অ্যাপল ওয়ান বানানোর সময় বিশ্বাস করতেন কম্পিউটার আরও ভালোভাবে সাধারন মানুষের কাছে পৌছানো সম্ভব।

আমরা কেন এটা করছি না?

স্টারবাক্সের শুরুটা ছিল এই সরল প্রশ্ন দিয়ে। হাওয়ার্ড শুলৎজ স্টারবাক্স নিয়ে বড় ব্যবসার পরিকল্পনা করার সময় ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে তেমন সাড়া পান নি। সময় নিয়ে নিজেই স্টারবাক্স কোম্পানি কিনে নিজের মত করে স্টারবাক্স চেইন শুরু করেন তিনি।
এটা তো সম্ভব, আমরা তাহলে কেন এটা করছি না?
গত শতাব্দীতে সত্তরের দশকে মটোরোলা পোর্টেবল ফোন উদ্ভাবন করে। তখন আসলে এই ধারণাই বাস্তব ছিল না যে ফোনের মাধ্যমে মানুষকে সংযুক্ত করা সম্ভব। এরপরের ইতিহাস তো সবাই জানে, মার্টিন কুপার আর তার প্রকৌশলীরা মুঠোফোন দিয়ে যোগাযোগের ইতিহাসে নতুন চ্যাপ্টার যুক্ত করে ফেলেন। “if we build it, they will come”-এই তত্বকে বিশ্বাস না করাই ভালো।

বড় মাছটা আসলে কোথায় দুর্বল?

বাজারে যে বড় মাছ ব্যবসা করে যাচ্ছে সে আসলে দুর্বল কোথায় তা নিয়ে সরল প্রশ্ন করলে অনেক সময় বড় আইডিয়ার ঘ্রাণ পাওয়া যায়। সাধারনত তিন অবস্থায় মার্কেটের বড় মাছটা দুর্বল ভাবা হয়। বড় মাছটা যদি শুধু একটা পথেই ব্যবসা করে তাহলে সে কোথাও দুর্বল এটা ভাবতে পারেন। আইবিএম রিসেলারদের মাধ্যমে কম্পিউটার বিক্রয় করতো, ডেল তখন নিজেই ডিরেক্ট সেলিং শুরু করে। বড় মাছের গ্রাহকরা যদি অসন্তুষ্ট থাকে তাহলে সেখানে নতুন ব্যবসা আসবেই। ব্লকবাস্টার স্টোরের ডিভিডি আনা-নেওয়ার ঝামেলা এড়ানোর জন্যই নেটফ্লিক্সের জন্ম। আবার বড় মাছটা যদি নতুন পন্য উদ্ভাবন না করে একটা উপায়েই চলতে থাকে। মাইক্রোসফটের অফিসকে অনেকেই গুগল ডক্সের বিকল্প ভাবে কিন্তু!
‘আমরা কিভাবে অনেক টাকার মালিক হবো?’, ‘কত টাকা আসবে?’-এধরণের প্রশ্নকে আসলে ব্যবসা করার সময় ভালো প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক না। বড় বড় কোম্পানি কিন্তু আসলে কোন একটা সরল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পৃথিবীতে পরিবর্তন আনে। শুধু বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন আসলে ব্যবসায় সাফল্য আনে না।

আরও পড়ুন: ইন্টার্ন হউক রক স্টারের মতন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,747 views. Thank You for caring my happiness.

Sense of Pursuit of Less

Stunning book! Essentialism: The Disciplined Pursuit of Less by Greg McKeown. On the off chance that you think less is lovely, this book is for you.

As a person, you have the energy of basic leadership. Choose what your motivation or objective is. Simply seek after just open doors and works that lead you to that solitary objective. Do you run your days or days keep running on you-it’s relies on you, genuinely?

As a negligible feeling of effects, don’t be reluctant to be inaccessible. It’s alright inaccessible for in some cases.

Since 2016, I’ve built up a propensity for journalizing. Keeping a diary and setting aside a few minutes to peruse is vital and positively affects our brain.

 

Direct quote takeaways:

“The word priority came into the English language in the 1400s. It was singular. It meant the very first or prior thing. It stayed singular for the next five hundred years. Only in the 1900s did we pluralize the term and start talking about priorities.”

“When we are unclear about our real purpose in life– in other words, when we don’t have a clear sense of our goals, our aspirations and our values– we make up our own social games. We waste time and energy on trying to look good in comparison to other people.”

“Apply the principle of zero-based budgeting” to your life and time. Don’t budget based on existing commitments- start from scratch.

Invaluable lessons learned, plans made, what remains is to execute them. “The life of an Essentialist is a life without regret “

Highlights:
“The life of an Essentialist is a life of meaning. It is life that really matters.”

“The problem with being sleep-deprived is that it compromises our ability to tell the difference, and thus our precious ability to prioritize.”

“When there is a serious lack of clarity about what the team stands for and what their goals and roles are, people experience confusion, stress, and frustration”

“If you have correctly identified what really matters, if you invest your time and energy in it, then it is difficult to regret the choices you make. You become proud of the life you have chosen to live.”

“Done is better than perfect.”

“There should be no shame in admitting to a mistake, after all, we really are only admitting that we are wiser than we once were.”

Some of my favorite bits of wisdom from inside include:

* Have extreme criteria for what you will say yes to

* Only say yes to those things that score a 9 or 10 out of 10

* Make more choices. Eliminate “have to” or “should”

* Use the delayed yes. “Let me get back to you.” Allow yourself space to say a graceful no.

* To counter the bias of “ownership,” ask yourself this question: If I didn’t already own this (or have this opportunity), how hard would I be willing to work to get it?

* Don’t mistake output with effort. Meaningful work doesn’t always produce immediately tangible results.

* Think “less but better”

* Explore a broad set of options, then choose one.

* Identify and remove whatever gets in the way of the Essential

* Create routines for doing anything that is essential

* JOMO = Joy of Missing Out. Make tradeoffs. Let excellent opportunities go. There will be more.

 

I wish there would a greater amount of system for applying standards like this. Some understanding of recognizing the Essential would be great. Likewise, I found the reward framework embraced in the significance of advance part somewhat basic and, non-useful over the long haul.

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 69 views. Thank You for caring my happiness.

যেভাবে মাত্র ১৭ দিনে বেইলি ফ্রেঞ্চ শিখেছিলেন!

আমি ২০০৮ সালে ফ্রেঞ্চ ভাষা শেখার চেষ্টা করেছিলাম। এক বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএমএলে গিয়ে ক্লাস করেছিলাম। বছর শেষে আসলে ‘জো সুই এতুদ্যিউ’ পর্যন্তই দৌড় হয়ে আমার। উল্টো ইংরেজির ১২টা বেজে গিয়েছিল। ইউরোপীয় ভাষামন্ডলে ফরাসী বেশ কঠিন একটি ভাষা, তাই আয়ত্বে আনা বেশ কঠিন। কঠিন বলেই টাটা বলে দেই!

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে কোর্সের বাধ্যতামূলক জাপানিজ শিখতে হয়। ৬ মাস জাপানিজ শিখেছিলাম বেশ ভালোই, এরপরে আইএমএলে সিনিয়র লেভেলে ভর্তি হওয়ার পরে আর কন্টিনিউ করা হয় নি। জাপানিজ দৌড়টা আমার সুবিধার না, আমি যে জাপানিজ বলি তা এখন পর্যন্ত কোন জাপানিজকে বুঝতে দেখলাম না!

ইংরেজি আমার দ্বিতীয় ভাষা, তার অবস্থাও ভালো না! কথা বলার সময় গ্রামার একদিকে যায়, আর আমার বাক্য আরেক দিকে। ভয়ানক অবস্থা।

এই যখন অবস্থা তখন ডেভিড বেইলির ফরাসী ভাষা শেখার গল্পটা পড়ি, বেশ কার্যকরই মনে হয়েছে আমার। 

 

২০০৫ সালে বেইলি ফরাসী ভাষার শেখার চেষ্টা করেন। সে সময়টায় তিনি ফ্রান্সের একটি গ্রামে অবস্থান করেছিলেন।
ডেভিড ১৭ দিনে যেভাবে ফরাসী শিখেছিলেন,
১. প্রতিদিন একই কাজ করার জন্য একটি রুটিন ঠিক করে নিয়েছিলেন বেইলি। বেইলি প্রতিদিন সকালে ২ ঘন্টা খালি ফরাসী বাক্য আর শব্দ হাতে লিখতেন কাগজে।
২. প্রতিদিন ৩০ মিনিট অডিও শুনতেন বেইলি। আমরা ভাষা শেখার সময় নতুন ভাষার শব্দ বা বাক্য শুনি কম, তাই বেশ বোরিং মনে হয় প্রথম দিকে। 
৩. প্রতিদিন বিকালে বেইলি ফরাসী গান শুনতে ঘুরে বেড়াতেন। গানের উপস্থিতি আমাদের মস্তিষ্কে অবচেতনভাবে থাকে, অনেকদিন থাকে।
৪. প্রতিদিন একজন ফরাসী বন্ধুর সঙ্গে লাঞ্চ করতেন বেইলি। এতে নাকি ফরাসী অনেকটুকু আয়ত্বে নেন বেইলি।
৫. প্রতিদিন বিকালে ছোটদের লেখা বই ফরাসীতে পড়তেন বেইলি। ছোটদের গল্প রুপকথার মতো আমাদের মগজে গেঁথে যায়, সেই কারণে রুপকথা পড়ে ভাষা শেখার আইডিয়া দারুণ।
৬. প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেড়ঘণ্টার মত ফরাসী লিখতেন বেইলি। সহজ সরল প্রশ্ন যেমন ‘আপনি কোথা থেকে এসেছেন?’, ‘আপনি ফ্রান্স কতটা ভালোবাসেন?’-এমন প্রশ্নের উত্তর বারবার লিখতেন বেইলি।
৭. ফিলার ওয়ার্ড শিখতেন বেইলি। যেমন বাংলাতে ‘আ’, ‘হুম’ শব্দগুলো বলি আমরা এমন।
আমি এখন চাইনিজ শেখার চেষ্টা করছি। ১ বছর সময় দেয়ার পরে দেখব কি হবে!
-- Stay cool. Embrace weird.
Total 84 views. Thank You for caring my happiness.

“মেয়র আনিসুল হকের রেকমেন্ডেড ৭টি বই”

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক স্যারের সঙ্গে বেশ ক’বার দেখা করার সুযোগ মিলেছিল, কখনও বই-পত্র নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়নি। যখন দেখা হয়েছিল তখন অবশ্য আমার বই-টই নিয়ে এত আগ্রহ ছিল না। কিন্তু যখন আগ্রহ তৈরি হয় তখন আনিসুল হককে আর জিজ্ঞেস করতে পারি নি কি কি বই পড়েন তিনি। এই পোস্টটি পুরো আন্দাজে লেখা একটি পোস্ট। অনেকটা “আমার মনে হয়, তিনি যেমনটা বলতেন” টাইপের পোস্ট। লেখাটি ফিকশনাল।
আইবিএর শিক্ষক ও প্রাইড গ্রুপের আব্দুল মোমেন স্যার একবার ক্লাসে আনিসুল হককে নিয়ে বলেছিলেন। গুলশানের ফুটপাত নিয়ে আনিসুল হকের ভাবনা নিয়ে স্যার বলেন, “মেয়র সাহেব অনেক দেশ-দুনিয়া ঘুরেছেন বলেই হয় ক্যাপিটাল সিটির ফুটপাত এভাবে বদলানোর চেষ্টা করেছেন।” আনিসুল হকের ব্যক্তি মননকে দূর থেকে বিশ্লেষণ করে আমার মনে হয়েছে তিনি তরুণদের নিচের বইগুলো পড়ার পরামর্শ দিতেন।

ডু দ্য হার্ড থিংস ফার্স্ট

ব্যক্তি আনিসুল হকের বড় একটা পরিচয় ছিল ব্যবসায়ী হিসেবে। মাইকেল ব্লুমবার্গের ছায়া কি ভর করেছিল তা উপর? নিউ ইয়র্ক শহরের এক সময়কার মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ একাধারে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, মিডিয়ামুঘল! ডু দ্য হার্ড থিংস ফার্স্ট আসলে অডিও বই। এখানে ব্লুমবার্গ কিভাবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন তা নিয়ে কথা বলেছেন।

ক্লাইমেট অব হোপ

মাইকেল ব্লুমবার্গের আরেকটি বই। এখানে কিভাবে ব্যবসা আর নাগরিকরা পৃথিবীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে পারে তা নিয়ে লিখেছেন ব্লুমবার্গ। ঢাকা উত্তরের পরিবেশ নিয়ে বেশ কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন আনিসুল হক। আমার ধারণা এই বইটিও তিনি রেকমেন্ড করতেন।

(আরও পড়ুন: ওয়াল স্ট্রিটের লোকজন ২০১৭ সালে যে বই পড়েছে)

ফ্রম থার্ড ওয়ার্ল্ড টু ফার্স্ট

সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা লি কুন ইয়ুর বায়োগ্রাফি। কিভাবে মালয় উপদ্বীপের একটি বিচ্ছিন্ন শহর পুরো পৃথিবীর নগর রাষ্ট্রের উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে তার পরিচয় আছে বইটিতে। সিঙ্গাপুর সিটির ব্যবস্থাপনাকে ভিত্তি ধরে ঢাকার ব্যবস্থাপনা করা অসম্ভব একটি বিষয়, কিন্তু সেভাবে ভাবতে চেয়েছিলেন তো আনিসুল হক।

ট্যাপ ড্যান্সিং টু ওয়ার্ক

ওয়ারেন বাফেটকে নিয়ে তার সাংবাদিক বন্ধুর লেখা বই। ব্যবসাকে চ্যারিটির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন কৌশল আছে বইটিতে। ওয়ারেন বাফেট যতটা না ব্যবসায়ী ততটাই ব্যবসা-দার্শনিক। আনিসুল হক নিশ্চিত ওয়ারেন বাফেটের বই পড়তে পরামর্শ দিতে আমাকে।

ফ্রিকোনমিক্স

অর্থনীতির শিক্ষার্থী আনিসুল হক নিশ্চিত ফ্রিকোনমিক্স বইটি পড়ার পরামর্শ দিতেন। বইটি থেকে আমি পড়েছিলাম “The conventional wisdom is often wrong.” আনিসুল হকের রাজনীতি নিয়ে ভাবনার সঙ্গে লাইনটি মিলে যায় কিন্তু!

ন্যুজ

এবারের অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী থ্যালারের বই ন্যুজ। আমি ২০১৫ সালে পড়েছিলাম, যদিও বইটি ২০০৯ সালের। থ্যালারের কথা হচ্ছে, MBA students are not the only ones overconfident about their abilities. The “above average” effect is pervasive. Ninety percent of all drivers think they are above average behind the wheel! আনিসুল হক ১০ পার্সেন্ট ট্রাক ড্রাইভারদের জন্য ঢাকা উত্তরে বেশ সমস্যা তৈরি করেছিলেন কিন্তু!

প্রেজেন্টেশন সিক্রেটস অব স্টিভ জবস

টেলিভিশন দুনিয়ার লোক ছিলেন আনিসুল হক। উপস্থাপনা যার অন্য পরিচয়। আনিসুল হক অবশ্যই আমাকে প্রেজেন্টেশন সিক্রেটস অব স্টিভ জবস বইটি পড়তে পরামর্শ দিতেন।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 1,386 views. Thank You for caring my happiness.

আরিফুজ্জামান শিক্ষার্থীদের যা পড়তে বলেন

এস এম আরিফুজ্জামান, পেশায় শিক্ষক। আগে ব্র্যাক বিজনেজ স্কুলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে অ্যাকাডেমিক অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর ও হেড অব বিজনেজ স্কুল। “আজীবন এডুকেটর হয়ে থাকতে চাই”, এই তার ক্যারিয়ার মোটো। এস এম আরিফুজ্জামান তার শিক্ষার্থীদের বেশ ক’টি বই নিয়মিত পড়তে বলেন। আপনি কোনটি পড়েছেন তা মিলিয়ে নিন।

ইউ ক্যান উইন

শিব খেরার এই বইটি তিনি প্রথমে সাধারণ লেভেলে পড়ার পরামর্শ দেন। ভারতীয় লেখকের বই শুনতে ক্লিশে শোনালেও যে কোন বই-ই পড়ার বই এবং তা থেকে শেখা যায় বলে মনে করেন আরিফুজ্জামান।

গুড টু গ্রেট

জেমস কলিন্সের দারুন একটা বই। ২০০১ সালের বই, আমি অবশ্য পড়েছি ২০১৬ সালে। বইটার বিখ্যাত একটা লাইন হচ্ছে, “Great vision without great people is irrelevant.” অর্গানাইজেশনাল লিডারশিপের উপর দারুণ একটি বই।

 

টনি রবিন্সের সব বই

আমি ২০১৫ সালে টনি রবিন্সের মানি বইটা পড়েছিলাম। অ্যাগ্রেসিভ মুডে লেখা। অর্থ-কড়ি ব্যবস্থাপনা বিষয়ের বই। বইয়ের মূল কথা হচ্ছে, কম বয়স থাকতেই টাকা-পয়সা আয়ের সোর্স তৈরি করতে হবে। আরিফুজ্জামান টনি রবিন্সের প্রায় সব বই পড়েছেন এবং তার শিক্ষার্থীদের বই পড়তে উৎসাহ দেন।

লাইভ ইয়ুর ড্রিমস, লং লাইফ অ্যান্ড গুড ডেজ

লেস ব্রাউনের লেখা বই। আমি অবশ্য লেস ব্রাউনকে আগে কাউকে রেফার করতে শুনি নি।ইন্টারনেট ঘেঁটে বুঝলাম বেশ ভালো বই কয়েকটি বই আছে তার।

(আরও পড়ুন: সাইফ নোমান খানের রেকমেন্ডেড যত বই)

ইউ লার্ন বাই লিভিং

এলেনর রুজভেল্টের বায়োগ্রাফি। এলেনরের উক্তি আর কথা অনেক পড়েছি। তার বইটি পড়া জরুরী। প্রথম মার্কিন ফাস্টঁ লেডি যিনি ১২ বছর এই পরিচয়ে থেকেছিলেন। গুডরিডস থেকে তার যে লাইনটি দারুণ লেগেছে, There is not human being from whom we cannot learn something if we are interested enough to dig deep.

জ্যাক মার বায়োগ্রাফি

আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মার আসল নাম জ্যাক মা না। ৯ বছর টুরিস্টদের গাইডের কাজ করা জ্যাক মার বায়োগ্রাফি বেশ সিনেম্যাটিক।

(আরও পড়ুন: স্টিভ জবসের সেই ইন্টারভিউ, পর্ব এক)

স্টিভ জবসের বায়োগ্রাফি

যে বইটি পড়ে আমার প্রথম ননফিকশন বই পড়াতে আগ্রহ জন্মেছে তা ছিল স্টিভের বায়ো। অসাধারণ বই কিন্তু।

হার্ভার্ড বিজনেজ রিভিউ

ব্যবসার শিক্ষক আরিফুজ্জামান হার্ভার্ড বিজনেজ রিভিউ পড়তে বলবেন না তা কি করে হয়?!

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 111 views. Thank You for caring my happiness.

ওয়াল স্ট্রিটের লোকজন ২০১৭ সালে যে বই পড়েছে

ওয়াল স্ট্রিটের কোটটাই পরা ইনভেস্টমেন্ট এজেন্টদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস আছে। বিজনেজ ইনসাইডার এমনই ২৩টি খুঁজে বের করেছে যা কিনা ওয়াল স্ট্রিটের লোকজন ২০১৭ সালে পড়েছে। বাংলাদেশের ব্যবসা দুনিয়ার লোকজন কেমন বই পড়ে তা জানার চেষ্টা করবো সামনে। এখনকার তরুণ সিইওদের বই পড়ার আগ্রহ আছে বলে শুনেছি।

আমি ওয়াল স্ট্রিটের লোকজন যে ২৩টি বই পড়েছে তার ১৭টি ২০১৬-২০১৭ সালের মধ্যে পড়েছি। কিছু বই দুর্দান্ত, এবং সবই ননফিকশন। নন-ফিকশন বইয়ের যারা পাঠক তারা আগ্রহ নিয়ে বইগুলো পড়তে পারেন।

ওপেন-অ্যান্দ্রে অগাসি

রোজেনবার্গ ইকুইটিসের সিইও হেইডি রিডলে অ্যান্দ্রে অগাসির বায়োগ্রাফি পড়তে বলেছেন। খেলার মাঠ মানেই যেমন চ্যালেঞ্জ, বিজনেজ দুনিয়াও হচ্ছে চ্যালেঞ্জের।বইটা পড়ে আমার কাছে একটা লাইন সে রকম লেগেছে।

-পারফেকশন কখন আসে?

যখন আপনি অন্যদের সহযোগিতা করবেন!

“বড় স্বপ্ন, অনেক বেশি ক্লান্তিকর!”

“জেগে থেকে স্বপ্ন দেখা কত সুখকর তাই না?”

 

হোমো দিউস, ইয়ুভাল নোয়াহ

আমার কাছে বইটাকে ফিকশন আর ননফিকশনের মধ্যকার একটি ক্যাটাগরি মনে হয়েছে। অতীতের কথাগুলো ননফিকশন, কিন্তু ভবিষ্যৎ?-ফিকশন?

 

 

দ্যা অরিজিনালস-অ্যাডাম গ্র্যান্ট

তুখোড় মানুষ সিয়াম ভাই আমাকে এই বইটা পড়তে বলছিলেন। যদিও তার পরামর্শ দেয়ার আগেই বইটা পড়ে ফেলছি আমি। একটা ভবিষ্যতের কথা বলতে চাই, অ্যাডাম গ্র্যান্টকে আমাদের আগামী ৫০ বছর সহ্য করে যেতে হবে। হোয়ার্টনের এই তরুণ অধ্যাপক ৩০ বছর বয়সে মনস্তত্ব ও মনন নিয়ে যা লিখেছেন তা না পড়লে অনেক কিছু জানা যাবে না।

 

দ্য রোড টু উইগান পিয়ার, জর্জ ওরওয়েল

জর্জ ওরওয়েল তার সময়কার তুখোড় মানুষদের একজন ছিলেন বলে আমার বিশ্বাস। জেন অস্টিন আর জর্জ ওরওয়েল না পড়ে মরতে চাই না।

 

জেন্সভাইল: অ্যান আমেরিকান স্টোরি-এমি গোল্ডেস্টেইন

আমেরিকানদের সমস্যা হচ্ছে সব সমস্যাকেই ইনেসপিরেশন ধরে বসে থাকে। জেনারেল মটরস জেনসভাইলের কোম্পানি কেন বন্ধ করে দিয়েছিল তা নিয়ে এই বই। আমাদের আদমজী পাটকল নিয়ে এমন বই কেউ কি লিখবেন? ১৯৫০ দশকে এরচেয়ে বড় কারখানা ছিল কিনা না তা প্রশ্ন করতেই পারেন।

 

দ্য ক্যাপ্টেন ক্লাস-স্যাম ওয়াকার

বইটি ২০১৭ প্রকাশিত, আমি পড়িনি। তবে বইটি থেকে দারুণ একটি লাইন পেয়েছি,

গ্রেট লিডার হতে চাইলে মটিভেশনাল স্পিচ, সুদর্শন, ক্যারিশমা, সুনাম কিংবা এমন ঐশ্বরিক গুন থাকার দরকার নেই। দলের সাফল্যের জন্য সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে যাওয়াটাই সব। গ্রেট লিডার তারা যারা দলের জন্য “ক্যারি দ্য ওয়াটার”-পানির বোতল টানে!

এ ম্যান ফর অল মার্কেটস

এই বইটা কেন আমি খুঁজে পাইনি!বইটা লিখেছেন এডওয়ার্ড থর্প, ১৯৬০ সালের কাঁপানো লোক। তার ভাষ্যে,

জীবন হচ্ছে উপন্যাস পড়ে যাওয়া কিংবা ম্যারাথনে দৌড়ানো। লক্ষ্য জয় করাই শুধু জীবনের সব না, অভিজ্ঞতা অর্জন করে বেঁচে থাকা আনন্দের।

গণিতবিদ থর্প কিভাবে কি করলে তা পড়তেই হবে।

 

বর্ন টু রান-ক্রিষ্টোফার ম্যাকডগাল

২০০৯ সালের এই বই গুডরিডসে ৪.১ রেটিং পাওয়া! ১ লাখের ওপর রেটিং! পড়া দরকার।

 

ইউ সে মোর দ্যান ইউ থিংক

কমিউনিকেশনের ওপর দারুণ বই। ঘাড়ের উপর দাঁড়ানো শেখা যাবে বইটি পড়ে!

 

গ্রীট- অ্যাঞ্জেলা ডাকওর্থ

গ্রীট পড়ে লেখিকাকে মেইল করে আরও ৩টি বই রেকমেন্ডেশন নিয়েছিলাম!
 

উলেসিস গ্রান্ট-রন চের্নাও

লিংকনের সেনাপ্রধানের জীবনী নিয়ে বই।

 

লিওনার্দো দ্যভিঞ্চি-ওয়াল্টার আইজ্যাকসন

ননফিকশন নাকি ফিকশন-এখনো দ্বিধায় আছি।

 

আরও যা পড়েছে ওয়াল স্ট্রিট বাসিন্দারা:

দ্য ফামা পোর্টফলিও, শ্যাডো ড্রাইভার্স, দ্য ফিস দ্যাট অ্যাট দ্য হোয়েল, দ্য ব্যাটল ফর ব্রেটন উডস, ক্রিয়েটিভিটি, বাফেট, রেড নোটিশ, একপার্ট পলিটিক্যাল জাজমেন্ট।

 

 

বইময় দুনিয়া সুন্দর।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 118 views. Thank You for caring my happiness.

বেঁচে থাকার জন্য উইনস্টন চার্চিলের স্পেস মডেল জানেন কি?

১৯৩১ সালের কথা। উইনস্টন চার্চিল ব্রিটিশ রাজনীতিতে পুরো কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। বিরোধীপক্ষ ছাড়াও নিজের দলের থেকৈ ভীষণ চাপে পড়েছিলেন চার্চিল। এমন কি তুখোড় রাজনীতিবিদ হওয়ার পরেও চার্চিলকে মন্ত্রীসভায় আমন্ত্রণ জানানো হয় নি। চার্চিল বাতিল আর সেকেলে বলে নিগ্রহের শিকার হন। সবাই দেখছিল কিভাবে সব হারিয়ে প্রায় শূণ্য হয়ে যান চার্চিল।
বাতিল হয়ে যাওয়া চার্চিলের রাজনীতির শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকেই। সেই সময়টা চার্চিলের জায়গায় আমরা থাকলে হারিয়ে যেতাম হতাশায়। চার্চিলের ওপর কি হতাশা ভর করেছিল?
এখন আমরা চার্চিল ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ পরিচয়ের বাইরে লেখক হিসেবে পরিচয় দেখি। সারা জীবনে চার্চিল ১০ লাখ শব্দ লিখেছিলেন! সেই চার্চিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ সময়টায় ১৯৩১ সালের পরের হতাশা কাটিয়েছেন স্পেস মডেল দিয়ে!

স্পেস মডেল কি?

রাজনীতি পরিমন্ডল থেকে চার্চিল ১৯৩১ সালের পরে নিজেকে সরিয়ে নেন। আসলে সরিয়ে নেয়া ছাড়া কি-ই-বা করার ছিল? এ সময় রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে অন্য দুনিয়া গোছানোর জন্য মনোযোগ দেন চার্চিল। ১৯৩৯ সালের আগে তিনি ১১ খন্ড বই প্রকাশ করেন, ৪০০+ আর্টিকেল প্রকাশ করেন। আর নানান সুধী সমাবেশে ৩৫০+ বক্তব্য রাখেন। নিজেকে অন্য দিকে ব্যস্ত রেখে হতাশা কাটানোর দুর্দান্ত উপায় বের করেন চার্চিল। সেই স্পেস মডেলের জোরেই কিন্তু চার্চিল আবারও রাজনীতিতে মনোযোগ আনতে পারেন। সাময়িক বিরতি, দুশ্চিন্তা কিংবা হতাশা কাটানোর বেশ বড় একটি উপায় হতে পারে। যেটা আমরা কর্মজীবনে কিংবা যে কোন ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হলে মডেল হিসেবে কাজে লাগাতে পারি।
(এখন চার্চিলয়ের বায়োগ্রাফি পড়ছি। তাই সেখান থেকে নিজের মতো করে নিজের জন্য লেখা থেকে এই পোস্ট।)

মুদ্রার উল্টো পিঠের যে গল্প

লেখালেখির মাধ্যমে চার্চিল আসলে নিজের অন্য একটি সুপারপাওয়ার তৈরি করেছিলেন। সবাই তো রাজনীতিবিদ হয়, কিন্তু লেখক+রাজনীতিবিদ কতজন হয়? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লেখনিওয়ালা চার্চিল বেশি শক্তি নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। শব্দ আর বাক্যকে নিজের সুপারপাওয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন চার্চিল। এই আচরণকে রাজনীতিবিদদের মনস্তাত্বিক ইনস্যুরেন্স পলিসি বলা যায়, যা কিনা ইনফ্লুয়েন্স বাড়ানোর অস্ত্র। আপনার অস্ত্র কি?

জ্যাকারবার্গের শুরুতে ছিল হার্ভার্ড ডর্মের বন্ধুরা, স্টিভ জবস-ওজনিয়াকের ছিল কম্পিউটার ক্লাবের বন্ধুরা, নাইকির ফিল নাইটের ছিল ৩/৪জন পাগলাটে বন্ধু! আপনার?

১০০০ লোক যখন শক্তি!

চার্চিলের এগিয়ে যাওয়ার প্ল্যাটফর্ম ছিল তার লেখালেখি। লেখালেখির মাধ্যমে নিজের ভক্ত কিংবা ভোটার ধরে রাখার কৌশল বলা যায় না একে? আপনি যদি উদ্যোক্তা হতে চান, তাহলে ১০০০ মানুষকে নিজের পণ্য বা সেবা কেনাতে পারবেন? আমাদের মাথায় বিলিয়ন ডলার আইডিয়া থাকে, কিন্তু সেই আইডিয়ার উপর নির্ভর করে তৈরি পন্য বা সেবা ১০০০ হাজার লোক গ্রহণ করবে কিনা তা আমরা জানি না।

Read More: বাংলাদেশ আর্মি থেকে যেসব নেতৃত্বগুণ শিখতে পারেন
প্রথম ১০০০ ভক্ত বা গ্রাহক কিংবা ভোটার তৈরি করাই কিন্তু আসল পরিশ্রম!
আশির দশকের ব্যান্ড আয়রন মেইডেনের রেডিওতে গান বাজানো হতো না। এমনকি এমটিভিও নাকি তাদের গান বাজাতো না তখন। সেই আয়রন মেইডেন নব্বই দশকে গানের অ্যালবাম মিলিয়ন কপি বিক্রি করেছে কোন মাধ্যম ছড়াই! আয়রন মেইডেনের ভক্তদের নাকি বিশাল এক ইমেইল লিস্টি তাদের সংগ্রহে ছিল, সেই মেইল লিস্টি দিয়েই আয়রন মেইডেন মিলিয়ন ডলারের অ্যালবামে সাফল্য পায়।

Read More: সাইফ নোমান খানের রেকমেন্ডেড যত বই

শোবিজ দুনিয়ায় যে থিওরী চলে

উইয়ার্ড ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা কেভিন কেলির একটা এন্টারটেইনমেন্ট থিওরী ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা কিংবা লেখক বা যে কেউই অনুসরণ করতে পারেন। কেলির ভাষ্যে, “আপনার যদি ১০০০ সত্যিকারের ভক্ত থাকে আপনি সুপার ম্যান। আপনি যাই সৃষ্টি করুন না কেন, তা দর্শন, চিত্রশিল্পী কিংবা রাজনৈতিক আদর্শ-এক হাজার লোক আপনার ট্রু ফ্যান হলেই আপনি সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন।”
জ্যাকারবার্গের শুরুতে ছিল হার্ভার্ড ডর্মের বন্ধুরা, স্টিভ জবস-ওজনিয়াকের ছিল কম্পিউটার ক্লাবের বন্ধুরা, নাইকির ফিল নাইটের ছিল ৩/৪জন পাগলাটে বন্ধু! আপনার?
এই এক হাজার মানুষই আসলে আপনার বিলিয়ন ডলার আইডিয়া কিংবা লাখো পাঠক তৈরি করবে। এটা ডমিনো থিওরী না?
আপনার পণ্য কিংবা সেবা নির্ভর উদ্যোগের সাফল্য আসলে নির্ভর করে আপনি কতটুকু আপনার ভক্তদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারেন!

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 240 views. Thank You for caring my happiness.

সাইফ নোমান খানের রেকমেন্ডেড যত বই

 

ঢাবি-আইবিএর বিজনেজ কমিউনিকেশন ও ডিজাইন থিংকিং শিক্ষক সাইফ নোমান খান, এসএনকে শর্ট নেইম। সমসাময়িক বিজনেজ এক্সিকিউটিভদের মধ্যে বেশ পরিচিত এই শিক্ষক।

কমিউনিকেশন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান, আর নিজের স্টার্টআপ রিসার্চ সেন্টার দিয়ে ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিংয়ের কাজ করছেন। সাইফ নোমান খান বিজনেজ কমিউনিকেশন আর ডিজাইন থিংকিং নিয়ে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের ক্লাস নিয়ে থাকেন। সাইফ নোমান খান স্যারের সঙ্গে কথা বলে একটি বইয়ের তালিকা বের করার চেষ্টা করেছি, তিনি এই বইগুলোকে যারা ম্যানেজার কিংবা পেশাজীবনে সিইও হতে চান সামনে তাদের অন্তত একবার হলেও পড়ে দেখার পরামর্শ দেন। এই লেখার বিশেষত্ব হচ্ছে, এসএনকে কোন দিন ক্লাসে তেমন করে এসব বইয়ের নাম কখনই বলেন নাই। সে হিসেবে এই তালিকা আলাদা কিন্তু!

উইনিং, জ্যাক ওয়েলশ

জেনারেল ইলেকট্রিকের সিইও জ্যাক ওয়েলশের বই উইনিং। জ্যাক জেনারেল ইলেকট্রিকে ৪০ বছর কাজ করেছেন। ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে উইনিং বইটি লেখেন জ্যাক। ২০১৬ সালের অক্টোবরে আমি বইটি পড়া শেষ করি, যে পড়বে তার সময় নষ্ট হবে না নিশ্চিত।

প্লেয়িং টু উইন: হাউ স্ট্র্যাটেজি রিয়েলি ওয়ার্কস

এ জে ল্যাফলে ও রজার মার্টিনের লেখা বই। স্ট্র্যাটেজির উপর দারুণ এক বই বলা যায়। এই বই থেকে স্ট্র্যাটেজির ৬টি ট্র্যাপ সম্পর্কে জানতে পারি আমি।

* ডু-ইট-অল স্ট্র্যাটেজি: এই স্ট্র্যাটেজিতে সবকিছুকেই গুরুত্বপূর্ণ ভাবার ফাঁদে পা রাখি আমরা

* ড কুইজিকোট স্ট্র্যাটেজি: এমন স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করা যা দেখে শক্তিশালী কেউ আপনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে!

* ওয়াটার লু স্ট্র্যাটেজি: একই সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ ঘোষণা করা।

* সামথিং-ফর-এভরিওয়ান স্ট্র্যাটেজি: চীনের একশ কোটি মানুষকে কাস্টমার বানানোর চেষ্টা করা!

* ড্রিমস-দ্যাট-নেভার-কাম-ট্রু স্ট্র্যাটেজি: মেঘের ওপর ঘুড়ি ওড়ানোর চেষ্টা করা।

* প্রোগ্রাম-অব-দ্য-মান্থ স্ট্র্যাটেজি: কাস্টমারদের জন্য এমন প্ল্যান করা যাদের পেছনে সব কোম্পানি একই সময় দৌড়ানো শুরু করে!

এই বইয়ের বিখ্যাত একটি লাইন মনে আছে,

স্ট্র্যাটেজির সার্থকতা নির্ভর করে দুটি প্রশ্নের ওপর। এক, আপনি কোন মাঠে খেলবেন?; দুই, আপনি সেখানে কিভাবে জিততে চান?

 

ডিজাইন থিংকিংয়ের উপর বই

ডিজাইন থিংকিং নিয়ে সাইফ নোমান খান কাজ করেন বলে এই বিষয় আইডিয়োর বইপত্র যা আছে তা ঘেঁটে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।

ওয়ান মিনিট ম্যানেজার

কথায় বলে এক মিনিটে যে সিদ্ধান্ত নেয়ার কৌশল জানে না, সে এক জীবনে অনেক কৌশল নিতে পারে না। ওয়ান মিনিট ম্যানেজার বইটি ২০১৫ সালের শেষ দিকে পড়েছিলাম। আপনি যদি ম্যানেজার হতে চান, বইটি থেকে যা শিখবেন, “আপনার দলের কর্মীদের মানুষ ভাবুন, কর্মী মৌমাছি নয়!”

এক মিনিটের অনেক অভ্যাস আপনাকে বদলে দিতে পারে। বইটিতে কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের এক মিনিটের কিছু অভ্যাসের কথা বলা আছে,

* সুন্দর করে হ্যান্ডশেক করা শিখুন।

* যার প্রশংসা করতে চান, তাকে সবার সামনেই প্রশংসার কথা জানান।

* যখনকার প্রশংসা তখনই করুন! যখনকার সমালোচনা তখনই করুন।

দ্য নিউ ওয়ান মিনিট ম্যানেজার

এই বইটি ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়। গুডরিডসে বইটির দুই হাজারের বেশি রেটিং জমা পড়েছে, ৩.৯ হলেও বোঝা যায় বইটি কত মানুষ পড়েছে!

“এভরিওয়ান ইজ অ্যা পটেনশিয়াল উইনার। সাম পিপল আর ডিজগাইজড অ্যাজ লুজারস”, বইটির আলোচিত একটি লাইন।

হার্ভার্ড বিজনেজ রিভিউয়ের মাস্ট রিডস সিরিজ

হার্ভার্ড বিজনেজ রিভিউয়ের মিনি বুক সিরিজগুলো বেশ কার্যকর। সাইফ নোমান স্যার সময়কে গুরুত্ব দিয়ে এসব বই অনেক পড়েন বলে জানান।

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 3,111 views. Thank You for caring my happiness.

বই-টই: দ্য লিন স্টার্টআপ

আপনি যদি ব্যর্থ না হন, তাহলে শিখতে পারবেন না-এরিখ রেইসের লিন স্টার্টআপ বইয়ের একটি কথা। এসময়কার উদ্যোক্তাদের কাছে বেশ পরিচিত বই-দ্য লিন স্টার্টআপ। এই বইয়ের মূল কথা হচ্ছে, “তৈরি করুন-পর্যবেক্ষণ করুন-শিখুন”-যে কোন স্টার্টআপকে বড় করে তুলতে এই মডেল দারুণ কার্যকর।

(বইটা দারুণ হলেও আমার কাছে বেশ বোরিং মনে হয়েছে। সম্ভবত, একই ধরণের অনেক বই পড়ার কারণে বইটি একটু নিরস মনে হয়েছে।)

লিন স্টার্টআপের মূলধারণা
সবখানেই কিন্তু উদ্যোক্তা আছেন, যে প্রতিষ্ঠান কিংবা যে ক্ষেত্রেই কাজ করুন না কেন-উদ্যোক্তারা সবখানেই ছড়িয়ে আছে।

the-lean-startup

  • এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ হলো ম্যানেজমেন্ট, আর স্টার্টআপ হলো একটি প্রতিষ্ঠান যা আপনাকে ম্যানেজ করতে হবে।
  • স্টার্টআপগুলো টিকে যায়, শুধু ব্যবসা কিংবা পণ্যের সাফল্যের জন্য না, সাসটেইনেবল ব্যবসা তৈরি করার জন্য।
  • Build-measuer-learn: যে স্টার্টআপই দিন না কেন, আপনার আইডিয়াকে পণ্যে কনভার্ট করতে হবে। তারপরে কাস্টমার তা নিয়ে কেমন আগ্রহ প্রকাশ করে তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে, সব শেষে শিখতে হবে কিভাবে আগ্রহকে ধরে রাখতে হবে।

ls2

লিন স্টার্টআপ থেকে…
* স্টার্টআপের ক্ষেত্রে সাফল্য আসলে “পন্য বা সেবা ডেলিভারি করা নয়, সাফল্য আসলে কাস্টমারের কোন সমস্যা সমাধান” হিসেবে চিন্তা করতে হবে।
* বেশির ভাগক্ষেত্রেই কাস্টমার জানে না তারা আসলে আগে কি চায়।
* আপনি যদি আপনার কাস্টমার কে তা না জানেন তাহলে আপনি কোয়ালিটি কি তা জানেন না।
* প্রতিটি বাঁধাই কিছু না কিছু শেখার সুযোগ কিন্তু।

LS1

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 164 views. Thank You for caring my happiness.

ভালো বনাম দুর্দান্ত, কোনটি বেঠিক?

জেনারেল জর্জ প্যাটুন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার মিত্রপক্ষের প্রভাবশালী এক জেনারেল ছিলেন। যুদ্ধের কৌশল আর ইতিহাস নিয়ে যারা আগ্রহী তাদের কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এই জেনারেল বেশ পরিচিত। মিত্রপক্ষের সেভেন্থ আর্মির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্যাটুন। প্যাটুনের বায়োগ্রাফি দ্য ওয়ার আই নিউ ইট পড়ছি এখন, দুর্দান্ত বই। রণকৌশল কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে বেশ ভালো ভাবেই কাজে লাগানো যায়। সেই বইয়ের প্রথম ৪ চ্যাপ্টার পড়ে কিছু লাইন দাগিয়ে রেখেছি, দুর্দান্ত সব কথা!

এখনকার ভালো পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহের দুর্দান্ত পরিকল্পনার চেয়ে কার্যকর বেশি।

জেনারেল প্যাটুন ‘প্যারালাইসিস বাই অ্যানালাইসিস’ বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন। কোন বিষয় নিয়ে বেশি অ্যানালাইসিস কখনই কাজের না মনে করতেন তিনি। অনেক সময় নিয়ে দুর্দান্ত কোন যুদ্ধ পরিকল্পনার চেয়ে ভালো আর সাধারণ পরিকল্পনা যুদ্ধের ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যায়।

নেতৃত্ব দিন, নেত্বত্ব দিতে দিন কিংবা পথ থেকে সরে দাড়ান। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রণাঙ্গনে অনেক জেনারেল যুদ্ধ করেছিলেন। এক বনে হাজারখানেক বাঘ থাকলে যে ঝামেলা হয়, সেই ঝামেলা তখনও ছিল। জেনারেল প্যাটুন নিজের ইউনিট নিয়ে নেতৃত্ব দিয়ে যুদ্ধ করতে চাইতেন। সিনিয়ররা তার যুদ্ধের স্টাইলকে পছন্দ না করলে প্যাটুনের সরাসরি কথা ছিল “নেতৃত্ব দিন”। আমরা কাজের ক্ষেত্রে এটা অনেক দেখি। আপনি দলগতভাবে কোন কাজ করছেন। উর্ধ্বতন কর্তারা আপনাকে বেশিরভাগ সময় নেতৃত্ব দিতে দিবে না, আমার নিজেরাও নেতৃত্ব দিবে না।

যা আদেশ দিচ্ছেন তা নিজে করছেন কি?

জেনারেল প্যাটুন সেই ধরণের যোদ্ধা ছিলেন না যে তাঁর দলকে আদেশ দিয়ে নিজে তাবুতে সময় কাটাতেন।  নিজের ব্যাটেলিয়ানে তার বেশ জনপ্রিয়তা ছিল সৈনিকদের নিয়ে কাজ করার জন্য।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ আর্মি থেকে যেসব নেতৃত্বগুণ শিখতে পারেন

যা বলছেন তা কি বুঝে বলছেন? যা বুঝছেন তা কি বলছেন?

আমি এই লাইনটাকে দারুণ বলবই। আমি দলগতভাবে অনেক কাজ করি। প্রায়শই যা বলি তা বুঝে বলি না, যে কারণে দলের সদস্যরা আমার কথা বোঝে না। আবার যা বুঝি তা পরিষ্কারভাবে বলতে দ্বিধায় থাকি, যার কারণে কমিউনিকেশনে ধোঁয়াশা তৈরি করি নিজেই।

“Never tell people how to do things. Tell them what to do and they will surprise you with their ingenuity.”

বলতে গেলে সাত সমুদ্র এক মিনিটেই পাড়ি দেয়া যায়। মুখের কথায় চিড়ে ভিজে না, বাস্তবে? দলগতভাবে কাজের ক্ষেত্রে, যা দলের সদস্যদের করতে হবে তা করতে বলুন। কিভাবে করতে হবে, সেটা বলতে গেলেই মাইক্রোম্যানেজমেন্ট জটিলতায় আটকে যাবেন কিন্তু।

“Better to fight for something than live for nothing.” 

কোন কিছু না করার থেকে কিছু করে বেঁচে থাকা আনন্দের।

 

শেষ যে লাইনটি জেনারেল প্যাটুনের কাছ থেকে জেনেছি, “When in doubt, ATTACK!” 

 

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 484 views. Thank You for caring my happiness.

এক কাপ বই: গ্রোথ হ্যাকার মার্কেটিং

(এক কাপ বই সিরিজটি অনেকদিন ধরেই লেখার চেষ্টা আমার। এক কাপ চা খেতে খেতে যদি দারুণ কিছু শেখা যায় তাহলে মন্দ কি? এখন তো বই পড়ায় আমাদের সময় নেই তেমন, সেই না পাওয়াকেই আরেকটু অন্যরকম করে তোলার জন্যই এই এক কাপ বই সিরিজ। আর এখন ট্রেন্ডিং যত বই আছে সবগুলোই আসলে ২০ পাতার বই, কেন যে লেখকরা কাটতি বাড়ানোর জন্য ৪০০ পৃষ্টা লেখেন!)
রায়ান হলিডের গ্রোথ হ্যাকার মার্কেটিং বই পড়ে যা জেনেছি,
ব্যবসা কিংবা স্টার্টআপ শুরুর আগে আমরা বিলিওন ডলার আর কোটি কোটি কাস্টমার বিবেচনায় একগাদা প্ল্যান করি। এখন কোন কিছু শুরু করাটাই বেশ দ্বিধার, সেই দ্বিধা কাটাতে ছোট্ট কাস্টমার গ্রুপ নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত।
দুই দশক আগেও ব্যবসার প্যাটার্ন ছিল, দারুণ কোন পণ্য বা সেবা তৈরি করে যত লোকের চোখের সামনে হাজির করুন। ইন্টারনেটের বিস্তৃতির কারণে সেই প্যাটার্নে ধাক্কা লেগেছে। এখন পন্য অনেক, সেবা অনেক-মোটামুটি মাছের বাজার সবখানে। এখানে কিভাবে আপনার পন্যকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করবেন তা ঠিক করতে হবে আপনাকে। আপনার প্রোডাক্টকে ক্যাটাগরিতে এক নম্বর আনতে টাকার চেয়ে বুদ্ধিই বেশি খাটাতে হবে এখন।
আগে একটা নিয়ম ছিল, বাজারে যা ছাড়বেন সেটাই সব। কিন্তু এখন ভার্সন ওয়ান পয়েন্ট ও, ভার্সন টু পয়েন্ট ও করে করে পন্য-সেবাকে বিকাশের দারুণ সুযোগ আছে। এখন আসলে প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট বিষয়টা নিত্যদিনকার।
স্বর্ণকার গহনা বানিয়ে দেয়ার পরে সেটা ক্রেতা কিনে ফেললেই কিন্তু সব শেষ, কিন্তু আপনার অ্যাপটির প্রথম ভার্সনে বাগ দ্বিতীয় ভার্সনে না সরালে বিপদ কিন্তু! ফেসবুক গেল তের বছরে অনেকবারই তো হোম পেইজ বদলেছে, সঙ্গে আরও কত কি!


যারা আর্লি অ্যাডাপটার তাদেরকে শুরুতেই টার্গেট করুন। আপনার প্রোডাক্টটি কারা প্রথমে ব্যবহার করতে পারে তাদের সাইকোলজি বোঝার চেষ্টা করুন। টার্গেট দ্য রাইট পিপল। সাধারণভাবে আমাদের টার্গেট থাকে সবাই যেন আমাদের পণ্য বা সেবা নেয়, শুরুটায় এমন টার্গেট উচ্চাভিলাসী।
আবার আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখা জরুরী, আপনার পণ্য বা সেবা তা ঠিক কাস্টমারই কিনছে কিনা সেটা আপনার ভাবতে হবে। ভুল কাস্টমার যদি ভুল করে প্রোডাক্ট কেনে আর আপনি তা খেয়াল না করেন তাহলে কিন্তু পণ্যের ভবিষ্যৎ খারাপ।
শহরের মানুষদের কাছে লন মোয়ার বিক্রি করার সঙ্গে বিষয়টা মেলাতে পারেন।
ড্রপবক্স রাইট কাস্টমার ধরার জন্য ডিগ নামের সোশ্যাল মিডিয়াকে টার্গেট করেছিল। ড্রিউ হিউস্টোন ড্রপবক্স ব্যবহার নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেছিলেন, যেখানে ডিগ কমিউনিটি ব্যবহার করে এমন সব ইস্টার এগ ব্যবহার করা হয়েছিল। ভিডিও আপলোডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ড্রপবক্সে কয়েক হাজার সাইনিং আপ হয়েছিল।
পণ্য বা সেবাকে এমনভাবে ডিজাইন করুন যেন কাস্টমারই আপনার বিপণনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন। পণ্যকে ভাইরাল করতে দুটো পথ আছে,
পণ্যটিকে যেন ভাগাভাগি করার সুযোগ থাকে, আর সবাইকে তা শেয়ার করতে বলুন!

-- Stay cool. Embrace weird.
Total 497 views. Thank You for caring my happiness.